মানব দালাল টিটোর খপ্পরে পড়ে আত্মহত্যা করেও মুক্তি মেলেনি আনোয়ারের।

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৪ মার্চ, ২০২১
  • ৬৩৮ বার পঠিত
নিহত আনোয়ারের পরিবার ও ইনসেটে মানব দালাল শাহীনুর রহমান টিটো

মানব দালাল টিটোর খপ্পরে পড়ে আত্মহত্যা করেও মুক্তি মেলেনি আনোয়ারের।।

মোঃ লিটন হোসেন ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধিঃ
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কুমড়াবাড়িয়া গ্রামের মাহমুদ আলীর ছেলে আনোয়ারের স্বপ্ন ছিল বিদেশ যেয়ে টাকা কামিয়ে পরিবারকে স্বচ্ছল করবে। দারিদ্রতার অভিশাপ মুক্ত হয়ে গড়বে সুখের জীবন-সংসার। রঙিন স্বপ্ন দেখা আনোয়ার মানব দালাল টিটোর খপ্পরে পড়ে দায়-দেনায় জড়িয়ে শেষে আত্মহত্যা করেও ঋণ মুক্ত হতে পারেনি।
বরং আত্মহত্যার পরে ৩ বছরের ছেলেকে নিয়ে বউ শ্বশুর বাড়িতে গিয়ে উঠেছে। বিয়েও করেছে আরেক জনকে। আনোয়ারের বাবা-ভাইয়েরা আজও দেনার বোঝা মাথায় নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। চোখের পানিতে জীবন কাটছে আনোয়ারের মায়ের।
জানাগেছে, ২০১৭ সালে লিবিয়ায় যাওয়ার জন্য কুমড়াবাড়িয়া গ্রামের মৃত ইউছুপ আলীর ছেলে মানব দালাল শাহিনুর রহমান টিটোর কাছে টিটোর বোন শিউলি ও বোন জামাই খালেকের মাধ্যমে ৩ লাখ টাকা দেয় আনোয়ারের বাবা মাহমুদ আলী। মানব দালাল টিটো কথা দেয় দেড় মাসের মধ্যে সব কাগজ কমপ্লিট করে নিয়ে যাবে লিবিয়ায়।
আনোয়ার এনজিও থেকে কিস্তি তুলে,শ্বশুর বাড়ি থেকে ধার করে,আত্মিয় স্বজনের কাছ থেকে চেয়ে ধার করে এই ৩ লাখ টাকা জোগাড় করেছিল। দিন যত যায় আনোয়ারের বোঝা বাড়তে থাকে।
২০১৯ সালের ২১ অক্টোবর পাওনাদারদের চাপ,সংসারের অভাব ও হতাশায় বিষপান করে আত্মহত্যা করে আনোয়ার।
সাড়ে ৩ বছর বয়সেই এতিম হয় আনোয়ারের ছেলে। পরিবার থেকে দালাল টিটোর নামে আত্মহত্যার প্ররোচণার মামলা করতে চাইলে লোক জন ধরে ১ সপ্তাহের সময় নেয় দালাল টিটো। তখন সে বলে এক সপ্তাহের মধ্যে ৩ লাখ টাকা ফেরত দিয়ে দেবে।
কিন্তু আজ দিই,কাল দিই বলে আড়াই বছর অতিবাহিত হলেও টাকা দেয়নি টিটো। টাকা চাইতে গেলে উল্টো আনোয়ারের বাবা-ভাইকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে আসছে সে।
ঝিনাইদহ আদালত সূত্রে জানাগেছে,বর্তমানে মানব দালাল শাহিনুর রহমান টিটোর নামে আদালতে মানবপাচার ও প্রতারণার অভিযোগে ৮টি মামলা চলমান রয়েছে। মানবপাচারের মামলায় প্রায় ৬ মাস জেল খাটার পরে কিছুদিন আগে জেল থেকে বেরিয়েছে সে। কিন্তু আনোয়ারের পরিবার টাকা চাইলেই আবারও হুমকি ধামকি দিচ্ছে বলে প্রতিবেদককে জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন ঝিনাইদহের হাটগুলোতে আসতে শুরু করেছে তরমুজ,মৌসুমি ফল হলেও দামে চড়া
কুমড়াবাড়িয়া গ্রামের বটতলা বাজারে কয়েক জন দোকানদারের সাথে কথা বলে জানাগেছে, জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় ফিরে আসলে এলাকায় আবার থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। টিটো অনেকের কাছ থেকেই টাকা নিয়ে এভাবে প্রতারতণা করেছে কিন্তু কেউ তার ভয়ে মুখ খুলতে চাইছে না।
জানাগেছে, একই গ্রামের ওহিদুলের ছেলে জয়নাল ও আবজাল শেখের জামাই হাজিডাঙ্গা গ্রামের রুবেল কাছ থেকেও একইভাবে টাকা নিয়ে বিদেশ পাঠাতেও পারেনি আাবার টাকাও ফেরত দিচ্ছে না দালাল টিটো।
জয়নালের স্ত্রী প্রতিবেদককে জানান, আমাদের কাছথেকে নগদ ১ লাখ টাকা নেয় আগে। কথা ছিল কাগজপত্র তৈরি করে বাকি টাকা নেবে। তিন বছর ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে এখনো কাগজপত্র তৈরি করতে পারেনি। আমরা টাকা ফেরত চাইলেও দিচ্ছে না।
আবজাল শেখের স্ত্রী (রুবেলের শাশুড়ি) জানান, এই টিটো শুধু আমার জামাইয়ের কাছ থেকেই নয় পানি পথে বিদেশ পাঠানোর নামে অনেকের কাছ থেকেই টাকা নিয়ে সেই পরিবারগুলোকে সর্বশান্ত করে দিয়েছে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর