আলোচনার শীর্ষে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সেরেগুল ইসলাম

হরিণাকুণ্ডু (ঝিনাইদহ)থেকে রাব্বুল হুসাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৪৫ বার পঠিত

ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকুণ্ডু উপজেলার ৪ নং দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৫নং ওয়ার্ডের স্থানীয় বাসিন্দা,মৃত্যু আব্দুল আজিজ মাষ্টারের ছেলে মো:সেরেগুল ইসলাম (ইউপি) চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলোচনা শীর্ষে,নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রত্যাশী সাবেক ছাত্রনেতা ও থানা যুবলীগের প্রচার সম্পাদক,বর্তমান ইউনিয়ন আ,লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরেগুল ইসলাম,গত উপ- নির্বাচনের পর থেকে একাধারে এলাকায় জনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

সরজমিনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোঃসেরেগুল ইসলামের বিষয়ে খোঁজ নিলে জানা যায়, দীর্ঘদিন থেকে অত্র এলাকায় সাধারণ মানুষের স্বার্থে উন্নয়ন মূলক কাজের সাথে জড়িত রয়েছেন।অনেক সময় নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী গরিব দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। স্থানীয় তরুণ প্রজন্মের জনগণ তাকে আবারও সব সময় কাছে পাবার জন্য এমন একজন জনবান্ধবকে ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চায়।

চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোঃ সেরেগুল ইসলাম বলেন,আমি বঙ্গবন্ধুর আর্দশে আদর্শিত হয়ে আওয়ামীলীগ করি। আর আওয়ামীলীগ হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের ধারা অব্যহত রাখতে মাঠে কাজ করে যাচ্ছি। এলাকাবাসী চাইলে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হব।এলাকাবাসীর পাশে এখনও আছি ভবিষ্যৎ ও পাশে থাকব।

এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে করে বলেন- আমার দেয়া প্রতিশ্রুতি পালন করবই ও অন্যান্য ইউনিয়ন থেকে পিছিয়ে পড়া ৪নং দৌলতপুর ইউনিয়নকে একটি আধুনিক ডিজিটাল মডেল ইউনিয়নে রুপান্তর করতে সবার কাছেই সহযোগিতা,দোয়া এবং ভোট চাই। আমি আশাবাদী জননেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা দলীয় মনোনয়ন দিবেন আর জনগণ সেই সম্মান রক্ষায় আমাকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করবেন।

তিনি আরও বলেন, করোনার এই ত্রুান্তিকালে, আমি নিজের জীবনের কথা ভাবিনি, ভেবেছি অসহায় মানুষের কথা। ছুটে গিয়েছি তাদের কাছে এবং সমাধান করেছি নানা ধরনের সমস্যা। গ্রামের পাড়ায় পাড়ায় নিজ নিজ উদ্যোগে হাজার হাজার পরিবারকে অর্থসহ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছি। এছাড়াও সাবান, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও মাস্ক বিতরণ করেছি। বিপদে-আপদে সবসময় অভিভাবকের মতো অসহায় মানুষের পাশে থেকেছি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে আ,লীগ পরিবারের সন্তান মোঃ সেরেগুল ইসলাম,বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের সৈনিক।

ওয়ার্ড আ,লীগের সভাপতি আজিজুল ইসলাম নামে এক বাসিন্দা বলেন, আমাদের প্রিয় একজন মানুষ সেরেগুল ইসলাম, তার দ্বারা সমাজের মানুষের উপকার হয়েছে আর হচ্ছে প্রতিনিয়ত। সে দিন- রাত মানুষের সেবায় নিয়োজিত থাকে,কারও উপকার না করলেও ক্ষতি করে নাই। আমাদের সাধারণ মানুষের দ্বাবী আমরা চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চাই।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

 

 

 

বগুড়ায় ট্রেন চালকের দক্ষতায় বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে দোলন চাঁপা আন্তঃনগর ট্রেন। ওই ঘটনায় দু’জন আহত হলেও কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছেন। রেল লাইনের উপর অবৈধ দোকানগুলো ওই দুর্ঘটনার কারণ বলে জানিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় লোকজন।

বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে মাত্র ত্রিশ গজ দূরেই এক যুগেরও বেশি সময় ধরে (বগুড়া রেলস্টেশন থেকে একনম্বর ঘুমটি পর্যন্ত ) প্রায় তিন শতাধিক অবৈধ কাপড়ের দোকান রেল লাইনের উপর রয়েছে। বগুড়ার পুরাতন কাপড়ের বড় মার্কেট এটি। পরিচিত ‘হঠাৎ মার্কেট’ হিসেবে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েক হাজার ক্রেতার সমাগম ঘটে। বছরে একবার করে রেল থেকে ওইসব দোকান উচ্ছেদ করলেও দুই তিনদিন পরে আবারও দোকান আগের মতো বসে। মূল রেল লাইনের উপর তাঁবু টানিয়ে এসব দোকান বসানো হয়েছে। ট্রেন চলে আসলেই দ্রুত তাবুগুলো সরে ফেলা হয়। কয়েক বছরে প্রায় ৭-৮ জন ক্রেতা এবং বিক্রেতার প্রাণহানি ঘটেছে এই হঠাৎ মার্কেটে।

বগুড়ার রেলস্টেশনের স্টেশন মাষ্টার আবুল কাশেম জানান, দুপুর ১১টায় দোলন চাঁটা আন্তঃনগর ট্রেন বোনারপাড়া থেকে বগুড়ায় আসছিল। অপরদিকে আরেকটি আন্তঃনগর ট্রেন লালমনি এক্সপ্রেক্স ঢাকা থেকে বগুড়া স্টেশনে আসতে থাকে। সিগন্যাল এবং পয়েন্ট ঠিক করে দোলনচাঁপা ট্রেনটির জন্য দুইনম্বর লুপ লাইনে এবং লালমনি এক্সপ্রেক্সকে একনম্বর লাইনে আসার নির্দেশনা ঠিক করা হয়। দোলনচাঁপা ট্রেনটি হুইসেল দিতে দিতে দুই নম্বর লুপ লাইন দিয়ে স্টেশনে আসতে থাকে।

‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদারদের জানা ছিল ওই ট্রেনটি একনম্বর লাইন দিয়ে আসবে। তাই তারা দোকানের তাবু সরাইনি। কিন্তু যখন ট্রেনটি দুইনম্বর লুপ লাইন দিয়ে হুইসেল দিতে দিতে আসতে থাকে তখন দোকানদার এবং ক্রেতারা চিৎকার করে এদিক ওদিক দৌড়ে পালাতে থাকে। ট্রেন চালক দ্রুততার সাথে ট্রেনটি ব্রেক করায় দোকানের মালামাল নষ্ট হলেও কোন প্রাণ হানি ঘটেনি। নইলে অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারতো।

তিনি আরও জানান, গত ১৯ নভেম্বর লালমনিহাট থেকে বিভাগীয় ভূ-সম্পদ কর্মকর্তাসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা স্টেশনের পাশের একটি মার্কেটের প্রায় দুইশতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়ার সময় ‘হঠাৎ মার্কেট’দুইদিন বন্ধ ছিল। পরে ২২ নভেম্বর আবারও ‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদাররা তাদের দোকান বসায়। এ বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে রেল স্টেশন সীমানার মধ্যে এবং লাইনের উপর অবৈধ দোকান উচ্ছেদের জন্য ২৩ নভেম্বর চিঠি দেয়া হয়।

স্টেশন মাষ্টার আরও জানান, রেল লাইন থেকে দুই পাশের ১০ ফুট করে জায়গা ১৪৪ ধারা সবসময়ের জন্য জারী থাকরেও এসব কেউ মানছেনা। স্টেশন মাষ্টার অভিযোগ করে বলেন, সিগন্যাল এবং পয়েন্টের তারের উপর অবৈধ দোকান বসার কারনে অনেক সময় সঠিকভাবে সিগন্যাল ও পয়েন্ট করা সম্ভব হয়না। অথচ, ট্রেনের আসা যাওয়ার মূল বিষয়টি হলো সিগন্যাল এবং পয়েন্ট।

বগুড়া রেল স্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারী শাহীন আলম জানান, রেল লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী ইন্সপেক্টর রায়হান কবীরের কারণেই রেল লাইনের উপর অবৈধ হঠাৎ মার্কেট গড়ে উঠেছে। লাইনের উপর নিরাপত্তার দায়িত্ব তার থাকলেও প্রতিদিন লাইনের উপর মার্কেট দেখার পরেও উনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে দোকানদারদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন।

তবে রায়হান কবীর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়, লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্ব আপনার থাকলেও কেন ওইসব দোকান দেখেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। তিনি জানান, বিষয়গুলো উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ জানেন।

বগুড়া জিআরপি ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর কায়কোবাদ জানান, ঘটনাটি জানার পরে সেখানে আমরা দ্রুত যাই। কিন্তু কোনো আহত কিংবা নিহত ব্যক্তির খোঁজ পাইনি। তবে আশেপাশের লোকজন জানিয়েছেন, চার-পাঁচজন ক্রেতা আহত হয়েছেন।
বগুড়া ফায়ার স্টেশনের সিনিয়ন স্টেশন মাষ্টার বজলুর রশিদ জানান, দুইজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন, গাবতলী উপজেলার রুমি খাতুন (৩০) এবং দুপচাঁচিয়া উপজেলার মানিক (৫৫)। তাদের শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে আরও কয়েকজনের কথা শুনলেও তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।

রেল লাইনের পাশের স্থানীয় ব্যবসায়ী নাম না প্রকাশে ইচ্ছুক কয়েকজন জানান, গত ৫/৬ বছরে প্রায় ৭-৮জন ট্রেনে কেটে হঠাৎ মার্কেটে মারা গেছে। এদের মধ্যে ক্রেতা এবং দোকানদারও ছিল। বুধবার যদি ট্রেনের চালক দ্রুত ব্রেক না করতো তাহলে কয়েক’শ লোকের প্রাণহানি ঘটতো।

কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছে ট্রেন চালকের দক্ষতায়