কুড়িগ্রামে ‘হেভিওয়েট’ নেতাদের হারিয়ে চেয়ারম্যান হলেন পেছনের সারির নেতারা

নয়ন দাস,কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২২ মে, ২০২৪
  • ১৮ বার পঠিত

 

 

 

 

উপজেলা পরিষদের দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে কুড়িগ্রাম সদর, রাজারহাট ও উলিপুর উপজেলায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ শেষে বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। তিন উপজেলাতেই জেলার ‘হেভিওয়েট’ নেতাদের হারিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন দলের পেছনের সারির নেতারা।

গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর অবস্থানে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হলেও কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি ছিল অনেক কম। কোনো কেন্দ্রেই ভোটারদের অপেক্ষমাণ লাইন চোখে পড়েনি। প্রদত্ত ভোটের হারও অনেক কম। ভোট গণনা শেষে বেসরকারি ফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. বরমান হোসেন।

প্রাপ্ত ফল অনুযায়ী কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় বিজয়ী হয়েছেন মো. মনজুরুল ইসলাম রতন। আনারস প্রতীক নিয়ে তিনি পেয়েছেন ৫২ হাজার ৮৬০ ভোট। রতন জেলা আওয়ামী লীগের উপদপ্তর সম্পাদক এবং জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. জাফর আলীর ছেলে। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আমান উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু পেয়েছেন ৩০ হাজার ৫১৪ ভোট। জেলার কেন্দ্রবিন্দু এই উপজেলায় মোট ভোটার ২ লাখ ৬১ হাজার ১৯৫। প্রদত্ত ভোটের হার ৩৮ দশমিক ৯২ ভাগ।

দৃশ্যত রতন ও মঞ্জুর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলেও দলটির নেতা-কর্মীরা বলছেন, এই নির্বাচন ছিল মূলত জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. জাফর আলীর সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক আমান উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু গ্রুপের মধ্যে জনসমর্থন পরীক্ষার লড়াই। ভোটের এই ফল জেলার রাজনীতিতে দুই নেতার প্রভাব ধরে রাখার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।

উলিপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. গোলাম হোসেন মন্টুকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করে বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মো. সাজাদুর রহমান তালুকদার ওরফে সাজু তালুকদার। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৫০ হাজার ৪৬৪ ভোট। সদ্য শেষ মেয়াদের উপজেলা চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা উপজেলার প্রভাবশালী নেতা গোলাম হোসেন মন্টু পেয়েছেন ১৪ হাজার ৬৯৩ ভোট। ৩ লাখ ৫২ হাজার ৭৮০ ভোটারের উলিপুর উপজেলায় প্রদত্ত ভোটের হার ছিল মাত্র ২৩ দশমিক ৫৪ ভাগ।

রাজারহাট উপজেলায় নিজ চেয়ার ধরে রেখেছেন বর্তমান চেয়ারম্যান জাহিদ ইকবাল সোহরাওয়ার্দ্দী। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুনুর মো. আক্তারুজ্জামানকে পরাজিত করেছেন রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগের এই সদস্য। মোটরসাইকেল প্রতীকে জাহিদ ইকবাল পেয়েছেন ৩৭ হাজার ৩৪৩ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আবুনুর মো. আক্তারুজ্জামান আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১৮ হাজার ৭৭৩ ভোট। এই উপজেলায় মোট ভোটার ১ লাখ ৬৭ হাজার ৮৫১ জন। প্রদত্ত ভোটের হার ৪০ দশমিক ৯৩ ভাগ।

সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে জানতে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. বরমান হোসেনকে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। খুদে বার্তা দিয়ে জানতে চাইলেও উত্তর দেননি।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর