কুষ্টিয়ায় আনন্দ পাঠশালার যাত্রা শুরু

 কে এম শাহীন রেজা, কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি।।
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৬ মে, ২০২২
  • ৬৬ বার পঠিত

 

গত ১৫ মে বিকেলে নান্দনিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে কুষ্টিয়ার হাউজিং কদমতলা মোড়ে আনন্দ পাঠশালা নামে প্রি-স্কুল এর যাত্রা শুরু হয়। এক টুকরো সবুজের মাঝে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে নাম-না-জানা নানা ফুলের গাছ, ঝাঁকে ঝাঁকে উঠছে কবুতর আর শেষ বিকেলের ঝিরিঝিরি হাওয়া এমনই চমৎকার পরিবেশে উদ্বোধনী আয়োজন সম্পন্ন হয়।

পরিবেশবান্ধব এই আয়োজনে মাটির থালা, কলা পাতা ব্যবহার করা হয়। প্রথমেই কলাপাতায় রসের পিঠা দিয়ে সবাইকে আপ্যায়ন করা হয় এবং দেয়া হয় পরিবেশবান্ধব গাছ ও ঘুড়ি। বিখ্যাত মন্টেসরি মেথড অনুসরন করেই এই স্কুলের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে হবে বলে জানান প্রতিষ্ঠানের পরিচালক।

উল্লেখ্য প্রায় ১০০ বছর আগে মারিয়া মন্টেসরি নামের ইতালির একজন শিক্ষাবিদ এই ধারার শিখার প্রচলন করেন। বর্তমানে পৃথিবীতে প্রায় বিশ হাজার মন্টেসরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। ফেসবুক, গুগল, অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতাসহ পৃথিবীর অসংখ্য বিখ্যাত ব্যক্তি এই মেথডের ফসল। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক আলী আদনান তার বক্তব্যে এই মেথড ব্যাখ্যা করেন এবং আড়াই থেকে ছয় বছর বয়সী শিশুদেরকে নিয়ে কিভাবে কাজ করবেন সে বিষয়টিও তুলে ধরেন।

এ সময় উপস্থিত কুষ্টিয়ার বিশিষ্টজনেরা তারা তাদের অভিমত ব্যক্ত করেন। বক্তব্য রাখেন, কুষ্টিয়ার বিশিষ্ট সাংস্কৃতিজন আলম আরা জুঁই, কুষ্টিয়ার সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের চেয়ারম্যান ড. আমানুর আমান, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার নওয়াব আলী, ইবির সহযোগী অধ্যাপক শাম্মী আক্তার, স্কুল অব লরিয়েটস এর অধ্যক্ষ আব্দুর রহমান খান, ইসলামী কলেজের অধ্যাপক এনায়েত করীম প্রমুখ। বক্তারা এই সৃষ্টিশীল প্রতিষ্ঠানের সফলতা কামনা করেন এবং কুষ্টিয়াতে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেয়ায় এ প্রতিষ্ঠান কাজ করবে বলেও সকলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য আলী আদনান পূর্বে সাতক্ষীরা পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ এর ভাইস প্রিন্সিপাল হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। বিজ্ঞানসম্মত উপায় কিভাবে সন্তানকে বড় করা যায় সে বিষয়ে আর্ট অব প্যারেন্টিং নামে তাঁর একটি বই সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

 

 

 

বগুড়ায় ট্রেন চালকের দক্ষতায় বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে দোলন চাঁপা আন্তঃনগর ট্রেন। ওই ঘটনায় দু’জন আহত হলেও কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছেন। রেল লাইনের উপর অবৈধ দোকানগুলো ওই দুর্ঘটনার কারণ বলে জানিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় লোকজন।

বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে মাত্র ত্রিশ গজ দূরেই এক যুগেরও বেশি সময় ধরে (বগুড়া রেলস্টেশন থেকে একনম্বর ঘুমটি পর্যন্ত ) প্রায় তিন শতাধিক অবৈধ কাপড়ের দোকান রেল লাইনের উপর রয়েছে। বগুড়ার পুরাতন কাপড়ের বড় মার্কেট এটি। পরিচিত ‘হঠাৎ মার্কেট’ হিসেবে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েক হাজার ক্রেতার সমাগম ঘটে। বছরে একবার করে রেল থেকে ওইসব দোকান উচ্ছেদ করলেও দুই তিনদিন পরে আবারও দোকান আগের মতো বসে। মূল রেল লাইনের উপর তাঁবু টানিয়ে এসব দোকান বসানো হয়েছে। ট্রেন চলে আসলেই দ্রুত তাবুগুলো সরে ফেলা হয়। কয়েক বছরে প্রায় ৭-৮ জন ক্রেতা এবং বিক্রেতার প্রাণহানি ঘটেছে এই হঠাৎ মার্কেটে।

বগুড়ার রেলস্টেশনের স্টেশন মাষ্টার আবুল কাশেম জানান, দুপুর ১১টায় দোলন চাঁটা আন্তঃনগর ট্রেন বোনারপাড়া থেকে বগুড়ায় আসছিল। অপরদিকে আরেকটি আন্তঃনগর ট্রেন লালমনি এক্সপ্রেক্স ঢাকা থেকে বগুড়া স্টেশনে আসতে থাকে। সিগন্যাল এবং পয়েন্ট ঠিক করে দোলনচাঁপা ট্রেনটির জন্য দুইনম্বর লুপ লাইনে এবং লালমনি এক্সপ্রেক্সকে একনম্বর লাইনে আসার নির্দেশনা ঠিক করা হয়। দোলনচাঁপা ট্রেনটি হুইসেল দিতে দিতে দুই নম্বর লুপ লাইন দিয়ে স্টেশনে আসতে থাকে।

‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদারদের জানা ছিল ওই ট্রেনটি একনম্বর লাইন দিয়ে আসবে। তাই তারা দোকানের তাবু সরাইনি। কিন্তু যখন ট্রেনটি দুইনম্বর লুপ লাইন দিয়ে হুইসেল দিতে দিতে আসতে থাকে তখন দোকানদার এবং ক্রেতারা চিৎকার করে এদিক ওদিক দৌড়ে পালাতে থাকে। ট্রেন চালক দ্রুততার সাথে ট্রেনটি ব্রেক করায় দোকানের মালামাল নষ্ট হলেও কোন প্রাণ হানি ঘটেনি। নইলে অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারতো।

তিনি আরও জানান, গত ১৯ নভেম্বর লালমনিহাট থেকে বিভাগীয় ভূ-সম্পদ কর্মকর্তাসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা স্টেশনের পাশের একটি মার্কেটের প্রায় দুইশতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়ার সময় ‘হঠাৎ মার্কেট’দুইদিন বন্ধ ছিল। পরে ২২ নভেম্বর আবারও ‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদাররা তাদের দোকান বসায়। এ বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে রেল স্টেশন সীমানার মধ্যে এবং লাইনের উপর অবৈধ দোকান উচ্ছেদের জন্য ২৩ নভেম্বর চিঠি দেয়া হয়।

স্টেশন মাষ্টার আরও জানান, রেল লাইন থেকে দুই পাশের ১০ ফুট করে জায়গা ১৪৪ ধারা সবসময়ের জন্য জারী থাকরেও এসব কেউ মানছেনা। স্টেশন মাষ্টার অভিযোগ করে বলেন, সিগন্যাল এবং পয়েন্টের তারের উপর অবৈধ দোকান বসার কারনে অনেক সময় সঠিকভাবে সিগন্যাল ও পয়েন্ট করা সম্ভব হয়না। অথচ, ট্রেনের আসা যাওয়ার মূল বিষয়টি হলো সিগন্যাল এবং পয়েন্ট।

বগুড়া রেল স্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারী শাহীন আলম জানান, রেল লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী ইন্সপেক্টর রায়হান কবীরের কারণেই রেল লাইনের উপর অবৈধ হঠাৎ মার্কেট গড়ে উঠেছে। লাইনের উপর নিরাপত্তার দায়িত্ব তার থাকলেও প্রতিদিন লাইনের উপর মার্কেট দেখার পরেও উনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে দোকানদারদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন।

তবে রায়হান কবীর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়, লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্ব আপনার থাকলেও কেন ওইসব দোকান দেখেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। তিনি জানান, বিষয়গুলো উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ জানেন।

বগুড়া জিআরপি ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর কায়কোবাদ জানান, ঘটনাটি জানার পরে সেখানে আমরা দ্রুত যাই। কিন্তু কোনো আহত কিংবা নিহত ব্যক্তির খোঁজ পাইনি। তবে আশেপাশের লোকজন জানিয়েছেন, চার-পাঁচজন ক্রেতা আহত হয়েছেন।
বগুড়া ফায়ার স্টেশনের সিনিয়ন স্টেশন মাষ্টার বজলুর রশিদ জানান, দুইজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন, গাবতলী উপজেলার রুমি খাতুন (৩০) এবং দুপচাঁচিয়া উপজেলার মানিক (৫৫)। তাদের শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে আরও কয়েকজনের কথা শুনলেও তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।

রেল লাইনের পাশের স্থানীয় ব্যবসায়ী নাম না প্রকাশে ইচ্ছুক কয়েকজন জানান, গত ৫/৬ বছরে প্রায় ৭-৮জন ট্রেনে কেটে হঠাৎ মার্কেটে মারা গেছে। এদের মধ্যে ক্রেতা এবং দোকানদারও ছিল। বুধবার যদি ট্রেনের চালক দ্রুত ব্রেক না করতো তাহলে কয়েক’শ লোকের প্রাণহানি ঘটতো।

কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছে ট্রেন চালকের দক্ষতায়