কুড়িগ্রামে কৃষকদের ফসলী জমি ক্ষতিগ্রস্থ,থানায় লিখিত অভিযোগ

নয়ন দাস,কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২২
  • ২৩৭ বার পঠিত
 কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় সীমান্তে গরু-মাদকদ্রব্য পাচারকালে সাধারণ কৃষকদের ফসলী জমি ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে কথা বললে,আশরাফুল ইসলাম নামে ক্ষতিগ্রস্ত একজন কৃষক ১৬ জন চোরাকারবারীর নাম উল্লেখ করে রৌমারী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,গত (১ফেব্রুয়ারি)রাত ১ টার দিকে ভারত থেকে গরু এবং ইয়াবা পাচারকালে অভিযোগকারী আশরাফুল ইসলামের দুইএকর ভুট্টার খেতসহ আরও কয়েকজন কৃষকের প্রায় তিন একর ভুট্টার খেত ধ্বংস করে চোরাকারবারীরা।
যাদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে তারা হলেন,শফিকুল ইসলাম ওরফে টাওয়ার শফিকুল(৩২), ফজর মিয়া ওরফে ফকরে (৩৩), ছতিয়ার মিয়া(৩৪), মণ্ডল ইসলাম (৩২), রহিজুদ্দিন (৪৫), ফয়জার মিয়া (২৫), সাইফুল ইসলাম (৪০), শহিদুল ইসলাম (২৫), রহিম মিয়া (৪৫), জয়দুল ইসলাম (৩৪), সাহাদৎ হোসেন (৩০), ফারুক মিয়া (২৩), মিনারুল ইসলাম (২৫), ফরিদুল ইসলাম (২৫), ফরিজ মিয়া (২৬), জাইদুল ইসলাম (২৫)। অভিযুক্তরা প্রত্যেকেই অত্র এলাকার কুখ্যাত চোরাকারবারি ও ইয়াবা ব্যবসায়ী। তাদের অত্যাচারে এলাকার সাধারণ মানুষ অতিষ্ট হয়ে পড়েছে।
ইতোমধ্যে তাদের নামে রৌমারী থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক জাইদুল ইসলাম বলেন,আমি ভুট্টা চাষ করছি। গাছও বড়-বড় হইছে। চোরাকারবারিরা আরকি দিয়া গরু-মাদক নিয়া আইসে। আমার ভুট্টা খেত নষ্ট করি ফেলাইছে। বিজিবি কই তামরা কিছুই কয় না। সরকারও কোন পদক্ষেপ নেয় না। এভাবে আবাদ ক্ষতি হইলে তো আবাদ হবে না। কৃষক নুরুল ইসলাম বলেন,আবাদ করিচ্ছি কিন্তু গরু পাচারকারীদের জন্য আবাদ করবার পাবাইছিনা। হামরা কৃষক অতিষ্ট হয়া গেছি।
ভুট্টা, সরিষাসহ মেলা জমির ফসল নষ্ট হয়া যায় রাতে পাচারের সময়। এলাকার প্রায় ৮/১০জন কৃষকের তিন একর ফসলি জমি নষ্ট হয়া গেছে। এলাকার কৃষক আব্দুল মমিনের ৬২ শতক, মুকুল মিয়ার ১২৪ শতক, রাশেদুল ইসলামের ৬২ শতক, সাইফুল ইসলামের ৪৫ শতক ভুট্টা খেত নষ্ট হয়েছে। অভিযোগকারী আশরাফুল ইসলাম বলেন, বিঘা প্রতি আমি ৩০হাজার টাকা খরচ করে ভুট্টা চাষ করছি দু’একর জমিতে। বিঘা প্রতি এর ফলন হতো প্রায় আড়াই মণ। যার আনুমানিক মূল্য এক লাখ টাকা।
চোরাকারবারিরা গরু-মাদক পাচারকালে আমার সেই দু’একর ভুট্টা খেত নষ্ট করে ফেলেছে। তাদের জন্য সীমান্তের ফসলী জমিতে আমরা ঠিকভাবে আবাদ করতে পারি না। তাই বাধ্য হয়ে লিখিত অভিযোগ করেছি। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করেন,রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোন্তাছের বিল্লাহ বলেন,বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সহিত দেখছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর