গাংনীতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযান, ঘুষ না পেয়ে মামলা,নাতিকে না পেয়ে দাদাকে আটক করার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২০
  • ৬৫০ বার পঠিত
গাংনীতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযান, ঘুষ না পেয়ে মামলা,নাতিকে না পেয়ে দাদাকে আটক করার অভিযোগ
মেহেরপুর প্রতিনিধিঃ নাতিকে না পেয়ে দাদাকে আটক করার অভিযোগ,দাবিকৃত টাকা না পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীর পরিবর্তে বয়োবৃদ্ধ দাদাকে আটক করেছে মেহেরপুর মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি অভিযান দল। ৩৫ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধারের মামলার আসামী হিসেবে মিল শ্রমিক বয়োবৃদ্ধ আব্দুল খালেককে (৭০) গাংনী থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। পরিবারের উর্পাজনক্ষম ব্যক্তি হাজতবাসে থাকায় চোখের পানি ছাড়া আর কোন অবলম্বন নেই আব্দুল খালেকের স্ত্রী পঙ্গুপ্রায় তহমিনা খাতুনের।
তহমিনা খাতুনের অভিযোগ, তার নাতি মাহফুজকে খুঁজতে গিয়ে গত বুধবার মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি দল তার বাড়িতে অভিযান চালায়। এসময় ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে দাবি করে মাহফুজের দাদা আব্দুল খালেককে আটক করেন তারা। যাওয়ার সময় অভিযান দলের ইকরামুল নামের এক ব্যক্তি মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে আব্দুল খালেককে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলে। দিন মজুর খালেকের পরিবারের পক্ষে টাকা জোগাড় করা সম্ভব হয়নি। তাকে মামলাসহ গাংনী থানায় সোপর্দ করেছে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযান দল। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত পুর্বক দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি। স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, মাহফুজ চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তবে তার সাথে তার দাদার সম্পর্ক নেই। দাদা দিন মজুর আব্দুল খালেক স্থানীয় একটি মিলে কাজ করে স্ত্রীকে নিয়ে আলাদা জীবন যাপন করেন। মাহফুজের দোষ দাদার উপরে দেওয়ার বিষয়ে এলাকায় বিরাজ করছে ক্ষোভ। মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর মেহেরপুরের পরিদর্শক শাহ জালালের দায়ের করা মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার দুপুরে পৌনে একটার দিকে গাংনী উপজেলার তেরাইল গ্রামে অভিযান চালানো হয় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও গাংনী থানা পুলিশের একটি দলের সমন্বয়ে। মাহফুজ পলাতক থাকায় তার। এসময় দাদা আব্দুল খালেককে গ্রেফতার পুর্বক জিজ্ঞাসাবাদে তার দেখানো মতে ৩৫ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। মামলায় আব্দুল খালেকের নাতি মাহফজুকে এক নং আসামি ও খালেককে ২নং আসামি করেছেন শাহ জালাল। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে বয়োবৃদ্ধ দিনমজুর আব্দুল খালেকের স্ত্রী বলেন, অভিযানের লোকজন কি পেয়েছে তা কাউকে দেখাইনি। এ বিষয়ে তো আমার স্বামী জড়িত না। শারীরিকভাবে অক্ষম হলেও শুধুমাত্র অভাবের তাড়নায় তিনি বাড়ির পাশে একটি মিলে শ্রমিকের কাজ করেন। আমি প্যারালাইসড হয়ে বিছানায় পড়ে আছি। শুধুমাত্র টাকা দিতে পারিনি বিধায় আমার স্বামীকে চালান দেওয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, মাহফুজের স্ত্রী রুম্পা খাতুনকে গাড়িতে উঠানোর চেষ্টা করা হলে আমার বৃদ্ধ স্বামী বাধা প্রদান করে বলেন, স্যার মেয়ে মানুষ আমার বাড়ির ইজ্জত। তাছাড়া মাহফুজের বিষয়ে রুম্পা কিছুই জানেনা। তাকে রেখে যেতে অনুরোধ করাই আমার স্বামীকে নিয়ে গেছে। অভিযান কালীন সময়ে ওই দলটি সাদা কাগজে কয়েকজনের স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। তার মধ্যে স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য আমজাদ আলীর ছেলে তোহিদুল ইসলাম ও পলাতক মাহফুজের স্ত্রী রয়েছেন। তোহিদুল ইসলাম ও মাহফুজের স্ত্রী রুম্পা খাতুন বলেন, ফেনসিডিল উদ্ধার যেখান থেকে হয়েছে সেটি আমাদেরকে দেখানো হয়নি। পরে বলা হয় বস্তায় ফেনসিডিল আছে স্বাক্ষর করেন। সাদা কাগজের কয়েকটি পৃষ্টায় স্বাক্ষর করিয়ে তারা চলে যায়। রুম্পা খাতুন অভিযোগ করেন, ৫০ হাজার টাকা দিলে আব্দুল খালেককে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে তাদের মধ্য থেকে একজন আমাদের জানিয়ে চলে যায়। আমরা বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে টাকা ধার চেয়েও পাইনি তাই তাকে ছাড়াতে পারিনি। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চেয়ে মাদক মামলার বাদি মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক শাহ জালাল জানান, আমি আব্দুল খালেকের বাড়ি থেকে ফেনসিডিল পেয়েছি। পলাতক মাহফুজকে সহযোগীতা করে তার দাদা, তাই তাকে আটক করা হয়। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ^াস দিলেন মেহেরপুর মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহাকারি পরিচালক শরীয়তুল্লাহ। তিনি বলেন, ঘটনাটির প্রয়োজনীয় তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

