মেহেরপুরে হত্যার হুমকী ও মারধরের মামলায় আটক-২

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২২
  • ১৫৫ বার পঠিত

 

মেহেরপুরের গাংনীতে বেআইনীভাবে জমি দখল করে চাষ কাজ শুরু করায় তাতে বাঁধা প্রদান করায় হত্যার হুমকী ও মারধরের মামলায় ২ জনকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করেছে গাংনী থানা পুলিশ।
শুক্রবার (২ সেপ্টেম্বর), ভোরের দিকে গাংনী থানা পুলিশ উপজেলার মহেষপুর ও কাস্টদহ গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে খোকন (৪৫) ও সিদ্দিকুর রহমান (৫৫) নামের ২ জনকে আটক করে। এসময় অপর ৫ জন আসামি পলাতক থাকায় তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি। ঘটনায় আটককৃত খোকন মহেষপুর গ্রামের সামছুদ্দিন মন্ডলের ছেলে এবং সিদ্দিকুর কাস্টদহ গ্রামের মৃত আতর আলীর ছেলে। শুক্রবার সকালের দিকে আটককৃতদের মেহেরপুর আদালতে সোপর্দ করা হয়।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেম্বর), গাংনী উপজেলার মহেষপুর গ্রামের মৃত মেহেরুল্লাহ’র ছেলে গাংনী পৌর এলাকার ৬ নং ওয়ার্ড পূর্ব মালশাদহের মোশারফ হোসেন তিনাকে হত্যার হুমকী ও মারধরের ঘটনায় উপজেলার মহেষপুর গ্রামের মৃত সামসুদ্দীন মন্ডলের ছেলে আলেক (৬০), খোকন (৪৫), গাংনী পৌরসভা পাড়া ৮নং ওয়ার্ডের আব্দুস সালামের ছেলে আবু সাঈদ (২৮), করমদী গ্রামের রুহুল আমীনের ছেলে খায়রুল ইসলাম (৩৫), কাস্টদহ গ্রামের মৃত আতর আলীর ছেলে ছিদ্দিকুর রহমান (৫৫), গাংনী পৌর এলাকার ৪ নং ওয়ার্ডের উত্তর পাড়ার মৃত নবীছদ্দীনের স্ত্রী পরিছন্নেছা (৫৯) ও মহেষপুর গ্রামের খোকনের স্ত্রী পারভীনা খাতুন (৩৫) এর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গাংনী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে খোকন ও ছিদ্দিকুর কে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়। বাকিদের আটকের জোর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে।
জানা যায়, পূর্ব মালশাদহ গ্রামের মোশারফ হোসেন ও গাংনী উত্তরপাড়ার পরিছন্নেছার সাথে কাস্টদহ মোজার আর এস খতিয়ান ৪৮২ আর এস দাগ নং ১১৮ বাটা ১১৭২ জমির ৪১ শতক নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল।
গত শুক্রবার (২৬ আগস্ট-২০২২), বিকেলের দিকে মোশারফ হোসেন উক্ত জমি দেখার উদ্দেশ্যে গেলে বিবাদীগণ হাঁসুয়া, দা, বাঁশের লাঠি সহকারে বেআইনী জনতাবদ্ধে অনাধিকার তিনার জমিতে প্রবেশ করে এবং জমি দখল করে চাষ শুরু করেন। এসময় তিনি বাঁধা দিতে গেলে পরিছন্নেছার হুকুমে খোকন গলা টিপে ধরে মাটিতে ফেলে দেয় মোশারফ হোসেন কে। এসময় আলেক, আবু সাঈদ, খায়রুল ও ছিদ্দিকুর বাঁশের লাঠি দ্বারা মোশারফ হোসেনকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে মোশারফ হোসেনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলা ফোলা জখম হয়। আলেক ও খোকন গলায় হাঁসুয়া ঠেকিয়ে তিনাকে হত্যারও হুমকী প্রদান করেন। এসময় মোশারফ হোসেনের চিৎকারে আশে-পাশের লোকজন ছুটে এসে তিনাকে উদ্ধার করেন। বিবাদীরা চলে যাওয়ার সময়ও তিনাকে খুন, জখমের হুমকী প্রদান করেন। পরে স্থানীয় লোকজন তিনাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য গাংনী উপজেলা শহরের একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে যান। পরে অসুস্থতা বেড়ে যাওয়ায় তিনাকে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে বাড়িতে ফিরে পরিবারের সদস্য ও আত্বীয়-স্বজনকে ঘটনা সম্বন্ধে অবহিত করলে তারা থানায় মামলার পরামর্শ দেন। পরামর্শ অনুযায়ী মোশারফ হোসেন বিবাদীদের বিরুদ্ধে থানায় উপস্থিত হয়ে মামলা দায়ের করেন এবং তিনাকে মারধর ও হত্যার হুমকীতে তদন্ত সাপেক্ষে বিবাদীগণের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানান।
এব্যাপারে বিবাদী আবু সাঈদের বাবা হবিগঞ্জে অবস্থানকারী এএসআই আব্দুস সালামকে ফোন করে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, কলাইয়ের আবাদের জন্য তিনি জমি চাষ করেছেন। উক্ত জমি মোশারফ হোসেনের নয় বলেও তিনি জানান।
তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে এ জমি আমার দখলে রয়েছে সুতরাং এ জমি আমার ছাড়া কার হবে?
এদিকে ভুক্তভোগী মোশারফ হোসেন জানান, এ জমি আমার হলেও কতিপয় লোকের হাতে এ বয়সে মার খেতে হলো। তিনি জানান, আমার ৮ বছরের
ডিগ্রি, খারিজ ও খাজনার চেক রয়েছে। উক্ত জমি আমার। জমিতে আমার আমার বাবা-মা ও ছোট ভাইয়ের কবরও রয়েছে। সেখানে মেহগনি গাছের বাগানও ছিল কিন্তু কয়েকমাস পূর্বে রাতের আধারে কে বা কারা উক্ত গাছ কর্তনসহ জমির বেড়া, নেট উপড়ে নিয়ে যায়। পরে বিবাদীরা জোরপূর্বক বেআইনী ভাবে আমার জমি চাষ করেছেন এবং আমাকে হত্যার চেষ্টা ও মারধর করেছেন। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
এলাকাবাসীর কয়েকজন জানান, এ জমি মোশারফ হোসেনের। ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি এ জমিতে মোশারফ হোসেন চাষাবাদ করে আসছেন। এ জমির উপর একটি কুঁড়েঘরও ছিল। যেখানে বসে জমির ফসল পাহারা করতো। কিন্তু হঠাৎ করেই কতিপয় লোকজন জোরপূর্বক চাষ করা শুরু করেছে। এতে বাঁধা প্রদানে মোশারফ হোসেন কে মারধর করা হয়েছে। যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
গাংনী থানা সূত্র জানায়, মামলায় ২ জনকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদেরও দ্রুত আটকের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর