সেবা প্রত্যাশী কৃষককে বেঁধে রাখার নির্দেশ নির্বাচন কর্মকর্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৫৩১ বার পঠিত

সেবা প্রত্যাশী কৃষককে বেঁধে রাখার নির্দেশ নির্বাচন কর্মকর্তার

গাংনীতে সম্পত্তি গ্রাস করতে জীবিত প্রতিবন্ধীকে মৃত দেখিয়ে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ।

তারেক, মেহেরপুর প্রতিনিধি:
মেহেরপুরের গাংনীতে জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখিয়ে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেয়া,কৃষককে বেঁেধ রাখার হুমকি ও সেবা প্রত্যাশীদের হয়রানি করার সহ নানা অভিযোগ উঠছে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সহ অফিসের আউট সোর্সিং কম্পিউটার অপারেটরদের বিরুদ্ধে। কুষ্টিয়ায় জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) জালিয়াতির রেশ কাটতে না কাটতে গাংনী নির্বাচন অফিসে এসব কেলেংকারির ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য’র সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে সচেতন মহল নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের উদাসিনতকে দায়ি করছেন।
তেঁতুলবাড়িয়া ইউনিয়নের তেঁতুলবাড়িয়া গ্রামের শিলিল পাড়ার মৃত দিদার শিলিলের ছেলে প্রতিবন্ধী নজরুল ইসলাম জানান,তার ব্যক্তিগত একটি কাজ করতে ইউনিয়ন পরিষদে গেলে জানতে পারি নির্বাচন কমিশনের ওয়েভ পোর্টালে আমার কোন তথ্য নেই। আমি বেঁচে নেই একারনে ভোটার তালিকা থেকে আমার নাম সহ সকল তথ্য অপসারণ করা হয়েছে। আমার প্রয়োজন বিধায় বিষয়টি যাচাই করতে নির্বাচন অফিসে গেলে ভোটার তালিকায় নাম নেই বলে নির্বাচন অফিস তা নিশ্চিত করে। পরে এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের প্রত্যায়ন নিয়ে তালিকা ভুক্ত করে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নেওয়ার জন্য গাংনী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে গত ১০ সেপ্টেম্বর ২০২০ লিখিত আবেদন করা হয়েছে। নজরুল ইসলামের জাতীয় পরিচয় পত্র নং ৫৭১৪৭৯৪৩৫১৮৯৪। তার কাছে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) থাকলেও তাকে মৃত দেখিয়ে তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। কি কারনে ভোটার তালিকা থেকে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে তা তিনি জানেন না। তবে এ ঘটনার সাথে গাংনী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) কবির উদ্দীন, আউট সোর্সিং কম্পিউটার অপারেটর তরিকুল ও মাহফুজুর রহমান জড়িত বলে ধারণা করেন তিনি। তবে এ ঘটনার সাথে কারা জড়িত তা নিশ্চিত হতে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
ভুক্তভুগী পরিবারের সদস্যরা জানান, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) জালিয়াতি করে সম্পত্তি হাতিয়ে নেয়া কিংবা অন্য কোন অসৎ উদ্দেশ্য হাসিল করতে জীবিত মানুষকে মৃত দেখিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ওয়েব পোর্টাল থেকে তার নাম সহ সকল তথ্য বাদ দেয়া হয়েছে। বিষয়টি দুঃখজনক। আমরা স্বাধিন দেশের নাগরিক। নির্বাচন অফিসের অসাধু ব্যাক্তিদের খামখেয়ালিতে জীবিত ব্যাক্তিকে মৃত ঘোষনা করে দেওয়া চরম অন্যায়। এর সুষ্ঠ তদন্ত পূর্ব সেবা প্রত্যাশিদের প্রত্যাশা পূরনে সহায়তা করার অনুরোধ জানান।
তেঁতুলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, নজরুল ইসলামকে পুনরায় ভোটার তালিকায় অর্šÍভুক্ত করে জাতীয় পরিচয় পত্র দিতে ৯ সেপ্টেম্বর একটি প্রত্যায়ন দেয়া হয়েছে।
এদিকে ৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ মঙ্গলবার সকাল ১১ টার দিকে জাতীয় পরিচয় পত্র (এনআইডি) স্মার্টকার্ড নিতে গিয়ে আকসেদ আলী নামের এক কৃষককে বেঁেধ রাখার নির্দেশ দেন গাংনী উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাচন কর্মকর্তা কবির উদ্দীন। হুমকি পাওয়া কৃষক আকসেদ আলী পৌর শহরের পূর্ব মালসাদহ গ্রামের আনসার আলী মাষ্টারের ছেলে।
কৃষক আকসেদ আলী জানান,তিনি স্মার্টকার্ড নেওয়ার জন্য কিছুদিন আগে নির্বাচন অফিসে গিয়েছিলেন। সে সময় করোনার অজুহাত দেখিয়ে কয়েকদিন পরে যেতে বলেন নির্বাচন অফিসের লোকজন। পরে ৮ সেপ্টেম্বর ২০ মঙ্গলবার আমি আবার স্মার্টকার্ড নিতে নির্বাচন অফিসে যায়। আমার স্মার্টকার্ড নেওয়ার আবেদনের বিষয়টি নির্বাচন কর্মকর্তাকে জানালে তিনি উত্তেজিত হয়ে পড়েন। নির্বাচন কর্মকর্তা কবির উদ্দীন তার সহকর্মীদের নির্দেশ দেন তাকে ধরে বেঁেধ রাখতে। কৃষক আকছেদ বলেন আমি চোর না ডাকাত আমাকে ধরে বেধে রাখবে? দেশে কি কোন বিচার নেই। এদিকে কৃষককে বেঁেধ রাখার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নিন্দা প্রতিবাদের ঝড় শুরু ওঠে। প্রজাতন্তের কর্মচারী হয়ে সেবা না দিয়ে কৃষককে বেধে রাখার নির্দেশ অমানবিক দাবি সচেতন মহলের। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত সময়ের মধ্যে ভারপ্রাপ্ত নির্বাচন কর্মকর্তা কবির উদ্দীন, কম্পিউটার অপারেটর তরিকুল ও মাহফুজুর রহমানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেছেন ভুক্তভুগী কৃষক আকসেদ আলী।
ভারপ্রাপ্ত নির্বাচন কর্মকর্তা কবির উদ্দীন বলেন, কৃষক আকছেদ আলীর সাথে সামান্য ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিলো সেটা ঠিক হয়ে গেছে। কৃষককে কি কারনে বেঁেধ রাখতে চেয়েছেন জানতে চাইলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। জীবিত মানুষকে মৃত দেখিয়ে তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার কারন জানতে চাইলেও তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তিনি বলেন, আবেদন পেয়েছি, বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মেহেরপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আহমেদ আলী জানান, ভুলবসত এ ঘটনা ঘটতে পারে। বিষয়টি সমাধানের জন্য নতুন করে জাতীয় পরিচয় পত্র ও ভোটার হিসেবে তালিকার জন্য প্রক্রিয়া চলছে। তবে কৃষককে বেঁধে রাখার নির্দেশ দিয়ে অপরাধ করেছে নির্বাচন কর্মকর্তা এ বিষয়ে তার কাছ থেকে ব্যাখ্য চাওয়া হবে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর