শিক্ষার্থী নেই তবুও এমপিওভুক্ত হলো মাদ্রাসা

বাচ্চু মিয়া,হরিনাকুন্ড থেকে
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৫ আগস্ট, ২০২২
  • ২৬০ বার পঠিত

ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার পারফলসী দাখিল মাদ্রাসায় ক্লাসে আসে না কোনো কলমে শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থী দেখানো হলেও বাস্তবে নেই।জরাজীর্ণ রুমে ছাগল-কুকুরের বসবাস।

৬ জুলাই প্রকাশিত এমপিওভুক্তি তালিকায় নাম এসেছে এই মাদ্রাসাটির। কিন্তু এরপর থেকেই মাদ্রাসায় নিয়োগে মারাত্মক দুর্নীতি শুরু হয়। এমপিওভুক্তির এমন খবরে মাদ্রাসার শিক্ষকরা আনন্দিত হলেও বিস্মিত হয়েছে এলাকার সচেতন সমাজ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,
মাঝে মাঝে এর অফিস খোলা হলেও আসে না কোনো শিক্ষার্থী। তারপরও কিভাবে এমপিওভুক্ত হয় এই মাদ্রাসাটি প্রশ্ন এলাকাবাসীর।

 

সরেজমিনে গত বুধবার (১৭ আগস্ট) দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে গিয়ে দেখা যায়, মাদ্রাসাটি খোলা থাকলেও কোনো শিক্ষার্থী ছিল না। সুপার-শিক্ষকসহ মাদ্রাসায় উপস্থিত ছিলেন ৫ জন। পরে দুইজন শিক্ষক উপস্থিত হন। পরিত্যক্ত রুমগুলো জরাজীর্ণ। রুমের মধ্যে শুয়ে আছে ছাগল-কুকুর।নেই কোনো শিক্ষার পরিবেশ। অনেকে চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলেন।
প্রতিষ্ঠান এমপিও হওয়ার কথা শুনে কেউ কেউ ফিরে এসেছেন।পারফলসী দাখিল মাদ্রাসার সুপার ইয়ারুল ইসলাম কুষ্টিয়া সদর উপজেলার নৃসিংহপুর মাদ্রাসার শিক্ষক নাজমুল ইসলাম ফিরোজকে সহকারী সুপার
পদে ব্যাকডেটে নিয়োগ দিয়েছেন। মাদ্রাসার শিক্ষক রঘুনাথপুর গ্রামের সামছুল আলম গলায় ফাঁস দিয়ে ২০২০ সালের দিকে মারা যান। ওই পদে আলমডাঙ্গা উপজেলার শ্রীনগর গ্রামের সাইফুল ইসলামকে ব্যাকডেটে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

এ ছাড়া আরও একজন কর্মচারী ব্যাকডেটে নিয়োগ দিয়েছেন চক্রটি। সুপার ইয়ারুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট চক্রটি রমরমা নিয়োগ বাণিজ্য করে হাতিয়ে নিয়েছে লক্ষ লক্ষ টাকা। এমপিওভুক্তির (মান্থলী পেমেন্ট অর্ডার)
জন্য ১৭ জন শিক্ষক-কর্মচারীর নাম পাঠিয়েছে উপজেলা শিক্ষা অফিস। এতে করে হরিণাকুন্ডুতে হইচই পড়ে গেছে।
মাদ্রাসার পাশের বাড়ির এক ব্যক্তি প্রতিবেদককে বলেন, এই মাদ্রাসায় মাত্র কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রী আছে, অন্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ধার করে

এনে পারফলসী দাখিল মাদ্রাসায় ভর্তি দেখানো হয়েছে। তাদের দিয়েই ভর্তি, রেজিস্ট্রেশন ও পরীক্ষার্থী হিসেবে দেখানো হচ্ছে।
শিক্ষার্থী নেই এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাদ্রাসার সুপার ইয়ারুল ইসলাম আমতা আমতা করে এড়িয়ে যান। তবে অন্য একজন শিক্ষক বলেন, আমরা টিফিন দিয়েছি, সবাই বাড়িতে গিয়েছে।
কখন টিফিন দিয়েছেন জানতে চাওয়া হলে এ বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি ওই শিক্ষক। গোপনে রেজুলেশন খাতা কাটা-ছেড়া করে সহকারী সুপারসহ তিনজনের নিয়োগের বিষয়টি তিনি কৌশলে এড়িয়ে যান।

মাদ্রাসার সভাপতি মানোয়ার হোসেন বলেন, ‘কিছুদিন আগে দায়িত্ব নিয়েছি। নিয়োগের বিষয়ে কিছুই জানি না। সুপার ইয়ারুল ইসলাম নিয়োগের বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন।’
এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিসার শেখ মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘অনিয়মের বিষয়টি আমি তদন্ত করে দেখবো।’

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর