হরিণাকুণ্ডুতে বীর মুক্তিযোদ্ধার ইন্তেকাল

হরিণাকুণ্ডু(ঝিনাইদহ)থেকে বাচ্চু মিয়া
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২০ জুন, ২০২২
  • ৫৭ বার পঠিত
 ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু পৌর সভার সাবেক কাউন্সিলর ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সাকের আলী মারা গেছেন (ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্নাইলাহি রাজিউন)। সোমবার (২০ জুন) সকাল সাড়ে ৭ ঘটিকার সময়ে মারা যান তিনি। মৃত্যুর পূর্বে তিনি জ্বলে যাচ্ছে-পুড়ে যাচ্ছে বলে পরিবারকে জানিয়েছিলেন,প্রাথমিকভাবে স্বজন এবং এলাকাবাসী সর্প দংশনে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারনা করছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান,সাপে কাটার কোন আলামত নেই তাঁর। এদিকে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে হরিণাকুণ্ডু স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ জামিনুর রশিদ বলেন, রনাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা স্ট্রোক জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন ।
৭১’র রনাঙ্গনের অকূতভয় যোদ্ধা, উপজেলার বৈঠাপাড়া গ্রামের মরহুম আসাদ আলী এর সূর্য সেনা রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা সাকের আলী মৃত্যু কালে তার বয়স হয়েছিলো (৭০) বছর। উপজেলার বৈঠাপাড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা সাকের আলী যার গেজেট নং ২৭৮। বেলা ৩ টায় তাকে তার নিজ বাসভবন প্রাঙ্গনে রাষ্টীয় মর্যাদায় গার্ড ওফ অনার প্রদান করে উপজেলা প্রশাসন। পরে মরহুমের নামাজের জানাজা শেষে পারিবার কবরস্থানে দাফন করা হয়। একটি চৌকশ পুলিশ সদস্যদের গার্ড ওফ অনার প্রদানের সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুস্মিতা সাহা।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মুন্সী ফিরোজা সুলতানা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাফিজ হাসান, ইউপি চেয়ারম্যান কামাল হোসেন,শরাফত দৌলা ঝন্টু,বীর মুক্তিযোদ্ধা ঝিনাইদহ জেলা সাবেক কমাণ্ডার রেজাউল ইসলাম গেন্দা ,বীর মুক্তিযোদ্ধা হরিণাকুণ্ডু উপজেলা সাবেক কমাণ্ডার মহী উদ্দীন মাষ্টার ,বীর মুক্তিযোদ্ধা তাহাজ উদ্দীন, বীর মুক্তিযোদ্ধা জামাল হোসেন,বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন, বিজিবি হাবিলদার মোশারফ হোসেন,হোসেন সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ সহ আরও অনেকেই । বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুতে এলাকায় নেমেছে শোকের মাতম।
পারিবারিক সূত্রে জানাগেছে মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা সাকের আলী এঁর মৃত্যুকালে তিনি ২টি স্ত্রী ১টি পুত্র এবং ৩ টি কন্যা সন্তান রেখে গেছেন। এ সময়ে শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুস্মিতা সাহা।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

 

 

 

বগুড়ায় ট্রেন চালকের দক্ষতায় বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে দোলন চাঁপা আন্তঃনগর ট্রেন। ওই ঘটনায় দু’জন আহত হলেও কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছেন। রেল লাইনের উপর অবৈধ দোকানগুলো ওই দুর্ঘটনার কারণ বলে জানিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় লোকজন।

বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে মাত্র ত্রিশ গজ দূরেই এক যুগেরও বেশি সময় ধরে (বগুড়া রেলস্টেশন থেকে একনম্বর ঘুমটি পর্যন্ত ) প্রায় তিন শতাধিক অবৈধ কাপড়ের দোকান রেল লাইনের উপর রয়েছে। বগুড়ার পুরাতন কাপড়ের বড় মার্কেট এটি। পরিচিত ‘হঠাৎ মার্কেট’ হিসেবে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েক হাজার ক্রেতার সমাগম ঘটে। বছরে একবার করে রেল থেকে ওইসব দোকান উচ্ছেদ করলেও দুই তিনদিন পরে আবারও দোকান আগের মতো বসে। মূল রেল লাইনের উপর তাঁবু টানিয়ে এসব দোকান বসানো হয়েছে। ট্রেন চলে আসলেই দ্রুত তাবুগুলো সরে ফেলা হয়। কয়েক বছরে প্রায় ৭-৮ জন ক্রেতা এবং বিক্রেতার প্রাণহানি ঘটেছে এই হঠাৎ মার্কেটে।

বগুড়ার রেলস্টেশনের স্টেশন মাষ্টার আবুল কাশেম জানান, দুপুর ১১টায় দোলন চাঁটা আন্তঃনগর ট্রেন বোনারপাড়া থেকে বগুড়ায় আসছিল। অপরদিকে আরেকটি আন্তঃনগর ট্রেন লালমনি এক্সপ্রেক্স ঢাকা থেকে বগুড়া স্টেশনে আসতে থাকে। সিগন্যাল এবং পয়েন্ট ঠিক করে দোলনচাঁপা ট্রেনটির জন্য দুইনম্বর লুপ লাইনে এবং লালমনি এক্সপ্রেক্সকে একনম্বর লাইনে আসার নির্দেশনা ঠিক করা হয়। দোলনচাঁপা ট্রেনটি হুইসেল দিতে দিতে দুই নম্বর লুপ লাইন দিয়ে স্টেশনে আসতে থাকে।

‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদারদের জানা ছিল ওই ট্রেনটি একনম্বর লাইন দিয়ে আসবে। তাই তারা দোকানের তাবু সরাইনি। কিন্তু যখন ট্রেনটি দুইনম্বর লুপ লাইন দিয়ে হুইসেল দিতে দিতে আসতে থাকে তখন দোকানদার এবং ক্রেতারা চিৎকার করে এদিক ওদিক দৌড়ে পালাতে থাকে। ট্রেন চালক দ্রুততার সাথে ট্রেনটি ব্রেক করায় দোকানের মালামাল নষ্ট হলেও কোন প্রাণ হানি ঘটেনি। নইলে অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারতো।

তিনি আরও জানান, গত ১৯ নভেম্বর লালমনিহাট থেকে বিভাগীয় ভূ-সম্পদ কর্মকর্তাসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা স্টেশনের পাশের একটি মার্কেটের প্রায় দুইশতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়ার সময় ‘হঠাৎ মার্কেট’দুইদিন বন্ধ ছিল। পরে ২২ নভেম্বর আবারও ‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদাররা তাদের দোকান বসায়। এ বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে রেল স্টেশন সীমানার মধ্যে এবং লাইনের উপর অবৈধ দোকান উচ্ছেদের জন্য ২৩ নভেম্বর চিঠি দেয়া হয়।

স্টেশন মাষ্টার আরও জানান, রেল লাইন থেকে দুই পাশের ১০ ফুট করে জায়গা ১৪৪ ধারা সবসময়ের জন্য জারী থাকরেও এসব কেউ মানছেনা। স্টেশন মাষ্টার অভিযোগ করে বলেন, সিগন্যাল এবং পয়েন্টের তারের উপর অবৈধ দোকান বসার কারনে অনেক সময় সঠিকভাবে সিগন্যাল ও পয়েন্ট করা সম্ভব হয়না। অথচ, ট্রেনের আসা যাওয়ার মূল বিষয়টি হলো সিগন্যাল এবং পয়েন্ট।

বগুড়া রেল স্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারী শাহীন আলম জানান, রেল লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী ইন্সপেক্টর রায়হান কবীরের কারণেই রেল লাইনের উপর অবৈধ হঠাৎ মার্কেট গড়ে উঠেছে। লাইনের উপর নিরাপত্তার দায়িত্ব তার থাকলেও প্রতিদিন লাইনের উপর মার্কেট দেখার পরেও উনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে দোকানদারদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন।

তবে রায়হান কবীর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়, লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্ব আপনার থাকলেও কেন ওইসব দোকান দেখেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। তিনি জানান, বিষয়গুলো উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ জানেন।

বগুড়া জিআরপি ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর কায়কোবাদ জানান, ঘটনাটি জানার পরে সেখানে আমরা দ্রুত যাই। কিন্তু কোনো আহত কিংবা নিহত ব্যক্তির খোঁজ পাইনি। তবে আশেপাশের লোকজন জানিয়েছেন, চার-পাঁচজন ক্রেতা আহত হয়েছেন।
বগুড়া ফায়ার স্টেশনের সিনিয়ন স্টেশন মাষ্টার বজলুর রশিদ জানান, দুইজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন, গাবতলী উপজেলার রুমি খাতুন (৩০) এবং দুপচাঁচিয়া উপজেলার মানিক (৫৫)। তাদের শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে আরও কয়েকজনের কথা শুনলেও তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।

রেল লাইনের পাশের স্থানীয় ব্যবসায়ী নাম না প্রকাশে ইচ্ছুক কয়েকজন জানান, গত ৫/৬ বছরে প্রায় ৭-৮জন ট্রেনে কেটে হঠাৎ মার্কেটে মারা গেছে। এদের মধ্যে ক্রেতা এবং দোকানদারও ছিল। বুধবার যদি ট্রেনের চালক দ্রুত ব্রেক না করতো তাহলে কয়েক’শ লোকের প্রাণহানি ঘটতো।

কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছে ট্রেন চালকের দক্ষতায়