কুড়িগ্রামে আলুর বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

 নয়ন দাস,কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৫ মার্চ, ২০২২
  • ৬৩ বার পঠিত

মাঠ থেকে আলু তুলতে ব্যস্ত ছোট-বড় সবাই,দেশের আলু চাষের অন্যতম জেলা উত্তর অঞ্চলের সীমান্ত ঘেষা কুড়িগ্রাম।চাষিরা শেষ মৌসুমে আলু উত্তোলনে ব্যস্ত সময় পার করছেন।কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের উত্তর নওয়াবস আলু উত্তোলন শুরু করেছেন।

 

তাই অধিক লাভের আশায় প্রতিটি মৌসুমেই এই জেলার কৃষকরা বিভিন্ন জাতের আলু চাষাবাদ করে থাকেন। বর্তমানে আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষকরা আলু চাষে ব্যাপক সাফল্য এনেছেন। চলতি মৌসুমে কুড়িগ্রাম জেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের উত্তর নওয়াবস গ্রামের মামুন আহমেদ ধরলা ব্রিজ পূর্ব পাড় চরাঞ্চলের নিজ জমিতে বিভিন্ন জাতের দেশি ও হাইব্রিড লাভজনক আলু চাষের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। অন্যান্য ফসলের তুলনায় আলু চাষে পরিশ্রম ও খরচ তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় কৃষকেরা লাভের মুখ দেখছেন।

 

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার মামুন আহমেদ এর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়,এবার আলুর দাম ভাল পাওয়ায় বেশ খুশি তিনি। ১ একর জমিতে আবাদ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ১ লক্ষ টাকা নিয়ে চাষাবাদ করার জন্য উদ্যোগ নিয়েছি।তাই তারা এবার ১ একর জমিতে গ্রানুলা জাতের আলু চাষ করেছেন। আশা প্রতি বিঘা জমি থেকে ১২০ মণ আলু উৎপাদন হবে।

 

আলু চাষ করে লাভের আশা করছেন বলেও জানান তিনি। জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০১৮-১৯ মৌসুমে ৩৭ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হলেও ৩৯ হাজার ৯৭৫ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৫ ভাগ বেশি। এতে আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৭ লাখ ৯৬ হাজার ৯৫০ মেট্রিক টন। উপজেলা ভিত্তিক আলু চাষের মধ্যে রয়েছে।

 

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় ৬ হাজার ৮শ হেক্টর,ফুলবাড়ী উপজেলায় ৬ হাজার ৮৫০ হেক্টর,নাগেশ্বরী উপজেলায় ৫ হাজার হেক্টর,উলিপুর উপজেলায় ১০ হাজার ৮০০ হেক্টর, ও চিলমারী উপজেলায় ৮ হাজার ৫০০ হেক্টর,জমি।যা জেলার স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহসহ বিদেশে রপ্তানি করা হয়। সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ জাকির হোসেন জানান,দেশের আলু চাষের উন্নত এলাকা কুড়িগ্রাম।

 

আলু চাষ সফল করতে কৃষক পর্যায়ে প্রশিক্ষণসহ কৃষি বিভাগের সার্বক্ষণিক মনিটরিং ও কৃষকদের পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। এবার জেলায় সারের মজুদ পর্যাপ্ত ছাড়াও বিএডিসি’র পক্ষ থেকে কৃষকদের মাঝে উন্নত জাতের আলু বীজ সরবরাহ করা হয়েছে। এবার আলুতে রোগ-বালাই দেখা যায়নি। শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর আলুর বাম্পার ফলন হবে।এই জেলার উৎপাদিত আলু স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি হয়ে থাকে বলেও জানান তিনি।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

 

 

 

বগুড়ায় ট্রেন চালকের দক্ষতায় বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে দোলন চাঁপা আন্তঃনগর ট্রেন। ওই ঘটনায় দু’জন আহত হলেও কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছেন। রেল লাইনের উপর অবৈধ দোকানগুলো ওই দুর্ঘটনার কারণ বলে জানিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় লোকজন।

বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে মাত্র ত্রিশ গজ দূরেই এক যুগেরও বেশি সময় ধরে (বগুড়া রেলস্টেশন থেকে একনম্বর ঘুমটি পর্যন্ত ) প্রায় তিন শতাধিক অবৈধ কাপড়ের দোকান রেল লাইনের উপর রয়েছে। বগুড়ার পুরাতন কাপড়ের বড় মার্কেট এটি। পরিচিত ‘হঠাৎ মার্কেট’ হিসেবে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েক হাজার ক্রেতার সমাগম ঘটে। বছরে একবার করে রেল থেকে ওইসব দোকান উচ্ছেদ করলেও দুই তিনদিন পরে আবারও দোকান আগের মতো বসে। মূল রেল লাইনের উপর তাঁবু টানিয়ে এসব দোকান বসানো হয়েছে। ট্রেন চলে আসলেই দ্রুত তাবুগুলো সরে ফেলা হয়। কয়েক বছরে প্রায় ৭-৮ জন ক্রেতা এবং বিক্রেতার প্রাণহানি ঘটেছে এই হঠাৎ মার্কেটে।

বগুড়ার রেলস্টেশনের স্টেশন মাষ্টার আবুল কাশেম জানান, দুপুর ১১টায় দোলন চাঁটা আন্তঃনগর ট্রেন বোনারপাড়া থেকে বগুড়ায় আসছিল। অপরদিকে আরেকটি আন্তঃনগর ট্রেন লালমনি এক্সপ্রেক্স ঢাকা থেকে বগুড়া স্টেশনে আসতে থাকে। সিগন্যাল এবং পয়েন্ট ঠিক করে দোলনচাঁপা ট্রেনটির জন্য দুইনম্বর লুপ লাইনে এবং লালমনি এক্সপ্রেক্সকে একনম্বর লাইনে আসার নির্দেশনা ঠিক করা হয়। দোলনচাঁপা ট্রেনটি হুইসেল দিতে দিতে দুই নম্বর লুপ লাইন দিয়ে স্টেশনে আসতে থাকে।

‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদারদের জানা ছিল ওই ট্রেনটি একনম্বর লাইন দিয়ে আসবে। তাই তারা দোকানের তাবু সরাইনি। কিন্তু যখন ট্রেনটি দুইনম্বর লুপ লাইন দিয়ে হুইসেল দিতে দিতে আসতে থাকে তখন দোকানদার এবং ক্রেতারা চিৎকার করে এদিক ওদিক দৌড়ে পালাতে থাকে। ট্রেন চালক দ্রুততার সাথে ট্রেনটি ব্রেক করায় দোকানের মালামাল নষ্ট হলেও কোন প্রাণ হানি ঘটেনি। নইলে অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারতো।

তিনি আরও জানান, গত ১৯ নভেম্বর লালমনিহাট থেকে বিভাগীয় ভূ-সম্পদ কর্মকর্তাসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা স্টেশনের পাশের একটি মার্কেটের প্রায় দুইশতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়ার সময় ‘হঠাৎ মার্কেট’দুইদিন বন্ধ ছিল। পরে ২২ নভেম্বর আবারও ‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদাররা তাদের দোকান বসায়। এ বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে রেল স্টেশন সীমানার মধ্যে এবং লাইনের উপর অবৈধ দোকান উচ্ছেদের জন্য ২৩ নভেম্বর চিঠি দেয়া হয়।

স্টেশন মাষ্টার আরও জানান, রেল লাইন থেকে দুই পাশের ১০ ফুট করে জায়গা ১৪৪ ধারা সবসময়ের জন্য জারী থাকরেও এসব কেউ মানছেনা। স্টেশন মাষ্টার অভিযোগ করে বলেন, সিগন্যাল এবং পয়েন্টের তারের উপর অবৈধ দোকান বসার কারনে অনেক সময় সঠিকভাবে সিগন্যাল ও পয়েন্ট করা সম্ভব হয়না। অথচ, ট্রেনের আসা যাওয়ার মূল বিষয়টি হলো সিগন্যাল এবং পয়েন্ট।

বগুড়া রেল স্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারী শাহীন আলম জানান, রেল লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী ইন্সপেক্টর রায়হান কবীরের কারণেই রেল লাইনের উপর অবৈধ হঠাৎ মার্কেট গড়ে উঠেছে। লাইনের উপর নিরাপত্তার দায়িত্ব তার থাকলেও প্রতিদিন লাইনের উপর মার্কেট দেখার পরেও উনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে দোকানদারদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন।

তবে রায়হান কবীর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়, লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্ব আপনার থাকলেও কেন ওইসব দোকান দেখেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। তিনি জানান, বিষয়গুলো উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ জানেন।

বগুড়া জিআরপি ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর কায়কোবাদ জানান, ঘটনাটি জানার পরে সেখানে আমরা দ্রুত যাই। কিন্তু কোনো আহত কিংবা নিহত ব্যক্তির খোঁজ পাইনি। তবে আশেপাশের লোকজন জানিয়েছেন, চার-পাঁচজন ক্রেতা আহত হয়েছেন।
বগুড়া ফায়ার স্টেশনের সিনিয়ন স্টেশন মাষ্টার বজলুর রশিদ জানান, দুইজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন, গাবতলী উপজেলার রুমি খাতুন (৩০) এবং দুপচাঁচিয়া উপজেলার মানিক (৫৫)। তাদের শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে আরও কয়েকজনের কথা শুনলেও তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।

রেল লাইনের পাশের স্থানীয় ব্যবসায়ী নাম না প্রকাশে ইচ্ছুক কয়েকজন জানান, গত ৫/৬ বছরে প্রায় ৭-৮জন ট্রেনে কেটে হঠাৎ মার্কেটে মারা গেছে। এদের মধ্যে ক্রেতা এবং দোকানদারও ছিল। বুধবার যদি ট্রেনের চালক দ্রুত ব্রেক না করতো তাহলে কয়েক’শ লোকের প্রাণহানি ঘটতো।

কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছে ট্রেন চালকের দক্ষতায়