গাংনীতে আশ্রয়ন প্রকল্পের গৃহে এরা কারা?

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২২
  • ২৪০ বার পঠিত

 

 

মেহেরপুরের গাংনীতে হতদরিদ্র, অসহায়, ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য সরকারি ভাবে আশ্রয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে গৃহ নির্মাণ করে তাদের বসবাসের জন্য একটি ঠিকানা করে দেওয়া হয়েছে যেখানে উপকারভোগী, গরীব ও অসহায় পরিবার বসবাস করবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু প্রকৃত গৃহহীন বসবাস না করে বসবাস করছেন অন্যরা। তবে এরা কারা?

 

মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর), সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নির্মিত আশ্রয়ন প্রকল্পের গৃহে উপকারভোগীরা বসবাস না করে বাস করছেন অন্যরা। তাহলে আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর আসলে কাদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে! এমন প্রশ্নের কোন সদুত্তর মিলছে না। স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, গাংনী উপজেলার বামুন্দী ইউনিয়নের আওতাধীন জোড়পুকুরিয়া-ষোলটাকা সড়কের পার্শ্বে আশ্রয়ন প্রকল্পের ৭ টি ঘর পাশাপাশি নির্মিত হয়েছে।

 

 

গাংনী উপজেলা ভূমি অফিস কর্তৃক বন্দোবস্তকৃত খাসজমির উপর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের বাস্তবায়নে ঘরগুলি নির্মান করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান ও স্থানীয় ইউপি সদস্য কর্তৃক যাচাই-বাছাই শেষে প্রকৃত গরীব, অসহায় ও গৃহহীনদের জন্য ঘরগুলি নির্মাণ করা হলেও উপকারভোগীরা তাদের জন্য বরাদ্দকৃত ঘরে বসবাস না করে অন্য কাউকে বসবাসের সুযোগ করে দিয়েছে।

 

তবে এরা কারা? এমনটিই অভিযোগ উঠেছে গাংনী উপজেলার জোড়পুকুরিয়া বাজারের অদূরে জোড়পুকুরিয়া-ষোলটাকা সড়কে নির্মিত আশ্রয়ন প্রকল্পে। উল্লেখ্য, সেখানে ৭ টি গৃহ নির্মিত হলেও বসবাস করছে মাত্র ৩ টি পরিবার। বাকী ৪ টি পরিবারের লোকজন কেউই থাকেন না। প্রকল্পের গৃহে বসবাসকারীরা জানান, প্রকল্পের ৭ নং গৃহটি বরাদ্দ দেওয়া হয় উপজেলার ভরাট গ্রামের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী (আধাপাগল) অসহায় শামীম রেজার পরিবারকে। কিন্তু শামীম রেজার জন্য বরাদ্দকৃত ঘরে সে বসবাস করতে চাইলেও তার স্ত্রী সেখানে থাকবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে। সে কারণে শামীম রেজা ঘরে না থেকে আনোয়ার হোসেন নামের একজন রাজমিস্ত্রীকে তার পরিবারকে নিয়ে থাকার অনুমতি দিয়েছে।

 

একইভাবে ৬ নং গৃহটি তেরাইল গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেন নামের একজনকে বরাদ্দ দেওয়া হলেও তিনি তার গ্রামে বাড়ি-ঘর থাকায় সে তার নিকটাত্মীয় লাভলু নামের একজন হোটেল ব্যবসায়ীকে থাকার অনুমতি দিয়েছে। এব্যাপারে আশ্রয়ন প্রকল্পের গৃহে বসবাসকারী লাভলু জানান, জাহাঙ্গীর নাকি তার চাচাতো ভাই। জাহাঙ্গীর তার ছোট শিশুকে নিয়ে এ গৃহে বসবাস করবে না বলে লাভলুকে বসবাস করার জন্য বলেছে। একটি বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, বসবাসকারীরা স্বীকার না করলেও তারা নাকি ভাড়া দিয়ে সেখানে বসবাস করেন। এমনি ভাবে তেরাইল গ্রামের সাবিনা খাতুন (৫ নং গৃহ) ও বালিয়াঘাট গ্রামের ফরিদা খাতুন (৪ নং গৃহ) নির্মিত গৃহে না থেকে নিজ নিজ গ্রামে অবস্থান করেন।

 

ঐ গৃহ দু’টি তালাবদ্ধ পড়ে থাকে। ঠিক একইভাবে গাংনী উপজেলার সবক’টি ইউনিয়নে এধরনের গৃহ নির্মিত হয়েছে। যে গৃহগুলিতে উপকারভোগীরা আজও বসবাস করেনা। অথচ গাংনী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে গৃহ না পেয়ে অসংখ্য গৃহহীন মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। এব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান ওবাইদুর রহমান কমলের সাথে আলাপকালে তিনি জানান, এমন অভিযোগ আমার কাছে এসেছে। আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পূর্বে সাবেক চেয়ারম্যান এভাবে যাচাই-বাছাই না করে গৃহ বরাদ্দ দিয়েছেন। যেহেতু প্রকৃত গৃহহীনরা আশ্রয়ন প্রকল্পের গৃহ হতে বঞ্চিত হয়েছেন সে হিসেবে আমি আমার মেম্বরদের সাথে নিয়ে আশ্রয়ন প্রকল্পটি পরিদর্শন করে ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

 

এনিয়ে বিস্তারিত জানতে গাংনী উপজেলা ভূমি অফিস ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, এমন অনিয়ম করার কোন সুযোগ নেই। ঘটনা প্রমাণিত হলে বরাদ্দকৃতদের নাম কর্তন করে প্রকৃত ভুমিহীন ও গৃহহীনদের মাঝে গৃহ বরাদ্দ দেওয়া হবে। গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌসুমী খানম জানান, এরকম অভিযোগ আমি স্থানীয়দের নিকট থেকে পাইনি। এ প্রকল্পগুলো পূর্বে নেওয়া হয়েছিল। হয়তো যাচাই-বাছাইয়ে কিছুটা অনিয়ম হয়েছিল। সেকারণেই প্রকৃত গৃহহীনদের গৃহ দেওয়া হয়নি।বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানের সাথে আলাপ করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর