কুষ্টিয়া মনোহরদিয়া ইউপির স্বপ্ন দেখা নব্য নেতা সুরুজ মহিলার সাথে আটক: পরবর্তীতে গণধোলাই

কে এম শাহীন রেজা কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি।।
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৯ মে, ২০২১
  • ৭০ বার পঠিত

 

কুষ্টিয়া মনোহরদিয়া ইউনিয়নের নব্য আওয়ামীলীগ নেতা মামুন হাসান সুরুজ এক মহিলার সঙ্গে অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকা অবস্থায় স্থানীয় জনতার হাতে আটক হয় পরবর্তীতে গণধোলাই খেয়ে দু”জনেই দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উক্ত ইউনিয়নের বলরামপুর গ্রামের সাবেক শওকত মেম্বারের ছেলে ও মনোহরদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হামিদের ভাতিজা ও একসময়ের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবিরের কুখ্যাত ক্যাডার আনিচের (বিএনপি সরকারের সময় ছাত্রলীগের মিছিলের ওপর গুলি করা সেই আনিচ) ছোট ভাই মামুন হাসান সুরুজ আজ শনিবার দুপুরে অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকা অবস্থায় এলাকাবাসীর হাতে গণধোলাই খেয়ে পালিয়ে যান।

সূত্র মতে জানা গেছে, উক্ত ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের বেপারীপাড়ার ভরত স্যারের বাড়ির পাশে দুঃসম্পর্কের এক নানীর বাড়িতে একটি মেয়ে সহ ঘরের মধ্যে জনতা আটক করে। ওই সময় তাকে এবং উক্ত মহিলা কে আটক করার চেষ্টা করলেও মেয়েটির আগেই দৌড়ে পালিয়ে যায় পরবর্তীতে এলাকাবাসী তাকে গণধোলাই দিয়ে ছেড়ে দেন।

এলাকাবাসীর তথ্যমতে আরো জানা যায় বলরামপুর গ্রামের বাসিন্দা সুরুজের গোটা পরিবারটাই শিবির, জামাত ও বিএনপি পন্থী। তার আপন ভাই আনিচ, সে একজন শিবির ক্যাডার বর্তমানে পলাতক রয়েছে। বর্তমান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হামিদ তিন ভায়ের মধ্যে তিনি আওয়ামী লীগ করেন, এক ভাই বিএনপি করেন অন্য আরেক ভাই জামাতের বড় নেতা। অন্যদিকে সুরুজের পিতা একজন জামাত নেতা হিসেবে মেম্বার হয়েছিলেন। এই গোটা পরিবারটা বর্তমানে জামাত শিবির ও বিএনপি’র লেবাস পরিবর্তন করতে ভর করেন ক্ষমতাসীনদলের উপর। এসকল অনুপ্রবেশকারী নেতারা বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।

অন্যদিকে ধর্ষক সুরুজ কিছুদিন আগেও শিবিরের একজন ক্যাডার ছিল। সে নিজের পিঠ বাঁচাতে বর্তমানে বিভিন্ন নেতাদের সঙ্গে ছবি তুলে তার ফেসবুকে পোস্ট করে ছাত্রলীগ নেতা হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। এলাকাবাসী এটাও জানান, এই সুরুজ দীর্ঘদিন ধরে ভবানীপুর গ্রামের কথিত এক নানির বাড়িতে প্রায় দিনই বিভিন্ন মহিলাদের কে এনে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয়। আজ দুপুরে এলাকাবাসী সুযোগ বুঝে তাকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তার করলেও গণধুলাই খাওয়ার পর তাকে ধরে রাখতে পারেনি সে দৌড়ে পালিয়ে যায়।

এ বিষয়ে তার আপন চাচা মনোহরদী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করে অন্য জনকে দিয়ে ফোন রিসিভ করান। ফোন রিসিভ করা ওই ব্যক্তিকে সুরুজের বিষয়টা জিজ্ঞাসা করা হলে সে বলেন বিষয়টা আমরা জানি। এবং মেম্বার সাহেব আসলে আমি তাকে বলছি এই বলে লাইন কেটে দেন।

এলাকাবাসী চরম ক্ষোভের মুখে প্রতিবেদককে বলেন, নব্য ছাত্রলীগ নেতা হওয়ার স্বপ্ন দেখা এক চরিত্রহীন লম্পট নামে এলাকায় পরিচিত লাভ করা এই সুরুজের বিরুদ্ধে। তাকে ছাত্রলীগের বা ক্ষমতাসীন দলের কোন পদে যেন তাকে আসিন না করেন এ জন্য মাননীয় কুষ্টিয়া সদর এমপি মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

 

 

 

বগুড়ায় ট্রেন চালকের দক্ষতায় বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে দোলন চাঁপা আন্তঃনগর ট্রেন। ওই ঘটনায় দু’জন আহত হলেও কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছেন। রেল লাইনের উপর অবৈধ দোকানগুলো ওই দুর্ঘটনার কারণ বলে জানিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় লোকজন।

বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে মাত্র ত্রিশ গজ দূরেই এক যুগেরও বেশি সময় ধরে (বগুড়া রেলস্টেশন থেকে একনম্বর ঘুমটি পর্যন্ত ) প্রায় তিন শতাধিক অবৈধ কাপড়ের দোকান রেল লাইনের উপর রয়েছে। বগুড়ার পুরাতন কাপড়ের বড় মার্কেট এটি। পরিচিত ‘হঠাৎ মার্কেট’ হিসেবে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েক হাজার ক্রেতার সমাগম ঘটে। বছরে একবার করে রেল থেকে ওইসব দোকান উচ্ছেদ করলেও দুই তিনদিন পরে আবারও দোকান আগের মতো বসে। মূল রেল লাইনের উপর তাঁবু টানিয়ে এসব দোকান বসানো হয়েছে। ট্রেন চলে আসলেই দ্রুত তাবুগুলো সরে ফেলা হয়। কয়েক বছরে প্রায় ৭-৮ জন ক্রেতা এবং বিক্রেতার প্রাণহানি ঘটেছে এই হঠাৎ মার্কেটে।

বগুড়ার রেলস্টেশনের স্টেশন মাষ্টার আবুল কাশেম জানান, দুপুর ১১টায় দোলন চাঁটা আন্তঃনগর ট্রেন বোনারপাড়া থেকে বগুড়ায় আসছিল। অপরদিকে আরেকটি আন্তঃনগর ট্রেন লালমনি এক্সপ্রেক্স ঢাকা থেকে বগুড়া স্টেশনে আসতে থাকে। সিগন্যাল এবং পয়েন্ট ঠিক করে দোলনচাঁপা ট্রেনটির জন্য দুইনম্বর লুপ লাইনে এবং লালমনি এক্সপ্রেক্সকে একনম্বর লাইনে আসার নির্দেশনা ঠিক করা হয়। দোলনচাঁপা ট্রেনটি হুইসেল দিতে দিতে দুই নম্বর লুপ লাইন দিয়ে স্টেশনে আসতে থাকে।

‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদারদের জানা ছিল ওই ট্রেনটি একনম্বর লাইন দিয়ে আসবে। তাই তারা দোকানের তাবু সরাইনি। কিন্তু যখন ট্রেনটি দুইনম্বর লুপ লাইন দিয়ে হুইসেল দিতে দিতে আসতে থাকে তখন দোকানদার এবং ক্রেতারা চিৎকার করে এদিক ওদিক দৌড়ে পালাতে থাকে। ট্রেন চালক দ্রুততার সাথে ট্রেনটি ব্রেক করায় দোকানের মালামাল নষ্ট হলেও কোন প্রাণ হানি ঘটেনি। নইলে অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারতো।

তিনি আরও জানান, গত ১৯ নভেম্বর লালমনিহাট থেকে বিভাগীয় ভূ-সম্পদ কর্মকর্তাসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা স্টেশনের পাশের একটি মার্কেটের প্রায় দুইশতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়ার সময় ‘হঠাৎ মার্কেট’দুইদিন বন্ধ ছিল। পরে ২২ নভেম্বর আবারও ‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদাররা তাদের দোকান বসায়। এ বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে রেল স্টেশন সীমানার মধ্যে এবং লাইনের উপর অবৈধ দোকান উচ্ছেদের জন্য ২৩ নভেম্বর চিঠি দেয়া হয়।

স্টেশন মাষ্টার আরও জানান, রেল লাইন থেকে দুই পাশের ১০ ফুট করে জায়গা ১৪৪ ধারা সবসময়ের জন্য জারী থাকরেও এসব কেউ মানছেনা। স্টেশন মাষ্টার অভিযোগ করে বলেন, সিগন্যাল এবং পয়েন্টের তারের উপর অবৈধ দোকান বসার কারনে অনেক সময় সঠিকভাবে সিগন্যাল ও পয়েন্ট করা সম্ভব হয়না। অথচ, ট্রেনের আসা যাওয়ার মূল বিষয়টি হলো সিগন্যাল এবং পয়েন্ট।

বগুড়া রেল স্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারী শাহীন আলম জানান, রেল লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী ইন্সপেক্টর রায়হান কবীরের কারণেই রেল লাইনের উপর অবৈধ হঠাৎ মার্কেট গড়ে উঠেছে। লাইনের উপর নিরাপত্তার দায়িত্ব তার থাকলেও প্রতিদিন লাইনের উপর মার্কেট দেখার পরেও উনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে দোকানদারদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন।

তবে রায়হান কবীর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়, লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্ব আপনার থাকলেও কেন ওইসব দোকান দেখেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। তিনি জানান, বিষয়গুলো উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ জানেন।

বগুড়া জিআরপি ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর কায়কোবাদ জানান, ঘটনাটি জানার পরে সেখানে আমরা দ্রুত যাই। কিন্তু কোনো আহত কিংবা নিহত ব্যক্তির খোঁজ পাইনি। তবে আশেপাশের লোকজন জানিয়েছেন, চার-পাঁচজন ক্রেতা আহত হয়েছেন।
বগুড়া ফায়ার স্টেশনের সিনিয়ন স্টেশন মাষ্টার বজলুর রশিদ জানান, দুইজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন, গাবতলী উপজেলার রুমি খাতুন (৩০) এবং দুপচাঁচিয়া উপজেলার মানিক (৫৫)। তাদের শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে আরও কয়েকজনের কথা শুনলেও তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।

রেল লাইনের পাশের স্থানীয় ব্যবসায়ী নাম না প্রকাশে ইচ্ছুক কয়েকজন জানান, গত ৫/৬ বছরে প্রায় ৭-৮জন ট্রেনে কেটে হঠাৎ মার্কেটে মারা গেছে। এদের মধ্যে ক্রেতা এবং দোকানদারও ছিল। বুধবার যদি ট্রেনের চালক দ্রুত ব্রেক না করতো তাহলে কয়েক’শ লোকের প্রাণহানি ঘটতো।

কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছে ট্রেন চালকের দক্ষতায়