প্রধান ডাকাত সহ ০৮জন জলদস্যু বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদসহ র‌্যাবের হাতে আটক

মোঃ শহিদুল ইসলাম সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টারঃ
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৮ মে, ২০২২
  • ৭০ বার পঠিত

৪৮ ঘন্টার রুদ্ধশ্বাস অভিযানে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার বাঁশখালী,পেকুয়া ও কুতুবদিয়া এলাকা হতে কুখ্যাত জলদস্যূ আজিজ বাহিনীর প্রধান ডাকাত আজিজ,কালু বাহিনীর প্রধান গুরা কালু এবং সাহাব উদ্দিন বাহিনীর প্রধান ডাকাত সাহাবসহ ০৮জন জলদস্যু বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদসহ র‌্যাবের হাতে আটক।লুন্ঠিত জাল ও ০১ টি ট্রলার উদ্ধার।

র‍্যাব সূত্রে জানা যায়,শুক্রবার (১৩ মে)২২ খ্রি.থেকে ১৪ মে ২২ খ্রি. তারিখ বাঁশখালী, পেকুয়া, ও কুতুবদিয়ার উপকূলীয় অঞ্চলের স্থল ও সাগর পথে আভিযানিক দল বর্ণিত এলাকায় দীর্ঘ ৪৮ ঘন্টার রুদ্ধশ্বাস একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আসামী ১। মোঃ কালু প্রকাশ গুরা কালু (৪০) সাং-পেয়ারাকাটা, থানা-কুতুবদিয়া, জেলা- কক্সবাজার ২। মোঃ আজিজুল হক অংক (৪৬) সাং-করিয়ারদিয়া,থানা-পেকুয়া,জেলা-কক্সবাজার, ৩। সাহাব উদ্দিন (৪৭) সাং-পূর্ব তাবলরচর, থানা-কুতুবদিয়া, জেলা- কক্সবাজার, ৪। নুরুল বশর (৩২) সাং-দক্ষিন ধুরুং, থানা-কুতুবদিয়া, জেলা- কক্সবাজার, ৫। শহিদুল ইসলাম (২৮) সাং-মাইজঘোনা, থানা-চকরিয়া, জেলা- কক্সবাজার, ৬। নেজাম উদ্দিন (২৯), সাং-রামপুর, থানা-চকরিয়া, জেলা- কক্সবাজার, ৭। ছলিম উল্লাহ প্রকাশ বাবুল (৫৫)সাং-পূর্ব তাবলর চর, থানা-কুতুবদিয়া, জেলা- কক্সবাজার এবং ৮। জিয়াবুল হক জিকু (৫০) সাং-ছৈনাম্মার ঘোনা, থানা-চকরিয়া, জেলা- কক্সবাজার’দেরকে আটক করতে সক্ষম হয়।

কিছুদিন যাবৎ র‍্যাব-৭, চট্টগ্রাম বরাবর অভিযোগ আসছিলো যে, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের উপকূলীয় অঞ্চলের জলদস্যু বাহিনী কিছু দিন গা ঢাকা দিয়ে থাকার পর সম্প্রতি তারা আবার পূর্বের ন্যায় সকল অপকর্ম এবং উপকূলীয় এলসাকায় বসবাসকারী সাধারণ লবনচাষী ও সাগরে জেলেদের উপর অত্যাচার, জুলুম, চাঁদাবাজি এবং অপহরণসহ সকল প্রকার অন্যায় কাজ পরিচালনা করছে৷ ভুক্তভোগীদের এরুপ অভিযোগের বিষয়টি র‍্যাব-৭, চট্টগ্রাম অত্যান্ত মানবিকতায় সহিত চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে উল্লেখিত এলাকায় ব্যাপক গোয়েন্দা নজরদারি অব্যহত রাখে৷

এরই প্রেক্ষিতে গত ১৩ মে ২০২২ খ্রি. থেকে ১৪ মে ২০২২ খ্রি’আসামীদেরকে আটক করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে উপস্থিত সাক্ষীদের সম্মুখে আটককৃত সকল আসামীদের জ্ঞাতসারে তাদের নিজ হেফাজতে থাকা কোমড় এবং প্লাস্টিকের বস্তার ভিতর হতে ০৩টি ওয়ান শুটারগান, ০১টি দুনলা বন্দুক, ০৩টি একনলা বন্দুক, ১১ রাউন্ড গুলি এবং ০৫টি দেশীও ধাড়ালো ছুরা উদ্ধারসহ আসামীদের গ্রেফতার করা হয়।

উল্লেখ্য যে, ধৃত ১নং আসামী মোঃ কালু প্রকাশ গুরা কাল এর বিরুদ্ধে কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া থানায় অস্ত্র, ডাকাতি এবং মাদক সংক্রান্ত ১০ টি মামলা রয়েছে, ধৃত ২নং আসামী মোঃ আজিজুল হক অংক বিরুদ্ধে কক্সবাজার জেলার মহেশখালী এবং পেকুয়া থানায় অস্ত্র, ডাকাতি এবং মাদক সংক্রান্ত ০৩ টি রয়েছে, ধৃত ৩নং আসামী সাহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া থানায় অস্ত্র, ডাকাতি এবং মাদক সংক্রান্ত ০৬ টি মামলা রয়েছে, ধৃত ৪নং আসামী নুরুল বশর এর বিরুদ্ধে কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া থানায় অস্ত্র, সংক্রান্ত ০১ টি মামলা রয়েছে, ধৃত ৫নং আসামী শহিদুল ইসলাম এর চট্টগ্রাম জেলার চকরিয়া থানায় অস্ত্র ও ডাকাতি সংক্রান্ত ০২ টি মামলা রয়েছে, ধৃত ৬নং আসামী নেজাম উদ্দিন এর বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম জেলার চকরিয়া থানায় অস্ত্র ও ডাকাতি সংক্রান্ত ০৩ টি মামলা রয়েছে এবং ধৃত ৭ নং আসামী ছলিম উল্লাহ প্রকাশ বাবুল এর বিরুদ্ধে কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া থানায় অস্ত্র, ডাকাতি এবং মাদক সংক্রান্ত ১৫ টি মামলা রয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদে অকপটে স্বীকার করে যে, তারা কয়েকটি সংঘবদ্ধ চিহিৃত শীর্ষ জলদস্যূ ও ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য এবং বিশেষ করে ধৃত আসামী আজিজ ডাকাত, গুরা কালু এবং ডাকাত সাহাব তিনজন মিলে তিনটি দল পরিচালনা করত। এই কুখ্যাত ও দুর্র্ধর্ষ জলদস্যূরা বাঁশখালী, চকরিয়া, পেকুয়া, কুতুবদিয়া ও মহেশখালী এলাকার সংঘবদ্ধ জলদস্যূ ও আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য। তারা বর্ণিত স্থানে সমবেত হয়ে ট্রলার যোগে সাগর পথে কুতুবদিয়া চ্যানেলে ডাকাতি করার উদ্দেশ্যে যাওয়ার জন্য সমবেত হয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এছাড়াও এই দল গুলো দীর্ঘদিন যাবৎ চট্টগ্রামের বাঁশখালীসহ কক্সবাজার জেলার পেকুয়া, কুতুবদিয়া, মহেশখালী থানা এলাকাসহ সাগর পথে বিভিন্ন চ্যানেলে ডাকাতি করে আসছে। উল্লেখ্য যে, গ্রেপ্তারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে বিষয়োক্ত অপরাধের কারনে তাদের প্রত্যেকের নামে ৮/১০টি করে মামলা বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন।

গ্রেফতারকৃত আসামী এবং উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংক্রান্তে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

 

 

 

বগুড়ায় ট্রেন চালকের দক্ষতায় বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে দোলন চাঁপা আন্তঃনগর ট্রেন। ওই ঘটনায় দু’জন আহত হলেও কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছেন। রেল লাইনের উপর অবৈধ দোকানগুলো ওই দুর্ঘটনার কারণ বলে জানিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় লোকজন।

বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে মাত্র ত্রিশ গজ দূরেই এক যুগেরও বেশি সময় ধরে (বগুড়া রেলস্টেশন থেকে একনম্বর ঘুমটি পর্যন্ত ) প্রায় তিন শতাধিক অবৈধ কাপড়ের দোকান রেল লাইনের উপর রয়েছে। বগুড়ার পুরাতন কাপড়ের বড় মার্কেট এটি। পরিচিত ‘হঠাৎ মার্কেট’ হিসেবে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েক হাজার ক্রেতার সমাগম ঘটে। বছরে একবার করে রেল থেকে ওইসব দোকান উচ্ছেদ করলেও দুই তিনদিন পরে আবারও দোকান আগের মতো বসে। মূল রেল লাইনের উপর তাঁবু টানিয়ে এসব দোকান বসানো হয়েছে। ট্রেন চলে আসলেই দ্রুত তাবুগুলো সরে ফেলা হয়। কয়েক বছরে প্রায় ৭-৮ জন ক্রেতা এবং বিক্রেতার প্রাণহানি ঘটেছে এই হঠাৎ মার্কেটে।

বগুড়ার রেলস্টেশনের স্টেশন মাষ্টার আবুল কাশেম জানান, দুপুর ১১টায় দোলন চাঁটা আন্তঃনগর ট্রেন বোনারপাড়া থেকে বগুড়ায় আসছিল। অপরদিকে আরেকটি আন্তঃনগর ট্রেন লালমনি এক্সপ্রেক্স ঢাকা থেকে বগুড়া স্টেশনে আসতে থাকে। সিগন্যাল এবং পয়েন্ট ঠিক করে দোলনচাঁপা ট্রেনটির জন্য দুইনম্বর লুপ লাইনে এবং লালমনি এক্সপ্রেক্সকে একনম্বর লাইনে আসার নির্দেশনা ঠিক করা হয়। দোলনচাঁপা ট্রেনটি হুইসেল দিতে দিতে দুই নম্বর লুপ লাইন দিয়ে স্টেশনে আসতে থাকে।

‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদারদের জানা ছিল ওই ট্রেনটি একনম্বর লাইন দিয়ে আসবে। তাই তারা দোকানের তাবু সরাইনি। কিন্তু যখন ট্রেনটি দুইনম্বর লুপ লাইন দিয়ে হুইসেল দিতে দিতে আসতে থাকে তখন দোকানদার এবং ক্রেতারা চিৎকার করে এদিক ওদিক দৌড়ে পালাতে থাকে। ট্রেন চালক দ্রুততার সাথে ট্রেনটি ব্রেক করায় দোকানের মালামাল নষ্ট হলেও কোন প্রাণ হানি ঘটেনি। নইলে অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারতো।

তিনি আরও জানান, গত ১৯ নভেম্বর লালমনিহাট থেকে বিভাগীয় ভূ-সম্পদ কর্মকর্তাসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা স্টেশনের পাশের একটি মার্কেটের প্রায় দুইশতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়ার সময় ‘হঠাৎ মার্কেট’দুইদিন বন্ধ ছিল। পরে ২২ নভেম্বর আবারও ‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদাররা তাদের দোকান বসায়। এ বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে রেল স্টেশন সীমানার মধ্যে এবং লাইনের উপর অবৈধ দোকান উচ্ছেদের জন্য ২৩ নভেম্বর চিঠি দেয়া হয়।

স্টেশন মাষ্টার আরও জানান, রেল লাইন থেকে দুই পাশের ১০ ফুট করে জায়গা ১৪৪ ধারা সবসময়ের জন্য জারী থাকরেও এসব কেউ মানছেনা। স্টেশন মাষ্টার অভিযোগ করে বলেন, সিগন্যাল এবং পয়েন্টের তারের উপর অবৈধ দোকান বসার কারনে অনেক সময় সঠিকভাবে সিগন্যাল ও পয়েন্ট করা সম্ভব হয়না। অথচ, ট্রেনের আসা যাওয়ার মূল বিষয়টি হলো সিগন্যাল এবং পয়েন্ট।

বগুড়া রেল স্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারী শাহীন আলম জানান, রেল লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী ইন্সপেক্টর রায়হান কবীরের কারণেই রেল লাইনের উপর অবৈধ হঠাৎ মার্কেট গড়ে উঠেছে। লাইনের উপর নিরাপত্তার দায়িত্ব তার থাকলেও প্রতিদিন লাইনের উপর মার্কেট দেখার পরেও উনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে দোকানদারদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন।

তবে রায়হান কবীর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়, লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্ব আপনার থাকলেও কেন ওইসব দোকান দেখেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। তিনি জানান, বিষয়গুলো উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ জানেন।

বগুড়া জিআরপি ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর কায়কোবাদ জানান, ঘটনাটি জানার পরে সেখানে আমরা দ্রুত যাই। কিন্তু কোনো আহত কিংবা নিহত ব্যক্তির খোঁজ পাইনি। তবে আশেপাশের লোকজন জানিয়েছেন, চার-পাঁচজন ক্রেতা আহত হয়েছেন।
বগুড়া ফায়ার স্টেশনের সিনিয়ন স্টেশন মাষ্টার বজলুর রশিদ জানান, দুইজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন, গাবতলী উপজেলার রুমি খাতুন (৩০) এবং দুপচাঁচিয়া উপজেলার মানিক (৫৫)। তাদের শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে আরও কয়েকজনের কথা শুনলেও তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।

রেল লাইনের পাশের স্থানীয় ব্যবসায়ী নাম না প্রকাশে ইচ্ছুক কয়েকজন জানান, গত ৫/৬ বছরে প্রায় ৭-৮জন ট্রেনে কেটে হঠাৎ মার্কেটে মারা গেছে। এদের মধ্যে ক্রেতা এবং দোকানদারও ছিল। বুধবার যদি ট্রেনের চালক দ্রুত ব্রেক না করতো তাহলে কয়েক’শ লোকের প্রাণহানি ঘটতো।

কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছে ট্রেন চালকের দক্ষতায়