সুদ ব্যবসায়ী আলম মাস্টার ফাঁকা স্ট্যাম্প ও ব্লাংক চেকে স্বাক্ষর নিয়ে সর্বশান্ত করে গ্রামের সহজ সরল অসহায় মানুষদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২০
  • ৬৫১ বার পঠিত

সুদ ব্যবসায়ী আলম মাস্টার ফাঁকা স্ট্যাম্প ও ব্লাংক চেকে স্বাক্ষর নিয়ে সর্বশান্ত করে গ্রামের সহজ সরল অসহায় মানুষদের

সুদ ব্যবসায়ী আলম মাষ্টার ফাঁকা স্ট্যাম্পে ও ব্লাংক চেকে স্বাক্ষর নিয়ে সর্বশান্ত করেছে গ্রামের সহজ সরল মানুষকে দৌলতপুর উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের তেকালা গ্রামের মৃত আত্তাব আলির ছেলে সুদ ব্যবসায়ী (তেকালা প্রভাতী মডেল একাডেমি বেসরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক) আলম মাস্টার ( দাদন ব্যবসায়ী )’র ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব হয়েছে গ্রামের সহজ সরল সাধারণ মানুষ।আলম মাষ্টার ফাঁকা স্ট্যাম্পে  স্বাক্ষর নিয়ে এক গৃহবধূ জুলেখা খাতুনকে গ্রাম ছাড়া করার হুমকির দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। জুলেখা খাতুন জানান,আলম মাষ্টারসহ সাহিনুল ইসলাম পিতা শরিফউদ্দিন( সফু ) আরিফ পিতা: আবু মুসা শাহ্।,

তেকালা গ্রামের প্রবাসী সুমনের  স্ত্রী রুমা খাতুন, সুদব্যবসায়ী সাইনুলের কাছ থেকে ৮০হাজার টাকা নিয়ে ৩লক্ষ টাকা দেওয়ার পরও ৩কাঠার জমি বাড়িসহ  জোরপূর্বক নিজ নামে রেজিষ্ট্রি করে নিয়ে সর্বশান্ত করেছে।


এই চক্র আমাকে জমির উপর টাকা দিয়ে ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে অতিরিক্ত টাকা লিখে নিয়ে মিথ্যা অভিযোগ করছে। সুদের টাকা সময়মতো পরিশোধ করতে না পারায় অনেকেই বাড়ি-ঘর ছেড়ে পালাতে হয়েছে। আলম মাস্টার কখনো সাদা কাগজে কখনো অলিখিত স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর,ব্যাংকের ব্লাংক চেকে স্বাক্ষর/টিপসহি রেখে টাকা দেয়ার পর ফাঁদে আটকানোর অভিযোগ রয়েছে।সময় মতো সুদের টাকা পরিশোধ না করলে কারও কারও জমি রেজিস্ট্রি করে নেয়া হয়। দৌলতপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে এমন অনেক ব্যবসায়ীর খোঁজ পাওয়া গেছে।অনেকেই ঋণের টাকা পরিশোধ করতে না পেরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান,বাড়িঘর ফেলে রাতের আধাঁরে স্ত্রী,ছেলে-মেয়ে নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।সুদ ব্যবসায়ীরা প্রভাবশালী হওয়ায় অনেকেই সুদ ব্যবসায়ীদের হুমকীর কারণে থানায় অভিযোগ করারও সাহস পাচ্ছে না।



জুলেখা খাতুন অভিযোগ করে বলেন,২০১৭সালে আমার ভাই এর ছেলে বিদেশ য়াওয়ার জন্য টাকার জরুরি প্রয়োজন পড়লে আমি সুদ ব্যবসায়ী আলম মাষ্টার এর কাছে থেকে ১বিঘা জমিনের উপর ১লক্ষ টাকা নিয়েছিলাম। কথা হয়েছিল জমিন আমার দখলে থাকবে শুধু প্রতিবছরে ১২হাজার টাকা দেওয়া লাগবে।পরে আবারো টাকার প্রয়োজন হলে একই চুক্তিতে ১বিঘা জমির উপরে ১লক্ষ টাকা নেওয়ার সময় আলম মাস্টার তখন ফাঁকা স্ট্যাম্পে আমার স্বাক্ষর করে টাকা দিয়েছে।আলম মাস্টার বলেছিল আপনার কোন সমস্যা হবে না ।আমি চুক্তি মোতাবেক লিখব।চুক্তি মোতাবেক আমি প্রতিবছরের টাকা পরিশোধ করি। পরে আলম মাস্টার আমার নিকট থেকে ১লক্ষ ৬২হাজার টাকা নিয়েছে।টাকা পরিশোধের পরে হঠাৎ আমাকে কিছু না বলে স্ট্যাম্পে নিজের মতো করে লিখে স্থানীয় পুলিশ কাম্পে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয়। অর্থাৎ জুলেখা খাতুন আলম মাষ্টার এর কাছ থেকে দুই দফায় ২ লক্ষ টাকা নিয়ে,এবং ১লক্ষ ৬২হাজার টাকা  আলমকে পরিশোধ করেছেন। কিন্তু সুদব্যবসায়ী আলম মাষ্টার উক্ত টাকার ব্যপারটা অস্বীকার  করছে। এবং সে ফাঁকা ষ্ট্যাম্পের ভিওিতে কোর্টে ৩লক্ষ টাকার মামলা দিয়েছে।
 
তেকালা গ্রামের সুদব্যবসায়ী আলমের বক্তব্য

আলম মাষ্টার বলেন জমি কট বন্দক হিসেবে আমার কাছ থেকে আরো ১লক্ষ ৫০হাজার টাকা গ্রহন করে চুক্তি ছিলো প্রতিবছর আমাকে ১২হাজার টাকা দিবে ২বছর সে প্রথম বছরে ৭হাজার পরের বছরে ৫হাজার সুকেচ বাবদ ৩৮ হাজার টাকা দিয়েছে।বাকী টাকা না দেওয়ায় আমি স্থানীয় তেকালা কাম্পে অভিযোগ দিলে জুলেখা ও ছেলে জুয়েল ৩লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা স্বীকার করেন।আর আমি সুদের ব্যবসা করিনি। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা কথা বলছে।


আলম মাষ্টার সুদের ব্যবসা করে এলাকার সাধারণ মানুষকে গ্রাম ছাড়া করেছে। আরো কয়েকজন ভুক্তভোগীর কথা জানা গেছে ,তেকালা গ্রামের পূর্বপাড়ার হাবিল সরদার এর স্ত্রী মোমেনা খাতুন ও একই বাড়ির মোমেনার ছেলে ফজলুল হকের স্ত্রী লাভলী খাতুন (৫০+৫০)=১লক্ষ টাকা নিয়ে ,নিজেদের একমাএ ভিটাবাড়ি বিক্রি করে সুদব্যবসায়ীকে ২লক্ষ ৭৫হাজার টাকা দিয়েছেন।


এলাবাসীর কাছে খোঁজখবর নিয়ে জানা যায় আলম মাষ্টার আসলেই একজন বড় মাপের সুদব্যবসায়ী।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর