নীলফামারীতে একাডেমী কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে জয় পেয়েছে দিনাজপুর ও কুড়িগ্রাম

 নয়ন দাস,কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২২
  • ৭৯ বার পঠিত
 গতকাল জমকালো আয়োজনের মাধ্যমে উদ্বোধন হলো গ্রীণ ভয়েস বিএফএসএফ রংপুর বিভাগীয় অনূর্ধ্ব-১৪ একাডেমী কাপ ২০২২। এতে রংপুর বিভাগের আটটি জেলা অংশগ্রহণ করেছে। তৃণমূল পর্যায় থেকে বয়স ভিত্তিক খেলোয়াড় পরবর্তী সময়ে জাতীয় ফুটবল দলের পাইপলাইন হিসেবে কাজ করবে বলে এরকম আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ফুটবল সাপোর্টার্স ফোরাম। উক্ত একাডেমী কাপের সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন, ডিএসএ ও ডিএফএ নীলফামারী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন,জনাব আলমগীর কবির,প্রধান সমন্বয়ক,গ্রীণ ভয়েস।
আরিফ হোসেন মুন,সাধারণ সম্পাদক ডিএসএ, সভাপতি ডিএফএ ও চেয়ারম্যান টুর্নামেন্ট কমিটি। জনাব সাইদুল আবেদীন ডলার,সাবেক মহাসচিব, কুড়িগ্রাম সমিতি। জনাব রাজু আহমেদ,নিউজ এডিটর জিটিভি। জনাব জালাল হোসেন লাইজু, সাধারণ সম্পাদক,টুর্নামেন্ট কমিটি, এনামুল হক, সাবেক জাতীয় ফুটবলার ও মোঃ শাহাদাত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক বাংলাদেশ ফুটবল সাপোর্টার্স ফোরাম। দিনের প্রথম ম্যাচে জয়ে পেয়েছে মানু স্মৃতি ফুটবল একাডেমী,দিনাজপুর।
৪-০ গোলের ব্যবধানে তারা গাইবান্ধা সদর ফুটবল কোচিং একাডেমী, গাইবান্ধাকে পরাজিত করেছে।২টি গোল করেন মুশফিকুর রহমান হৃদয়। ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ মুশফিকুর রহমান হৃদয়,দিনাজপুর। দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে জয় পেয়েছে মেধাবী কল্যান সংস্থা,কুড়িগ্রাম। ম্যাচের নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলে ড্র হলে ম্যাচটি পেনাল্টি শুট আউটে গড়ায়।
এতে ৪-৩ গোলে ঠাকুরগাঁও ফুটবল একাডেমীকে পরাজিত করে জয় পায় মেধাবী কল্যান সংস্থা,কুড়িগ্রাম। ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ শরীফ আরমান,কুড়িগ্রাম। আগামীকাল দিনের প্রথম ম্যাচে দুপুর ২টায় অংশগ্রহণ করবেন নীলফামারী ফুটবল একাডেমী, নীলফামারী বনাম কলেজ পাড়া ফুটবল একাডেমী, লালমনিরহাট। দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে বিকাল ৪টায় অংশগ্রহণ করবে বোদা উপজেলা ফুটবল একাডেমী বনাম ইউনাইটেড ফুটবল একাডেমী, রংপুর। সকল খেলা শেখ কামাল স্টেডিয়াম নীলফামারীরতে অনুষ্ঠিত হবে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

 

 

 

বগুড়ায় ট্রেন চালকের দক্ষতায় বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে দোলন চাঁপা আন্তঃনগর ট্রেন। ওই ঘটনায় দু’জন আহত হলেও কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছেন। রেল লাইনের উপর অবৈধ দোকানগুলো ওই দুর্ঘটনার কারণ বলে জানিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় লোকজন।

বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে মাত্র ত্রিশ গজ দূরেই এক যুগেরও বেশি সময় ধরে (বগুড়া রেলস্টেশন থেকে একনম্বর ঘুমটি পর্যন্ত ) প্রায় তিন শতাধিক অবৈধ কাপড়ের দোকান রেল লাইনের উপর রয়েছে। বগুড়ার পুরাতন কাপড়ের বড় মার্কেট এটি। পরিচিত ‘হঠাৎ মার্কেট’ হিসেবে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েক হাজার ক্রেতার সমাগম ঘটে। বছরে একবার করে রেল থেকে ওইসব দোকান উচ্ছেদ করলেও দুই তিনদিন পরে আবারও দোকান আগের মতো বসে। মূল রেল লাইনের উপর তাঁবু টানিয়ে এসব দোকান বসানো হয়েছে। ট্রেন চলে আসলেই দ্রুত তাবুগুলো সরে ফেলা হয়। কয়েক বছরে প্রায় ৭-৮ জন ক্রেতা এবং বিক্রেতার প্রাণহানি ঘটেছে এই হঠাৎ মার্কেটে।

বগুড়ার রেলস্টেশনের স্টেশন মাষ্টার আবুল কাশেম জানান, দুপুর ১১টায় দোলন চাঁটা আন্তঃনগর ট্রেন বোনারপাড়া থেকে বগুড়ায় আসছিল। অপরদিকে আরেকটি আন্তঃনগর ট্রেন লালমনি এক্সপ্রেক্স ঢাকা থেকে বগুড়া স্টেশনে আসতে থাকে। সিগন্যাল এবং পয়েন্ট ঠিক করে দোলনচাঁপা ট্রেনটির জন্য দুইনম্বর লুপ লাইনে এবং লালমনি এক্সপ্রেক্সকে একনম্বর লাইনে আসার নির্দেশনা ঠিক করা হয়। দোলনচাঁপা ট্রেনটি হুইসেল দিতে দিতে দুই নম্বর লুপ লাইন দিয়ে স্টেশনে আসতে থাকে।

‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদারদের জানা ছিল ওই ট্রেনটি একনম্বর লাইন দিয়ে আসবে। তাই তারা দোকানের তাবু সরাইনি। কিন্তু যখন ট্রেনটি দুইনম্বর লুপ লাইন দিয়ে হুইসেল দিতে দিতে আসতে থাকে তখন দোকানদার এবং ক্রেতারা চিৎকার করে এদিক ওদিক দৌড়ে পালাতে থাকে। ট্রেন চালক দ্রুততার সাথে ট্রেনটি ব্রেক করায় দোকানের মালামাল নষ্ট হলেও কোন প্রাণ হানি ঘটেনি। নইলে অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারতো।

তিনি আরও জানান, গত ১৯ নভেম্বর লালমনিহাট থেকে বিভাগীয় ভূ-সম্পদ কর্মকর্তাসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা স্টেশনের পাশের একটি মার্কেটের প্রায় দুইশতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়ার সময় ‘হঠাৎ মার্কেট’দুইদিন বন্ধ ছিল। পরে ২২ নভেম্বর আবারও ‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদাররা তাদের দোকান বসায়। এ বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে রেল স্টেশন সীমানার মধ্যে এবং লাইনের উপর অবৈধ দোকান উচ্ছেদের জন্য ২৩ নভেম্বর চিঠি দেয়া হয়।

স্টেশন মাষ্টার আরও জানান, রেল লাইন থেকে দুই পাশের ১০ ফুট করে জায়গা ১৪৪ ধারা সবসময়ের জন্য জারী থাকরেও এসব কেউ মানছেনা। স্টেশন মাষ্টার অভিযোগ করে বলেন, সিগন্যাল এবং পয়েন্টের তারের উপর অবৈধ দোকান বসার কারনে অনেক সময় সঠিকভাবে সিগন্যাল ও পয়েন্ট করা সম্ভব হয়না। অথচ, ট্রেনের আসা যাওয়ার মূল বিষয়টি হলো সিগন্যাল এবং পয়েন্ট।

বগুড়া রেল স্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারী শাহীন আলম জানান, রেল লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী ইন্সপেক্টর রায়হান কবীরের কারণেই রেল লাইনের উপর অবৈধ হঠাৎ মার্কেট গড়ে উঠেছে। লাইনের উপর নিরাপত্তার দায়িত্ব তার থাকলেও প্রতিদিন লাইনের উপর মার্কেট দেখার পরেও উনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে দোকানদারদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন।

তবে রায়হান কবীর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়, লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্ব আপনার থাকলেও কেন ওইসব দোকান দেখেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। তিনি জানান, বিষয়গুলো উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ জানেন।

বগুড়া জিআরপি ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর কায়কোবাদ জানান, ঘটনাটি জানার পরে সেখানে আমরা দ্রুত যাই। কিন্তু কোনো আহত কিংবা নিহত ব্যক্তির খোঁজ পাইনি। তবে আশেপাশের লোকজন জানিয়েছেন, চার-পাঁচজন ক্রেতা আহত হয়েছেন।
বগুড়া ফায়ার স্টেশনের সিনিয়ন স্টেশন মাষ্টার বজলুর রশিদ জানান, দুইজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন, গাবতলী উপজেলার রুমি খাতুন (৩০) এবং দুপচাঁচিয়া উপজেলার মানিক (৫৫)। তাদের শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে আরও কয়েকজনের কথা শুনলেও তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।

রেল লাইনের পাশের স্থানীয় ব্যবসায়ী নাম না প্রকাশে ইচ্ছুক কয়েকজন জানান, গত ৫/৬ বছরে প্রায় ৭-৮জন ট্রেনে কেটে হঠাৎ মার্কেটে মারা গেছে। এদের মধ্যে ক্রেতা এবং দোকানদারও ছিল। বুধবার যদি ট্রেনের চালক দ্রুত ব্রেক না করতো তাহলে কয়েক’শ লোকের প্রাণহানি ঘটতো।

কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছে ট্রেন চালকের দক্ষতায়