আগামীকাল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মাজার জিয়ারত করতে রংপুর যাচ্ছেন- জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু এমপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২১
  • ১৯ বার পঠিত

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের কবর জিয়ারতের উদ্দেশ্যে আগামীকাল ২৬ নভেম্বর, শুক্রবার নভো এয়ারযোগে রংপুর যাচ্ছেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব মোঃ মুজিবুল হক চুন্নু এমপি ‌।
তাঁর সফর সঙ্গী হিসেবে সাথে যাচ্ছেন- জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চীফ হুইপ ও পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য- মোঃ মশিউর রহমান রাঙ্গা এমপি , প্রেসিডিয়াম সদস্য মীর আব্দুস সবুর আসুদ , ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী এমপি,এ্যড মোঃ রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, মেজর (অবঃ) রানা মোহাম্মদ সোহেল এমপি, জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সেলিম উদ্দিন, যুগ্ম মহাসচিব গোলাম মোহাম্মদ রাজু, মোঃ জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া, ইকবাল হোসেন তাপস, সৈয়দ মঞ্জুর হোসেন মঞ্জু ও এনজিও বিষয়ক সম্পাদক মোঃ হাফিজ উদ্দিন মাস্টার।
এছাড়াও সফর সঙ্গী হিসেবে সাথে থাকছেন মহাসচিব এর সহধর্মিণী সাবেক অতিরিক্ত সচিব রোকসানা কাদের,পুত্র ইসরারুল হক ও একান্ত সচিব মোঃ বেলায়েত হোসেন আরিফ সহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

জাতীয় পাটির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু এমপির সফরসূচি নিন্মরূপঃ
২৬ নভেম্বর, শুক্রবার সকাল ৭:০০ লালমাটিয়া বাসা হতে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা ‌করবেন এবং বিমান বন্দরে উপস্থিত থাকবেন সকাল ৮:০০ঘটিকায়‌।
বিমানযোগে সৈয়দপুরে উদ্দেশ্যে সকাল ৯:০০ ঘটিকায় ঢাকা হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করবেন।
সকাল ১০:০০ ঘটিকায় সৈয়দপুর বিমানবন্দর উপস্থিত থাকবেন পাটির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু এমপিসহ সফর সঙ্গী নেতৃবৃন্দ।
রংপুরের উদ্দেশ্যে সকাল ১০:৩০ ঘটিকায় সৈয়দপুর বিমানবন্দর ত্যাগ করবেন।
সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এর কবর জিয়ারত করবেন বেলা ১১:৩০ মিনিট সময়ে।
রংপুর সার্কিট হাউসে অবস্থান করবেন দুপুর ১২:৩০ মিনিটে।
রংপুর সার্কিট হাউস থেকে বিকেল ৫:০০ ঘটিকায় সৈয়দপুর বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন এবং সন্ধ্যা ৬টায় সৈয়দপুর বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকবেন।
পাটির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু এমপি তাঁর সফর সঙ্গীদের নিয়ে সন্ধ্যা ৭:৩০ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশ্যে সৈয়দপুর বিমানবন্দর ত্যাগ করবেন।
রাত ৮:৩০ মিনিটে ঢাকা হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন।
বিমানবন্দর থেকে লালমাটিয়া বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন রাত ৯:০০ ঘটিকায় এবং রাত ১০ লালমাটিয়া নিজ বাসায় উপস্থিত থাকবেন।

জাতীয় ছাত্র সমাজ রংপুর জেলা শাখার সমস্ত নেতা কর্মীদের উপস্থিত থাকার জন্য বিশেষ ভাবে বলা হয়েছে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

 

 

 

বগুড়ায় ট্রেন চালকের দক্ষতায় বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে দোলন চাঁপা আন্তঃনগর ট্রেন। ওই ঘটনায় দু’জন আহত হলেও কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছেন। রেল লাইনের উপর অবৈধ দোকানগুলো ওই দুর্ঘটনার কারণ বলে জানিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় লোকজন।

বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে মাত্র ত্রিশ গজ দূরেই এক যুগেরও বেশি সময় ধরে (বগুড়া রেলস্টেশন থেকে একনম্বর ঘুমটি পর্যন্ত ) প্রায় তিন শতাধিক অবৈধ কাপড়ের দোকান রেল লাইনের উপর রয়েছে। বগুড়ার পুরাতন কাপড়ের বড় মার্কেট এটি। পরিচিত ‘হঠাৎ মার্কেট’ হিসেবে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েক হাজার ক্রেতার সমাগম ঘটে। বছরে একবার করে রেল থেকে ওইসব দোকান উচ্ছেদ করলেও দুই তিনদিন পরে আবারও দোকান আগের মতো বসে। মূল রেল লাইনের উপর তাঁবু টানিয়ে এসব দোকান বসানো হয়েছে। ট্রেন চলে আসলেই দ্রুত তাবুগুলো সরে ফেলা হয়। কয়েক বছরে প্রায় ৭-৮ জন ক্রেতা এবং বিক্রেতার প্রাণহানি ঘটেছে এই হঠাৎ মার্কেটে।

বগুড়ার রেলস্টেশনের স্টেশন মাষ্টার আবুল কাশেম জানান, দুপুর ১১টায় দোলন চাঁটা আন্তঃনগর ট্রেন বোনারপাড়া থেকে বগুড়ায় আসছিল। অপরদিকে আরেকটি আন্তঃনগর ট্রেন লালমনি এক্সপ্রেক্স ঢাকা থেকে বগুড়া স্টেশনে আসতে থাকে। সিগন্যাল এবং পয়েন্ট ঠিক করে দোলনচাঁপা ট্রেনটির জন্য দুইনম্বর লুপ লাইনে এবং লালমনি এক্সপ্রেক্সকে একনম্বর লাইনে আসার নির্দেশনা ঠিক করা হয়। দোলনচাঁপা ট্রেনটি হুইসেল দিতে দিতে দুই নম্বর লুপ লাইন দিয়ে স্টেশনে আসতে থাকে।

‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদারদের জানা ছিল ওই ট্রেনটি একনম্বর লাইন দিয়ে আসবে। তাই তারা দোকানের তাবু সরাইনি। কিন্তু যখন ট্রেনটি দুইনম্বর লুপ লাইন দিয়ে হুইসেল দিতে দিতে আসতে থাকে তখন দোকানদার এবং ক্রেতারা চিৎকার করে এদিক ওদিক দৌড়ে পালাতে থাকে। ট্রেন চালক দ্রুততার সাথে ট্রেনটি ব্রেক করায় দোকানের মালামাল নষ্ট হলেও কোন প্রাণ হানি ঘটেনি। নইলে অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারতো।

তিনি আরও জানান, গত ১৯ নভেম্বর লালমনিহাট থেকে বিভাগীয় ভূ-সম্পদ কর্মকর্তাসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা স্টেশনের পাশের একটি মার্কেটের প্রায় দুইশতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়ার সময় ‘হঠাৎ মার্কেট’দুইদিন বন্ধ ছিল। পরে ২২ নভেম্বর আবারও ‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদাররা তাদের দোকান বসায়। এ বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে রেল স্টেশন সীমানার মধ্যে এবং লাইনের উপর অবৈধ দোকান উচ্ছেদের জন্য ২৩ নভেম্বর চিঠি দেয়া হয়।

স্টেশন মাষ্টার আরও জানান, রেল লাইন থেকে দুই পাশের ১০ ফুট করে জায়গা ১৪৪ ধারা সবসময়ের জন্য জারী থাকরেও এসব কেউ মানছেনা। স্টেশন মাষ্টার অভিযোগ করে বলেন, সিগন্যাল এবং পয়েন্টের তারের উপর অবৈধ দোকান বসার কারনে অনেক সময় সঠিকভাবে সিগন্যাল ও পয়েন্ট করা সম্ভব হয়না। অথচ, ট্রেনের আসা যাওয়ার মূল বিষয়টি হলো সিগন্যাল এবং পয়েন্ট।

বগুড়া রেল স্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারী শাহীন আলম জানান, রেল লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী ইন্সপেক্টর রায়হান কবীরের কারণেই রেল লাইনের উপর অবৈধ হঠাৎ মার্কেট গড়ে উঠেছে। লাইনের উপর নিরাপত্তার দায়িত্ব তার থাকলেও প্রতিদিন লাইনের উপর মার্কেট দেখার পরেও উনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে দোকানদারদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন।

তবে রায়হান কবীর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়, লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্ব আপনার থাকলেও কেন ওইসব দোকান দেখেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। তিনি জানান, বিষয়গুলো উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ জানেন।

বগুড়া জিআরপি ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর কায়কোবাদ জানান, ঘটনাটি জানার পরে সেখানে আমরা দ্রুত যাই। কিন্তু কোনো আহত কিংবা নিহত ব্যক্তির খোঁজ পাইনি। তবে আশেপাশের লোকজন জানিয়েছেন, চার-পাঁচজন ক্রেতা আহত হয়েছেন।
বগুড়া ফায়ার স্টেশনের সিনিয়ন স্টেশন মাষ্টার বজলুর রশিদ জানান, দুইজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন, গাবতলী উপজেলার রুমি খাতুন (৩০) এবং দুপচাঁচিয়া উপজেলার মানিক (৫৫)। তাদের শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে আরও কয়েকজনের কথা শুনলেও তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।

রেল লাইনের পাশের স্থানীয় ব্যবসায়ী নাম না প্রকাশে ইচ্ছুক কয়েকজন জানান, গত ৫/৬ বছরে প্রায় ৭-৮জন ট্রেনে কেটে হঠাৎ মার্কেটে মারা গেছে। এদের মধ্যে ক্রেতা এবং দোকানদারও ছিল। বুধবার যদি ট্রেনের চালক দ্রুত ব্রেক না করতো তাহলে কয়েক’শ লোকের প্রাণহানি ঘটতো।

কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছে ট্রেন চালকের দক্ষতায়