কুড়িগ্রামে বাইপাস সড়ক মেরামত করল ছাত্রলীগের কর্মীরা

নয়ন দাস,কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৮ জুলাই, ২০২১
  • ২৪ বার পঠিত



কুড়িগ্রাম জেলা ছাত্রলীগের উদ্যোগে স্বেচ্ছা শ্রমের ভিত্তিতে বন্যায় ভেঙে যাওয়া একটি সংযোগ সড়ক মেরামত করা হয়েছে। ধরলার প্রবল স্রোতে কয়েকদিন আগে সদর উপজেলার শুলকুর বাজারে সংযোগ সড়কটি ভেঙে গেলে যাত্রাপুর, পাঁচগাছি, ঘোগাদহ, বেগমগঞ্জ ও ভোগডাঙা-এই ৫টি ইউনিয়নের মানুষ যাতায়াতের ভোগান্তিতে পড়ে। পণ্য আনা নেয়া ও মানুষ চলাচল করতে হতো নৌকার সাহায্যে। এতে প্রতিদিন হাজারো মানুষ ভোগান্তিতে পড়ে।

জন ভোগান্তি কমাতে এবং গুরুত্বপূর্ণ কুড়িগ্রাম-যাত্রাপুর সড়কটি সচল রাখতে জেলা ছাত্রলীগের কমর্ীরা বৃহস্পতিবার বালুর বস্তা ফেলে সড়কটি মেরামত করে দেয়। এসময় জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রাজু আহমেদ সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক আশিকুর রহমান, সাবেক সহসভাপতি ফিরোজ শাহী, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদস্য আশরাফুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম পৌর ছাত্রলগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ ও সোলায়মা নগাদ্দাফিসহ ছাত্রলীগের কয়েকশ কমর্ী এই সড়ক মেরামত কাজে অংশ নেন। এসময় ছাত্রলীগের নেতা-কমর্ীরা বালুর বস্তা কাঁধে নিয়ে ভাঙা সড়কটি মেরামত কাজে অংশ নেন। সেখানে প্রায় ৫শ বালুভর্তি বস্তা ফেলা হয়।

ছাত্রলীগের নেতা-কমর্ীদের উদ্যোগে ভাঙা সড়কটি মেরামত হওয়ায় খুশি স্থানীয়মানুষ। শুলকুর বাজারের ব্যবসায়ী মেহেরুল করিম জানান, বন্যায় বাইপাস সড়কটি ডুবে যাওয়ায় মানুষ চলাচল ও পণ্য আনা নেয়া কঠিন হয়ে গিয়েছিল।

ছাত্রলীগের উদ্যোগে রাস্তা মেরামত হওয়ায় জনদুভোর্গ অনেক কমে যাবে। স্থানীয় স্কুল শিক্ষক লিটন মিয়া বলেন, ‘ছাত্র সংগঠনের এ ধরণের গঠন মুলক কাজ অবশ্যই প্রশংসার দাবী রাখে।’

এ সময় জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রাজু আহমেদ বলেন, ‘শুলকুর বাজারে একটি সেতুর কাজ দীর্ঘদিনেও শেষ না হওয়ায় বাইপাস সড়কটি দিয়ে মানুষ চলাচল করতো। দুই লাখ মানুষের চলাচলের একমাত্র সড়কটি বন্যায় ভেঙে যায়। সড়কটি মেরামত ও সংস্কার কাজে অংশ নিয়েছে ছাত্রলীগের নেতা-কমর্ীরা।’

জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘ছাত্রলীগের কমর্ীরা কৃষকের ধান কাটা, মাস্ক বিতরণসহ নানা ধরণের গঠনমুলক ও মানবিক কাজে অংশগ্রহন করছে।’

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

 

 

 

বগুড়ায় ট্রেন চালকের দক্ষতায় বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে দোলন চাঁপা আন্তঃনগর ট্রেন। ওই ঘটনায় দু’জন আহত হলেও কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছেন। রেল লাইনের উপর অবৈধ দোকানগুলো ওই দুর্ঘটনার কারণ বলে জানিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় লোকজন।

বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে মাত্র ত্রিশ গজ দূরেই এক যুগেরও বেশি সময় ধরে (বগুড়া রেলস্টেশন থেকে একনম্বর ঘুমটি পর্যন্ত ) প্রায় তিন শতাধিক অবৈধ কাপড়ের দোকান রেল লাইনের উপর রয়েছে। বগুড়ার পুরাতন কাপড়ের বড় মার্কেট এটি। পরিচিত ‘হঠাৎ মার্কেট’ হিসেবে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েক হাজার ক্রেতার সমাগম ঘটে। বছরে একবার করে রেল থেকে ওইসব দোকান উচ্ছেদ করলেও দুই তিনদিন পরে আবারও দোকান আগের মতো বসে। মূল রেল লাইনের উপর তাঁবু টানিয়ে এসব দোকান বসানো হয়েছে। ট্রেন চলে আসলেই দ্রুত তাবুগুলো সরে ফেলা হয়। কয়েক বছরে প্রায় ৭-৮ জন ক্রেতা এবং বিক্রেতার প্রাণহানি ঘটেছে এই হঠাৎ মার্কেটে।

বগুড়ার রেলস্টেশনের স্টেশন মাষ্টার আবুল কাশেম জানান, দুপুর ১১টায় দোলন চাঁটা আন্তঃনগর ট্রেন বোনারপাড়া থেকে বগুড়ায় আসছিল। অপরদিকে আরেকটি আন্তঃনগর ট্রেন লালমনি এক্সপ্রেক্স ঢাকা থেকে বগুড়া স্টেশনে আসতে থাকে। সিগন্যাল এবং পয়েন্ট ঠিক করে দোলনচাঁপা ট্রেনটির জন্য দুইনম্বর লুপ লাইনে এবং লালমনি এক্সপ্রেক্সকে একনম্বর লাইনে আসার নির্দেশনা ঠিক করা হয়। দোলনচাঁপা ট্রেনটি হুইসেল দিতে দিতে দুই নম্বর লুপ লাইন দিয়ে স্টেশনে আসতে থাকে।

‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদারদের জানা ছিল ওই ট্রেনটি একনম্বর লাইন দিয়ে আসবে। তাই তারা দোকানের তাবু সরাইনি। কিন্তু যখন ট্রেনটি দুইনম্বর লুপ লাইন দিয়ে হুইসেল দিতে দিতে আসতে থাকে তখন দোকানদার এবং ক্রেতারা চিৎকার করে এদিক ওদিক দৌড়ে পালাতে থাকে। ট্রেন চালক দ্রুততার সাথে ট্রেনটি ব্রেক করায় দোকানের মালামাল নষ্ট হলেও কোন প্রাণ হানি ঘটেনি। নইলে অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারতো।

তিনি আরও জানান, গত ১৯ নভেম্বর লালমনিহাট থেকে বিভাগীয় ভূ-সম্পদ কর্মকর্তাসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা স্টেশনের পাশের একটি মার্কেটের প্রায় দুইশতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়ার সময় ‘হঠাৎ মার্কেট’দুইদিন বন্ধ ছিল। পরে ২২ নভেম্বর আবারও ‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদাররা তাদের দোকান বসায়। এ বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে রেল স্টেশন সীমানার মধ্যে এবং লাইনের উপর অবৈধ দোকান উচ্ছেদের জন্য ২৩ নভেম্বর চিঠি দেয়া হয়।

স্টেশন মাষ্টার আরও জানান, রেল লাইন থেকে দুই পাশের ১০ ফুট করে জায়গা ১৪৪ ধারা সবসময়ের জন্য জারী থাকরেও এসব কেউ মানছেনা। স্টেশন মাষ্টার অভিযোগ করে বলেন, সিগন্যাল এবং পয়েন্টের তারের উপর অবৈধ দোকান বসার কারনে অনেক সময় সঠিকভাবে সিগন্যাল ও পয়েন্ট করা সম্ভব হয়না। অথচ, ট্রেনের আসা যাওয়ার মূল বিষয়টি হলো সিগন্যাল এবং পয়েন্ট।

বগুড়া রেল স্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারী শাহীন আলম জানান, রেল লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী ইন্সপেক্টর রায়হান কবীরের কারণেই রেল লাইনের উপর অবৈধ হঠাৎ মার্কেট গড়ে উঠেছে। লাইনের উপর নিরাপত্তার দায়িত্ব তার থাকলেও প্রতিদিন লাইনের উপর মার্কেট দেখার পরেও উনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে দোকানদারদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন।

তবে রায়হান কবীর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়, লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্ব আপনার থাকলেও কেন ওইসব দোকান দেখেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। তিনি জানান, বিষয়গুলো উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ জানেন।

বগুড়া জিআরপি ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর কায়কোবাদ জানান, ঘটনাটি জানার পরে সেখানে আমরা দ্রুত যাই। কিন্তু কোনো আহত কিংবা নিহত ব্যক্তির খোঁজ পাইনি। তবে আশেপাশের লোকজন জানিয়েছেন, চার-পাঁচজন ক্রেতা আহত হয়েছেন।
বগুড়া ফায়ার স্টেশনের সিনিয়ন স্টেশন মাষ্টার বজলুর রশিদ জানান, দুইজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন, গাবতলী উপজেলার রুমি খাতুন (৩০) এবং দুপচাঁচিয়া উপজেলার মানিক (৫৫)। তাদের শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে আরও কয়েকজনের কথা শুনলেও তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।

রেল লাইনের পাশের স্থানীয় ব্যবসায়ী নাম না প্রকাশে ইচ্ছুক কয়েকজন জানান, গত ৫/৬ বছরে প্রায় ৭-৮জন ট্রেনে কেটে হঠাৎ মার্কেটে মারা গেছে। এদের মধ্যে ক্রেতা এবং দোকানদারও ছিল। বুধবার যদি ট্রেনের চালক দ্রুত ব্রেক না করতো তাহলে কয়েক’শ লোকের প্রাণহানি ঘটতো।

কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছে ট্রেন চালকের দক্ষতায়