কুমারখালী নন্দলালপুর ইউপি’র বিতর্কিত ও দুর্নীতিবাজ চেয়ারম্যানের কান্ড : পর্ব-১

কে এম শাহীন রেজা, কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি।।
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২১
  • ২৫ বার পঠিত

 

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নের বিতর্কিত ও ত্রাণের অনিয়মে বরখাস্ত হওয়া চেয়ারম্যান নওশের আলীর বিরুদ্ধে মোছাঃ খালেদা খাতুন (৪৫)নামের এক মহিলার ভি,জি,ডির চাউল না দিয়ে তার কার্ডটি কেরে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

আগামী ২৩ শে ডিসেম্বর চতুর্থ ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নের নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন পেয়েছেন বিতর্কিত ও দুর্নীতিবাজ বর্তমান চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নওশের আলী বিশ্বাস।

খালেদা খাতুন নন্দলালপুর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের পুরাতন চরাইকোলের বাসিন্দা। এ বিষয়ে খালেদা খাতুন বলেন, প্রতি মাসের ন্যায় আজ বুধবার আমার ভি,জি,ডির কার্ড নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে চাল উত্তোলন করতে গেলে আমার স্বামীর সাথে চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত বিবাদ থাকায় চেয়ারম্যান আমাকে চাউল না দিয়ে আমার নামের কার্ডটি কেরে নিয়ে আমাকে তাড়িয়ে দেয়।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী খালেদা খাতুনের স্বামী আমজাদ হোসেন বলেন, চেয়ারম্যানের সাথে আমার ব্যক্তিগত বিবাদ থাকায় ও চেয়ারম্যান একজন দূর্নীতি বাজ লোক হওয়ায় এবারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তার পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা করতে অস্বীকার করায় আমার স্ত্রীর নামের ভি,জি,ডির চাউলের কার্ডটি চেয়ারম্যান কেরে নেয়, আমি টি,এন,ও স্যারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি এবং এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নন্দলালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নওশের আলী বলেন, আমজাদ আওয়ামী লীগের সমর্থক হয়েও সে নৌকার বিপক্ষে নির্বাচন করার কথা বলে বেরাচ্ছে, সে কারনে আমি আমজাদের স্ত্রীর ভিজিডির কার্ডটি কেড়ে নিয়েছি।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাজনীন ফেরদৌস বলেন, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের ভি,জি,ডির কার্যক্রমের নীতিমালা অনুযায়ী ভি,জি,ডি চাউলের কার্ডটি ভুক্তভোগীর নিজস্ব সম্পদ, তাতে কারো হস্তক্ষেপ করার অধিকার নেই। চেয়ারম্যান যদি এমন কাজ করে থাকে তাহলে তিনি তা ঠিক করেননি।

এ বিষয়ে কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিতান কুমার মন্ডল বলেন, ভি,জি,ডির চাউলের কার্ড কেড়ে নেওয়ার কোন এখতিয়ার নেই চেয়ারম্যানের, এ ঘটনা সম্পর্কে আমি ইতিমধ্যে অবগত হয়েছি, অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুতই ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

ইতিপূর্বে ত্রাণ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগে চেয়ারম্যান নওশের আলী সহ তিনজন ইউপি সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করেছিল স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। স্থানীয় সরকার বিভাগ গত ২৯ এপ্রিল এ সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল তাদের বিরুদ্ধে।

উক্ত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে নিম্নআয়ের শ্রমজীবী মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি ত্রাণ লুটের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন। ইউপি সদস্যদের সহযোগিতায় সরকারি ত্রাণ ভুয়া মাস্টাররোলে বিতরণ দেখিয়ে আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক আইন অনুযায়ী তাদের স্বীয় পদ থেকে অপসারণের সুপারিশ করেছিল।

উল্লেখিত চেয়ারম্যান ও সদস্যর সংঘটিত অপরাধমূলক কার্যক্রমের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের মাধ‌্যমে ইউনিয়ন পরিষদের ক্ষমতা প্রয়োগ প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণে সমীচীন নয় মর্মে সরকার মনে করে। কাজেই স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯ এর ৩৪(১) ধারা অনুযায়ী তাদের স্বীয় পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।

উক্ত প্রজ্ঞাপনে পৃথক পৃথক কারণ দর্শানো নোটিশে কেন তাদেরকে চূড়ান্তভাবে তাদের পদ থেকে অপসারণ করা হবে না তার জবাব পত্র পাওয়ার ১০ কার্যদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হয়।

এ ব্যাপারে নন্দলালপুর ইউনিয়নের চড়ইকোল গ্রামের কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে কথা বললে, তারা বলেন সরকার ভালুকের হাতে খোনতা দিয়েছে। বর্তমান চেয়ারম্যান নওশের আলী একের পর এক দুর্নীতি করে যাচ্ছেন এবং ধরাও পড়ছেন তার বিরুদ্ধে বরখাস্তের আদেশ আসছে। তবুও তিনি বহাল তবিয়তেই আছেন। এবার নির্বাচনে এই চোরকেই সরকার নৌকার কান্ডারী বানিয়ে দিলেন। এবার জিতলে তিনি আমাদেরকে এলাকাছাড়া করবেন বলে হুমকি দিয়েছেন তার গুণ্ডাবাহিনী দিয়ে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

 

 

 

বগুড়ায় ট্রেন চালকের দক্ষতায় বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে দোলন চাঁপা আন্তঃনগর ট্রেন। ওই ঘটনায় দু’জন আহত হলেও কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছেন। রেল লাইনের উপর অবৈধ দোকানগুলো ওই দুর্ঘটনার কারণ বলে জানিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় লোকজন।

বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে মাত্র ত্রিশ গজ দূরেই এক যুগেরও বেশি সময় ধরে (বগুড়া রেলস্টেশন থেকে একনম্বর ঘুমটি পর্যন্ত ) প্রায় তিন শতাধিক অবৈধ কাপড়ের দোকান রেল লাইনের উপর রয়েছে। বগুড়ার পুরাতন কাপড়ের বড় মার্কেট এটি। পরিচিত ‘হঠাৎ মার্কেট’ হিসেবে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েক হাজার ক্রেতার সমাগম ঘটে। বছরে একবার করে রেল থেকে ওইসব দোকান উচ্ছেদ করলেও দুই তিনদিন পরে আবারও দোকান আগের মতো বসে। মূল রেল লাইনের উপর তাঁবু টানিয়ে এসব দোকান বসানো হয়েছে। ট্রেন চলে আসলেই দ্রুত তাবুগুলো সরে ফেলা হয়। কয়েক বছরে প্রায় ৭-৮ জন ক্রেতা এবং বিক্রেতার প্রাণহানি ঘটেছে এই হঠাৎ মার্কেটে।

বগুড়ার রেলস্টেশনের স্টেশন মাষ্টার আবুল কাশেম জানান, দুপুর ১১টায় দোলন চাঁটা আন্তঃনগর ট্রেন বোনারপাড়া থেকে বগুড়ায় আসছিল। অপরদিকে আরেকটি আন্তঃনগর ট্রেন লালমনি এক্সপ্রেক্স ঢাকা থেকে বগুড়া স্টেশনে আসতে থাকে। সিগন্যাল এবং পয়েন্ট ঠিক করে দোলনচাঁপা ট্রেনটির জন্য দুইনম্বর লুপ লাইনে এবং লালমনি এক্সপ্রেক্সকে একনম্বর লাইনে আসার নির্দেশনা ঠিক করা হয়। দোলনচাঁপা ট্রেনটি হুইসেল দিতে দিতে দুই নম্বর লুপ লাইন দিয়ে স্টেশনে আসতে থাকে।

‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদারদের জানা ছিল ওই ট্রেনটি একনম্বর লাইন দিয়ে আসবে। তাই তারা দোকানের তাবু সরাইনি। কিন্তু যখন ট্রেনটি দুইনম্বর লুপ লাইন দিয়ে হুইসেল দিতে দিতে আসতে থাকে তখন দোকানদার এবং ক্রেতারা চিৎকার করে এদিক ওদিক দৌড়ে পালাতে থাকে। ট্রেন চালক দ্রুততার সাথে ট্রেনটি ব্রেক করায় দোকানের মালামাল নষ্ট হলেও কোন প্রাণ হানি ঘটেনি। নইলে অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারতো।

তিনি আরও জানান, গত ১৯ নভেম্বর লালমনিহাট থেকে বিভাগীয় ভূ-সম্পদ কর্মকর্তাসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা স্টেশনের পাশের একটি মার্কেটের প্রায় দুইশতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়ার সময় ‘হঠাৎ মার্কেট’দুইদিন বন্ধ ছিল। পরে ২২ নভেম্বর আবারও ‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদাররা তাদের দোকান বসায়। এ বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে রেল স্টেশন সীমানার মধ্যে এবং লাইনের উপর অবৈধ দোকান উচ্ছেদের জন্য ২৩ নভেম্বর চিঠি দেয়া হয়।

স্টেশন মাষ্টার আরও জানান, রেল লাইন থেকে দুই পাশের ১০ ফুট করে জায়গা ১৪৪ ধারা সবসময়ের জন্য জারী থাকরেও এসব কেউ মানছেনা। স্টেশন মাষ্টার অভিযোগ করে বলেন, সিগন্যাল এবং পয়েন্টের তারের উপর অবৈধ দোকান বসার কারনে অনেক সময় সঠিকভাবে সিগন্যাল ও পয়েন্ট করা সম্ভব হয়না। অথচ, ট্রেনের আসা যাওয়ার মূল বিষয়টি হলো সিগন্যাল এবং পয়েন্ট।

বগুড়া রেল স্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারী শাহীন আলম জানান, রেল লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী ইন্সপেক্টর রায়হান কবীরের কারণেই রেল লাইনের উপর অবৈধ হঠাৎ মার্কেট গড়ে উঠেছে। লাইনের উপর নিরাপত্তার দায়িত্ব তার থাকলেও প্রতিদিন লাইনের উপর মার্কেট দেখার পরেও উনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে দোকানদারদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন।

তবে রায়হান কবীর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়, লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্ব আপনার থাকলেও কেন ওইসব দোকান দেখেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। তিনি জানান, বিষয়গুলো উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ জানেন।

বগুড়া জিআরপি ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর কায়কোবাদ জানান, ঘটনাটি জানার পরে সেখানে আমরা দ্রুত যাই। কিন্তু কোনো আহত কিংবা নিহত ব্যক্তির খোঁজ পাইনি। তবে আশেপাশের লোকজন জানিয়েছেন, চার-পাঁচজন ক্রেতা আহত হয়েছেন।
বগুড়া ফায়ার স্টেশনের সিনিয়ন স্টেশন মাষ্টার বজলুর রশিদ জানান, দুইজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন, গাবতলী উপজেলার রুমি খাতুন (৩০) এবং দুপচাঁচিয়া উপজেলার মানিক (৫৫)। তাদের শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে আরও কয়েকজনের কথা শুনলেও তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।

রেল লাইনের পাশের স্থানীয় ব্যবসায়ী নাম না প্রকাশে ইচ্ছুক কয়েকজন জানান, গত ৫/৬ বছরে প্রায় ৭-৮জন ট্রেনে কেটে হঠাৎ মার্কেটে মারা গেছে। এদের মধ্যে ক্রেতা এবং দোকানদারও ছিল। বুধবার যদি ট্রেনের চালক দ্রুত ব্রেক না করতো তাহলে কয়েক’শ লোকের প্রাণহানি ঘটতো।

কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছে ট্রেন চালকের দক্ষতায়