গাংনী উপজেলা হেলথ্ কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার এম কে রেজার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৭ আগস্ট, ২০২২
  • ১৬৫ বার পঠিত

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা হেলথ্ কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার খোকন রেজা কর্তৃক রোগীকে মিথ্যা ও বানোয়াট মেডিকেল সার্টিফিকেট প্রদানের প্রতিকার চেয়ে মেহেরপুর সিভিল সার্জনের কাছে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। শনিবার (৬ আগস্ট), গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেের জুনিয়র কনসালটেন্ট এনেসথেসিয়া ডাঃ জাহিদুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটির অপর সদস্যরা হলেন আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ মারুফ ও মেডিকেল অফিসার ডাঃ আদিলা আজহার। উল্লেখ্য, গত ২ জুন ২০২২ গাংনী উপজেলা হেলথ্ কমপ্লেক্স থেকে উপজেলার লক্ষ্ণিনারায়ণপুরের জনৈক মহিলা সার্টিফিকেট গ্রহণ করেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

আসলে তা গ্রহণ করা হয় ৮ জুন ২০২২। কিন্তু অর্থের বিনিময়ে তা ২ জুন লেখা হয়। উক্ত তারিখে জনৈক মহিলা হাসপাতাল প্রবেশ করেননি। যাহা সিসি ক্যামেরা দেখলে প্রমাণ পাওয়া যাবে বলে গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের সহড়াতলা গ্রামের মৃত আমিরুল ইসলামের ছেলে খালেদ মাহমুদ সুজন তিনার অভিযোগে লিখেছেন। এবিষয়ে উক্ত মহিলাকে গত ২০ ফেব্রুয়ারি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক ফিজিক্যাল এ্যাসাল্ট সার্টিফিকেট দেখাতে বললে তিনি গাংনী উপজেলা হেলথ্ কমপ্লেক্স থেকে অর্থের বিনিময়ে এ সার্টিফিকেট গ্রহণ করেন। যা মিথ্যা ও বানোয়াট। এরই প্রতিকার জানিয়ে সিভিল সার্জন বরাবর আবেদন করলে তা তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করেন।

 

এবং গাংনী উপজেলা হেলথ্ কমপ্লেক্সের তদন্ত কমিটিকে আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে এই তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। গত ২৫ জুলাই খালেদ মাহমুদ সুজন রোগীকে ভুয়া সার্টিফিকেট প্রদানের অভিযোগে সিভিল সার্জন বরাবর আবেদন করেন। এ বিষয়ে গাংনী উপজেলা হেলথ্ ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ শুপ্রভা রানী বলেন, গাংনী উপজেলার সহড়াতলা গ্রামের জৈনক সুজন নামের এক ভুক্তভোগী মেহেরপুর সিভিল সার্জনের কাছে ডাক্তারের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দিলে সেটি তদন্তের জন্য গাংনী উপজেলা হেলথ্ কমপ্লেক্স এর নিকট তদন্তের নির্দেশ দেন।

 

এ নির্দেশনা মোতাবেক শনিবার ৬ আগস্ট এ কমিটি গঠন করে ৭ দিন সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, অভিযোগকারী সুজনের স্ত্রী লক্ষ্ণিনারায়ণপুরের জনৈক মহিলা পারিবারিক কলহের জের ধরে গত ফেব্রুয়ারি মাসে তার বিরুদ্ধে আদালতে যৌতুকের দাবিতে নারী নির্যাতনের একটি মামলা দায়ের করেন। মেডিকেল অফিসার খোকন রেজা ওই নারীকে শারীরিক নির্যাতনের একটি মেডিকেল সার্টিফিকেট গত জুন মাসে প্রদান করেন। সেই সার্টিফিকেট মামলায় ব্যবহার করেন উক্ত মহিলা। এটিকে মিথ্যা ও ভুয়া সার্টিফিকেট বলে অভিযোগ করেন সুজন। তিনি বলেন, টাকার বিনিময়ে দীর্ঘদিন ধরে ডাঃ এমকে রেজা একই ধরনের সনদ দিয়ে আসছে। তার ইওসি এবং পিজিটি কোর্স করা আছে বললেও এখন পর্যন্ত সে কোন সার্টিফিকেট কাউকে দেখাতে পারেননি। সূত্রঃ দৈনিক পশ্চিমাঞ্চল

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর