গাংনীতে কৃষকদের মাঝে কম্বাইন্ড হারভেষ্টার বিতরণ -এমপি সাহিদুজ্জামান

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৫ মে, ২০২১
  • ৬০ বার পঠিত



ভর্তূকী মূল্যে কৃষকের মাঝে কম্বাইন্ড হারভেষ্টার মেশিন বিতরণের সময় প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে তিনি বলেন, কৃষিতে আধুনিকায়ন ও কৃষকদের স্বল্প খরচে কৃষি পণ্য উৎপাদনে সরকারের নানমুখি পদক্ষেপের মধ্যে কম্বাইন্ড হারভেষ্টার একটি অন্যতম। ফসল কাটা মাড়াইয়ের মুহুর্তে শ্রমিক সংকট কাটিয়ে এবং যথা সময়ে কৃষি পণ্য ঘরে তোলার লক্ষে গাংনী উপজেলায় পর্যায়ক্রমে বিতরণ করা হচ্ছে হারভেস্টার।



স্বল্প খরচ আর স্বল্প সময়ে ফসল ঘরে তুলতে পারছে এমন খুঁশিতে সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন কৃষকরা। তবে সরকারের সব সুবিধায় পাচ্ছে মেহেরপুর ও গাংনীবাসী। কৃষকদের উন্নয়নে এবং তাদের চাহিদার প্রতি গুরুত্ব দিয়ে চাহিদা পুরুনে আপ্রাণ চেষ্টা করা হচ্ছে ।



প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় কৃষক বাঁচাতে গাংনীর বিভিন্ন মাঠে কৃষক ছাউনি ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের সংসদ সস্য মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামান। ইতোমধ্যে কয়েকটি কৃষক ছাউনি ঘরের উদ্ধোধন করা হয়েছে। আরো দশটি কৃষক ছাউনি ঘরের কাজ অল্প সময়ের মধ্যে শুরু হবে জানান এ সংসদ সদস্য।



মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় ভর্তূকী মূল্যে কৃষকের মাঝে দু’টি কম্বাইন্ড হারভেষ্টার মেশিন বিতরণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ মে) সকালে গাংনী উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্দ্যোগে এ আধুনিক ধান কাটার যন্ত্র বিতরণ করা হয়। উপজেলা চত্বরে আয়োজিত হারভেষ্টার মেশিন বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কৃষকের হাতে মেশিনের চাবি তুলে দেন মেহেরপুর-২ গাংনী আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সাহিদুজামান খোকন।



গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌসুমী খানমের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফারহানা ইয়াসমিন, উপজেলা কৃষি অফিসার কে এম সাহাবুউদ্দীন আহমেদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজামান মনি ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহবায়ক আবুল বাশারসহ বিভিন্ন এলাকার কৃষক ও সরকারী কর্মকর্তাবৃন্দ।



২০২০-২১ অর্থ বছরে সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পের আওতায় সরকারী উন্নয়ন সহায়তায় (ভর্তূকী মূল্যে) উপজেলার ধানখোলা গ্রামের সামসুল হকের ছেলে ফারুক হোসেনকে ও তেতুলবাড়ীয়া গ্রামের ছহির উদ্দীনের ছেলে খাইরুজামানকে ৩০ লক্ষ টাকার মেশিন অর্ধেক মুল্যে প্রদান করা হয়।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

 

 

 

বগুড়ায় ট্রেন চালকের দক্ষতায় বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে দোলন চাঁপা আন্তঃনগর ট্রেন। ওই ঘটনায় দু’জন আহত হলেও কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছেন। রেল লাইনের উপর অবৈধ দোকানগুলো ওই দুর্ঘটনার কারণ বলে জানিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় লোকজন।

বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে মাত্র ত্রিশ গজ দূরেই এক যুগেরও বেশি সময় ধরে (বগুড়া রেলস্টেশন থেকে একনম্বর ঘুমটি পর্যন্ত ) প্রায় তিন শতাধিক অবৈধ কাপড়ের দোকান রেল লাইনের উপর রয়েছে। বগুড়ার পুরাতন কাপড়ের বড় মার্কেট এটি। পরিচিত ‘হঠাৎ মার্কেট’ হিসেবে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েক হাজার ক্রেতার সমাগম ঘটে। বছরে একবার করে রেল থেকে ওইসব দোকান উচ্ছেদ করলেও দুই তিনদিন পরে আবারও দোকান আগের মতো বসে। মূল রেল লাইনের উপর তাঁবু টানিয়ে এসব দোকান বসানো হয়েছে। ট্রেন চলে আসলেই দ্রুত তাবুগুলো সরে ফেলা হয়। কয়েক বছরে প্রায় ৭-৮ জন ক্রেতা এবং বিক্রেতার প্রাণহানি ঘটেছে এই হঠাৎ মার্কেটে।

বগুড়ার রেলস্টেশনের স্টেশন মাষ্টার আবুল কাশেম জানান, দুপুর ১১টায় দোলন চাঁটা আন্তঃনগর ট্রেন বোনারপাড়া থেকে বগুড়ায় আসছিল। অপরদিকে আরেকটি আন্তঃনগর ট্রেন লালমনি এক্সপ্রেক্স ঢাকা থেকে বগুড়া স্টেশনে আসতে থাকে। সিগন্যাল এবং পয়েন্ট ঠিক করে দোলনচাঁপা ট্রেনটির জন্য দুইনম্বর লুপ লাইনে এবং লালমনি এক্সপ্রেক্সকে একনম্বর লাইনে আসার নির্দেশনা ঠিক করা হয়। দোলনচাঁপা ট্রেনটি হুইসেল দিতে দিতে দুই নম্বর লুপ লাইন দিয়ে স্টেশনে আসতে থাকে।

‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদারদের জানা ছিল ওই ট্রেনটি একনম্বর লাইন দিয়ে আসবে। তাই তারা দোকানের তাবু সরাইনি। কিন্তু যখন ট্রেনটি দুইনম্বর লুপ লাইন দিয়ে হুইসেল দিতে দিতে আসতে থাকে তখন দোকানদার এবং ক্রেতারা চিৎকার করে এদিক ওদিক দৌড়ে পালাতে থাকে। ট্রেন চালক দ্রুততার সাথে ট্রেনটি ব্রেক করায় দোকানের মালামাল নষ্ট হলেও কোন প্রাণ হানি ঘটেনি। নইলে অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারতো।

তিনি আরও জানান, গত ১৯ নভেম্বর লালমনিহাট থেকে বিভাগীয় ভূ-সম্পদ কর্মকর্তাসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা স্টেশনের পাশের একটি মার্কেটের প্রায় দুইশতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়ার সময় ‘হঠাৎ মার্কেট’দুইদিন বন্ধ ছিল। পরে ২২ নভেম্বর আবারও ‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদাররা তাদের দোকান বসায়। এ বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে রেল স্টেশন সীমানার মধ্যে এবং লাইনের উপর অবৈধ দোকান উচ্ছেদের জন্য ২৩ নভেম্বর চিঠি দেয়া হয়।

স্টেশন মাষ্টার আরও জানান, রেল লাইন থেকে দুই পাশের ১০ ফুট করে জায়গা ১৪৪ ধারা সবসময়ের জন্য জারী থাকরেও এসব কেউ মানছেনা। স্টেশন মাষ্টার অভিযোগ করে বলেন, সিগন্যাল এবং পয়েন্টের তারের উপর অবৈধ দোকান বসার কারনে অনেক সময় সঠিকভাবে সিগন্যাল ও পয়েন্ট করা সম্ভব হয়না। অথচ, ট্রেনের আসা যাওয়ার মূল বিষয়টি হলো সিগন্যাল এবং পয়েন্ট।

বগুড়া রেল স্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারী শাহীন আলম জানান, রেল লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী ইন্সপেক্টর রায়হান কবীরের কারণেই রেল লাইনের উপর অবৈধ হঠাৎ মার্কেট গড়ে উঠেছে। লাইনের উপর নিরাপত্তার দায়িত্ব তার থাকলেও প্রতিদিন লাইনের উপর মার্কেট দেখার পরেও উনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে দোকানদারদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন।

তবে রায়হান কবীর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়, লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্ব আপনার থাকলেও কেন ওইসব দোকান দেখেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। তিনি জানান, বিষয়গুলো উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ জানেন।

বগুড়া জিআরপি ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর কায়কোবাদ জানান, ঘটনাটি জানার পরে সেখানে আমরা দ্রুত যাই। কিন্তু কোনো আহত কিংবা নিহত ব্যক্তির খোঁজ পাইনি। তবে আশেপাশের লোকজন জানিয়েছেন, চার-পাঁচজন ক্রেতা আহত হয়েছেন।
বগুড়া ফায়ার স্টেশনের সিনিয়ন স্টেশন মাষ্টার বজলুর রশিদ জানান, দুইজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন, গাবতলী উপজেলার রুমি খাতুন (৩০) এবং দুপচাঁচিয়া উপজেলার মানিক (৫৫)। তাদের শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে আরও কয়েকজনের কথা শুনলেও তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।

রেল লাইনের পাশের স্থানীয় ব্যবসায়ী নাম না প্রকাশে ইচ্ছুক কয়েকজন জানান, গত ৫/৬ বছরে প্রায় ৭-৮জন ট্রেনে কেটে হঠাৎ মার্কেটে মারা গেছে। এদের মধ্যে ক্রেতা এবং দোকানদারও ছিল। বুধবার যদি ট্রেনের চালক দ্রুত ব্রেক না করতো তাহলে কয়েক’শ লোকের প্রাণহানি ঘটতো।

কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছে ট্রেন চালকের দক্ষতায়