গণমাধ্যম সপ্তাহের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেতে বিএমএসএফ এবার এমপিদের নিকট খোলা চিঠি পাঠাবে

মোঃ শহিদুল ইসলাম সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টারঃ
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২২
  • ৩২ বার পঠিত

জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেতে এবছর সংসদ সদস্যেদের নিকট খোলা চিঠি পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে বিএমএসএফ। আগামি ২০ এপ্রিল থেকে এ চিঠি পাঠানো শুরু হয়ে চলবে গণমাধ্যম সপ্তাহের শেষ দিন ৭ মে পর্যন্ত। আয়োজক সংগঠন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শিবলী সাদিক খান জানান, প্রতিবছর ১-৭ মে জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহ নানা আয়োজনে উদযাপন হয়ে থাকে। চলতিবছর ৬ষ্ঠবারের মত সপ্তাহটি উদযাপিত হবে, তবে এবছর ঈদ উল ফিতরের সরকারি বন্ধ থাকায় সপ্তাহটিতে উল্লেখযোগ্য আয়োজন থাকছেনা। পহেলা এবং ৭মে ভার্চুয়াল আলোচনা, লিফলেট বিতরণ, প্রচার প্রচারণা থাকছে। ঈদের কারণে শুরুতে র্যালী (রেলি) এবং সমাপনী দিনে ঢাকায় জাতীয় সমাবেশ থাকছেনা।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি সোহেল আহমেদ বলেন, গণমাধ্যম রাষ্ট্রের ৪র্থ স্তম্ভ তাই রাষ্ট্রীয় মর্যাদা জরুরী বলে মনে করি। এদেশে সাংবাদিক ও গণমাধ্যম অঙ্গনের প্রাণের দাবী জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহটি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাওয়া প্রয়োজন; কেননা এদেশে মৎস সপ্তাহ, কৃষি সপ্তাহ, পুলিশ সপ্তাহ, স্বাস্থ্য সপ্তাহ, আনসার সপ্তাহ ইত্যাদি নানা সপ্তাহ রয়েছে। এক্ষেত্রে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের দাবিটি মেনে নিবেন বলে আশা করি। গণমাধ্যম সপ্তাহের প্রবক্তা, বিএমএসএফ প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফর গণমাধ্যমকে বলেন, সমাজের নানা পেশার মানুষের উন্নয়নে সপ্তাহব্যাপী নানা আয়োজন করা হয়।

 

কিন্তু গণমাধ্যমের উন্নয়ন নিয়ে কারো যেন মাথাব্যথা নেই। বিএমএসএফ প্রতিবছর ১-৭ মে গণমাধ্যম সপ্তাহটি নানা আয়োজনে পালন করে থাকে। ইতিপূর্বেকার বছরগুলোতে গণমাধ্যম সপ্তাহটিকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে সারাদেশের শাখাসমুহের নেতৃবৃন্দ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট স্মারকলিপি পাঠিয়ে আসছে। এবছর দাবিটি তৃণমূল থেকে সংসদে পৌঁছাতে শাখাসমুহ থেকে স্থানীয় এমপিদের নিকট খোলা চিঠি দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এমপিরা গণমাধ্যম সপ্তাহের প্রয়োজনীয়তার স্বপক্ষে মহান সংসদে মতামত দিলে সপ্তাহটি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেতে সহজ হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

 

 

 

বগুড়ায় ট্রেন চালকের দক্ষতায় বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে দোলন চাঁপা আন্তঃনগর ট্রেন। ওই ঘটনায় দু’জন আহত হলেও কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছেন। রেল লাইনের উপর অবৈধ দোকানগুলো ওই দুর্ঘটনার কারণ বলে জানিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় লোকজন।

বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে মাত্র ত্রিশ গজ দূরেই এক যুগেরও বেশি সময় ধরে (বগুড়া রেলস্টেশন থেকে একনম্বর ঘুমটি পর্যন্ত ) প্রায় তিন শতাধিক অবৈধ কাপড়ের দোকান রেল লাইনের উপর রয়েছে। বগুড়ার পুরাতন কাপড়ের বড় মার্কেট এটি। পরিচিত ‘হঠাৎ মার্কেট’ হিসেবে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েক হাজার ক্রেতার সমাগম ঘটে। বছরে একবার করে রেল থেকে ওইসব দোকান উচ্ছেদ করলেও দুই তিনদিন পরে আবারও দোকান আগের মতো বসে। মূল রেল লাইনের উপর তাঁবু টানিয়ে এসব দোকান বসানো হয়েছে। ট্রেন চলে আসলেই দ্রুত তাবুগুলো সরে ফেলা হয়। কয়েক বছরে প্রায় ৭-৮ জন ক্রেতা এবং বিক্রেতার প্রাণহানি ঘটেছে এই হঠাৎ মার্কেটে।

বগুড়ার রেলস্টেশনের স্টেশন মাষ্টার আবুল কাশেম জানান, দুপুর ১১টায় দোলন চাঁটা আন্তঃনগর ট্রেন বোনারপাড়া থেকে বগুড়ায় আসছিল। অপরদিকে আরেকটি আন্তঃনগর ট্রেন লালমনি এক্সপ্রেক্স ঢাকা থেকে বগুড়া স্টেশনে আসতে থাকে। সিগন্যাল এবং পয়েন্ট ঠিক করে দোলনচাঁপা ট্রেনটির জন্য দুইনম্বর লুপ লাইনে এবং লালমনি এক্সপ্রেক্সকে একনম্বর লাইনে আসার নির্দেশনা ঠিক করা হয়। দোলনচাঁপা ট্রেনটি হুইসেল দিতে দিতে দুই নম্বর লুপ লাইন দিয়ে স্টেশনে আসতে থাকে।

‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদারদের জানা ছিল ওই ট্রেনটি একনম্বর লাইন দিয়ে আসবে। তাই তারা দোকানের তাবু সরাইনি। কিন্তু যখন ট্রেনটি দুইনম্বর লুপ লাইন দিয়ে হুইসেল দিতে দিতে আসতে থাকে তখন দোকানদার এবং ক্রেতারা চিৎকার করে এদিক ওদিক দৌড়ে পালাতে থাকে। ট্রেন চালক দ্রুততার সাথে ট্রেনটি ব্রেক করায় দোকানের মালামাল নষ্ট হলেও কোন প্রাণ হানি ঘটেনি। নইলে অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারতো।

তিনি আরও জানান, গত ১৯ নভেম্বর লালমনিহাট থেকে বিভাগীয় ভূ-সম্পদ কর্মকর্তাসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা স্টেশনের পাশের একটি মার্কেটের প্রায় দুইশতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়ার সময় ‘হঠাৎ মার্কেট’দুইদিন বন্ধ ছিল। পরে ২২ নভেম্বর আবারও ‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদাররা তাদের দোকান বসায়। এ বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে রেল স্টেশন সীমানার মধ্যে এবং লাইনের উপর অবৈধ দোকান উচ্ছেদের জন্য ২৩ নভেম্বর চিঠি দেয়া হয়।

স্টেশন মাষ্টার আরও জানান, রেল লাইন থেকে দুই পাশের ১০ ফুট করে জায়গা ১৪৪ ধারা সবসময়ের জন্য জারী থাকরেও এসব কেউ মানছেনা। স্টেশন মাষ্টার অভিযোগ করে বলেন, সিগন্যাল এবং পয়েন্টের তারের উপর অবৈধ দোকান বসার কারনে অনেক সময় সঠিকভাবে সিগন্যাল ও পয়েন্ট করা সম্ভব হয়না। অথচ, ট্রেনের আসা যাওয়ার মূল বিষয়টি হলো সিগন্যাল এবং পয়েন্ট।

বগুড়া রেল স্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারী শাহীন আলম জানান, রেল লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী ইন্সপেক্টর রায়হান কবীরের কারণেই রেল লাইনের উপর অবৈধ হঠাৎ মার্কেট গড়ে উঠেছে। লাইনের উপর নিরাপত্তার দায়িত্ব তার থাকলেও প্রতিদিন লাইনের উপর মার্কেট দেখার পরেও উনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে দোকানদারদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন।

তবে রায়হান কবীর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়, লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্ব আপনার থাকলেও কেন ওইসব দোকান দেখেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। তিনি জানান, বিষয়গুলো উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ জানেন।

বগুড়া জিআরপি ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর কায়কোবাদ জানান, ঘটনাটি জানার পরে সেখানে আমরা দ্রুত যাই। কিন্তু কোনো আহত কিংবা নিহত ব্যক্তির খোঁজ পাইনি। তবে আশেপাশের লোকজন জানিয়েছেন, চার-পাঁচজন ক্রেতা আহত হয়েছেন।
বগুড়া ফায়ার স্টেশনের সিনিয়ন স্টেশন মাষ্টার বজলুর রশিদ জানান, দুইজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন, গাবতলী উপজেলার রুমি খাতুন (৩০) এবং দুপচাঁচিয়া উপজেলার মানিক (৫৫)। তাদের শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে আরও কয়েকজনের কথা শুনলেও তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।

রেল লাইনের পাশের স্থানীয় ব্যবসায়ী নাম না প্রকাশে ইচ্ছুক কয়েকজন জানান, গত ৫/৬ বছরে প্রায় ৭-৮জন ট্রেনে কেটে হঠাৎ মার্কেটে মারা গেছে। এদের মধ্যে ক্রেতা এবং দোকানদারও ছিল। বুধবার যদি ট্রেনের চালক দ্রুত ব্রেক না করতো তাহলে কয়েক’শ লোকের প্রাণহানি ঘটতো।

কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছে ট্রেন চালকের দক্ষতায়