জরাজীর্ণ হরিণাকুণ্ডু–তৈলটুপি লালন সড়কের নির্মাণ কাজ শুরু দাবীতে মানববন্ধন

হরিনাকুণ্ডু (ঝিনাইদহ) থেকে মোঃ বাচ্চু মিয়া
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৩০ মে, ২০২২
  • ৫০ বার পঠিত

 

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু– তৈলটুপি লালন সড়কের নির্মাণ কাজ সত্তর শুরুর দবীতে উপজেলা দোয়েল চত্তরে বিশাল এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার দুপুরে উপজেলা শ্রমীকলীগের আহবায়ক আব্দুল হান্নান এর সভাপতিত্বে উপজেলা শ্রমীকলীগ,পৌর ও উপজেলা ছাত্রলীগ,উপজেলা নচিমন,আলমসাধু,ইজিবাইক,পাখিভ্যান কল্যান সমিতি সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের আয়োজনে মানববন্ধনে প্রধান অতিথি ও প্রধান বক্তা হিসাবে বক্তব্য রাখেন সাবেক ছাত্রনেতা ও পৌরসভার মেয়র ফারুক হোসেন।
এছাড়াও মানববন্ধনে উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বাবু বিস্বনাথ সাধুখা, সাংবাদিক এইচ মাহবুব মিলু, সাইফুজ্জামান তাজু, উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম-আহবায়ক রুবেল রানা বক্তব্য রাখেন।
বক্তাগন তাদের বক্তব্যে গত প্রায় দুই বছর পূর্বে ১১কোটি টাকা ব্যায়ে এই সড়ক নির্মাণ কাজের টেন্ডার সমাপ্ত হয়েছে।১৭/০৮/২০২১ ইং তারিখে নির্মাণ কাজ শুরু করার কথা অথচ জরাজীর্ণ সড়কটিতে প্রতিনিয়ত জনদূর্ভগ হওয়া সত্বেও ঠিকাদার নির্মাণ সামগ্রীর দ্রব্যমূল্য উর্ধগতির অজুহাতে বিলম্ব করছে। বক্তারা আরও বলেন যখনই অফিস থেকে নির্মাণ কাজের তাগিদ দেওয়া হয় এবং সাংবাদিকরা পত্রিকাতে লেখালেখি করে, ঠিক তখনই কিয়তঅংশে রাস্তার দুইধারে মাটি ফেলে জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন শৃষ্টি করেন ঐ ঠিকাদার, ভাবখানা এমন যেন ঠিকাদার বলতে চাই এইতো কাজ শুরু করে দিয়ছি। মানববন্ধনের সভাপতি শ্রমীক নেতা আব্দুল হান্নান ও প্রধান অতিথি ও প্রধান বক্তা পৌরসভার মেয়র ফারুক হোসেন জনদূর্ভোগ এড়াতে অবিলম্বে লালন সড়কের নির্মাণ কাজ শুরুর দাবী উথ্যানের পাশাপাশি আগামী ১০ জুনের মধ্যে কাজ শুরু না করলে বৃহত্তর আন্দোলন শুরুর ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় উপজেলা প্রকৌশলী রাকিব হাসান ও এই কাজের তদারকীর জন্য নিয়জিত সহকারী প্রকৌশলী মামুন অর রশিদ জানান ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ইপিআইটি কাপতাক্ষী জেডি,৬/১ তাজমহল সড়ক, ব্লক-সি মোহাম্মদপূর ঢাকা-১২৬০ কে প্রতিনিয়ত লালন সড়কের নির্মাণ কাজ অবিলম্বে শুরুর তাগিদ দেওয়া সত্বেও ঠিকাদার কাজ শুরুতে বিলম্ব করছে। অফিস থেকে নির্মাণ কাজ শুরুর তাগিদ অব্যাহত রয়েছে।
আরও জানান ঠিকাদার কতৃক প্রাক মূল্য ১১ কোটি ও চুক্তি মূল্য ৯ কোটি টাকা, কাজ শুরুর তারিখ ১৭/০৮/২০২১ এবং কাজ সমাপ্তর তারিখ ০২/০১/২০২৩ ইং তারিখ।
প্রকল্পের নামঃ ঘূর্ণিঝড় আম্পান ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পল্লী সড়ক অবকাঠামো পূণবাসন(চেইনেজঃ০০হতে ১১২৩০মিটার)
এই নির্মাণ কাজের কোড নং ২৪৪১৪২০০৫, প্যাকেজ নং E cafdrirc/Jhenidah /UZR/W-01/2020-21/563716.
নির্মাণ কাজ করতে ব্যর্থ হলে রি-টেন্ডার করার কথা জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী বলেন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের হাতে এখনও নয়(০৯) মাস সময় রয়েছে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

 

 

 

বগুড়ায় ট্রেন চালকের দক্ষতায় বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে দোলন চাঁপা আন্তঃনগর ট্রেন। ওই ঘটনায় দু’জন আহত হলেও কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছেন। রেল লাইনের উপর অবৈধ দোকানগুলো ওই দুর্ঘটনার কারণ বলে জানিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় লোকজন।

বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে মাত্র ত্রিশ গজ দূরেই এক যুগেরও বেশি সময় ধরে (বগুড়া রেলস্টেশন থেকে একনম্বর ঘুমটি পর্যন্ত ) প্রায় তিন শতাধিক অবৈধ কাপড়ের দোকান রেল লাইনের উপর রয়েছে। বগুড়ার পুরাতন কাপড়ের বড় মার্কেট এটি। পরিচিত ‘হঠাৎ মার্কেট’ হিসেবে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েক হাজার ক্রেতার সমাগম ঘটে। বছরে একবার করে রেল থেকে ওইসব দোকান উচ্ছেদ করলেও দুই তিনদিন পরে আবারও দোকান আগের মতো বসে। মূল রেল লাইনের উপর তাঁবু টানিয়ে এসব দোকান বসানো হয়েছে। ট্রেন চলে আসলেই দ্রুত তাবুগুলো সরে ফেলা হয়। কয়েক বছরে প্রায় ৭-৮ জন ক্রেতা এবং বিক্রেতার প্রাণহানি ঘটেছে এই হঠাৎ মার্কেটে।

বগুড়ার রেলস্টেশনের স্টেশন মাষ্টার আবুল কাশেম জানান, দুপুর ১১টায় দোলন চাঁটা আন্তঃনগর ট্রেন বোনারপাড়া থেকে বগুড়ায় আসছিল। অপরদিকে আরেকটি আন্তঃনগর ট্রেন লালমনি এক্সপ্রেক্স ঢাকা থেকে বগুড়া স্টেশনে আসতে থাকে। সিগন্যাল এবং পয়েন্ট ঠিক করে দোলনচাঁপা ট্রেনটির জন্য দুইনম্বর লুপ লাইনে এবং লালমনি এক্সপ্রেক্সকে একনম্বর লাইনে আসার নির্দেশনা ঠিক করা হয়। দোলনচাঁপা ট্রেনটি হুইসেল দিতে দিতে দুই নম্বর লুপ লাইন দিয়ে স্টেশনে আসতে থাকে।

‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদারদের জানা ছিল ওই ট্রেনটি একনম্বর লাইন দিয়ে আসবে। তাই তারা দোকানের তাবু সরাইনি। কিন্তু যখন ট্রেনটি দুইনম্বর লুপ লাইন দিয়ে হুইসেল দিতে দিতে আসতে থাকে তখন দোকানদার এবং ক্রেতারা চিৎকার করে এদিক ওদিক দৌড়ে পালাতে থাকে। ট্রেন চালক দ্রুততার সাথে ট্রেনটি ব্রেক করায় দোকানের মালামাল নষ্ট হলেও কোন প্রাণ হানি ঘটেনি। নইলে অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারতো।

তিনি আরও জানান, গত ১৯ নভেম্বর লালমনিহাট থেকে বিভাগীয় ভূ-সম্পদ কর্মকর্তাসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা স্টেশনের পাশের একটি মার্কেটের প্রায় দুইশতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়ার সময় ‘হঠাৎ মার্কেট’দুইদিন বন্ধ ছিল। পরে ২২ নভেম্বর আবারও ‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদাররা তাদের দোকান বসায়। এ বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে রেল স্টেশন সীমানার মধ্যে এবং লাইনের উপর অবৈধ দোকান উচ্ছেদের জন্য ২৩ নভেম্বর চিঠি দেয়া হয়।

স্টেশন মাষ্টার আরও জানান, রেল লাইন থেকে দুই পাশের ১০ ফুট করে জায়গা ১৪৪ ধারা সবসময়ের জন্য জারী থাকরেও এসব কেউ মানছেনা। স্টেশন মাষ্টার অভিযোগ করে বলেন, সিগন্যাল এবং পয়েন্টের তারের উপর অবৈধ দোকান বসার কারনে অনেক সময় সঠিকভাবে সিগন্যাল ও পয়েন্ট করা সম্ভব হয়না। অথচ, ট্রেনের আসা যাওয়ার মূল বিষয়টি হলো সিগন্যাল এবং পয়েন্ট।

বগুড়া রেল স্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারী শাহীন আলম জানান, রেল লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী ইন্সপেক্টর রায়হান কবীরের কারণেই রেল লাইনের উপর অবৈধ হঠাৎ মার্কেট গড়ে উঠেছে। লাইনের উপর নিরাপত্তার দায়িত্ব তার থাকলেও প্রতিদিন লাইনের উপর মার্কেট দেখার পরেও উনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে দোকানদারদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন।

তবে রায়হান কবীর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়, লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্ব আপনার থাকলেও কেন ওইসব দোকান দেখেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। তিনি জানান, বিষয়গুলো উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ জানেন।

বগুড়া জিআরপি ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর কায়কোবাদ জানান, ঘটনাটি জানার পরে সেখানে আমরা দ্রুত যাই। কিন্তু কোনো আহত কিংবা নিহত ব্যক্তির খোঁজ পাইনি। তবে আশেপাশের লোকজন জানিয়েছেন, চার-পাঁচজন ক্রেতা আহত হয়েছেন।
বগুড়া ফায়ার স্টেশনের সিনিয়ন স্টেশন মাষ্টার বজলুর রশিদ জানান, দুইজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন, গাবতলী উপজেলার রুমি খাতুন (৩০) এবং দুপচাঁচিয়া উপজেলার মানিক (৫৫)। তাদের শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে আরও কয়েকজনের কথা শুনলেও তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।

রেল লাইনের পাশের স্থানীয় ব্যবসায়ী নাম না প্রকাশে ইচ্ছুক কয়েকজন জানান, গত ৫/৬ বছরে প্রায় ৭-৮জন ট্রেনে কেটে হঠাৎ মার্কেটে মারা গেছে। এদের মধ্যে ক্রেতা এবং দোকানদারও ছিল। বুধবার যদি ট্রেনের চালক দ্রুত ব্রেক না করতো তাহলে কয়েক’শ লোকের প্রাণহানি ঘটতো।

কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছে ট্রেন চালকের দক্ষতায়