কুড়িগ্রামে প্রতিমন্ত্রীর আসনে দুটিতে নতুন প্রার্থী

নয়ন দাস,কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২৩
  • ৪৮ বার পঠিত

 

 

কুড়িগ্রাম-৪ আসনের (চিলমারী,রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলা) সংসদ সদস্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেনকে আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয়নি আওয়ামী লীগ। তার স্থলে নতুন প্রার্থী হিসেবে নৌকার ‘টিকিট’ পেয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা উপ-কমিটির সদস্য বিপ্লব হাসান পলাশ। তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক উপ-আইন বিষয়ক সম্পাদক।

অন্যদিকে, কুড়িগ্রাম-৩ আসনে (উলিপুর উপজেলা) প্রার্থী পরিবর্তন করেছে স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দেওয়া দেশের অন্যতম প্রাচীন এই দলটি। ওই আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা এমএ মতিনকে বাদ দিয়ে নতুন প্রার্থী হিসেবে নৌকার টিকিট পেয়েছেন আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য উলিপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এবং উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সৌমেন্দ্র প্রসাদ পান্ডে।

এদিকে, কুড়িগ্রাম-১ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আসলাম হোসেন সওদাগর আবারও মনোনয়ন পেয়েছেন। কুড়িগ্রাম-২ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন সদ্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য মো. জাফর আলী।

রবিবার দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সংসদ দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের নামের তালিকা প্রকাশ করেন।

এর আগে প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেনকে মনোনয়ন না দিতে অনুরোধ জানিয়ে দলীয় সভাপতি বরাবর আবেদন করেন কুড়িগ্রাম-৪ আসনভুক্ত রৌমারী, চিলমারী ও রাজিবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের ১৬ নেতৃবৃন্দ। তারা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেনকে ‘দুর্নীতিবাজ, গণবিচ্ছিন্ন ও বিতর্কিত’ আখ্যা দিয়ে অভিযোগপত্রে বলেন, ‘সংসদ সদস্য জাকির হোসেন একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি। তিনি রৌমারী, চিলমারী ও রাজিবপুর এলাকায় ভূমিদস্যু হিসেবে পরিচিত। তিনি বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের নাম ব্যবহার করে ভূমি দখল করেছেন।’

আওয়ামী লীগ নেতারা আরও বলেন, ‘তিনি (জাকির হোসেন) নিজে একজন মাদকসেবী এবং তার পরিবার দিয়ে এলাকায় মাদক ব্যবসা ও চোরাকারবারী নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন।’

আবেদনপত্রে স্বাক্ষর করেন রাজিবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই সরকার, রাজিবপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য শফিউল আলম, কুড়িগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও রৌমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মিনু, রৌমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শহিদুল ইসলাম শালু, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও দুর্যোগ উপকমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম সহ ১৬ নেতাকর্মী।

একইভাবে কুড়িগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য এমএ মতিনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে তাকে মনোনয়ন না দিতে দলীয় সভাপতি বরাবর দলীয় প্যাডের পাতায় আবেদন করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ মো. আহসান হাবীব রানা ও সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম হোসেন মন্টু। তারা গত ১২ নভেম্বর এই আবেদন করেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ধারণা, দলীয় নেতাকর্মীর অভিযোগ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন আমলে নিয়ে জাকির হোসেন ও এমএ মতিনকে আসন্ন নির্বাচনে মনোনয়ন দেননি দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা।

নতুন দুই প্রার্থী সম্পর্কে এখন পর্যন্ত যা জানা গেছে
কুড়িগ্রাম-৩ আসনে মনোনয়ন পাওয়া নতুন প্রার্থী সৌমেন্দ্র প্রসাদ পান্ডে একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ। তিনি উলিপুর উপজেলার পৌর এলাকার জোদ্দার পাড়ার বাসিন্দা। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তার কোনও প্রভাবশালী ভূমিকা না থাকলেও পূজা উদযাপন কমিটির নেতা হিসেবে তিনি জেলায় বেশ পরিচিত। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য, জাতীয় পূজা উদযাপন কমিটির সদস্য এবং উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বর্তমান সংসদ সদস্যের স্থলে নিজের মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে সৌমেন্দ্র প্রসাদ বলেন, ‘সেটা পার্লামেন্টারি বোর্ড ও দলীয় সভাপতি ভালো বলতে পারবেন। আমাকে মনোনয়ন দিয়েছেন। আমি নির্বাচনে জয়লাভ করলে এলাকা ও এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করবো।’

নিজের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে নতুন এই প্রার্থী বলেন, ‘ছাত্রলীগ দিয়ে আমার রাজনীতি শুরু। ’৭০ ও ’৭১ সালে ছাত্রলীগের রাজনীতি করেছি। স্বাধীনতা উত্তর জেলার প্রথম ছাত্রলীগ সভাপতি ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ মোহাম্মদ আলী সরদারের হাতের তৈরি লোক আমরা। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে সারা জীবন আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে যাচ্ছি।’

কুড়িগ্রাম-৪ আসনে প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেনের স্থলে নতুন মুখ হিসেবে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা উপ-কমিটির সদস্য বিপ্লব হাসান পলাশ। তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক উপ-আইন বিষয়ক সম্পাদক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্যসেন হল ছাত্রলীগের সহসভাপতি ছিলেন। তার বাড়ি কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বন্দবেড় ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের খঞ্জনমারা গ্রামে।ওই গ্রামের নরুল আমীন ও মমতাজ বেগম দম্পতির ছেলে তিনি। ব্যক্তি জীবনে দুই সন্তানের বাবা বিপ্লব হাসান পলাশ বর্তমানে ঢাকায় বসবাস করেন। তিনি সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসেবে কর্মরত। মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে তার মতামত জানতে কয়েকবার ফোন করা হলেও রিসিভ করেননি।

পলাশের চাচাতো ভাই নাজমুল হাসান বলেন, ‘পলাশের মনোনয়ন পাওয়ার খবরে এলাকায় আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলাবাসী খুবই আনন্দিত। সকলে শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন।’

নিজেদের বাদ পড়ার বিষয়ে জানতে প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন ও এমএ মতিনকে ফোন দিলেও তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও আসন্ন নির্বাচনে কুড়িগ্রাম-২ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া সাবেক সংসদ সদস্য মো. জাফর আলী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু কন্যা ও দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। তিনি আমাকেসহ জেলার

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর