ফলাফল ঘোষণার আগে দুই প্রার্থীর সংঘর্ষ,আহত-৮

নয়ন দাস, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১১ নভেম্বর, ২০২১
  • ৩৯ বার পঠিত

 

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী‌তে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে এক‌টি কেন্দ্রে ভোট গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণার আগে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে সংঘর্ষকারীদের ছত্রভঙ্গ ক‌রে দেয়। এ ঘটনায় সদস্য প্রার্থী আলাউদ্দিনসহ অন্তত আট জন আহত হ‌য়ে‌ছেন।

আজ বৃহস্পতিবার উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নের ৭-নং ওয়ার্ডের ফেডারেশন কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার সুমন রেজা ও ভূরুঙ্গামারী উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সা‌য়েম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয়রা জানান,বৃহস্পতিবার অন্যান্য কেন্দ্রের মতো পাইকেরছড়া ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের ফেডারেশন কেন্দ্রে দিনভর সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ শেষে ভোট গণনা শুরু হয়। কিন্তু ভোট গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণার পূর্বেই ওই ওয়ার্ডের দুই সদস্য প্রার্থী আলাউদ্দিন (মোরগ প্রতীক) ও আবুল কালামের (টিউবওয়েল প্রতীক) সমর্থক‌রা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় কক‌টেল বিস্ফোরণের শব্দও শোনা যায় বলে দাবি করেন স্থানীয়রা। সংঘর্ষে অন্তত আট জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা ক‌রে। এ সময় আইনশৃঙ্খলা সদস্যরা পক্ষ থেকে রাবার বুলেট নিক্ষেপ করা হয় বলে দাবি করেন ভুক্ত‌ভোগীরা। তবে পুলিশ রাবার বুলেট নিক্ষেপের বিষয়‌টি অস্বীকার করেছে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হ‌য়ে‌ছে।

ভূরুঙ্গামারী‌তে নির্বাচ‌নি দায়িত্ব পালনে নি‌য়ো‌জিত সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার সুমন রেজা জানান, এক‌টি কেন্দ্রে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে। এতে সংঘর্ষে লিপ্ত উভয় পক্ষের সমর্থকরা ছত্রভঙ্গ হ‌য়ে যায়। তবে কোনও কক‌টেল বিস্ফোরণ কিংবা রাবার বুলেট নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেনি।

আহত‌দের এমন দাবির বরাত দি‌য়ে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সা‌য়েম জানান, পাইকেরছড়া ইউনিয়নে সংঘর্ষের ঘটনায় আহত আট জনকে চিকিৎসা দেওয়া হ‌য়ে‌ছে। এর মধ্যে চেখে আঘাতপ্রাপ্ত দুজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তা‌দের‌কে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠা‌নো হ‌য়ে‌ছে।

‘আহতরা দাবি করেছেন, তারা রাবার বুলেটের আঘাতে আহত হ‌য়ে‌ছেন। তা‌দের প্রত্যেকের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আঘাতের কারণ নির্ণয় ক‌রে প‌রে জানা‌নো হ‌বে’ বলে জানান এ চিকিৎসক।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

 

 

 

বগুড়ায় ট্রেন চালকের দক্ষতায় বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে দোলন চাঁপা আন্তঃনগর ট্রেন। ওই ঘটনায় দু’জন আহত হলেও কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছেন। রেল লাইনের উপর অবৈধ দোকানগুলো ওই দুর্ঘটনার কারণ বলে জানিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় লোকজন।

বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে মাত্র ত্রিশ গজ দূরেই এক যুগেরও বেশি সময় ধরে (বগুড়া রেলস্টেশন থেকে একনম্বর ঘুমটি পর্যন্ত ) প্রায় তিন শতাধিক অবৈধ কাপড়ের দোকান রেল লাইনের উপর রয়েছে। বগুড়ার পুরাতন কাপড়ের বড় মার্কেট এটি। পরিচিত ‘হঠাৎ মার্কেট’ হিসেবে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েক হাজার ক্রেতার সমাগম ঘটে। বছরে একবার করে রেল থেকে ওইসব দোকান উচ্ছেদ করলেও দুই তিনদিন পরে আবারও দোকান আগের মতো বসে। মূল রেল লাইনের উপর তাঁবু টানিয়ে এসব দোকান বসানো হয়েছে। ট্রেন চলে আসলেই দ্রুত তাবুগুলো সরে ফেলা হয়। কয়েক বছরে প্রায় ৭-৮ জন ক্রেতা এবং বিক্রেতার প্রাণহানি ঘটেছে এই হঠাৎ মার্কেটে।

বগুড়ার রেলস্টেশনের স্টেশন মাষ্টার আবুল কাশেম জানান, দুপুর ১১টায় দোলন চাঁটা আন্তঃনগর ট্রেন বোনারপাড়া থেকে বগুড়ায় আসছিল। অপরদিকে আরেকটি আন্তঃনগর ট্রেন লালমনি এক্সপ্রেক্স ঢাকা থেকে বগুড়া স্টেশনে আসতে থাকে। সিগন্যাল এবং পয়েন্ট ঠিক করে দোলনচাঁপা ট্রেনটির জন্য দুইনম্বর লুপ লাইনে এবং লালমনি এক্সপ্রেক্সকে একনম্বর লাইনে আসার নির্দেশনা ঠিক করা হয়। দোলনচাঁপা ট্রেনটি হুইসেল দিতে দিতে দুই নম্বর লুপ লাইন দিয়ে স্টেশনে আসতে থাকে।

‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদারদের জানা ছিল ওই ট্রেনটি একনম্বর লাইন দিয়ে আসবে। তাই তারা দোকানের তাবু সরাইনি। কিন্তু যখন ট্রেনটি দুইনম্বর লুপ লাইন দিয়ে হুইসেল দিতে দিতে আসতে থাকে তখন দোকানদার এবং ক্রেতারা চিৎকার করে এদিক ওদিক দৌড়ে পালাতে থাকে। ট্রেন চালক দ্রুততার সাথে ট্রেনটি ব্রেক করায় দোকানের মালামাল নষ্ট হলেও কোন প্রাণ হানি ঘটেনি। নইলে অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারতো।

তিনি আরও জানান, গত ১৯ নভেম্বর লালমনিহাট থেকে বিভাগীয় ভূ-সম্পদ কর্মকর্তাসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা স্টেশনের পাশের একটি মার্কেটের প্রায় দুইশতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়ার সময় ‘হঠাৎ মার্কেট’দুইদিন বন্ধ ছিল। পরে ২২ নভেম্বর আবারও ‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদাররা তাদের দোকান বসায়। এ বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে রেল স্টেশন সীমানার মধ্যে এবং লাইনের উপর অবৈধ দোকান উচ্ছেদের জন্য ২৩ নভেম্বর চিঠি দেয়া হয়।

স্টেশন মাষ্টার আরও জানান, রেল লাইন থেকে দুই পাশের ১০ ফুট করে জায়গা ১৪৪ ধারা সবসময়ের জন্য জারী থাকরেও এসব কেউ মানছেনা। স্টেশন মাষ্টার অভিযোগ করে বলেন, সিগন্যাল এবং পয়েন্টের তারের উপর অবৈধ দোকান বসার কারনে অনেক সময় সঠিকভাবে সিগন্যাল ও পয়েন্ট করা সম্ভব হয়না। অথচ, ট্রেনের আসা যাওয়ার মূল বিষয়টি হলো সিগন্যাল এবং পয়েন্ট।

বগুড়া রেল স্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারী শাহীন আলম জানান, রেল লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী ইন্সপেক্টর রায়হান কবীরের কারণেই রেল লাইনের উপর অবৈধ হঠাৎ মার্কেট গড়ে উঠেছে। লাইনের উপর নিরাপত্তার দায়িত্ব তার থাকলেও প্রতিদিন লাইনের উপর মার্কেট দেখার পরেও উনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে দোকানদারদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন।

তবে রায়হান কবীর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়, লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্ব আপনার থাকলেও কেন ওইসব দোকান দেখেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। তিনি জানান, বিষয়গুলো উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ জানেন।

বগুড়া জিআরপি ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর কায়কোবাদ জানান, ঘটনাটি জানার পরে সেখানে আমরা দ্রুত যাই। কিন্তু কোনো আহত কিংবা নিহত ব্যক্তির খোঁজ পাইনি। তবে আশেপাশের লোকজন জানিয়েছেন, চার-পাঁচজন ক্রেতা আহত হয়েছেন।
বগুড়া ফায়ার স্টেশনের সিনিয়ন স্টেশন মাষ্টার বজলুর রশিদ জানান, দুইজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন, গাবতলী উপজেলার রুমি খাতুন (৩০) এবং দুপচাঁচিয়া উপজেলার মানিক (৫৫)। তাদের শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে আরও কয়েকজনের কথা শুনলেও তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।

রেল লাইনের পাশের স্থানীয় ব্যবসায়ী নাম না প্রকাশে ইচ্ছুক কয়েকজন জানান, গত ৫/৬ বছরে প্রায় ৭-৮জন ট্রেনে কেটে হঠাৎ মার্কেটে মারা গেছে। এদের মধ্যে ক্রেতা এবং দোকানদারও ছিল। বুধবার যদি ট্রেনের চালক দ্রুত ব্রেক না করতো তাহলে কয়েক’শ লোকের প্রাণহানি ঘটতো।

কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছে ট্রেন চালকের দক্ষতায়