কুষ্টিয়ায় চাল রশিদের সরকার বিরোধী ষড়যন্ত্রের ভিডিও এখন গোয়েন্দা সংস্থার হাতে

 কে এম শাহীন রেজা কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি।।
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৯ আগস্ট, ২০২২
  • ১৭২ বার পঠিত

 

কুষ্টিয়া রশিদ এগ্রোর মালিক আব্দুর রশিদের সরকার বিরোধী ভিডিও এখন সামাজিক যোগাযোগে ভাইরাল হয়েছে। সেখানে তিনি গোপন বৈঠকে সরকারকে তুলোধোনা করছেন। ভিডিওটি দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ। আইলচারা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুর রশিদ ও তার ভাই সিদ্দিকুর রহমান জেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ ছিলেন । গত ইউপি নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগে যোগদান করে। নৌকা প্রতীক না পেয়ে নৌকার বিরুদ্ধে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করায় আওয়ামীলীগ থেকে তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়।
অন্যদিকে রশিদ একজন আলোচিত ব্যক্তি। তিনি ছিলেন, জেএমবি’র শীর্ষ জঙ্গি শায়েখ আব্দুর রহমানের দলীয় ব্যক্তি ও অর্থের মদনদাতা। গোপন সূত্রে জানতে পারে যে, রশিদের ধানের চাতালে জঙ্গি শায়েখ আব্দুর রহমান চাল রশিদের ধানের চাতালে অবস্থান করছেন। তাকে ধরতে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও র‍্যাবের মহাপরিচালক হেলিকপ্টার নিয়ে আইলচারা এসেছিলেন। তারপর থেকেই জঙ্গি রশিদ নামে এলাকায় সমাধিক পরিচিত লাভ করেছেন।
আওয়ামী লীগ সমর্থিত চাল শিল্পের মালিকেরা এখন চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে চাল রশিদের নোংরামির কারণে। ভিআইপি অটো রাইস মিল ও ভিআইপি ফ্লাওয়ার মিলসহ আওয়ামীলীগ ঘরনার এই শিল্পপতির দুটি পৈত্রিক আবাসিক বাড়ি মার্কেটসহ কোটি টাকার সম্পত্তি মাত্র ১৮ কোটি টাকায় ব্যাংক কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে চোরাই পথে বাগিয়ে নিয়ে নিয়েছেন। আইন অনুযায়ী ব্যাংকের কাছে ঋণ গ্রহিতার ফাঁকা চেক ও স্টাম্পে স্বাক্ষর থাকে। সেই সাথে স্থাবর অস্থাবর সকল সম্পত্তির দলিল জমা থাকে। ব্যাংক কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে রশিদ যে আরো নোংরামি করবে না এর কোন হিসেব নেই। চাল রশিদের কাছে একাধিক ব্যবসায়ী ও ব্যক্তি তাদের পাওনা টাকা আদায়ের জন্য বিভিন্ন জায়গায় ধরনা দিলেও কোন লাভ হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে নাটোর এবং ঈশ্বরদীতেও রশিদের নোংরামির বিরুদ্ধে ব্যবসায়ী সমাজ। ইতিমধ্যে কুষ্টিয়ার চেম্বার অফ কমার্স, কুষ্টিয়া অটো রাইস মিল অ্যাসোসিয়েশন সহ ব্যবসায়ী সমাজ ইতিমধ্যে রশিদকে একঘরে করেছে। গত ইউপি নির্বাচনে আইলচারা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোতালেব হোসেন নৌকা প্রতীক পায়। মোতালেব হোসেনের ভাতিজা হওয়ায় শিল্পপতি শফিকুল ইসলাম তার চাচার নির্বাচনে অর্থের যোগান দেয়। তখন চাল রশিদ তার ভাইকে নৌকার বিপক্ষে স্বতন্ত্র প্রার্থী করে। নির্বাচনের মাঠে শফিকুলকে দেখে নেওয়ারও হুমকি দেন চাল রশিদ। এরপর থেকে ষড়যন্ত্রের জাল বুনতে থাকে চাল রশিদ। এরপর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নিলামে শফিকুলের সকল সম্পত্তি পানির দরে নিজের নামে নিয়ে শফিকুলের পরিবার পরিজনকে বাড়ি থেকে রাতের অন্ধকারে রাস্তায় নামিয়ে চরম প্রতিশোধ নেয় চাল রশিদ।
চাল রশিদ আপাদমস্তক মুক্তিযোদ্ধা চেতনা বিরোধী একজন ব্যক্তি। বর্তমান সরকারের সকল প্রকার সুযোগ নিয়ে তিনি দফায় দফায় চাউলের দাম বৃদ্ধি করে সরকারেরকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেন। বিশেষ করে জাতীয় নির্বাচন, উপজেলা নির্বাচন, ইউপি নির্বাচনের সময় হঠাৎ চালের দাম বৃদ্ধি করে ভোটের মাঠে আওয়ামী লীগকে জনগণের কাছে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চালায়। তারই একটি গোপন ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেখানে চাল রশিদকে সরকার বিরোধী কড়া সমালোচনা করতে দেখা যাচ্ছে। ভিডিওটি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার হাতে পড়ায় তারা বিষয়টি নিয়ে মাঠে নেমেছেন।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

 

 

 

বগুড়ায় ট্রেন চালকের দক্ষতায় বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে দোলন চাঁপা আন্তঃনগর ট্রেন। ওই ঘটনায় দু’জন আহত হলেও কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছেন। রেল লাইনের উপর অবৈধ দোকানগুলো ওই দুর্ঘটনার কারণ বলে জানিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় লোকজন।

বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে মাত্র ত্রিশ গজ দূরেই এক যুগেরও বেশি সময় ধরে (বগুড়া রেলস্টেশন থেকে একনম্বর ঘুমটি পর্যন্ত ) প্রায় তিন শতাধিক অবৈধ কাপড়ের দোকান রেল লাইনের উপর রয়েছে। বগুড়ার পুরাতন কাপড়ের বড় মার্কেট এটি। পরিচিত ‘হঠাৎ মার্কেট’ হিসেবে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েক হাজার ক্রেতার সমাগম ঘটে। বছরে একবার করে রেল থেকে ওইসব দোকান উচ্ছেদ করলেও দুই তিনদিন পরে আবারও দোকান আগের মতো বসে। মূল রেল লাইনের উপর তাঁবু টানিয়ে এসব দোকান বসানো হয়েছে। ট্রেন চলে আসলেই দ্রুত তাবুগুলো সরে ফেলা হয়। কয়েক বছরে প্রায় ৭-৮ জন ক্রেতা এবং বিক্রেতার প্রাণহানি ঘটেছে এই হঠাৎ মার্কেটে।

বগুড়ার রেলস্টেশনের স্টেশন মাষ্টার আবুল কাশেম জানান, দুপুর ১১টায় দোলন চাঁটা আন্তঃনগর ট্রেন বোনারপাড়া থেকে বগুড়ায় আসছিল। অপরদিকে আরেকটি আন্তঃনগর ট্রেন লালমনি এক্সপ্রেক্স ঢাকা থেকে বগুড়া স্টেশনে আসতে থাকে। সিগন্যাল এবং পয়েন্ট ঠিক করে দোলনচাঁপা ট্রেনটির জন্য দুইনম্বর লুপ লাইনে এবং লালমনি এক্সপ্রেক্সকে একনম্বর লাইনে আসার নির্দেশনা ঠিক করা হয়। দোলনচাঁপা ট্রেনটি হুইসেল দিতে দিতে দুই নম্বর লুপ লাইন দিয়ে স্টেশনে আসতে থাকে।

‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদারদের জানা ছিল ওই ট্রেনটি একনম্বর লাইন দিয়ে আসবে। তাই তারা দোকানের তাবু সরাইনি। কিন্তু যখন ট্রেনটি দুইনম্বর লুপ লাইন দিয়ে হুইসেল দিতে দিতে আসতে থাকে তখন দোকানদার এবং ক্রেতারা চিৎকার করে এদিক ওদিক দৌড়ে পালাতে থাকে। ট্রেন চালক দ্রুততার সাথে ট্রেনটি ব্রেক করায় দোকানের মালামাল নষ্ট হলেও কোন প্রাণ হানি ঘটেনি। নইলে অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারতো।

তিনি আরও জানান, গত ১৯ নভেম্বর লালমনিহাট থেকে বিভাগীয় ভূ-সম্পদ কর্মকর্তাসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা স্টেশনের পাশের একটি মার্কেটের প্রায় দুইশতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়ার সময় ‘হঠাৎ মার্কেট’দুইদিন বন্ধ ছিল। পরে ২২ নভেম্বর আবারও ‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদাররা তাদের দোকান বসায়। এ বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে রেল স্টেশন সীমানার মধ্যে এবং লাইনের উপর অবৈধ দোকান উচ্ছেদের জন্য ২৩ নভেম্বর চিঠি দেয়া হয়।

স্টেশন মাষ্টার আরও জানান, রেল লাইন থেকে দুই পাশের ১০ ফুট করে জায়গা ১৪৪ ধারা সবসময়ের জন্য জারী থাকরেও এসব কেউ মানছেনা। স্টেশন মাষ্টার অভিযোগ করে বলেন, সিগন্যাল এবং পয়েন্টের তারের উপর অবৈধ দোকান বসার কারনে অনেক সময় সঠিকভাবে সিগন্যাল ও পয়েন্ট করা সম্ভব হয়না। অথচ, ট্রেনের আসা যাওয়ার মূল বিষয়টি হলো সিগন্যাল এবং পয়েন্ট।

বগুড়া রেল স্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারী শাহীন আলম জানান, রেল লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী ইন্সপেক্টর রায়হান কবীরের কারণেই রেল লাইনের উপর অবৈধ হঠাৎ মার্কেট গড়ে উঠেছে। লাইনের উপর নিরাপত্তার দায়িত্ব তার থাকলেও প্রতিদিন লাইনের উপর মার্কেট দেখার পরেও উনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে দোকানদারদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন।

তবে রায়হান কবীর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়, লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্ব আপনার থাকলেও কেন ওইসব দোকান দেখেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। তিনি জানান, বিষয়গুলো উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ জানেন।

বগুড়া জিআরপি ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর কায়কোবাদ জানান, ঘটনাটি জানার পরে সেখানে আমরা দ্রুত যাই। কিন্তু কোনো আহত কিংবা নিহত ব্যক্তির খোঁজ পাইনি। তবে আশেপাশের লোকজন জানিয়েছেন, চার-পাঁচজন ক্রেতা আহত হয়েছেন।
বগুড়া ফায়ার স্টেশনের সিনিয়ন স্টেশন মাষ্টার বজলুর রশিদ জানান, দুইজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন, গাবতলী উপজেলার রুমি খাতুন (৩০) এবং দুপচাঁচিয়া উপজেলার মানিক (৫৫)। তাদের শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে আরও কয়েকজনের কথা শুনলেও তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।

রেল লাইনের পাশের স্থানীয় ব্যবসায়ী নাম না প্রকাশে ইচ্ছুক কয়েকজন জানান, গত ৫/৬ বছরে প্রায় ৭-৮জন ট্রেনে কেটে হঠাৎ মার্কেটে মারা গেছে। এদের মধ্যে ক্রেতা এবং দোকানদারও ছিল। বুধবার যদি ট্রেনের চালক দ্রুত ব্রেক না করতো তাহলে কয়েক’শ লোকের প্রাণহানি ঘটতো।

কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছে ট্রেন চালকের দক্ষতায়