গাংনী ইউএনওকে অবহিত না করে হাঙ্গার প্রজেক্টের ৩ দিনের প্রশিক্ষণে যশোরে ইউপি চেয়ারম্যান মেম্বরদের অংশগ্রহন। সেবা বঞ্চিত নাগরিকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৩ মে, ২০২২
  • ৪৫ বার পঠিত

 

 

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মহোদয়কে লিখিত বা মৌখিকভাবে অবহিত না করে ইউনিয়ন পরিষদের মতো একটি নাগরিক সেবাদানকারী সরকারী প্রতিষ্ঠানের নাগরিক সেবা বন্ধ রয়েছে। চেয়ারম্যান সচিব ও সকল মেম্বরদের বেসরকারী একটি প্রতিষ্ঠান দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশের আহ্বানে যশোরে ৩ দিন ব্যাপী প্রশিক্ষণে অংশগ্রহন করা সম্পূর্ণ নিয়ম বহির্ভূত।
জানা গেছে, গাংনী উপজেলার ০৭ সাহারবাটি ইউনিয়নের সকল ইউপি সদস্য ও ০৪ বামন্দী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওবায়দুর রহমান কমল তার পরিষদের সকল নাগরিক সেবা কার্যক্রম বন্ধ রেখে সচিব ও সকল মেম্বরদের নিয়ে হাঙ্গার প্রজেক্টের আহবানে যশোর আর আর এফ টার্কে ৩ দিনের বিশেষ উজ্জীবক প্রশিক্ষণে অংশগ্রহনের নিমিত্তে গমন করেছেন। ক্ষৃধামুক্ত, আত্মনির্ভরশীল , এসডিজি ইউনিয়ন গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিশেষ প্রশিক্ষণে ইউনিয়ন পরিষদের সকল প্রতিনিধি (৩ দিনের ) অংশগ্রহন করায় সর্বমহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। সরেজমিনে ইউনিয়ন পরিষদ ঘুরে জানা গেছে, বিভিন্ন গ্রাম থেকে লোকজন নাগরিক সেবা পেতে এসে হয়রানির শিক্ার হচ্ছেন। পরিষদে এসে সেবা না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে গেছেন অনেকেই।
এনিয়ে সচেতন মহল তাদের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ সরকার নিয়ন্ত্রিত একটি স্থানীয় সরকারের সেবা ধর্মী প্রতিষ্ঠান। সরকারের নানামুখী কার্যক্রম ও উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে থাকে। সেক্ষেত্রে এসডিজি বাস্তবায়নে সরকারের স্থানীয় সরকার অধিদপ্তর, প্রকল্প বাস্তবায়ন অধিদপ্তর রয়েছে । তাদের নির্দেশনা ও পরিকল্পনা অনুযায়ী উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হওয়ার কথা । একটি বেসরকারী সংস্থা হাঙ্গার প্রজেক্ট এর প্রশিক্ষণ গ্রহন করে উন্নয়ন করতে হবে এটা রাষ্ট্র বিরোধী সিদ্ধান্ত। এটা হঠকারিতার সামিল।এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন সচেতনমহল।
্ইউনিয়ন পরিষদ একটি সরকারী সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি চেয়ারম্যান ও মেম্বরদের জবাবদিহিতা রয়েছে। তিনি নিজ সিদ্ধান্তে যা খুশী করতে তাই করতে পারেন না। একটি অথরিটির কাছে তাদের জবাবদিহিতা করতে হয়। অথচ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে লিখিত অথবা মৌখিক অনুমতি না নিয়ে কিভাবে ্ইউনিয়নের সকল কার্যক্রম বন্ধ রেখে প্রশিক্ষণে গেলেন এমন প্রশ্নের উত্তরে গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌসুমী খানম জানান, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরেছি। আমাকে কোন চেয়ারম্যান বা হাঙ্গার প্রজেক্টের পক্ষ থেকে লিখিত বা মৌখিকভাবে অবহিত করেনি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার বা এলজিআরডি পরিচালক (অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক)কে অবহিত না করে চেয়ারম্যান বা মেম্বররা বাইরে কোন প্রশিক্ষণ বা কার্যক্রমে অংশগ্রহন করতে পারেন না। আমি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ আলোচনা করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

 

 

 

বগুড়ায় ট্রেন চালকের দক্ষতায় বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে দোলন চাঁপা আন্তঃনগর ট্রেন। ওই ঘটনায় দু’জন আহত হলেও কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছেন। রেল লাইনের উপর অবৈধ দোকানগুলো ওই দুর্ঘটনার কারণ বলে জানিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় লোকজন।

বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে মাত্র ত্রিশ গজ দূরেই এক যুগেরও বেশি সময় ধরে (বগুড়া রেলস্টেশন থেকে একনম্বর ঘুমটি পর্যন্ত ) প্রায় তিন শতাধিক অবৈধ কাপড়ের দোকান রেল লাইনের উপর রয়েছে। বগুড়ার পুরাতন কাপড়ের বড় মার্কেট এটি। পরিচিত ‘হঠাৎ মার্কেট’ হিসেবে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েক হাজার ক্রেতার সমাগম ঘটে। বছরে একবার করে রেল থেকে ওইসব দোকান উচ্ছেদ করলেও দুই তিনদিন পরে আবারও দোকান আগের মতো বসে। মূল রেল লাইনের উপর তাঁবু টানিয়ে এসব দোকান বসানো হয়েছে। ট্রেন চলে আসলেই দ্রুত তাবুগুলো সরে ফেলা হয়। কয়েক বছরে প্রায় ৭-৮ জন ক্রেতা এবং বিক্রেতার প্রাণহানি ঘটেছে এই হঠাৎ মার্কেটে।

বগুড়ার রেলস্টেশনের স্টেশন মাষ্টার আবুল কাশেম জানান, দুপুর ১১টায় দোলন চাঁটা আন্তঃনগর ট্রেন বোনারপাড়া থেকে বগুড়ায় আসছিল। অপরদিকে আরেকটি আন্তঃনগর ট্রেন লালমনি এক্সপ্রেক্স ঢাকা থেকে বগুড়া স্টেশনে আসতে থাকে। সিগন্যাল এবং পয়েন্ট ঠিক করে দোলনচাঁপা ট্রেনটির জন্য দুইনম্বর লুপ লাইনে এবং লালমনি এক্সপ্রেক্সকে একনম্বর লাইনে আসার নির্দেশনা ঠিক করা হয়। দোলনচাঁপা ট্রেনটি হুইসেল দিতে দিতে দুই নম্বর লুপ লাইন দিয়ে স্টেশনে আসতে থাকে।

‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদারদের জানা ছিল ওই ট্রেনটি একনম্বর লাইন দিয়ে আসবে। তাই তারা দোকানের তাবু সরাইনি। কিন্তু যখন ট্রেনটি দুইনম্বর লুপ লাইন দিয়ে হুইসেল দিতে দিতে আসতে থাকে তখন দোকানদার এবং ক্রেতারা চিৎকার করে এদিক ওদিক দৌড়ে পালাতে থাকে। ট্রেন চালক দ্রুততার সাথে ট্রেনটি ব্রেক করায় দোকানের মালামাল নষ্ট হলেও কোন প্রাণ হানি ঘটেনি। নইলে অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারতো।

তিনি আরও জানান, গত ১৯ নভেম্বর লালমনিহাট থেকে বিভাগীয় ভূ-সম্পদ কর্মকর্তাসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা স্টেশনের পাশের একটি মার্কেটের প্রায় দুইশতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়ার সময় ‘হঠাৎ মার্কেট’দুইদিন বন্ধ ছিল। পরে ২২ নভেম্বর আবারও ‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদাররা তাদের দোকান বসায়। এ বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে রেল স্টেশন সীমানার মধ্যে এবং লাইনের উপর অবৈধ দোকান উচ্ছেদের জন্য ২৩ নভেম্বর চিঠি দেয়া হয়।

স্টেশন মাষ্টার আরও জানান, রেল লাইন থেকে দুই পাশের ১০ ফুট করে জায়গা ১৪৪ ধারা সবসময়ের জন্য জারী থাকরেও এসব কেউ মানছেনা। স্টেশন মাষ্টার অভিযোগ করে বলেন, সিগন্যাল এবং পয়েন্টের তারের উপর অবৈধ দোকান বসার কারনে অনেক সময় সঠিকভাবে সিগন্যাল ও পয়েন্ট করা সম্ভব হয়না। অথচ, ট্রেনের আসা যাওয়ার মূল বিষয়টি হলো সিগন্যাল এবং পয়েন্ট।

বগুড়া রেল স্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারী শাহীন আলম জানান, রেল লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী ইন্সপেক্টর রায়হান কবীরের কারণেই রেল লাইনের উপর অবৈধ হঠাৎ মার্কেট গড়ে উঠেছে। লাইনের উপর নিরাপত্তার দায়িত্ব তার থাকলেও প্রতিদিন লাইনের উপর মার্কেট দেখার পরেও উনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে দোকানদারদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন।

তবে রায়হান কবীর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়, লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্ব আপনার থাকলেও কেন ওইসব দোকান দেখেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। তিনি জানান, বিষয়গুলো উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ জানেন।

বগুড়া জিআরপি ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর কায়কোবাদ জানান, ঘটনাটি জানার পরে সেখানে আমরা দ্রুত যাই। কিন্তু কোনো আহত কিংবা নিহত ব্যক্তির খোঁজ পাইনি। তবে আশেপাশের লোকজন জানিয়েছেন, চার-পাঁচজন ক্রেতা আহত হয়েছেন।
বগুড়া ফায়ার স্টেশনের সিনিয়ন স্টেশন মাষ্টার বজলুর রশিদ জানান, দুইজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন, গাবতলী উপজেলার রুমি খাতুন (৩০) এবং দুপচাঁচিয়া উপজেলার মানিক (৫৫)। তাদের শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে আরও কয়েকজনের কথা শুনলেও তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।

রেল লাইনের পাশের স্থানীয় ব্যবসায়ী নাম না প্রকাশে ইচ্ছুক কয়েকজন জানান, গত ৫/৬ বছরে প্রায় ৭-৮জন ট্রেনে কেটে হঠাৎ মার্কেটে মারা গেছে। এদের মধ্যে ক্রেতা এবং দোকানদারও ছিল। বুধবার যদি ট্রেনের চালক দ্রুত ব্রেক না করতো তাহলে কয়েক’শ লোকের প্রাণহানি ঘটতো।

কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছে ট্রেন চালকের দক্ষতায়