উলিপুরে ২০ বস্তা সরকারি চাল কালোবাজারে বিক্রয় আটক এক

নয়ন দাস,কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ১০০ বার পঠিত

 

কুড়িগ্রামের উলিপুরে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ২০ বস্তা চাল কালো বাজারে বিক্রয়ের সময় হাতেনাতে আটক করে পুলিশে দিয়েছে জনতা। এসময় চাল পরিবহনকারী দুই ভ্যান চালকসহ দোকান ম্যানেজার আনোয়ার হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। ঘটনাটি সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরের হলেও দিনভর নানা নাটকীয়তার পর রাতে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শি সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে উলিপুর খাদ্য গুদাম থেকে দুটি ভ্যান গাড়িতে ৫০ কেজি ওজনের সরকারি সিলযুক্ত ২০ বস্তা চাল বের হয়। পরে ভ্যানগাড়ি দুটি পৌর শহরের মধ্য বাজারের মেসার্স কাশেম চালকলের মালিক সেকেন্দার আলীর দোকানে নামিয়ে দিতে থাকেন। এ সময় স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ হলে ভ্যান গাড়িসহ চাল আটক করে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে তাৎক্ষনিক পুলিশ এসে ওই চাল বহন কারী ভ্যান চালক আব্দুল কুদ্দস ও শহীদ আলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তাদের ভাষ্যমতে চালগুলো তারা উলিপুর খাদ্য গুদাম থেকে এখানে নিয়ে এসেছেন।

তারা আরও বলেন, চাল গুলো খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির ডিলার পুবেল সরদারের। এসব চাল খাদ্য ব্যবসায়ী সেকেন্দার আলীর কাছে বিক্রির করছেন বলে জানান তারা। এরপর পুলিশ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আলাউদ্দিন বসুনিয়া ও ভারপ্রাপ্ত গুদাম কর্মকর্তা শাহিনুর রহমানকে বিষয়টি জানালেও ঘটনাস্থল থেকে মাত্র চারশগজ দুরে উপজেলা খাদ্য অফিস হওয়া সর্ত্বেও তারা তিন ঘন্টাপর সেখানে পৌছান। এই সুযোগে দোকানের মালিক সেকেন্দার আলী সটকে পড়েন। দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পুলিশি পাহারায় ঘটনাস্থলে চালের বস্তা গুলো থাকলেও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও খাদ্য গুদাম কর্মকর্তার রহস্যজনক ভূমিকার কারনে কোন সমাধান হচ্ছিল না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি চাল কালোবাজারে বিক্রির সময় হাতে নাতে ধরা পড়লেও দিনভর খাদ্য গুদাম কর্মকর্তাদের নানা নাটকীয়তার পর গভীর রাতে মামলা হওয়ায় গুদাম কর্মকর্তাদের ভুমিকা নিয়েও জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা শাহিনুর রহমান উলিপুর খাদ্য গুদামে যোগদানের পর থেকে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতে জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় খাদ্য বিভাগের উচ্চ পর্যায় থেকে একাধিকবার তদন্ত হয়েছে।

সোমবার সন্ধ্যার পরে পুলিশ ২০ বস্তা (এক মে.টন) চাল, দোকান ম্যানেজার আনোয়ার হোসেনসহ ভ্যান চালকদের থানায় নিয়ে আসেন। এরপর রাতে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আলাউদ্দিন বসুনিয়া বাদী হয়ে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর ডিলার পুবেল সরদার, দোকান মালিক সেকেন্দার আলী ও ম্যানেজার আনোয়ার হোসেনকে আসামী করে বিশেষ ক্ষমতা আইনে সরকারি চাল কালো বাজারের বিক্রয়ের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-১৬। মামলায় ওই দুই ভ্যান চালককে স্বাক্ষী করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আলাউদ্দিন বসুনিয়া বলেন, সরকারি চাল কালো বাজারের বিক্রয়ের ঘটনায় নিয়ম অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়েছে। উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ কবির মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দোকান ম্যানেজারকে মঙ্গলবার আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। একই সাথে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দির জন্য ভ্যান চালকদের আদালতে প্রেরণ করা হয়। অন্য আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

 

 

 

বগুড়ায় ট্রেন চালকের দক্ষতায় বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে দোলন চাঁপা আন্তঃনগর ট্রেন। ওই ঘটনায় দু’জন আহত হলেও কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছেন। রেল লাইনের উপর অবৈধ দোকানগুলো ওই দুর্ঘটনার কারণ বলে জানিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় লোকজন।

বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে মাত্র ত্রিশ গজ দূরেই এক যুগেরও বেশি সময় ধরে (বগুড়া রেলস্টেশন থেকে একনম্বর ঘুমটি পর্যন্ত ) প্রায় তিন শতাধিক অবৈধ কাপড়ের দোকান রেল লাইনের উপর রয়েছে। বগুড়ার পুরাতন কাপড়ের বড় মার্কেট এটি। পরিচিত ‘হঠাৎ মার্কেট’ হিসেবে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েক হাজার ক্রেতার সমাগম ঘটে। বছরে একবার করে রেল থেকে ওইসব দোকান উচ্ছেদ করলেও দুই তিনদিন পরে আবারও দোকান আগের মতো বসে। মূল রেল লাইনের উপর তাঁবু টানিয়ে এসব দোকান বসানো হয়েছে। ট্রেন চলে আসলেই দ্রুত তাবুগুলো সরে ফেলা হয়। কয়েক বছরে প্রায় ৭-৮ জন ক্রেতা এবং বিক্রেতার প্রাণহানি ঘটেছে এই হঠাৎ মার্কেটে।

বগুড়ার রেলস্টেশনের স্টেশন মাষ্টার আবুল কাশেম জানান, দুপুর ১১টায় দোলন চাঁটা আন্তঃনগর ট্রেন বোনারপাড়া থেকে বগুড়ায় আসছিল। অপরদিকে আরেকটি আন্তঃনগর ট্রেন লালমনি এক্সপ্রেক্স ঢাকা থেকে বগুড়া স্টেশনে আসতে থাকে। সিগন্যাল এবং পয়েন্ট ঠিক করে দোলনচাঁপা ট্রেনটির জন্য দুইনম্বর লুপ লাইনে এবং লালমনি এক্সপ্রেক্সকে একনম্বর লাইনে আসার নির্দেশনা ঠিক করা হয়। দোলনচাঁপা ট্রেনটি হুইসেল দিতে দিতে দুই নম্বর লুপ লাইন দিয়ে স্টেশনে আসতে থাকে।

‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদারদের জানা ছিল ওই ট্রেনটি একনম্বর লাইন দিয়ে আসবে। তাই তারা দোকানের তাবু সরাইনি। কিন্তু যখন ট্রেনটি দুইনম্বর লুপ লাইন দিয়ে হুইসেল দিতে দিতে আসতে থাকে তখন দোকানদার এবং ক্রেতারা চিৎকার করে এদিক ওদিক দৌড়ে পালাতে থাকে। ট্রেন চালক দ্রুততার সাথে ট্রেনটি ব্রেক করায় দোকানের মালামাল নষ্ট হলেও কোন প্রাণ হানি ঘটেনি। নইলে অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারতো।

তিনি আরও জানান, গত ১৯ নভেম্বর লালমনিহাট থেকে বিভাগীয় ভূ-সম্পদ কর্মকর্তাসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা স্টেশনের পাশের একটি মার্কেটের প্রায় দুইশতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়ার সময় ‘হঠাৎ মার্কেট’দুইদিন বন্ধ ছিল। পরে ২২ নভেম্বর আবারও ‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদাররা তাদের দোকান বসায়। এ বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে রেল স্টেশন সীমানার মধ্যে এবং লাইনের উপর অবৈধ দোকান উচ্ছেদের জন্য ২৩ নভেম্বর চিঠি দেয়া হয়।

স্টেশন মাষ্টার আরও জানান, রেল লাইন থেকে দুই পাশের ১০ ফুট করে জায়গা ১৪৪ ধারা সবসময়ের জন্য জারী থাকরেও এসব কেউ মানছেনা। স্টেশন মাষ্টার অভিযোগ করে বলেন, সিগন্যাল এবং পয়েন্টের তারের উপর অবৈধ দোকান বসার কারনে অনেক সময় সঠিকভাবে সিগন্যাল ও পয়েন্ট করা সম্ভব হয়না। অথচ, ট্রেনের আসা যাওয়ার মূল বিষয়টি হলো সিগন্যাল এবং পয়েন্ট।

বগুড়া রেল স্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারী শাহীন আলম জানান, রেল লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী ইন্সপেক্টর রায়হান কবীরের কারণেই রেল লাইনের উপর অবৈধ হঠাৎ মার্কেট গড়ে উঠেছে। লাইনের উপর নিরাপত্তার দায়িত্ব তার থাকলেও প্রতিদিন লাইনের উপর মার্কেট দেখার পরেও উনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে দোকানদারদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন।

তবে রায়হান কবীর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়, লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্ব আপনার থাকলেও কেন ওইসব দোকান দেখেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। তিনি জানান, বিষয়গুলো উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ জানেন।

বগুড়া জিআরপি ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর কায়কোবাদ জানান, ঘটনাটি জানার পরে সেখানে আমরা দ্রুত যাই। কিন্তু কোনো আহত কিংবা নিহত ব্যক্তির খোঁজ পাইনি। তবে আশেপাশের লোকজন জানিয়েছেন, চার-পাঁচজন ক্রেতা আহত হয়েছেন।
বগুড়া ফায়ার স্টেশনের সিনিয়ন স্টেশন মাষ্টার বজলুর রশিদ জানান, দুইজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন, গাবতলী উপজেলার রুমি খাতুন (৩০) এবং দুপচাঁচিয়া উপজেলার মানিক (৫৫)। তাদের শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে আরও কয়েকজনের কথা শুনলেও তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।

রেল লাইনের পাশের স্থানীয় ব্যবসায়ী নাম না প্রকাশে ইচ্ছুক কয়েকজন জানান, গত ৫/৬ বছরে প্রায় ৭-৮জন ট্রেনে কেটে হঠাৎ মার্কেটে মারা গেছে। এদের মধ্যে ক্রেতা এবং দোকানদারও ছিল। বুধবার যদি ট্রেনের চালক দ্রুত ব্রেক না করতো তাহলে কয়েক’শ লোকের প্রাণহানি ঘটতো।

কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছে ট্রেন চালকের দক্ষতায়