কুড়িগ্রামের ৪ আসন স্বতন্ত্রে ভর,স্বতন্ত্রেই ভয়

নয়ন দাস,কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৩
  • ৩১ বার পঠিত

 

 

 

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুড়িগ্রামের চারটি আসনের মধ্যে দুটিতে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী। বাকি দুই আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দুই প্রার্থী। তবে কোনও আসনেই স্বস্তিতে নেই ক্ষমতাসীন দলের মাঝিরা। প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা আসনের একটিতে সমমনা স্বতন্ত্র প্রার্থীর ওপর ভর করলেও, বাকি দুই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা আছেন ভালো অবস্থানে।

সংশ্লিষ্ট সংসদীয় আসনের ভোটার ও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

কুড়িগ্রাম-১ ও ২ সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন। ‘মহাজোটের’ শরিক জাতীয় পার্টির প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে এমন সিদ্ধান্ত নেয় দলটি। তবে এতে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কুড়িগ্রাম-২ আসনে (কুড়িগ্রাম সদর, রাজারহাট ও ফুলবাড়ী) স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. হামিদুল হক খন্দকারকে প্রকাশ্যে সমর্থন করছে দলটির একটি বড় অংশ। তবে কুড়িগ্রাম-৩ ও ৪ আসনে শক্ত প্রতিপক্ষ হিসেবে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নিয়ে শঙ্কিত দলটি।

কুড়িগ্রাম-২ আসনে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. জাফর আলী দলীয় মনোনয়ন পেলেও পরে প্রত্যাহার করে নেন। এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. পনির উদ্দিন আহমেদকে ছাড় দিতে দলীয় সিদ্ধান্তে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন তিনি। তবে জাপা প্রার্থীকে সমর্থন না দিয়ে এই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক স্বাচিপ নেতা ডা. হামিদুল হক খন্দকারকে সমর্থন করছে আওয়ামী লীগের একটি বড় অংশ।

জেলা আওয়ামী লীগের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা জানান, প্রায় অস্তিত্বহীন দলটির (জাপা) কারণে জেলায় তাদের রাজনীতি বিফলে যাচ্ছে। তা ছাড়া দলীয় প্রার্থী সংসদ সদস্য না হওয়ায় জেলার এ আসনটি উন্নয়নবঞ্চিত থেকে যাচ্ছে। সাংগঠনিক কার্যক্রমেও প্রভাব বিস্তার করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে তারা তাদেরই দলের মতাদর্শে বিশ্বাসী স্বাচিপ নেতা হামিদুল হক খন্দকারের নির্বাচনি প্রচারণা চালাচ্ছেন। ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে ও তাকে ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ করছেন।

জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আনিছুর রহমান খন্দকার চাঁদ বলেন, এবার নির্বাচনে মহাজোট নেই। কেন্দ্রীয়ভাবে জাপা প্রার্থীর জন্য কাজ করার কোনও নির্দেশনাও নেই। আমরা দলটির প্রার্থীর জন্য কাজ করতে চাই না। কুড়িগ্রামের উন্নয়নের স্বার্থে লাঙ্গলকে ‘না’ বলুন। আমরা স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. হামিদুল হক খন্দকারের হয়ে কাজ করছি। তিনি যোগ্য ও শিক্ষিত প্রার্থী।

জাপা প্রার্থীকে সমর্থন না করার প্রশ্নে এই যুবলীগ নেতা বলেন, আমি ৩৫ বছর ধরে রাজনীতি করছি। আমরা কি বারবার জাপা প্রার্থীর জন্য কাজ করে যাবো? এবার আর নয়।

সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল কাদের বলেন, আমরা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হামিদুল হক খন্দকার ও তার প্রতীক ট্রাকের প্রচারণা করছি। কারণ জাপা প্রার্থীরা জোটের দোহাই দিয়ে বারবার এই আসন নেন ঠিকই কিন্তু আমাদের উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করেন। উন্নয়নের স্বার্থে এবার আমরা জাপা প্রার্থীকে প্রত্যাখ্যান করছি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা আওয়ামী লীগের একজন প্রভাবশালী নেতা বলেন, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের অর্থ এই নয় যে জাপা প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়া বা তাদের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। তাহলে তো আর ভোট থাকলো না। দেশের অনেক স্থানের মতো এখানেও নেতাকর্মীরা স্বতন্ত্র প্রার্থীর হয়ে কাজ করছেন। দল সেই স্বাধীনতা তাদের দিয়েছে।

কুড়িগ্রাম-২ আসনের বিপরীত চিত্র দেখা গেছে কুড়িগ্রাম-৩ ও কুড়িগ্রাম-৪ আসনে। এই দুই আসনে আওয়ামী লীগের শক্ত প্রতিপক্ষ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন স্বতন্ত্র ও জাপা প্রার্থী। ফলে এই দুই আসনে বিজয় নিয়ে অনেকটা শঙ্কিত দলটি। যদিও প্রচারণায় অলসতা নেই নেতাকর্মীদের মধ্যে।

কুড়িগ্রাম-৩ আসনে (উলিপুর) এগিয়ে আছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. মো. আক্কাছ আলী সরকার। ট্রাক প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়া এই চিকিৎসক রাজনীতিক নির্বাচনি এলাকার বিভিন্ন প্রান্ত চষে বেড়াচ্ছেন। আওয়ামী লীগের মূল প্রতিপক্ষ তিনি। ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে এই স্বতন্ত্র প্রার্থীর এগিয়ে থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

তবে আওয়ামী লীগ ও জাপা নেতাকর্মীদের দাবি, ভোটারদের অবস্থান পরিবর্তন হচ্ছে। নৌকা ও লাঙ্গলের প্রতি জনসমর্থন বাড়ছে। শেষ পর্যন্ত ফলাফল পাল্টে যেতে পারে।

উলিপুরের ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের ভোটার মিজানুর বলেন, ভোট নিয়ে মানুষের মধ্যে তেমন আগ্রহ নেই। তবে মানুষের মুখে ট্রাক প্রতীকের কথা বেশি শোনা যায়।

পৌর এলাকার বাসিন্দা কাজল নামে এক ভোটার বলেন, যদি ভোটাররা কেন্দ্রে যান, তাহলে ট্রাক প্রতীকের বিজয় হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

উলিপুরের সংবাদকর্মী নয়ন দাস বলেন, বিভিন্ন এলাকার ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে বোঝা যাচ্ছে, এই আসনে মূল লড়াই হবে নৌকা ও ট্রাক প্রতীকের মধ্যে। তবে কে বিজয়ী হবেন, এটা এই মহূর্তে বলা যাচ্ছে না।

এই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. আক্কাছ আলী সরকার নিজের বিজয় অনেকটা নিশ্চিত জানিয়ে বলেন, আপনারা মূল্যায়ন করেন। আমার ভোট হবে ৭০ ভাগ, প্রতিপক্ষের হবে ৩০ ভাগ। আমি জিতবো, ইনশাআল্লাহ।

আওয়ামী লীগের প্রার্থী সৌমেন্দ্র প্রসাদ পান্ডে বলেন, সব প্রার্থী নিজের বিজয়ের ব্যাপারে মত ব্যক্ত করেন। কিন্তু বিজয়ের মালিক জনগণ। কে কত ভাগ ভোট পাবেন, সেটা সৃষ্টিকর্তা জানেন। উলিপুরের জনগণের কাছে খোঁজখবর নেন। আমি আমার বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। বিজয় অবশ্যই হবে।

কুড়িগ্রাম-৪ আসনে (চিলমারী, রৌমারী ও রাজিবপুর) নিজ দলীয় স্বতন্ত্র প্রার্থী মজিবর রহমান বঙ্গবাসীর (ঈগল) ও জাপা প্রার্থী (লাঙ্গল) সঙ্গে নৌকার প্রার্থীর হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পূর্বাভাস পাওয়া গেছে। স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই আসনে গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেনকে হটিয়ে নৌকার বইঠা পাওয়া নতুন প্রার্থী বিপ্লব হাসানের প্রতি জনসমর্থন দিন দিন বাড়ছে। এমনটা চলতে থাকলে হয়তো শেষ হাসি তিনিই হাসবেন।

 

 

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর