কালীগঞ্জ অগ্রনী ব্যাংকের ম্যানেজারের বিরুদ্ধে নারী গ্রাহকের সাথে অশালীন যৌনাচারের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২২ নভেম্বর, ২০২০
  • ৬২৮ বার পঠিত

কালীগঞ্জ অগ্রনী ব্যাংকের ম্যানেজারের বিরুদ্ধে নারী গ্রাহকের সাথে অশালীন যৌনাচারের অভিযোগ, সম্ভ্রম বাচাতে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন সংখ্যালঘু বিধবা।

ঝিনাইদহ থেকে মো: রাব্বুল ইসলাম

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ অগ্রনী ব্যাংকের ব্যবস্থাপক নাজমুস সাদাতের বিরুদ্ধে নারী গ্রাহকের সাথে অশালীন যৌনাচারের অভিযোগ উঠেছে। এদিকে যৌন হয়রানির ঘটনায় ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মহোদ্বয় বরাবর বিচার চেয়ে ভিকটিমের করা আবেদনের অর্ধমাস পেরিয়ে গেলেও দৃশ্যমান কোন বিচার মেলেনি। এদিকে শাখা ব্যবস্হাপকের উৎপাতে সম্ভ্রম বাচাতে বিধবা নারী তার স্বামীর ভিটে ছেড়ে পালিয়েছেন। ব্যবস্হাপক কর্তৃক অলোকদ রানী অধিকারীর সাথে করা অশালীন যৌন আচরনের কথা প্রকাশ পেলে অগ্রনী ব্যাংকের গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা যায় এবং বিষয়টিতে জেলা জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে । বর্তমানে বিভিন্ন সেবামুলক প্রতিষ্ঠানে নারী গ্রাহকদের এরুও যৌন হয়রানির শিকার হবার ঘটনা প্রায়ই শোনা যাচ্ছে। সামাজিক কারনে ও লোক লজ্জার ভয়ে যৌন নিপীড়নের মত ঘটনা অনেক সময়ই মহিলারা চেপে যান।
জানা যায়, কালীগন্জ অগ্রনী ব্যাংক শাখা হতে ২২ মে ২০২০ তারিখে যাহার হিসাব নাম্বার ০২০০০১৫২৬১৫৪৬ পয়ষট্রি হাজার টাকা কৃষিলোন পরিশোধে সুবিধা দেওয়ার কথা বলে উক্ত নারী গ্রাহককে কু-প্রস্তাব দেন ব্যবস্থাপক নাজমুস সাদাত ৷


অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্হাপনা পরিচালক বরাবর অলোকা রানী অধিকারীর করা অভিযোগে জানা গেছে, কালীগঞ্জ অগ্রনী ব্যাংকের ব্যবস্থাপক নাজমুস সাদাত গ্রাহক অলোকা রানীকে ফোন করে ব্যাংকে দেখা করতে বলেন। অলোকা রানী বিগত সেপ্টেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে ব্যাংকে উপস্থিত হয়ে শাখা ব্যবস্থাপক নাজমুস সাদাতের এর কক্ষে প্রবেশ করে ফোন করার হেতু জানতে চান।

