যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় বেকসুর খালাস পেলেন সাংবাদিক লিটন মাহমুদ।

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২২ জুন, ২০২২
  • ১৫৩ বার পঠিত

খুলনা সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতে মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হওয়া দীর্ঘ ৪ বছর পর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় দায়ের করা মামলায় দৈনিক সকালের সময় ও দৈনিক ঢাকার ডাক প্রত্রিকার মেহেরপুর জেলা প্রতিনিধি ও গাংনী উপজেলা প্রেস ক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক লিটন মাহমুদকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন খুলনা সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালত ।

 

ফেসবুকে মানহানিকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগ এনে ২৪ মে ২০১৮ সালে মামলাটি দায়ের করেন গাংনী উপজেলার ঢেপা গ্রামের বাসিন্দা আসাদুল ইসলাম হারু। ২২/০৬/২২ বুধবার খুলনা সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি কণিকা বিশ্বাস মামলাটি ৫ জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ গ্রহণ ও শুনানি ষেশে লিটন মাহমুদকে বেকসুর খালাস প্রদান করেন। আদালতে উপস্থিত হয়ে লিটন মাহমুদ আইনজীবীর মাধ্যমে স্বাক্ষীদের স্বাক্ষ গ্রহণ ও শুনানি ষেশে লিটন মাহমুদ বেকসুর খালাস পান। লিটন মাহমুদের পক্ষে শুনানি করেন, খুলনা রাবের এডভোকেট এস আর ফারুক,শহিদুল ইসলাম লিটন,আবু ইউসুফ মোল্লা, উজ্জল হোসেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন সাজেদুর রহমান। উল্লেখ্য ঢেপা গ্রামের মসজিদ সংলগ্ন বটতলা থেকে পাঙ্গাসীপাড়া পর্যন্ত পাকা পিচ রাস্তার চলমান কাজ সম্পর্কে স্থানীয়দের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এলাকাবাসী রাস্তাটির বিষয়ে সাংবাদিকদের অভিযোগ করেন হারু মিয়া প্রভাব খাটিয়ে ম্যাপ থেকে সরিয়ে অন্যদের জমির ভিতর ঢুকিয়ে দিয়েছেন।

 

এবং তার বিরুদ্ধে রাস্তার পাশে থাকা তালগাছ অবৈধ ভাবে কেটে ফেলার অভিযোগ করেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে রাস্তার পাশে থাকা তালগাছ অবৈধ ভাবে কেটে ফেলার প্রমাণ পান গাংনী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) দেলোয়ার হোসেন। সাংবাদিক লিটন মাহমুদ জনসাধরণের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন এবং ২১/০৬/২০১৮ তারিখে রাত ৯ টা ১৭ মিনিটে একটি অনলাইন পত্রিকার নিউজ নিজের ফেসবুকে শেয়ার করেন।

 

কিন্ত মামলার বিবরনের সময় উল্লেখ করা হয়েছে বিকেল পাচটার সময় শেয়ার করা হয়েছে। এছাড়াও ফেসবুকে আলাদা কোন পোস্ট করা হয়নি। সাংবাদিক লিটন মাহমুদ জানান, পেশাগত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবেই আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে সুনিদিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করেছি।তা সত্বে ও আমাকে হয়রানি ও ক্ষতিগ্রস্থ করার জন্য স্পষ্ট মিথ্যা তথ্য দিয়ে বাদি আমার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন মামলাটি দায়ের করেছিল।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

 

 

 

বগুড়ায় ট্রেন চালকের দক্ষতায় বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে দোলন চাঁপা আন্তঃনগর ট্রেন। ওই ঘটনায় দু’জন আহত হলেও কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছেন। রেল লাইনের উপর অবৈধ দোকানগুলো ওই দুর্ঘটনার কারণ বলে জানিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় লোকজন।

বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে মাত্র ত্রিশ গজ দূরেই এক যুগেরও বেশি সময় ধরে (বগুড়া রেলস্টেশন থেকে একনম্বর ঘুমটি পর্যন্ত ) প্রায় তিন শতাধিক অবৈধ কাপড়ের দোকান রেল লাইনের উপর রয়েছে। বগুড়ার পুরাতন কাপড়ের বড় মার্কেট এটি। পরিচিত ‘হঠাৎ মার্কেট’ হিসেবে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েক হাজার ক্রেতার সমাগম ঘটে। বছরে একবার করে রেল থেকে ওইসব দোকান উচ্ছেদ করলেও দুই তিনদিন পরে আবারও দোকান আগের মতো বসে। মূল রেল লাইনের উপর তাঁবু টানিয়ে এসব দোকান বসানো হয়েছে। ট্রেন চলে আসলেই দ্রুত তাবুগুলো সরে ফেলা হয়। কয়েক বছরে প্রায় ৭-৮ জন ক্রেতা এবং বিক্রেতার প্রাণহানি ঘটেছে এই হঠাৎ মার্কেটে।

বগুড়ার রেলস্টেশনের স্টেশন মাষ্টার আবুল কাশেম জানান, দুপুর ১১টায় দোলন চাঁটা আন্তঃনগর ট্রেন বোনারপাড়া থেকে বগুড়ায় আসছিল। অপরদিকে আরেকটি আন্তঃনগর ট্রেন লালমনি এক্সপ্রেক্স ঢাকা থেকে বগুড়া স্টেশনে আসতে থাকে। সিগন্যাল এবং পয়েন্ট ঠিক করে দোলনচাঁপা ট্রেনটির জন্য দুইনম্বর লুপ লাইনে এবং লালমনি এক্সপ্রেক্সকে একনম্বর লাইনে আসার নির্দেশনা ঠিক করা হয়। দোলনচাঁপা ট্রেনটি হুইসেল দিতে দিতে দুই নম্বর লুপ লাইন দিয়ে স্টেশনে আসতে থাকে।

‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদারদের জানা ছিল ওই ট্রেনটি একনম্বর লাইন দিয়ে আসবে। তাই তারা দোকানের তাবু সরাইনি। কিন্তু যখন ট্রেনটি দুইনম্বর লুপ লাইন দিয়ে হুইসেল দিতে দিতে আসতে থাকে তখন দোকানদার এবং ক্রেতারা চিৎকার করে এদিক ওদিক দৌড়ে পালাতে থাকে। ট্রেন চালক দ্রুততার সাথে ট্রেনটি ব্রেক করায় দোকানের মালামাল নষ্ট হলেও কোন প্রাণ হানি ঘটেনি। নইলে অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারতো।

তিনি আরও জানান, গত ১৯ নভেম্বর লালমনিহাট থেকে বিভাগীয় ভূ-সম্পদ কর্মকর্তাসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা স্টেশনের পাশের একটি মার্কেটের প্রায় দুইশতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়ার সময় ‘হঠাৎ মার্কেট’দুইদিন বন্ধ ছিল। পরে ২২ নভেম্বর আবারও ‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদাররা তাদের দোকান বসায়। এ বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে রেল স্টেশন সীমানার মধ্যে এবং লাইনের উপর অবৈধ দোকান উচ্ছেদের জন্য ২৩ নভেম্বর চিঠি দেয়া হয়।

স্টেশন মাষ্টার আরও জানান, রেল লাইন থেকে দুই পাশের ১০ ফুট করে জায়গা ১৪৪ ধারা সবসময়ের জন্য জারী থাকরেও এসব কেউ মানছেনা। স্টেশন মাষ্টার অভিযোগ করে বলেন, সিগন্যাল এবং পয়েন্টের তারের উপর অবৈধ দোকান বসার কারনে অনেক সময় সঠিকভাবে সিগন্যাল ও পয়েন্ট করা সম্ভব হয়না। অথচ, ট্রেনের আসা যাওয়ার মূল বিষয়টি হলো সিগন্যাল এবং পয়েন্ট।

বগুড়া রেল স্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারী শাহীন আলম জানান, রেল লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী ইন্সপেক্টর রায়হান কবীরের কারণেই রেল লাইনের উপর অবৈধ হঠাৎ মার্কেট গড়ে উঠেছে। লাইনের উপর নিরাপত্তার দায়িত্ব তার থাকলেও প্রতিদিন লাইনের উপর মার্কেট দেখার পরেও উনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে দোকানদারদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন।

তবে রায়হান কবীর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়, লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্ব আপনার থাকলেও কেন ওইসব দোকান দেখেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। তিনি জানান, বিষয়গুলো উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ জানেন।

বগুড়া জিআরপি ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর কায়কোবাদ জানান, ঘটনাটি জানার পরে সেখানে আমরা দ্রুত যাই। কিন্তু কোনো আহত কিংবা নিহত ব্যক্তির খোঁজ পাইনি। তবে আশেপাশের লোকজন জানিয়েছেন, চার-পাঁচজন ক্রেতা আহত হয়েছেন।
বগুড়া ফায়ার স্টেশনের সিনিয়ন স্টেশন মাষ্টার বজলুর রশিদ জানান, দুইজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন, গাবতলী উপজেলার রুমি খাতুন (৩০) এবং দুপচাঁচিয়া উপজেলার মানিক (৫৫)। তাদের শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে আরও কয়েকজনের কথা শুনলেও তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।

রেল লাইনের পাশের স্থানীয় ব্যবসায়ী নাম না প্রকাশে ইচ্ছুক কয়েকজন জানান, গত ৫/৬ বছরে প্রায় ৭-৮জন ট্রেনে কেটে হঠাৎ মার্কেটে মারা গেছে। এদের মধ্যে ক্রেতা এবং দোকানদারও ছিল। বুধবার যদি ট্রেনের চালক দ্রুত ব্রেক না করতো তাহলে কয়েক’শ লোকের প্রাণহানি ঘটতো।

কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছে ট্রেন চালকের দক্ষতায়