কুষ্টিয়ায় জাতীয় শ্রমিক লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

কে এম শাহীন রেজা, কুষ্টিয়া জেলার প্রতিনিধি।।
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১২ অক্টোবর, ২০২১
  • ৩৯ বার পঠিত

 

‘বাংলার মেহনতি মানুষ এক হও,দুনিয়ার মজদুর এক হও’- এ শ্লোগানকে সামনে রেখে কুষ্টিয়ায় উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে জাতীয় শ্রমিক লীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত হয়েছে।

 

এ উপলক্ষে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টায় শহরের কালেক্টর চত্বরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যে পুষ্পস্তর্বক অর্পন ও এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শ্রমিক সমাবেশ শুরু হয়। পরে সেখানে দলীয় নেতৃবৃন্দ কেক কাটেন।

 

 

অনুষ্ঠানে,জাতীয় শ্রমিকলীগের কুষ্টিয়া জেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি তমেজ উদ্দিন ইউসুফ আলী সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন,

 


কুষ্টিয়া জেলা জাতীয় শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো. আমজাদ আলী খান। এমময় আমজাদ আলী খান শ্রমিক লীগের নেতৃবৃন্দদের উদ্দেশ্য তার বক্তব্য বলেন,ঐক্যবদ্ধ হয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান তিনি৷ এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সহ-সভাপতি মো. ইয়াকুব আলী, মো. জিল্লুর রহমান, মো. হাফিজুর রহমান, আমিরুল ইসলাম, আঃ রশিদ, মো. ইন্তাজুল হক মিন্টু, কুষ্টিয়া মহিলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেরুন নেসা বিউটি, কুষ্টিয়া জেলা জাতীয় শ্রমিক লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এইচ এম মতিউর রহমান, মো. হামিদুল ইসলাম, মো. শাহিনুল ইসলাম লেবু, মোঃ পলাশ মিয়া, সহ-সাধারণ সম্পাদক মোঃ বাদশা আলমগীর, মোঃ আফজাল হোসেন, আঃ হামিদ, আনোয়ার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ ইলিয়াস হোসেন, মোঃ ইসমাইল হোসেন, মোঃ তরিকুল হাসান মিন্টু, মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াজ আলী, প্রচার সম্পাদক মোঃ আব্দুর রশিদ, দপ্তর সম্পাদক, জাহাঙ্গীর হোসেন, সহ-অর্থ সম্পাদক রেজাউল হক, ক্রীড়া সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক খোমিনী, ত্রান ও পূনবার্সন বিষয়ক সম্পাদক মোঃ সরো উদ্দিন, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক সুমিত্রা সাহা, সহ-মহিলা বিষয়ক সম্পাদক হোসনেয়া বেগম, শ্রমিক কল্যান বিষয়ক সম্পাদক মাহাবুব হোসেন, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ সেলিম উদ্দিন, কুষ্টিয়া শহর শ্রমিক লীগের সভাপতি দেওয়ান মোঃ মাসুদুর রহমান স্বপন , কুমারখালী উপজেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম সাদ্দাম, খোকসা উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি সাইদুর রহমান, মিরপুর উপজেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, দৌলতপুর উপজেলা শ্রমিক লীগের সদস্য সচিব মোঃ মাহি বিশ্বাস, কুষ্টিয়া জেলা জাতীয় শ্রমিক লীগের নির্বাহী সদস্য মোতালেব, হাবিবুর রহমান, শাহা আলম, আসাদুল হক, মোঃ তছিম উদ্দিন, দৌলতপুর উপজেলা শ্রমিক লীগের নেতা আলহাজ্ব খায়রুল ইসলাম সিপন ও মোঃ আনিসুর রহমান প্রমুখসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

 

 

 

বগুড়ায় ট্রেন চালকের দক্ষতায় বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে দোলন চাঁপা আন্তঃনগর ট্রেন। ওই ঘটনায় দু’জন আহত হলেও কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছেন। রেল লাইনের উপর অবৈধ দোকানগুলো ওই দুর্ঘটনার কারণ বলে জানিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় লোকজন।

বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে মাত্র ত্রিশ গজ দূরেই এক যুগেরও বেশি সময় ধরে (বগুড়া রেলস্টেশন থেকে একনম্বর ঘুমটি পর্যন্ত ) প্রায় তিন শতাধিক অবৈধ কাপড়ের দোকান রেল লাইনের উপর রয়েছে। বগুড়ার পুরাতন কাপড়ের বড় মার্কেট এটি। পরিচিত ‘হঠাৎ মার্কেট’ হিসেবে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েক হাজার ক্রেতার সমাগম ঘটে। বছরে একবার করে রেল থেকে ওইসব দোকান উচ্ছেদ করলেও দুই তিনদিন পরে আবারও দোকান আগের মতো বসে। মূল রেল লাইনের উপর তাঁবু টানিয়ে এসব দোকান বসানো হয়েছে। ট্রেন চলে আসলেই দ্রুত তাবুগুলো সরে ফেলা হয়। কয়েক বছরে প্রায় ৭-৮ জন ক্রেতা এবং বিক্রেতার প্রাণহানি ঘটেছে এই হঠাৎ মার্কেটে।

বগুড়ার রেলস্টেশনের স্টেশন মাষ্টার আবুল কাশেম জানান, দুপুর ১১টায় দোলন চাঁটা আন্তঃনগর ট্রেন বোনারপাড়া থেকে বগুড়ায় আসছিল। অপরদিকে আরেকটি আন্তঃনগর ট্রেন লালমনি এক্সপ্রেক্স ঢাকা থেকে বগুড়া স্টেশনে আসতে থাকে। সিগন্যাল এবং পয়েন্ট ঠিক করে দোলনচাঁপা ট্রেনটির জন্য দুইনম্বর লুপ লাইনে এবং লালমনি এক্সপ্রেক্সকে একনম্বর লাইনে আসার নির্দেশনা ঠিক করা হয়। দোলনচাঁপা ট্রেনটি হুইসেল দিতে দিতে দুই নম্বর লুপ লাইন দিয়ে স্টেশনে আসতে থাকে।

‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদারদের জানা ছিল ওই ট্রেনটি একনম্বর লাইন দিয়ে আসবে। তাই তারা দোকানের তাবু সরাইনি। কিন্তু যখন ট্রেনটি দুইনম্বর লুপ লাইন দিয়ে হুইসেল দিতে দিতে আসতে থাকে তখন দোকানদার এবং ক্রেতারা চিৎকার করে এদিক ওদিক দৌড়ে পালাতে থাকে। ট্রেন চালক দ্রুততার সাথে ট্রেনটি ব্রেক করায় দোকানের মালামাল নষ্ট হলেও কোন প্রাণ হানি ঘটেনি। নইলে অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারতো।

তিনি আরও জানান, গত ১৯ নভেম্বর লালমনিহাট থেকে বিভাগীয় ভূ-সম্পদ কর্মকর্তাসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা স্টেশনের পাশের একটি মার্কেটের প্রায় দুইশতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়ার সময় ‘হঠাৎ মার্কেট’দুইদিন বন্ধ ছিল। পরে ২২ নভেম্বর আবারও ‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদাররা তাদের দোকান বসায়। এ বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে রেল স্টেশন সীমানার মধ্যে এবং লাইনের উপর অবৈধ দোকান উচ্ছেদের জন্য ২৩ নভেম্বর চিঠি দেয়া হয়।

স্টেশন মাষ্টার আরও জানান, রেল লাইন থেকে দুই পাশের ১০ ফুট করে জায়গা ১৪৪ ধারা সবসময়ের জন্য জারী থাকরেও এসব কেউ মানছেনা। স্টেশন মাষ্টার অভিযোগ করে বলেন, সিগন্যাল এবং পয়েন্টের তারের উপর অবৈধ দোকান বসার কারনে অনেক সময় সঠিকভাবে সিগন্যাল ও পয়েন্ট করা সম্ভব হয়না। অথচ, ট্রেনের আসা যাওয়ার মূল বিষয়টি হলো সিগন্যাল এবং পয়েন্ট।

বগুড়া রেল স্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারী শাহীন আলম জানান, রেল লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী ইন্সপেক্টর রায়হান কবীরের কারণেই রেল লাইনের উপর অবৈধ হঠাৎ মার্কেট গড়ে উঠেছে। লাইনের উপর নিরাপত্তার দায়িত্ব তার থাকলেও প্রতিদিন লাইনের উপর মার্কেট দেখার পরেও উনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে দোকানদারদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন।

তবে রায়হান কবীর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়, লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্ব আপনার থাকলেও কেন ওইসব দোকান দেখেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। তিনি জানান, বিষয়গুলো উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ জানেন।

বগুড়া জিআরপি ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর কায়কোবাদ জানান, ঘটনাটি জানার পরে সেখানে আমরা দ্রুত যাই। কিন্তু কোনো আহত কিংবা নিহত ব্যক্তির খোঁজ পাইনি। তবে আশেপাশের লোকজন জানিয়েছেন, চার-পাঁচজন ক্রেতা আহত হয়েছেন।
বগুড়া ফায়ার স্টেশনের সিনিয়ন স্টেশন মাষ্টার বজলুর রশিদ জানান, দুইজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন, গাবতলী উপজেলার রুমি খাতুন (৩০) এবং দুপচাঁচিয়া উপজেলার মানিক (৫৫)। তাদের শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে আরও কয়েকজনের কথা শুনলেও তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।

রেল লাইনের পাশের স্থানীয় ব্যবসায়ী নাম না প্রকাশে ইচ্ছুক কয়েকজন জানান, গত ৫/৬ বছরে প্রায় ৭-৮জন ট্রেনে কেটে হঠাৎ মার্কেটে মারা গেছে। এদের মধ্যে ক্রেতা এবং দোকানদারও ছিল। বুধবার যদি ট্রেনের চালক দ্রুত ব্রেক না করতো তাহলে কয়েক’শ লোকের প্রাণহানি ঘটতো।

কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছে ট্রেন চালকের দক্ষতায়