উলিপুরে কোরবানির পশুর হাটে খাজনাসহ অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ

নয়ন দাস,কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৫ জুলাই, ২০২১
  • ২০ বার পঠিত

 

কুড়িগ্রামের উলিপুরে কোরবানির পশুর হাটে বিধি বর্হিভূত ভাবে খাজনাসহ অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে ইজারাদারের বিরুদ্ধে। ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের কাছ থেকে নির্ধারিত খাজনার চেয়ে চার গুন বেশি পরিমান টাকা আদায় করায় রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার সহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছেন আপেল মাহমুদ নামে এক ব্যাক্তি।

অভিযোগকারী ও ভূক্তভোগী পশু ক্রেতা-বিক্রেতা সূত্রে জানা গেছে, উলিপুর পশুর হাটের ইজারাদার বিধি বর্হিভূতভাবে হাটে আসা পশুর ক্রেতা ও বিক্রেতার কাছ থেকে নির্ধারিত খাজনার চেয়ে দুই পক্ষের (ক্রেতা ও বিক্রেতা) কাছ থেকে চার গুন বেশি অর্থ আদায় করছেন। নিয়ম অনুযায়ী হাটে আসা গরু, মহিষ, ঘোড়া প্রতিটি ক্রেতার কাছে ২শ ২৫ টাকা ও ছাগল, ভেড়া প্রতিটি ক্রেতার কাছ থেকে ১শ টাকা হারে আদায় করার কথা।

সেখানে বিক্রেতার কাছ থেকে কোন খাজনা আদায় করার নিয়ম নেই। অথচ ইজারাদার উভয় পক্ষের কাছ থেকে খাজনা আদায় করছেন। এছাড়া খাজনা আদায় রশিদ গুলোতে খাজনা আদায়ের টাকার পরিমানের কথা উল্লেখ নেই। সপ্তাহের প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার উলিপুরে পশুর হাট বসে। এদিকে সরকার লকডাউন শিথিল করায় মহামারী করোনা কালে পশুর হাটে স্বাস্থ্য বিধি মানার কোন বালাই নেই।

সোমবার (১৫ জুলাই) বিকাল পাঁচটায় সরেজমিন উলিপুর শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম মাঠে বসা পশুর হাটে গেলে কথা হয় ক্রেতা শহিদুল, আব্দুর রফিক, হোসেন আলী, ফজলু মিয়া, মকবুল হোসেন, সাইফুল ইসলাম ও বিক্রেতা মোকছেদ, আলতাফ হোসেন, খজির, আমিনুল, নুর আলমসহ অনেকের সাথে।

তারা জানান, গরু ও মহিষ ক্রয় করলে ইজারাদারের লোক ৫শ টাকা করে খাজনা আদায় করছেন। এছাড়া বিক্রেতার কাছ থেকে ৩শ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে।

তারা আরও বলেন, ছাগল ও ভেড়ার হাটে ক্রেতার কাছ থেকে ৩শ টাকা ও বিক্রেতার কাছ থেকে ২শ টাকা আদায় হচ্ছে।

নিয়ম অনুযায়ী শুধু মাত্র ক্রেতার কাছ থেকে খাজনা আদায় করার কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। শুধু তাই নয়, পৌরসভার নির্ধারিত খাজনা থেকে চারগুন বেশি অর্থ আদায় করা হলেও খাজনা রশিদে তা লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে না।

এদিকে ইজারাদার কর্তৃক খাজনাসহ অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের প্রতিকার চেয়ে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারে কার্যালয়ে আপেল মাহমুদ নামে এক ব্যাক্তি অভিযোগ করেছেন।

উলিপুর হাটের ইজারাদার কয়ছার আলীর সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার ব্যবহৃত নম্বরটি বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

উলিপুর পৌরসভার মেয়র মামুন সরকার মিঠু বলেন, পশুর হাটে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়ে কেউ আমার কাছে অভিযোগ করেনি। বিষয়টি আমি খোঁজ খবর নিয়ে দেখছি। কেউ অতিরিক্ত অর্থ আদায় করলে তা বে-আইনী হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূর-এ-জান্নাত রুমি জানান, এ ব্যাপারে বিভাগীয় কমিশনার মহোদয়ের কাছে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগের অনুলিপি আমি পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে ইজারাদার ও পৌর মেয়রের সঙ্গে কথা বলেছি। ইজারাদার যদি অতিরিক্ত অর্থ আদায় করেন তা বিধি বর্হিভূত হবে।

অপর প্রশ্নের জবাব তিনি বলেন, হাটে আসা ক্রেতা ও বিক্রেতাদের স্বাস্থ্য বিধি মানার বিষয়টি ইজারাদারকে নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে দ্রুতই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

 

 

 

বগুড়ায় ট্রেন চালকের দক্ষতায় বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে দোলন চাঁপা আন্তঃনগর ট্রেন। ওই ঘটনায় দু’জন আহত হলেও কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছেন। রেল লাইনের উপর অবৈধ দোকানগুলো ওই দুর্ঘটনার কারণ বলে জানিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় লোকজন।

বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে মাত্র ত্রিশ গজ দূরেই এক যুগেরও বেশি সময় ধরে (বগুড়া রেলস্টেশন থেকে একনম্বর ঘুমটি পর্যন্ত ) প্রায় তিন শতাধিক অবৈধ কাপড়ের দোকান রেল লাইনের উপর রয়েছে। বগুড়ার পুরাতন কাপড়ের বড় মার্কেট এটি। পরিচিত ‘হঠাৎ মার্কেট’ হিসেবে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েক হাজার ক্রেতার সমাগম ঘটে। বছরে একবার করে রেল থেকে ওইসব দোকান উচ্ছেদ করলেও দুই তিনদিন পরে আবারও দোকান আগের মতো বসে। মূল রেল লাইনের উপর তাঁবু টানিয়ে এসব দোকান বসানো হয়েছে। ট্রেন চলে আসলেই দ্রুত তাবুগুলো সরে ফেলা হয়। কয়েক বছরে প্রায় ৭-৮ জন ক্রেতা এবং বিক্রেতার প্রাণহানি ঘটেছে এই হঠাৎ মার্কেটে।

বগুড়ার রেলস্টেশনের স্টেশন মাষ্টার আবুল কাশেম জানান, দুপুর ১১টায় দোলন চাঁটা আন্তঃনগর ট্রেন বোনারপাড়া থেকে বগুড়ায় আসছিল। অপরদিকে আরেকটি আন্তঃনগর ট্রেন লালমনি এক্সপ্রেক্স ঢাকা থেকে বগুড়া স্টেশনে আসতে থাকে। সিগন্যাল এবং পয়েন্ট ঠিক করে দোলনচাঁপা ট্রেনটির জন্য দুইনম্বর লুপ লাইনে এবং লালমনি এক্সপ্রেক্সকে একনম্বর লাইনে আসার নির্দেশনা ঠিক করা হয়। দোলনচাঁপা ট্রেনটি হুইসেল দিতে দিতে দুই নম্বর লুপ লাইন দিয়ে স্টেশনে আসতে থাকে।

‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদারদের জানা ছিল ওই ট্রেনটি একনম্বর লাইন দিয়ে আসবে। তাই তারা দোকানের তাবু সরাইনি। কিন্তু যখন ট্রেনটি দুইনম্বর লুপ লাইন দিয়ে হুইসেল দিতে দিতে আসতে থাকে তখন দোকানদার এবং ক্রেতারা চিৎকার করে এদিক ওদিক দৌড়ে পালাতে থাকে। ট্রেন চালক দ্রুততার সাথে ট্রেনটি ব্রেক করায় দোকানের মালামাল নষ্ট হলেও কোন প্রাণ হানি ঘটেনি। নইলে অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারতো।

তিনি আরও জানান, গত ১৯ নভেম্বর লালমনিহাট থেকে বিভাগীয় ভূ-সম্পদ কর্মকর্তাসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা স্টেশনের পাশের একটি মার্কেটের প্রায় দুইশতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়ার সময় ‘হঠাৎ মার্কেট’দুইদিন বন্ধ ছিল। পরে ২২ নভেম্বর আবারও ‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদাররা তাদের দোকান বসায়। এ বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে রেল স্টেশন সীমানার মধ্যে এবং লাইনের উপর অবৈধ দোকান উচ্ছেদের জন্য ২৩ নভেম্বর চিঠি দেয়া হয়।

স্টেশন মাষ্টার আরও জানান, রেল লাইন থেকে দুই পাশের ১০ ফুট করে জায়গা ১৪৪ ধারা সবসময়ের জন্য জারী থাকরেও এসব কেউ মানছেনা। স্টেশন মাষ্টার অভিযোগ করে বলেন, সিগন্যাল এবং পয়েন্টের তারের উপর অবৈধ দোকান বসার কারনে অনেক সময় সঠিকভাবে সিগন্যাল ও পয়েন্ট করা সম্ভব হয়না। অথচ, ট্রেনের আসা যাওয়ার মূল বিষয়টি হলো সিগন্যাল এবং পয়েন্ট।

বগুড়া রেল স্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারী শাহীন আলম জানান, রেল লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী ইন্সপেক্টর রায়হান কবীরের কারণেই রেল লাইনের উপর অবৈধ হঠাৎ মার্কেট গড়ে উঠেছে। লাইনের উপর নিরাপত্তার দায়িত্ব তার থাকলেও প্রতিদিন লাইনের উপর মার্কেট দেখার পরেও উনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে দোকানদারদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন।

তবে রায়হান কবীর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়, লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্ব আপনার থাকলেও কেন ওইসব দোকান দেখেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। তিনি জানান, বিষয়গুলো উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ জানেন।

বগুড়া জিআরপি ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর কায়কোবাদ জানান, ঘটনাটি জানার পরে সেখানে আমরা দ্রুত যাই। কিন্তু কোনো আহত কিংবা নিহত ব্যক্তির খোঁজ পাইনি। তবে আশেপাশের লোকজন জানিয়েছেন, চার-পাঁচজন ক্রেতা আহত হয়েছেন।
বগুড়া ফায়ার স্টেশনের সিনিয়ন স্টেশন মাষ্টার বজলুর রশিদ জানান, দুইজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন, গাবতলী উপজেলার রুমি খাতুন (৩০) এবং দুপচাঁচিয়া উপজেলার মানিক (৫৫)। তাদের শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে আরও কয়েকজনের কথা শুনলেও তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।

রেল লাইনের পাশের স্থানীয় ব্যবসায়ী নাম না প্রকাশে ইচ্ছুক কয়েকজন জানান, গত ৫/৬ বছরে প্রায় ৭-৮জন ট্রেনে কেটে হঠাৎ মার্কেটে মারা গেছে। এদের মধ্যে ক্রেতা এবং দোকানদারও ছিল। বুধবার যদি ট্রেনের চালক দ্রুত ব্রেক না করতো তাহলে কয়েক’শ লোকের প্রাণহানি ঘটতো।

কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছে ট্রেন চালকের দক্ষতায়