গাংনীতে মাদক বিক্রিতে নিষেধ করায় মাদক ব্যবসায়ীদের উপর্যুপরি আঘাতে আহত-১

মনিরুল গাংনী থেকে
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২ জুলাই, ২০২৩
  • ৭০ বার পঠিত

 

 

 

মেহেরপুরের গাংনীতে মাদক বিক্রিতে নিষেধ করায় মাদক ব্যবসায়ী ছেকেন্দার, তার ভাই এসকেন্দার ও স্ত্রী চায়না খাতুনের উপর্যুপরি বাঁশ ও লাঠির আঘাতে মিনারুল ইসলাম নামের একজন গুরুতর ভাবে আহত হয়েছেন। আহত মিনারুল ইসলাম মাইলমারী সর্দারপাড়ার মৃত ছহির উদ্দীনের ছেলে।
শুক্রবার (৩০ জুন), বিকেল ৫ টার দিকে গাংনী উপজেলার মাইলমারী মন্ডলপাড়াতে এ ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, মাইলমারী গ্রামের মন্ডলপাড়ার মৃত দবির উদ্দীনের ছেলে ছেকেন্দার আলী দীর্ঘদিন ধরে হেরোইন ও গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক সেবন ও প্রকাশ্যে দিবালোকে বিক্রি করে আসছে। যা মাইলমারীসহ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে উঠতি বয়সের তরুণ থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত ক্রয় করে সেবন করে মরন নেশায় মেতেছে। অনেকে এখান থেকে হেরোইন ও গাঁজা ক্রয় করে বিভিন্ন এলাকায় বিক্রিও করে বলে অভিযোগ রয়েছে। গাঁজা ও হেরোইনের বড় বড় চালান রাতের আঁধারে রাজবাড়ীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকাতেও বিভিন্ন কৌশলে পাঠানো হয়ে থাকে। মাদক বিক্রিতে নিষেধ করলে তার বাড়িতে মাদক রেখে পুলিশে ধরিয়ে দেবে এমন ভয়ও দেখানো হয়ে থাকে যে কারণে সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করার সাহস পাইনা। সকাল থেকে রাত অবধি দেদারসে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে ছেকেন্দার। যার কারণে ধ্বংসের দিকে যুব সমাজ। এবিষয়ে ইতিপূর্বে সাংবাদিক নিউজ করলেও তিনাদেরকেউ বিভিন্ন ভাবে হুমকী ধামকী প্রদান করা হয়। অবশেষে এলাকা থেকে মাদক নির্মুল করতে উদ্যোগ নেন গ্রামের মিনারুল ইসলাম। ঈদুল আযহা’র কয়েকদিন পূর্ব থেকেই এলাকায় মাদকাসক্তের উপস্থিতি দেখলেই তাদের ধাওয়া শুরু করে। যার পরিপ্রেক্ষিতে গত কয়েকদিন ধরে এলাকায় মাদকাসক্তদের আনাগোনা কমে যায়। কিন্তু ঈদের পূর্বের দিন থেকে আবারও বেড়ে যায় মাদকাসক্তদের আনাগোনা। মিনারুল ইসলামও আবার উঠে পড়ে তাদের ধাওয়া করতে। কিন্তু বিপত্তি ঘটে তখনই, যখন ছেকেন্দারের বাড়িতে আবারও দলে দলে প্রবেশ করতে শুরু করে মাদকাসক্তরা। এমতবস্থায় মিনারুল ছেকেন্দারের বাড়িতে মাদকাসক্তদের আসতে নিষেধ করায় রাগান্বিত হয়ে ছেকেন্দার, তার ভাই এসকেন্দার ও স্ত্রী চায়না টেনেহিঁচড়ে মিনারুলকে ঘরের মধ্যে নিয়ে বেধড়ক মারধর শুরু করে। এক পর্যায়ে মাথায় আঘাত করলে মিনারুল ইসলাম গুরুতর ভাবে আহত হন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা উদ্ধার করে তাকে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
এদিকে মিনারুলের লোকজন ছেকেন্দারের বাড়িতে প্রবেশ করে মারধর, ফ্রিজ ভাংচুর ও গরু নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করলেও কথাকাজে গরমিল পাওয়া গেছে যা তাদের বক্তব্যে বোঝা যাবে।
তবে এলাকালাবাসীরা মাদক ব্যবসা করে যুব সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচানোর কথা বললেও মাদক ব্যবসায়ী ছেকেন্দারের ভয়ে মুখ খুলতে নারাজ। এহেন ঘটনায় দু’পক্ষই গাংনী থানায় পৃথক পৃথক ভাবে অভিযোগ দায়ের করেছেন। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত সাপেক্ষে মাদক ব্যবসায়ী ছেকেন্দার, তার ভাই এসকেন্দার ও স্ত্রী চায়নাসহ সহযোগিদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবী জানিয়েছেন অনেকেই, যদিও ক্যামেরার সামনে আসতে রাজি হয়নি।
ভুক্তভোগী মিনারুল ইসলাম জানান, আমি মাদক নির্মূলে উদ্যোগ নেওয়ার পর ছেকেনের ব্যবস্থা মন্দা ভাব তৈরি হয়। প্রতি মাসে মাদক ব্যবস্থা করে ৪/৫ লাখ টাকা ইনকাম করলেও তা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হওয়ায় আমাকে ঘরের ভিতর আটকে হত্যা চেষ্টা চালায়। কিন্তু আমি প্রাণে বেঁচে গেলেও এখন পর্যন্ত তারা আমার পরিবারের সদস্যদের হত্যাসহ বিভিন্ন হুমকী ধামকী অব্যাহত রেখেছেন। আমার ছেলেরা ভয়ে ভীতু হয়ে বাড়ির বাইরে বেরোনো বন্ধ করে দিয়ে ঘরবন্দী রয়েছেন। এ বিষয়ে মেহেরপুর জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা গোয়েন্দা শাখা, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব), গাংনী থানা পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন তিনিসহ এলাকাবাসী। মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে অনতিবিলম্বে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে দোষীদের কঠোর বিচারের আওতায় আনা হোক। যাতে করে এলাকায় নতুন করে আর কেউ মাদক ব্যবসা ও সেবন করতে সাহস না পাই।
এবিষয়ে গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রাজ্জাককে ফোন করা হলে তিনি ছুটি থেকে গত শনিবার এসেছেন। বিষয়টি সম্বন্ধে জেনে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর