ময়মনসিংহে সাংবাদিকদের ঈদপূর্ণমিলনী গুণীজন সংবর্ধনায় জাতীয় ঐক্যের আহবান-শিবলী সাদিক খান

মোঃ শহিদুল ইসলাম সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টারঃ
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৮ মে, ২০২২
  • ৬৯ বার পঠিত

 

ময়মনসিংহে সাংবাদিকদের ঈদপূর্ণমিলনী গুণীজন সংবর্ধনয় গণমাধ্যম সপ্তাহ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সাংবাদিক সুরক্ষা আইন সংশোধনী বাস্তবায়নে জাতীয় ঐক্যের আহবান জানিয়েছেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম বিএমএসএফ কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শিবলী সাদিক খান, তিনি বিএমএসএফ’র ঘোষিত ১৪ দফা দাবী আদায়ের আন্দোলনে সকল সাংবাদিকদের ঐকবদ্ধ থাকার আহবান জানান।
ময়মনসিংহে শনিবার (৭ মে ২০২২ খ্রীঃ) দুর্গাবাড়ী রোডস্থ গ্রীণপার্কে ময়মনসিংহে সাংবাদিকবৃন্দের ঈদপূর্ণমিলনী গুণীজন সংবর্ধনায় কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি সাইদুর রহমান বাবুল, সহ সাঃ সম্পাদক ওয়াহিদুজ্জামান আরজু, সদস্য আনোয়ার সাহাদাত জাহাঙ্গীর, দৈনিক শাশ্বত বাংলা প্রকাশক সম্পাদক আজগর হোসেন রবিন, প্রধানমন্ত্রীর স্বর্ণ পদকপ্রাপ্ত আবুল হোসেন পাশাকে সংবর্ধিত করা হয়।
মোখলেছুর রহমানের সভাপতিত্বে দিপক চন্দ্র দে সঞ্চালনায় আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন
কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শাহ কামাল আকন্দ পিপিএম, তিনি বলেন রাষ্ট্র ও জনস্বার্থে সাংবাদিকদের ভূমিকা অপরিসীম। তাঁর যোগদানের পর থেকে কোতোয়ালী থানা এলাকার আইন শৃঙ্খলা উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখায় সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। মহিলা শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দা রোকেয়া আফসারী শিখা ময়মনসিংহ জেলা সেচ্ছাসেবক পার্টির সভাপতি প্রিন্স দুলাল, জেলা জাতীয় পার্টির সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক শহীদ আমিনী রুমি। এডভোকেট বিল্লাল হোসেন তিনি সাংবাদিকদের মামলা বিনা খরচে পরিচালনার ঘোষণা দেন। বিএমএসএফ ত্রিশাল উপজেলা সাধারণ সম্পাদক এসএম জামাল উদ্দিন শামীম, গোলাম কিবরিয়া পলাশ প্রমুখ।

এসময় আয়োজকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তসলিম সরকার,আব্দুল হাকিম, ৭৫ বাংলাদেশ প্রকাশক সম্পাদক মাইন উদ্দিন উজ্জ্বল, দীলিপ
একুশে একাত্তর আতিকুর রহমান এলিম, বাংলাদেশ সমাচার এজি জাফর, খোকন সাহা, বিশু সাহা, রতন, নজরুল ইসলাম খান, মারুফ, শেখ সোহেল শান্ত মজুমদার প্রমুখ।

অনুষ্ঠান শেষে ময়মনসিংহে সাংবাদিকদের অধিকার মর্যাদা রক্ষার স্বার্থে “ময়মনসিংহ নাগরিক প্রেসক্লাব” সংগঠনটির আত্বপ্রকাশ ঘটে যাহার সভাপতি মোখলেছুর রহমান সাধারণ সম্পাদক দীপক চন্দ্র দে, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ তসলিম সরকার নির্বাচিত হয়। আগামী এক মাসের মধ্যে পূর্নাঙ্গ কমিটি প্রকাশ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দ ঘোষণা দেন।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

 

 

 

বগুড়ায় ট্রেন চালকের দক্ষতায় বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে দোলন চাঁপা আন্তঃনগর ট্রেন। ওই ঘটনায় দু’জন আহত হলেও কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছেন। রেল লাইনের উপর অবৈধ দোকানগুলো ওই দুর্ঘটনার কারণ বলে জানিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় লোকজন।

বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে মাত্র ত্রিশ গজ দূরেই এক যুগেরও বেশি সময় ধরে (বগুড়া রেলস্টেশন থেকে একনম্বর ঘুমটি পর্যন্ত ) প্রায় তিন শতাধিক অবৈধ কাপড়ের দোকান রেল লাইনের উপর রয়েছে। বগুড়ার পুরাতন কাপড়ের বড় মার্কেট এটি। পরিচিত ‘হঠাৎ মার্কেট’ হিসেবে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েক হাজার ক্রেতার সমাগম ঘটে। বছরে একবার করে রেল থেকে ওইসব দোকান উচ্ছেদ করলেও দুই তিনদিন পরে আবারও দোকান আগের মতো বসে। মূল রেল লাইনের উপর তাঁবু টানিয়ে এসব দোকান বসানো হয়েছে। ট্রেন চলে আসলেই দ্রুত তাবুগুলো সরে ফেলা হয়। কয়েক বছরে প্রায় ৭-৮ জন ক্রেতা এবং বিক্রেতার প্রাণহানি ঘটেছে এই হঠাৎ মার্কেটে।

বগুড়ার রেলস্টেশনের স্টেশন মাষ্টার আবুল কাশেম জানান, দুপুর ১১টায় দোলন চাঁটা আন্তঃনগর ট্রেন বোনারপাড়া থেকে বগুড়ায় আসছিল। অপরদিকে আরেকটি আন্তঃনগর ট্রেন লালমনি এক্সপ্রেক্স ঢাকা থেকে বগুড়া স্টেশনে আসতে থাকে। সিগন্যাল এবং পয়েন্ট ঠিক করে দোলনচাঁপা ট্রেনটির জন্য দুইনম্বর লুপ লাইনে এবং লালমনি এক্সপ্রেক্সকে একনম্বর লাইনে আসার নির্দেশনা ঠিক করা হয়। দোলনচাঁপা ট্রেনটি হুইসেল দিতে দিতে দুই নম্বর লুপ লাইন দিয়ে স্টেশনে আসতে থাকে।

‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদারদের জানা ছিল ওই ট্রেনটি একনম্বর লাইন দিয়ে আসবে। তাই তারা দোকানের তাবু সরাইনি। কিন্তু যখন ট্রেনটি দুইনম্বর লুপ লাইন দিয়ে হুইসেল দিতে দিতে আসতে থাকে তখন দোকানদার এবং ক্রেতারা চিৎকার করে এদিক ওদিক দৌড়ে পালাতে থাকে। ট্রেন চালক দ্রুততার সাথে ট্রেনটি ব্রেক করায় দোকানের মালামাল নষ্ট হলেও কোন প্রাণ হানি ঘটেনি। নইলে অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারতো।

তিনি আরও জানান, গত ১৯ নভেম্বর লালমনিহাট থেকে বিভাগীয় ভূ-সম্পদ কর্মকর্তাসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা স্টেশনের পাশের একটি মার্কেটের প্রায় দুইশতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়ার সময় ‘হঠাৎ মার্কেট’দুইদিন বন্ধ ছিল। পরে ২২ নভেম্বর আবারও ‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদাররা তাদের দোকান বসায়। এ বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে রেল স্টেশন সীমানার মধ্যে এবং লাইনের উপর অবৈধ দোকান উচ্ছেদের জন্য ২৩ নভেম্বর চিঠি দেয়া হয়।

স্টেশন মাষ্টার আরও জানান, রেল লাইন থেকে দুই পাশের ১০ ফুট করে জায়গা ১৪৪ ধারা সবসময়ের জন্য জারী থাকরেও এসব কেউ মানছেনা। স্টেশন মাষ্টার অভিযোগ করে বলেন, সিগন্যাল এবং পয়েন্টের তারের উপর অবৈধ দোকান বসার কারনে অনেক সময় সঠিকভাবে সিগন্যাল ও পয়েন্ট করা সম্ভব হয়না। অথচ, ট্রেনের আসা যাওয়ার মূল বিষয়টি হলো সিগন্যাল এবং পয়েন্ট।

বগুড়া রেল স্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারী শাহীন আলম জানান, রেল লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী ইন্সপেক্টর রায়হান কবীরের কারণেই রেল লাইনের উপর অবৈধ হঠাৎ মার্কেট গড়ে উঠেছে। লাইনের উপর নিরাপত্তার দায়িত্ব তার থাকলেও প্রতিদিন লাইনের উপর মার্কেট দেখার পরেও উনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে দোকানদারদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন।

তবে রায়হান কবীর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়, লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্ব আপনার থাকলেও কেন ওইসব দোকান দেখেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। তিনি জানান, বিষয়গুলো উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ জানেন।

বগুড়া জিআরপি ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর কায়কোবাদ জানান, ঘটনাটি জানার পরে সেখানে আমরা দ্রুত যাই। কিন্তু কোনো আহত কিংবা নিহত ব্যক্তির খোঁজ পাইনি। তবে আশেপাশের লোকজন জানিয়েছেন, চার-পাঁচজন ক্রেতা আহত হয়েছেন।
বগুড়া ফায়ার স্টেশনের সিনিয়ন স্টেশন মাষ্টার বজলুর রশিদ জানান, দুইজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন, গাবতলী উপজেলার রুমি খাতুন (৩০) এবং দুপচাঁচিয়া উপজেলার মানিক (৫৫)। তাদের শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে আরও কয়েকজনের কথা শুনলেও তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।

রেল লাইনের পাশের স্থানীয় ব্যবসায়ী নাম না প্রকাশে ইচ্ছুক কয়েকজন জানান, গত ৫/৬ বছরে প্রায় ৭-৮জন ট্রেনে কেটে হঠাৎ মার্কেটে মারা গেছে। এদের মধ্যে ক্রেতা এবং দোকানদারও ছিল। বুধবার যদি ট্রেনের চালক দ্রুত ব্রেক না করতো তাহলে কয়েক’শ লোকের প্রাণহানি ঘটতো।

কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছে ট্রেন চালকের দক্ষতায়