 

 

 

বগুড়ায় ট্রেন চালকের দক্ষতায় বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে দোলন চাঁপা আন্তঃনগর ট্রেন। ওই ঘটনায় দু’জন আহত হলেও কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছেন। রেল লাইনের উপর অবৈধ দোকানগুলো ওই দুর্ঘটনার কারণ বলে জানিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় লোকজন।

বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে মাত্র ত্রিশ গজ দূরেই এক যুগেরও বেশি সময় ধরে (বগুড়া রেলস্টেশন থেকে একনম্বর ঘুমটি পর্যন্ত ) প্রায় তিন শতাধিক অবৈধ কাপড়ের দোকান রেল লাইনের উপর রয়েছে। বগুড়ার পুরাতন কাপড়ের বড় মার্কেট এটি। পরিচিত ‘হঠাৎ মার্কেট’ হিসেবে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েক হাজার ক্রেতার সমাগম ঘটে। বছরে একবার করে রেল থেকে ওইসব দোকান উচ্ছেদ করলেও দুই তিনদিন পরে আবারও দোকান আগের মতো বসে। মূল রেল লাইনের উপর তাঁবু টানিয়ে এসব দোকান বসানো হয়েছে। ট্রেন চলে আসলেই দ্রুত তাবুগুলো সরে ফেলা হয়। কয়েক বছরে প্রায় ৭-৮ জন ক্রেতা এবং বিক্রেতার প্রাণহানি ঘটেছে এই হঠাৎ মার্কেটে।

বগুড়ার রেলস্টেশনের স্টেশন মাষ্টার আবুল কাশেম জানান, দুপুর ১১টায় দোলন চাঁটা আন্তঃনগর ট্রেন বোনারপাড়া থেকে বগুড়ায় আসছিল। অপরদিকে আরেকটি আন্তঃনগর ট্রেন লালমনি এক্সপ্রেক্স ঢাকা থেকে বগুড়া স্টেশনে আসতে থাকে। সিগন্যাল এবং পয়েন্ট ঠিক করে দোলনচাঁপা ট্রেনটির জন্য দুইনম্বর লুপ লাইনে এবং লালমনি এক্সপ্রেক্সকে একনম্বর লাইনে আসার নির্দেশনা ঠিক করা হয়। দোলনচাঁপা ট্রেনটি হুইসেল দিতে দিতে দুই নম্বর লুপ লাইন দিয়ে স্টেশনে আসতে থাকে।

‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদারদের জানা ছিল ওই ট্রেনটি একনম্বর লাইন দিয়ে আসবে। তাই তারা দোকানের তাবু সরাইনি। কিন্তু যখন ট্রেনটি দুইনম্বর লুপ লাইন দিয়ে হুইসেল দিতে দিতে আসতে থাকে তখন দোকানদার এবং ক্রেতারা চিৎকার করে এদিক ওদিক দৌড়ে পালাতে থাকে। ট্রেন চালক দ্রুততার সাথে ট্রেনটি ব্রেক করায় দোকানের মালামাল নষ্ট হলেও কোন প্রাণ হানি ঘটেনি। নইলে অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারতো।

তিনি আরও জানান, গত ১৯ নভেম্বর লালমনিহাট থেকে বিভাগীয় ভূ-সম্পদ কর্মকর্তাসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা স্টেশনের পাশের একটি মার্কেটের প্রায় দুইশতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়ার সময় ‘হঠাৎ মার্কেট’দুইদিন বন্ধ ছিল। পরে ২২ নভেম্বর আবারও ‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদাররা তাদের দোকান বসায়। এ বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে রেল স্টেশন সীমানার মধ্যে এবং লাইনের উপর অবৈধ দোকান উচ্ছেদের জন্য ২৩ নভেম্বর চিঠি দেয়া হয়।

স্টেশন মাষ্টার আরও জানান, রেল লাইন থেকে দুই পাশের ১০ ফুট করে জায়গা ১৪৪ ধারা সবসময়ের জন্য জারী থাকরেও এসব কেউ মানছেনা। স্টেশন মাষ্টার অভিযোগ করে বলেন, সিগন্যাল এবং পয়েন্টের তারের উপর অবৈধ দোকান বসার কারনে অনেক সময় সঠিকভাবে সিগন্যাল ও পয়েন্ট করা সম্ভব হয়না। অথচ, ট্রেনের আসা যাওয়ার মূল বিষয়টি হলো সিগন্যাল এবং পয়েন্ট।

বগুড়া রেল স্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারী শাহীন আলম জানান, রেল লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী ইন্সপেক্টর রায়হান কবীরের কারণেই রেল লাইনের উপর অবৈধ হঠাৎ মার্কেট গড়ে উঠেছে। লাইনের উপর নিরাপত্তার দায়িত্ব তার থাকলেও প্রতিদিন লাইনের উপর মার্কেট দেখার পরেও উনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে দোকানদারদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন।

তবে রায়হান কবীর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়, লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্ব আপনার থাকলেও কেন ওইসব দোকান দেখেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। তিনি জানান, বিষয়গুলো উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ জানেন।

বগুড়া জিআরপি ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর কায়কোবাদ জানান, ঘটনাটি জানার পরে সেখানে আমরা দ্রুত যাই। কিন্তু কোনো আহত কিংবা নিহত ব্যক্তির খোঁজ পাইনি। তবে আশেপাশের লোকজন জানিয়েছেন, চার-পাঁচজন ক্রেতা আহত হয়েছেন।
বগুড়া ফায়ার স্টেশনের সিনিয়ন স্টেশন মাষ্টার বজলুর রশিদ জানান, দুইজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন, গাবতলী উপজেলার রুমি খাতুন (৩০) এবং দুপচাঁচিয়া উপজেলার মানিক (৫৫)। তাদের শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে আরও কয়েকজনের কথা শুনলেও তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।

রেল লাইনের পাশের স্থানীয় ব্যবসায়ী নাম না প্রকাশে ইচ্ছুক কয়েকজন জানান, গত ৫/৬ বছরে প্রায় ৭-৮জন ট্রেনে কেটে হঠাৎ মার্কেটে মারা গেছে। এদের মধ্যে ক্রেতা এবং দোকানদারও ছিল। বুধবার যদি ট্রেনের চালক দ্রুত ব্রেক না করতো তাহলে কয়েক’শ লোকের প্রাণহানি ঘটতো।

কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছে ট্রেন চালকের দক্ষতায়