কুষ্টিয়ার আদম ব্যবসায়ী কামালের খপ্পরে আমিরুল সহ দশটি পরিবার সর্বশান্ত

কে এম শাহীন রেজা, কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১০ জুন, ২০২১
  • ৪৬ বার পঠিত

 

কুষ্টিয়া জেলার ইবি থানার পিয়ারপুর গ্রামের মৃত টেঙ্গর আলীর পুত্র আদম ব্যবসায়ী কামাল হোসেনের খপ্পরে পড়ে ঝিনাইদহ জেলার হরিনাকুন্ডু থানার কালিশংকরপুর গ্রামের জামাত আলীর ছেলে আমিরুল ইসলাম সহ প্রায় ১০ টি পরিবার সর্বশান্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আমিরুলের অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ইবি থানার পিয়ারপুর গ্রামের বাসিন্দা কামাল হোসেন দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন ব্যক্তিকে বিদেশ যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। আমিরুল আরও জানায় প্রতারক ও আদম ব্যবসায়ী কামাল বিদেশে নিয়ে যাওয়ার প্রলোভন দেখালে আমি জায়গা জমি বিক্রি করে ২০১৯ সালে তারিখে ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা তাকে প্রদান করি।

পরবর্তীতে প্রতারক ও আদম ব্যবসায়ী কামালকে খুঁজে না পাওয়ায় অবশেষে ভুক্তভোগী আমিরুল গত ০৮/১১/২০২০ তারিখে কামালের পিয়ারপুর গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের শরণাপন্ন হই। সেখানে কামাল ও আমিরুলের সম্মুখে দুই পক্ষের সমন্বয়ে একটি বৈঠক বসে। উক্ত বৈঠকে পিয়ারপুর গ্রামের দিনাজ মণ্ডলের ছেলে মিজানুর রহমান, মৃত খেজমত আলীর ছেলে মনজের আলী ও হরিনাকুন্ডু থানার কালিশংকরপুর গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে মোলায়েম হোসেন ও মৃত মতলেব হোসেনের ছেলে আতিয়ার হোসেন সাক্ষী হয়ে ৩০০ টাকা মূল্যের স্ট্যাম্পে একটি লিখিত ডকুমেন্ট তৈরি করে দেন। সেই সাথে মধুপুর বাজার শাখার সোনালী ব্যাংকের ১৮৯০ নং হিসাবের ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকার একটি চেক আমিরুল ইসলামের নামে স্বাক্ষর করে দেন প্রতারক কামাল হোসেন।

উক্ত ডকুমেন্টে উল্লেখ ছিল যে আগামী ০৭/০৫/২০২১ তারিখে আমিরুলের সমস্ত পাওনা টাকা পরিশোধ করতে হবে। উক্ত অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে আমিরুল আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য থাকিবে। পাওনা টাকা আদায়ের জন্য নির্ধারিত তারিখে কামালের বাড়ির উপর গেলে আমিরুলকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তার বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয় আদম ব্যবসায়ী কামাল হোসেন। অবশেষে আমিরুল কোন উপায়ান্তর না পেয়ে ঝিনাইদহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রতারক কামাল হোসেনের নামে চেক ডিজঅনারের একটি মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে মামলাটি চলমান রয়েছে।

পরবর্তীতে আদম ব্যবসায়ী প্রতারক কামাল হোসেনের বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায় যে, সে একজন প্রকৃত আদম ব্যবসায়ী ও বড় মাপের প্রতারক। সে দীর্ঘ বেশ কয়েক বছর ধরে তার নিজ এলাকায় ও আশপাশের এলাকার প্রায় ১০/১২ জন নিরীহ ব্যক্তিকে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা এভাবে হাতিয়ে নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তার নিজ এলাকার বেশ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা।

এদিকে ভুক্তভোগী আমিরুল মাননীয় আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, প্রতারক কামালের খপ্পরে পড়ে আজ আমি নিঃস্ব সর্বস্বান্ত, আমার প্রদেয় অর্থ পাওয়ার জন্য আপনার শরণাপন্ন হয়েছি। আপনি প্রতারক কামালের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমুলক ও সুষ্ঠু বিচার করে আমার পাওনা টাকা আদায় করে দেওয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

 

 

 

বগুড়ায় ট্রেন চালকের দক্ষতায় বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে দোলন চাঁপা আন্তঃনগর ট্রেন। ওই ঘটনায় দু’জন আহত হলেও কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছেন। রেল লাইনের উপর অবৈধ দোকানগুলো ওই দুর্ঘটনার কারণ বলে জানিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় লোকজন।

বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে মাত্র ত্রিশ গজ দূরেই এক যুগেরও বেশি সময় ধরে (বগুড়া রেলস্টেশন থেকে একনম্বর ঘুমটি পর্যন্ত ) প্রায় তিন শতাধিক অবৈধ কাপড়ের দোকান রেল লাইনের উপর রয়েছে। বগুড়ার পুরাতন কাপড়ের বড় মার্কেট এটি। পরিচিত ‘হঠাৎ মার্কেট’ হিসেবে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েক হাজার ক্রেতার সমাগম ঘটে। বছরে একবার করে রেল থেকে ওইসব দোকান উচ্ছেদ করলেও দুই তিনদিন পরে আবারও দোকান আগের মতো বসে। মূল রেল লাইনের উপর তাঁবু টানিয়ে এসব দোকান বসানো হয়েছে। ট্রেন চলে আসলেই দ্রুত তাবুগুলো সরে ফেলা হয়। কয়েক বছরে প্রায় ৭-৮ জন ক্রেতা এবং বিক্রেতার প্রাণহানি ঘটেছে এই হঠাৎ মার্কেটে।

বগুড়ার রেলস্টেশনের স্টেশন মাষ্টার আবুল কাশেম জানান, দুপুর ১১টায় দোলন চাঁটা আন্তঃনগর ট্রেন বোনারপাড়া থেকে বগুড়ায় আসছিল। অপরদিকে আরেকটি আন্তঃনগর ট্রেন লালমনি এক্সপ্রেক্স ঢাকা থেকে বগুড়া স্টেশনে আসতে থাকে। সিগন্যাল এবং পয়েন্ট ঠিক করে দোলনচাঁপা ট্রেনটির জন্য দুইনম্বর লুপ লাইনে এবং লালমনি এক্সপ্রেক্সকে একনম্বর লাইনে আসার নির্দেশনা ঠিক করা হয়। দোলনচাঁপা ট্রেনটি হুইসেল দিতে দিতে দুই নম্বর লুপ লাইন দিয়ে স্টেশনে আসতে থাকে।

‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদারদের জানা ছিল ওই ট্রেনটি একনম্বর লাইন দিয়ে আসবে। তাই তারা দোকানের তাবু সরাইনি। কিন্তু যখন ট্রেনটি দুইনম্বর লুপ লাইন দিয়ে হুইসেল দিতে দিতে আসতে থাকে তখন দোকানদার এবং ক্রেতারা চিৎকার করে এদিক ওদিক দৌড়ে পালাতে থাকে। ট্রেন চালক দ্রুততার সাথে ট্রেনটি ব্রেক করায় দোকানের মালামাল নষ্ট হলেও কোন প্রাণ হানি ঘটেনি। নইলে অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারতো।

তিনি আরও জানান, গত ১৯ নভেম্বর লালমনিহাট থেকে বিভাগীয় ভূ-সম্পদ কর্মকর্তাসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা স্টেশনের পাশের একটি মার্কেটের প্রায় দুইশতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়ার সময় ‘হঠাৎ মার্কেট’দুইদিন বন্ধ ছিল। পরে ২২ নভেম্বর আবারও ‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদাররা তাদের দোকান বসায়। এ বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে রেল স্টেশন সীমানার মধ্যে এবং লাইনের উপর অবৈধ দোকান উচ্ছেদের জন্য ২৩ নভেম্বর চিঠি দেয়া হয়।

স্টেশন মাষ্টার আরও জানান, রেল লাইন থেকে দুই পাশের ১০ ফুট করে জায়গা ১৪৪ ধারা সবসময়ের জন্য জারী থাকরেও এসব কেউ মানছেনা। স্টেশন মাষ্টার অভিযোগ করে বলেন, সিগন্যাল এবং পয়েন্টের তারের উপর অবৈধ দোকান বসার কারনে অনেক সময় সঠিকভাবে সিগন্যাল ও পয়েন্ট করা সম্ভব হয়না। অথচ, ট্রেনের আসা যাওয়ার মূল বিষয়টি হলো সিগন্যাল এবং পয়েন্ট।

বগুড়া রেল স্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারী শাহীন আলম জানান, রেল লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী ইন্সপেক্টর রায়হান কবীরের কারণেই রেল লাইনের উপর অবৈধ হঠাৎ মার্কেট গড়ে উঠেছে। লাইনের উপর নিরাপত্তার দায়িত্ব তার থাকলেও প্রতিদিন লাইনের উপর মার্কেট দেখার পরেও উনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে দোকানদারদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন।

তবে রায়হান কবীর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়, লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্ব আপনার থাকলেও কেন ওইসব দোকান দেখেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। তিনি জানান, বিষয়গুলো উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ জানেন।

বগুড়া জিআরপি ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর কায়কোবাদ জানান, ঘটনাটি জানার পরে সেখানে আমরা দ্রুত যাই। কিন্তু কোনো আহত কিংবা নিহত ব্যক্তির খোঁজ পাইনি। তবে আশেপাশের লোকজন জানিয়েছেন, চার-পাঁচজন ক্রেতা আহত হয়েছেন।
বগুড়া ফায়ার স্টেশনের সিনিয়ন স্টেশন মাষ্টার বজলুর রশিদ জানান, দুইজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন, গাবতলী উপজেলার রুমি খাতুন (৩০) এবং দুপচাঁচিয়া উপজেলার মানিক (৫৫)। তাদের শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে আরও কয়েকজনের কথা শুনলেও তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।

রেল লাইনের পাশের স্থানীয় ব্যবসায়ী নাম না প্রকাশে ইচ্ছুক কয়েকজন জানান, গত ৫/৬ বছরে প্রায় ৭-৮জন ট্রেনে কেটে হঠাৎ মার্কেটে মারা গেছে। এদের মধ্যে ক্রেতা এবং দোকানদারও ছিল। বুধবার যদি ট্রেনের চালক দ্রুত ব্রেক না করতো তাহলে কয়েক’শ লোকের প্রাণহানি ঘটতো।

কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছে ট্রেন চালকের দক্ষতায়