তখন তার কক্ষে অবস্থানকারি অপরিচিত ব্যক্তিটিকে বাইওে যেতে ইসারা করেন এবং কাচের দরজা টেনে দিতে বলেন। পরে ব্যবস্হাপক তাকে গৃহিত ঋণ সম্পর্কে জানতে চান এবং ঋণ গ্রহীতা তার ঋণটির সঠিকতা নিয়ে সত্যায়ন করি। এরপর তিনি উক্ত বিধবা মহিলার দিকে বাজে ভাবে তাকিয়ে বলেন-মাশাল্লাহ আপনার চেহারা কিন্তু আল্লাহর বিশেষ নেয়ামত। তার একথা শুনে উক্ত ঋণ গ্রহীতা বিব্রত হয়ে উঠে পড়তে চাইলে ব্যবস্হাপক মহিলাকে জোর পূর্বক বসতে বলেন এবং গৃহীত উক্ত ঋণ নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করতে থাকেন এবং কথার এক পর্যায়ে তাকে একান্ত ব্যক্তিগত এমন কিছু প্রশ্ন করেন যে প্রশ্নগুলো একজন নারীকে চরমভাবে লজ্জিত এবং বিব্রত করে। উক্ত বিধবা মহিলা মাথা নিচু করে শাখা থেকে চলে যান ।এর সপ্তাহ খানেক পর গত ৩০ সেপ্টেম্বর সকালে ব্যবস্থাপক নাজমুস সাদাত মহিলার বাড়িতে যান এবং তার সাথে অফিসে করা আচরনের জন্য লজ্জা প্রকাশ করতঃ মহিলাকে তার অফিসে দাওয়াত করে চলে যান।।সম্প্রতি গত ৬ নভেম্বর সকালে শাখা ম্যানেজার নাজমুস সাদাত উল্লেখিত মহিলার বাড়িতে আবারও যান এবং আমাকে তিনদিনের মধ্যে ঋণের টাকা শোধ করার জন্য বিভিন্ন বলে চাপ দেন। এত সংক্ষিপ্ত সময়ের ভেতর তার পক্ষে ঋণ শোধ করা সম্ভব নয় বলে মহিলা জানান এবং তার কাছে কিছুদিন সময় চাইলে ব্যবস্হাপক নাজমুস সাদাত তাকে পরদিন সকালে অফিসে দেখা করার কথা বলে চলে যান। ব্যবস্হাপনা পরিচালক বরাবর প্রেরিত পত্রে উক্ত ঋণ গ্রহীতা মহিলা লেখেন-তিনি পরদিন সকালে ব্যাংকের উদ্দেশে যাত্রা করেন এবং ব্যাংকের লোহার প্রথম গেট টপকে সিড়িতে পা রাখতেই ব্যবস্থাপক নাজমুস সাদাত তাকে পেছন থেকে ডাকেন এবং ইশারা করে সিড়িতেই দাড়াতে বলেন। ঋণ গ্রহীতা মহিলা মধ্য সিড়িতে(চৌতারা)দাড়ালে ব্যবস্থাপক নাজমুস সাদাত তার সামনাসামনি এসে দাড়ান। ঋণটি পরিশোধের জন্য মহিলা কিছুদিন সময় চেয়ে অনুরোধ করলে ব্যবস্হাপক নাজমুস সাদাত মুচকি হাসেন এবং বলেন যে মহিলা যদি তাকে একটু হেল্প করি তাহলে তিনি সময়ের ব্যাপারটা ভাববেন। মহিলা তাকে কি ধরনের হেল্প করতে হবে তা জানতে চাইলে ব্যবস্থাপক নাজমুস সাদাত তাকে কু-প্রস্তাব দেন। উক্ত পত্রে তিনি আরো লেখেন- নাজমুস সাদাত কর্তৃক তাকে দেয়া এ কু- প্রস্তাব তাকে অপমানিত,লজ্জিত বিব্রত করেছে এবং নারী জাতিকে চরমভাবে অপমানিত করেছে।ব্যবস্থাপক নাজমুস সাদাতের এহেন আচরন অনাকাঙ্খিত,দূর্ভাগ্যজনক,অপমানজনক ও লজ্জাজনক।

নারী জাতির মর্যাদা রক্ষায় এবং কালীগঞ্জ অগ্রনী ব্যংকের মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখতে ব্যংকের ম্যানেজার নাজমুস সাদাতের এহেন আচরনের জন্য তার বিরুদ্ধে আইননানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য তিনি ব্যাংটির ব্যবস্হাপনা পরিচালক কে অনুরোধ করেন।
এ অভিযোগের বিষয়ে কালীগঞ্জ অগ্রনী ব্যংকের ম্যানেজারের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন,গ্রাহক অলোকা রানীকে আমি চিনি না এবং দরখাস্তের বিষয়ে আমি কিছু জানিও না।


অভিযোগের বিষয়ে অগ্রনী ব্যংক লিমিটেড প্রধান কার্যালয়,ঢাকা এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মোঃ সামস-উল- ইসলামের ০১৭১৩-৪৮০১০৩ মোবাইল নাম্বারে গ্রাহক অলোকা রানী অধিকারীর করা আবেদনের বিষয়ে জানার জন্য চেষ্টা করলে তিনি মোবাইল রিসিভ করেননি।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর