গাংনীতে দিনেদুপুরে মোটর সাইকেল চুরি ॥

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৩ জানুয়ারী, ২০২১
  • ৬৮৯ বার পঠিত

গাংনীতে দিনেদুপুরে মোটর সাইকেল চুরি ॥ 


কোন অবস্থাতেই থামছে না চোর চক্রের সদস্যরা। বেপরোভাবেই যেন তারা চুরির কাজে নিয়োজিত। কয়েকটি চুরির ঘটনায় পুলিশের নিরব ভুমিকার কারনে চুরির ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। শুক্রবার দুপুরে পশ্চিম মালসাদহ গ্রাম থেকে ওয়ার্ড কাউন্সিলর বাবুল আক্তারের মোটর সাইকেল চুরির ঘটনায় চুরি আতংক আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

চুরি প্রতিরোধ না করতে পারায় ভুক্তভোগীসহ জনপ্রতিনিধিদের মাঝেও ক্ষোভ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে চুরির ঘটনাগুলোতে গাংনী থানায় ভুক্তভোগীরা অভিযোগ দিলেও এখনও পর্যন্ত কোন ঘটনার মামলার রেকর্ড হয়নি। ফলে গাংনী থানার ওসির ভুমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীসহ এলাকাবাসী। চুরির ঘটনাগুলো তদন্ত না হওয়া এবং চোর আটক না করায় চুরির ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে মন্তব্য এলাকার অনেকের।ভুক্তভোগীরা অভিযোগ দিয়েছেন।

মামলা দায়ের করতে তারা রাজি নয় বলে দাবি করেছেন ওসি বজলুর রহমান।ওয়ার্ড কাউন্সিলরর বাবুল আক্তার জানান, জুম্মার নামাজ পড়ে বাড়ির সামনে আমার ডিসকভারি ১০০ সিসি মোটর সাইকেল রেখে আমি ভেতরে প্রবেশ করি। প্রায় ৫মিনিট পরে মোটর সাইকেল চালুর শব্দ শুনে বের হয়ে আসি। বাইরে এসে দেখি এক যুবক মোটর সাইকেল চালিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে। ওই যুবকের সঙ্গে মোটর সাইকেলে আরও একজন ছিল। চিৎকার করে লোকজন জোগাড় করতে করতেই তারা মোটর সাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়। হারিয়ে যাওয়া মোটর সাইকেলের রেজিস্ট্রেশন নম্বর মেহেরপুর হ-১১-৬৬৬৭।


এ বিষয়ে থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান ভুক্তভোগী বাবুল আক্তার।চুরির ঘটনা বৃদ্ধি ও চুরি আতংকের বিষয়ে মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও গাংনী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এমএ খালেক বলেন, জেলার গত আইন শৃংখলা সভায় এসপির উপস্থিতিতে আমি চুরির বিষয়টি উত্থাপন করেছিলাম। আমরা বলেছিলাম গাংনীর সদ্য সাবেক ওসি যেভাবে আইন শৃংখলা পরিস্থিতি ধরে রেখেছিলেন ততটুকু হলেই আমরা খুশি। উনি চলে যাওয়ার পর শুর হয়েছে চুরি।

বর্তমান যিনি ওসি হিসেবে আছেন তার অবহেলা আছে বলে আমার মনে হচ্ছে। এছাড়াও থানা এখন দালালের অবাধ যাতায়াত। থানাতে খারাপ প্রকৃতির মানুষ যদি যায় তাহলে আইন শৃংখলার অবনতি হয়। বিগত দিনে দালালের প্রবেশে নিষেধ ছিল। এখন এলাকার বিভিন্ন দালাল শ্রেণির মানুষ থানায় প্রবেশ করছে। এতে এলাকায় চুরির ঘটনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমান ওসি যদি এগুলো নিয়ন্ত্রণ না করেন তাহলে আমরা আমাদের মত পদক্ষেপ গ্রহণ করবো। এদিকে দিনে দুপুরে বাড়ির সামনে থেকে মোটর সাইকেল চুরির ঘটনায় আবারও চুরি আতংক ছড়িয়ে পড়েছে শহরজুড়ে। সাম্প্রতিক সময়ে গোপালনগর মাঠ থেকে বুলবুল হোসেন নামের এক কৃষকের মোটর সাইকেল চুরি হয়।

অপরদিকে গেল ২৭ ডিসেম্বর রাতে গাংনী ঈদগাহ পাড়ায় মালা খাতুনের দোকানে চুরি হয়। ১০ হাজার টাকার উপরে মালামাল চুরির ঘটনায় পথে বসার উপক্রম এক সময়ের যাত্রাশিল্পী মালা খাতুনের। থানায় অভিযোগ করে বারবার পুলিশকে তাগাদা দিলেও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। এদিকে একই রাতে মালার দোকানের পাশে চৌধুরীর বাড়িতে চুরি হয়। আলমারি ও ওয়্যারড্রপ ভেঙ্গে নগদ টাকা ও সোনার গয়না চুরি করে নিয়ে যায় চোর।

একই দিনে শিশিরপাড়া গ্রামের এক শিক্ষকের বাড়ির রান্নাঘরের ভেন্টিলেটর ভেঙ্গে চুরির ঘটনা ঘটে। এছাড়াও হাসপাতালের একটি কম্পিউটর ফটোস্ট্যাট দোকানে চুরিসহ বেশ কয়েকটি স্থানে মোবাইল চুরির ঘটনায় এলাকায় চুরি আতংক বিরাজ করছে। এসব চুরির ঘটনাগুলোর সাথে জড়িত কেউ গ্রেফতার হয়নি অপরদিকে চুরির মালামাল উদ্ধার না হওয়ায় পুলিশের ভুমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে ভুক্তভোগী ও স্থানীয় মানুষের মনে।এ প্রসঙ্গে গাংনী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বজলুর রহমান বলেন, চুরি প্রতিরোধে আমরা চেষ্টা করছি।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর