তাকওয়ার পথে হোক আগামীর পথচলা– মাওলানা জিয়াউল হক নোমানী

মোঃ শহিদুল ইসলাম সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টারঃ
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১১ মে, ২০২২
  • ৫৪ বার পঠিত

 

মুমিনের হৃদয় আন্দোলিত করে, তাকওয়ার পয়গাম নিয়ে এসেছিল মাহে রামাদ্বান। মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার মধ্য দিয়ে শাওয়ালের বাঁকা চাঁদ উঁকি মারলো আকাশ প্রাণে। বিদায় নিল রমাদ্বান। বিদায় নিল ঈদ। প্রাপ্তির ঝুলিতে রইল টা কী? কিবা অর্জন হল আমার? পরপারের সঞ্চয়পাত্রে কিছু জমা হলো তো!
নাকি ঈদের নতুন জামা, দামী জুতো, ঈদ কার্ড, আর সালামীর কিছু নতুন নোট। না এগুলো তো কেবলই উপলক্ষ। বরং মুমিনের লক্ষ্য হচ্ছে ভিন্ন কিছু। আর তা হচ্ছে, তাকওয়া অর্জন। মূলত মাহে রামদ্বান হচ্ছে ট্রেনিং টাইম। একমাস তাকওয়ার প্রশিক্ষণ নিয়ে, বাকি এগারো মাস তাকওয়া তথা খোদাভীতির পথে নিজেকে পরিচালিত করার প্রশিক্ষণ। মাহে রামাদ্বান যেন এ পয়গাম দেয়, হে মুমিন যে মালিকের বিধান পালনার্থে এ মাসে দিনের নির্ধারিত সময়ে হালাল খাবার ও বৈধ স্ত্রী থেকে দূরে ছিলে। ঠিক তেমনি বাকি এগারো মাস সেই মালিকের বিধান মান্য করে, হারাম আহার্য, হারাম কর্ম হতে নিজেকে বিরত রাখ। রবের অবাধ্যচারণে নিজেকে বিলিয়ে দিওনা। হৃদয়ের গহীনে যদি এই অনুভূতিটুকু জাগ্রত করতে পারি, তাহলে বুঝতে হবে আমার হৃদয়ের তাকওয়ার বীজ অঙ্কুরিত হয়েছে। সুতরাং একটি চারা গাছকে ফলে-ফুলে,পত্র-পল্লবে, সুশোভিত করতে যেমনি প্রয়োজন হয় পানি, পরিচর্যা ও সার প্রয়োগ। ঠিক তেমনই হৃদয়ের মাটিতে সদ্য অঙ্কুরিত সেই তাকওয়ার চারাতেও নেক আমলের পানি,গুনাহের পোকা থেকে পরিচর্যা ও দোয়া-র সার প্রয়োগ যদি করতে পারি, তবেই তাকওয়ার এ বৃক্ষের ফল উপভোগ করব জান্নাতে।হ্যা৺ জান্নাত তো তৈরিই করা হয়েছে মুত্তাকীদের জন্য। এরশাদ হচ্ছে “তোমরা তোমাদের পালনকর্তার ক্ষমা এবং জান্নাতের দিকে ছুটে যাও যার সীমানা হচ্ছে আসমান ও যমীন, যা তৈরী করা হয়েছে মুত্তাকিনদের জন্য” (আল ইমরান – ১৩৩)
আর যদি এমনটি না হয় তবে মাহে রামদ্বানের লক্ষ্য হতে আমি ছিটকে পড়লাম। আর উপলক্ষ নিয়েই আনন্দে আত্মহারা হয়ে মূল লক্ষ্য কেই ভুলে গেলাম। যা আদৌ কাম্য নয়। তাই আসুন মাহে রমজানের পরবর্তী দিনগুলোতে তাকওয়ার পথেই হোক আমাদের পথ চলা আল্লাহ পাক আমাদের তাকওয়ার স্নিগ্ধতায় সিক্ত হওয়ার তৌফিক দান করুন।আমিন

লেখক
খতিব,দ দারুস সালাম জামে মসজিদ
বন্দরটিলা, চট্টগ্রাম।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

 

 

 

বগুড়ায় ট্রেন চালকের দক্ষতায় বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে দোলন চাঁপা আন্তঃনগর ট্রেন। ওই ঘটনায় দু’জন আহত হলেও কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছেন। রেল লাইনের উপর অবৈধ দোকানগুলো ওই দুর্ঘটনার কারণ বলে জানিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় লোকজন।

বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে মাত্র ত্রিশ গজ দূরেই এক যুগেরও বেশি সময় ধরে (বগুড়া রেলস্টেশন থেকে একনম্বর ঘুমটি পর্যন্ত ) প্রায় তিন শতাধিক অবৈধ কাপড়ের দোকান রেল লাইনের উপর রয়েছে। বগুড়ার পুরাতন কাপড়ের বড় মার্কেট এটি। পরিচিত ‘হঠাৎ মার্কেট’ হিসেবে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েক হাজার ক্রেতার সমাগম ঘটে। বছরে একবার করে রেল থেকে ওইসব দোকান উচ্ছেদ করলেও দুই তিনদিন পরে আবারও দোকান আগের মতো বসে। মূল রেল লাইনের উপর তাঁবু টানিয়ে এসব দোকান বসানো হয়েছে। ট্রেন চলে আসলেই দ্রুত তাবুগুলো সরে ফেলা হয়। কয়েক বছরে প্রায় ৭-৮ জন ক্রেতা এবং বিক্রেতার প্রাণহানি ঘটেছে এই হঠাৎ মার্কেটে।

বগুড়ার রেলস্টেশনের স্টেশন মাষ্টার আবুল কাশেম জানান, দুপুর ১১টায় দোলন চাঁটা আন্তঃনগর ট্রেন বোনারপাড়া থেকে বগুড়ায় আসছিল। অপরদিকে আরেকটি আন্তঃনগর ট্রেন লালমনি এক্সপ্রেক্স ঢাকা থেকে বগুড়া স্টেশনে আসতে থাকে। সিগন্যাল এবং পয়েন্ট ঠিক করে দোলনচাঁপা ট্রেনটির জন্য দুইনম্বর লুপ লাইনে এবং লালমনি এক্সপ্রেক্সকে একনম্বর লাইনে আসার নির্দেশনা ঠিক করা হয়। দোলনচাঁপা ট্রেনটি হুইসেল দিতে দিতে দুই নম্বর লুপ লাইন দিয়ে স্টেশনে আসতে থাকে।

‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদারদের জানা ছিল ওই ট্রেনটি একনম্বর লাইন দিয়ে আসবে। তাই তারা দোকানের তাবু সরাইনি। কিন্তু যখন ট্রেনটি দুইনম্বর লুপ লাইন দিয়ে হুইসেল দিতে দিতে আসতে থাকে তখন দোকানদার এবং ক্রেতারা চিৎকার করে এদিক ওদিক দৌড়ে পালাতে থাকে। ট্রেন চালক দ্রুততার সাথে ট্রেনটি ব্রেক করায় দোকানের মালামাল নষ্ট হলেও কোন প্রাণ হানি ঘটেনি। নইলে অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারতো।

তিনি আরও জানান, গত ১৯ নভেম্বর লালমনিহাট থেকে বিভাগীয় ভূ-সম্পদ কর্মকর্তাসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা স্টেশনের পাশের একটি মার্কেটের প্রায় দুইশতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়ার সময় ‘হঠাৎ মার্কেট’দুইদিন বন্ধ ছিল। পরে ২২ নভেম্বর আবারও ‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদাররা তাদের দোকান বসায়। এ বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে রেল স্টেশন সীমানার মধ্যে এবং লাইনের উপর অবৈধ দোকান উচ্ছেদের জন্য ২৩ নভেম্বর চিঠি দেয়া হয়।

স্টেশন মাষ্টার আরও জানান, রেল লাইন থেকে দুই পাশের ১০ ফুট করে জায়গা ১৪৪ ধারা সবসময়ের জন্য জারী থাকরেও এসব কেউ মানছেনা। স্টেশন মাষ্টার অভিযোগ করে বলেন, সিগন্যাল এবং পয়েন্টের তারের উপর অবৈধ দোকান বসার কারনে অনেক সময় সঠিকভাবে সিগন্যাল ও পয়েন্ট করা সম্ভব হয়না। অথচ, ট্রেনের আসা যাওয়ার মূল বিষয়টি হলো সিগন্যাল এবং পয়েন্ট।

বগুড়া রেল স্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারী শাহীন আলম জানান, রেল লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী ইন্সপেক্টর রায়হান কবীরের কারণেই রেল লাইনের উপর অবৈধ হঠাৎ মার্কেট গড়ে উঠেছে। লাইনের উপর নিরাপত্তার দায়িত্ব তার থাকলেও প্রতিদিন লাইনের উপর মার্কেট দেখার পরেও উনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে দোকানদারদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন।

তবে রায়হান কবীর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়, লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্ব আপনার থাকলেও কেন ওইসব দোকান দেখেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। তিনি জানান, বিষয়গুলো উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ জানেন।

বগুড়া জিআরপি ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর কায়কোবাদ জানান, ঘটনাটি জানার পরে সেখানে আমরা দ্রুত যাই। কিন্তু কোনো আহত কিংবা নিহত ব্যক্তির খোঁজ পাইনি। তবে আশেপাশের লোকজন জানিয়েছেন, চার-পাঁচজন ক্রেতা আহত হয়েছেন।
বগুড়া ফায়ার স্টেশনের সিনিয়ন স্টেশন মাষ্টার বজলুর রশিদ জানান, দুইজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন, গাবতলী উপজেলার রুমি খাতুন (৩০) এবং দুপচাঁচিয়া উপজেলার মানিক (৫৫)। তাদের শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে আরও কয়েকজনের কথা শুনলেও তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।

রেল লাইনের পাশের স্থানীয় ব্যবসায়ী নাম না প্রকাশে ইচ্ছুক কয়েকজন জানান, গত ৫/৬ বছরে প্রায় ৭-৮জন ট্রেনে কেটে হঠাৎ মার্কেটে মারা গেছে। এদের মধ্যে ক্রেতা এবং দোকানদারও ছিল। বুধবার যদি ট্রেনের চালক দ্রুত ব্রেক না করতো তাহলে কয়েক’শ লোকের প্রাণহানি ঘটতো।

কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছে ট্রেন চালকের দক্ষতায়