আমি কুষ্টিয়া জেলার মাস্তান, লড়াই করে থানাকে হটাতে পারি -রবিউল

কে এম শাহীন রেজা, কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি।।
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২১
  • ৪৯১ বার পঠিত

 

কুষ্টিয়া মিরপুর উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিয়ে জেলা যুবলীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম বলেন, আমি কুষ্টিয়ায় বসে থাকব, কাল যদি মনে করেন ১০ হাজার লোকের সমাবেশ করব, আমি করে দেখাতে পারি। দুই–তিন ঘণ্টা থানার সামনে লড়াই থানাকে হটায়ে দিতে পারি। তিনি বলেন, ‘আমি রবিউল, আমি কুষ্টিয়া জেলার মাস্তান, আমাকে কুষ্টিয়া জেলা মাস্তানির সার্টিফিকেট দিয়েছে। খোকসা থেকে দৌলতপুর পর্যন্ত যত লোক আছে, মাস্তান আছে, তারা আমার কথায় উঠবস করে।

নির্বাচনে দলের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীকে হুমকি দিতে গিয়ে গত ২৩ অক্টোবর তালবাড়িয়া ইউনিয়নের একটি এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণার মঞ্চে বক্তব্য প্রদানের সময় এই প্রসঙ্গের অবতারণা করেন তিনি। তাঁর সেই বক্তব্যের প্রায় ৩৫ মিনিটের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়ে। বক্তব্যের বিষয়টি অস্বীকার করেননি তিনি। শনিবার সকালে রবিউল ইসলাম প্রতিবেদককে বলেন, বিদ্রোহী প্রার্থী আমাদের দলীয় প্রার্থী ও কর্মী–সমর্থকদের হুমকি–ধমকি দিচ্ছে, মারধর করছে। তাই আমি সেদিনের সভায় এই কথাগুলো বলেছি।

তালবাড়িয়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তৌসিফ আহাম্মেদ সোহান। আর মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হান্নান মন্ডল। ১১ নভেম্বর তালবাড়িয়াসহ মিরপুর উপজেলার ১১টি ইউপিতে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যে নির্বাচনী প্রচারণায় নেমেছেন প্রার্থীরা। সেখানে বক্তব্য দেন জেলা যুবলীগ সভাপতি রবিউল। তাঁর সেই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক লাইভে প্রচার করেন অনেকে।

উক্ত ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে রবিউল ইসলামকে বলতে শোনা যায়, ‘আমাকে বারুইপাড়া, বহুলবাড়িয়ায় সময় দিতে হয়। আমি একটা হুংকার দিয়েছিলাম বাইরুপাড়া ইউনিয়নে। এখন সেখানকার নেতারা আমাকে ছাড়া প্রচারণা চালাচ্ছে না, তারা আমাকে ডাকছে।’ তিনি বলেন, ‘আমি রবিউল, আমি কুষ্টিয়া জেলার মাস্তান, আমাকে কুষ্টিয়া জেলা মাস্তানির সার্টিফিকেট দিয়েছে। খোকসা থেকে দৌলতপুর পর্যন্ত (জেলার দুই প্রান্ত) যত লোক আছে, মাস্তান আছে, আমার হাতে চলে।’

সাবেক এক চেয়ারম্যানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আমি প্রয়োজনে তাকে তুলে আনব, ওকে বাড়ি থেকেই বেরোতে দেব না। আমি যদি মনে করি, কালই এটা করতে পারি। ওকে কুষ্টিয়া শহরে আসতেও দেব না আলফার মোড়ের অফিসও বন্ধ করে দেব। দেখি ওর কোন বাপ ঠেকায়। আমি আমার ক্ষমতা দেখাব। এবার বুঝবি ক্ষমতা কত প্রকার কী কী। আমর শত শত ছেলেপান না খেয়ে মরে যাচ্ছে। চায়ের বিল দেওয়ার ভয়ে পালিয়ে বেড়ায়। আমার রুবেল-নভেল গ্রুপ, বাদশা গ্রুপ, সজিব গ্রুপ আইছে তার একটা গ্রুপ মজমপুর গেটে আছে, সম্রাট গ্রুপ একাধিক গ্রুপ আমার আছে।

রবিউল আরো বলেন, ‘মিরপুর থানার ওসির সাথে কথা হয়েছে তিনি আমাকে কোন ঝামেলা করতে বারণ করেছেন। ওসি বলেছেন ২৭ তারিখের পর তিনি (ওসি) নৌকার ভোট করবেন। আপনারা করবেন কেন।’ তবে মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা বলেন, রবিউল ইসলামের সঙ্গে একবার কথা হয়েছিল, তাঁকে এলাকার পরিবেশ শান্ত রাখার জন্য বলা হয়েছে। তাঁকেও শান্ত থাকতে বলা হয়েছে। তবে নৌকার ভোট করার বিষয়ে তাঁর সঙ্গে কোনো আলাপ হয়নি। নৌকার ভোট করার প্রসঙ্গে যুবলীগ নেতা রবিউল ইসলাম বলেন, এমন কথা তিনি বলেননি। স্থানীয় নেতা–কর্মীরা তাঁকে অভিযোগ করেছিলেন, ওসি বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন। এরপর ওসির সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। ওসি তাঁকে শান্ত থাকার জন্য বলেছেন।

এদিকে তালবাড়িয়া ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হান্নান মন্ডল বলেন, বক্তব্যটি তিনিও শুনেছেন। এমন বক্তব্য দেওয়া ঠিক না। ওই বক্তব্যের পর গত বেশ কিছুদিন ধরে আমি নির্বাচনী মাঠে নামতে পারি নাই। গত শুক্রবার থেকে একটু একটু করে মাঠে নামা শুরু করেছি।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর