কুর্শা ইউনিয়নের নেীকা প্রত্যাশী আব্দুল কাদের’র মনোনয়ন জমা

কে এম শাহীন রেজা, কুষ্টিয়া জেলার প্রতিনিধি।।
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৪ অক্টোবর, ২০২১
  • ৫৩ বার পঠিত

 

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার কুর্শা ইউনিয়ন থেকে দলীয় কার্যালয় মনোনয়ন জমা দিয়েছেন আব্দুল কাদের মাষ্টার । সোমাবার ৪ অক্টোবর তিনি ঢাকাস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তার মনোনয়ন পত্র জমা দেন । তিনি বর্তমানে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন ।

মিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতা আবদুল কাদের মাষ্টার ছাত্র জীবন থেকেই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত । সেই সঙ্গে তিনি এলাকার বিভিন্ন উন্নয়নের নিজেকে ছাত্র জীবন থেকেই নিয়োজিত রেখেছেন ।

আব্দুল কাদের মাস্টারের ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় এবং উদ্যোগে ১৯৯৭ সালে মিরপুর উপজেলার ইউনিয়নের কাটদহচর এবং বালুচর গ্রামে গড়ে তুলেন KNH মাধ্যমিক বিদ্যালয় ।

KHN মাধ্যমিক বিদ্যালয় গড়ে ওঠার আগে অত্র এলাকার প্রায় ৮/৯ টি গ্রামের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে হালসা অথবা পোড়াদহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে যেত ।

আব্দুল কাদেরের প্রচেষ্টায় গত ২৪ বছর যাবত অত্র এলাকার শিক্ষার্থীদের কষ্ট লাঘব হয়েছে । সেইসঙ্গে অত্র এলাকার শিক্ষার্থীরা মনোরম পরিবেশে নিজেদের পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন ।

আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকার কারণে আব্দুল কাদের মাষ্টার বিভিন্ন সময়ে বিরোধীদলের রোষানলে পড়েছেন । বিশেষ করে ২০০১ -২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি’র আমলে তিনি এলাকা থেকে পালিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নেন এবং মানবতার জীবন যাপন করেন ।

তার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে তিনি আওয়ামী লীগের সমস্ত প্রোগ্রামে সামনের কাতারে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন । এলাকায় আব্দুল কাদের মাস্টারের রয়েছে বিশাল কর্মী বাহিনী । যারা এলাকার লোকের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে প্রতিনিয়ত কাজ করে চলেছেন ।

কুর্শা ইউনিয়ন বাসী মনে করেন তাঁর মতো একজন শিক্ষিত, মেধাবী এবং জনদরদি মানুষের হাতে যদি ইউনিয়নের ভার দেওয়া হয় তাহলে ইউনিয়নের উন্নয়নের ধারা আরো গতিশীল হবে ।

নাম না প্রকাশের শর্তে একাধিক ব্যক্তি বলেন, কুর্শা ইউনিয়ন কে দুর্নীতিমুক্ত, কর্মীবান্ধব এবং আরো উন্নয়ন করতে আব্দুল কাদের মাষ্টার এর কোন বিকল্প নেই । আমরা আশা করি বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের দল আওয়ামী লীগ তার মতো গুণী একজন কর্মীকে নৌকার প্রতীক দিয়ে অত্র ইউনিয়ন কে আরো সমৃদ্ধশীল করে তুলবে ।

নির্বাচনের বিষয়ে আব্দুল কাদেরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত । আশাকরি দল আমার অতীতের ভূমিকা এবং কাজের মূল্যায়ন করবে । আমি নৌকা তে ছিলাম এবং নৌকাতেই আছি । দল যাকে নৌকা প্রতীক এর যোগ্য বিবেচিত করবেন আমি তার পক্ষে কাজ করার জন্য প্রস্তুত আছি ।

তিনি আরো বলেন, দেশ ও জনগণের উন্নয়ন করতে হলে নৌকার কোন বিকল্প নেই । আধুনিক কুষ্টিয়ার উপকার মাহবুবুল আলম হানিফ কুষ্টিয়ার উন্নয়নের জন্য দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন । তিনি যাকে যোগ্য বিবেচিত বলে মনে করবেন তাকে নৌকা প্রতীক বরাদ্দ দিবেন ।

এদিকে আব্দুল কাদের মাষ্টারে নৌকা প্রতীক পাওয়া নিয়ে আশাবাদী তার কর্মী এবং সমর্থকরা । আওয়ামীলেগের দলীয় নেতা কর্মিরা কুর্শা ইউনিয়নে দীর্ঘদিন তার পক্ষে ধরে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন ।

করোনাকালীন সময়ে আব্দুল কাদের মাস্টারের ভূমিকা ছিল চোখে পড়ার মতো, করোনাকালীন সময় তিনি মাস্ক বিতরণ, অক্সিজেন সিলিন্ডার বিতরণসহ কর্মহীন মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ করেছেন । সেই কারণে তিনি এলাকাবাসীর প্রশংসা কুড়িয়েছেন ।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

 

 

 

বগুড়ায় ট্রেন চালকের দক্ষতায় বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে দোলন চাঁপা আন্তঃনগর ট্রেন। ওই ঘটনায় দু’জন আহত হলেও কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছেন। রেল লাইনের উপর অবৈধ দোকানগুলো ওই দুর্ঘটনার কারণ বলে জানিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় লোকজন।

বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে মাত্র ত্রিশ গজ দূরেই এক যুগেরও বেশি সময় ধরে (বগুড়া রেলস্টেশন থেকে একনম্বর ঘুমটি পর্যন্ত ) প্রায় তিন শতাধিক অবৈধ কাপড়ের দোকান রেল লাইনের উপর রয়েছে। বগুড়ার পুরাতন কাপড়ের বড় মার্কেট এটি। পরিচিত ‘হঠাৎ মার্কেট’ হিসেবে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েক হাজার ক্রেতার সমাগম ঘটে। বছরে একবার করে রেল থেকে ওইসব দোকান উচ্ছেদ করলেও দুই তিনদিন পরে আবারও দোকান আগের মতো বসে। মূল রেল লাইনের উপর তাঁবু টানিয়ে এসব দোকান বসানো হয়েছে। ট্রেন চলে আসলেই দ্রুত তাবুগুলো সরে ফেলা হয়। কয়েক বছরে প্রায় ৭-৮ জন ক্রেতা এবং বিক্রেতার প্রাণহানি ঘটেছে এই হঠাৎ মার্কেটে।

বগুড়ার রেলস্টেশনের স্টেশন মাষ্টার আবুল কাশেম জানান, দুপুর ১১টায় দোলন চাঁটা আন্তঃনগর ট্রেন বোনারপাড়া থেকে বগুড়ায় আসছিল। অপরদিকে আরেকটি আন্তঃনগর ট্রেন লালমনি এক্সপ্রেক্স ঢাকা থেকে বগুড়া স্টেশনে আসতে থাকে। সিগন্যাল এবং পয়েন্ট ঠিক করে দোলনচাঁপা ট্রেনটির জন্য দুইনম্বর লুপ লাইনে এবং লালমনি এক্সপ্রেক্সকে একনম্বর লাইনে আসার নির্দেশনা ঠিক করা হয়। দোলনচাঁপা ট্রেনটি হুইসেল দিতে দিতে দুই নম্বর লুপ লাইন দিয়ে স্টেশনে আসতে থাকে।

‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদারদের জানা ছিল ওই ট্রেনটি একনম্বর লাইন দিয়ে আসবে। তাই তারা দোকানের তাবু সরাইনি। কিন্তু যখন ট্রেনটি দুইনম্বর লুপ লাইন দিয়ে হুইসেল দিতে দিতে আসতে থাকে তখন দোকানদার এবং ক্রেতারা চিৎকার করে এদিক ওদিক দৌড়ে পালাতে থাকে। ট্রেন চালক দ্রুততার সাথে ট্রেনটি ব্রেক করায় দোকানের মালামাল নষ্ট হলেও কোন প্রাণ হানি ঘটেনি। নইলে অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারতো।

তিনি আরও জানান, গত ১৯ নভেম্বর লালমনিহাট থেকে বিভাগীয় ভূ-সম্পদ কর্মকর্তাসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা স্টেশনের পাশের একটি মার্কেটের প্রায় দুইশতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়ার সময় ‘হঠাৎ মার্কেট’দুইদিন বন্ধ ছিল। পরে ২২ নভেম্বর আবারও ‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদাররা তাদের দোকান বসায়। এ বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে রেল স্টেশন সীমানার মধ্যে এবং লাইনের উপর অবৈধ দোকান উচ্ছেদের জন্য ২৩ নভেম্বর চিঠি দেয়া হয়।

স্টেশন মাষ্টার আরও জানান, রেল লাইন থেকে দুই পাশের ১০ ফুট করে জায়গা ১৪৪ ধারা সবসময়ের জন্য জারী থাকরেও এসব কেউ মানছেনা। স্টেশন মাষ্টার অভিযোগ করে বলেন, সিগন্যাল এবং পয়েন্টের তারের উপর অবৈধ দোকান বসার কারনে অনেক সময় সঠিকভাবে সিগন্যাল ও পয়েন্ট করা সম্ভব হয়না। অথচ, ট্রেনের আসা যাওয়ার মূল বিষয়টি হলো সিগন্যাল এবং পয়েন্ট।

বগুড়া রেল স্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারী শাহীন আলম জানান, রেল লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী ইন্সপেক্টর রায়হান কবীরের কারণেই রেল লাইনের উপর অবৈধ হঠাৎ মার্কেট গড়ে উঠেছে। লাইনের উপর নিরাপত্তার দায়িত্ব তার থাকলেও প্রতিদিন লাইনের উপর মার্কেট দেখার পরেও উনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে দোকানদারদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন।

তবে রায়হান কবীর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়, লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্ব আপনার থাকলেও কেন ওইসব দোকান দেখেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। তিনি জানান, বিষয়গুলো উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ জানেন।

বগুড়া জিআরপি ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর কায়কোবাদ জানান, ঘটনাটি জানার পরে সেখানে আমরা দ্রুত যাই। কিন্তু কোনো আহত কিংবা নিহত ব্যক্তির খোঁজ পাইনি। তবে আশেপাশের লোকজন জানিয়েছেন, চার-পাঁচজন ক্রেতা আহত হয়েছেন।
বগুড়া ফায়ার স্টেশনের সিনিয়ন স্টেশন মাষ্টার বজলুর রশিদ জানান, দুইজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন, গাবতলী উপজেলার রুমি খাতুন (৩০) এবং দুপচাঁচিয়া উপজেলার মানিক (৫৫)। তাদের শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে আরও কয়েকজনের কথা শুনলেও তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।

রেল লাইনের পাশের স্থানীয় ব্যবসায়ী নাম না প্রকাশে ইচ্ছুক কয়েকজন জানান, গত ৫/৬ বছরে প্রায় ৭-৮জন ট্রেনে কেটে হঠাৎ মার্কেটে মারা গেছে। এদের মধ্যে ক্রেতা এবং দোকানদারও ছিল। বুধবার যদি ট্রেনের চালক দ্রুত ব্রেক না করতো তাহলে কয়েক’শ লোকের প্রাণহানি ঘটতো।

কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছে ট্রেন চালকের দক্ষতায়