গাংনীতে কর্মসৃজন কর্মসূচিতে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০১৯
  • ১৯৪ বার পঠিত

মেহেরপুরের গাংনীতে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির (কর্মসৃজন)  পর্যায়ের অনুমোদিত প্রকল্প সমূহের রাস্তায় মাটি কাটা,স্কুল, ঈদগাহ,গোরস্থান কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি চলছে।উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অফিস ও পিআইসিদের মধ্যে টাকা ভাগাভাগির চুক্তি করে কাগজে কলমে মাষ্টার রোল করে এই প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করলেও কেউ দেখার নেয়।ফলে উপজেলায় গৃহীত প্রকল্পে কর্মসংস্থান কর্মসূচির অর্থ লুটপাট হচ্ছে।প্রতিটা প্রকল্প থেকে কমপক্ষে ৫ জন করে শ্রমিকের টাকা অফিস কেটে নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা, চেয়ারম্যান, মেম্বর ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের  ম্যানেজ করে পিআইসি(প্রকল্প চেয়ারম্যানরা) লক্ষ লক্ষ টাকা ভাগাভাগি করার মত দুর্নীতি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।বিগত ডিসেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে গাংনী উপজেলায় কাজ শুরু হলেও বেশীর ভাগ প্রকল্পে সন্তোষজনক শ্রমিকের দেখা মেলেনি।

উপজেলায়  অতিদরিদ্রদের জন্য নেয়া কর্মসংস্থান কর্মসূচিতে দলীয় বিবেচনায় শ্রমিকদের নামের তালিকা করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, পূর্ব তালিকার প্রকৃত হতদরিদ্র শ্রমিকদের নাম বাদ দিয়ে পিআইসিগণ স্বজনপ্রীতি ও আত্নীয়করণের মাধ্যমে টাকার বিনিময়ে নিজেদের অনুগত বিত্তবান লোকজনকে শ্রমিকদের তালিকাভুক্ত  করেছেন।ক্ষমতাসীন দলের গ্রাম ও ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি-সম্পাদকদের নাম রয়েছে এই তালিকায়। শ্রমিকদের নাম পরিবর্তন করার নিয়ম না থাকলেও ১ম পর্যায়ের তালিকাভুক্ত অনেক অসহায় শ্রমিকদের নাম বাদ দিয়ে অনেক নতুন নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সরেজমিনে তেঁতুলবাড়ীয়া ইউপির ২ টি প্রকল্প ঘুরে স্থানীয় লোকজন ও শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে ।তেঁতুলবাড়ীয়া ইউপির মেম্বর হ্যাবা  জানান, আমাদের লেবার সব ঠিক আছে। ৩৭ জন লেবারের মধ্যে ১৯ জন লেবার পাওয়া গেছে। মেম্বর জানান,পিআইও অফিসে টাকা দিতে হয়।পাশাপাশি হ্যাবা মেম্বর আরও জানান, আমার ৩৭ জন লেবারের মধ্যে চেয়ারম্যানের ২ জন, স্থানীয় নেতাদের ২ জন এবং অফিসে ফাইলিং এর জন্য টাকা দিতে হয়। আমরা নিয়মিত কাজ করলেও মেম্বর আমাদের মাত্র ১শ’ টাকা ৫০ টাকা দেয়। বাদবাকী টাকা দেবেনা বলে জানিয়েছে।

এছাড়া কার্ড মেম্বররা তাদের নিজের কাছে রেখে মনগড়া হাজিরা করছেন।আরও জানা গেছে , চেয়ারম্যান ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের সুপারিশে প্রতিটা প্রকল্পে ৫ থেকে ১০ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যারা কখনই কাজে হাজিরা দেন না।তালিকায় নাম থাকার কারনে ব্যাংক  থেকে ভূয়া স্বাক্ষর দেখিয়ে  টাকা তুলে নিচ্ছেন।

এব্যাপারে গাংনী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের উপ সহকারী প্রকৌশলী জাকির হোসেন জানান, মেম্বরদের অভিযোগ সত্য নয়। পিআইসিদের সাথে টাকা উৎকোচ হিসাবে গ্রহন করা হয় না । অনুপস্থিত লেবারের টাকা দেয়া হয় না। বিগত বছরের কত টাকা সরকারী ফান্ডে ফেরত দেয়া হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যান।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর