কুষ্টিয়ায় প্যানেল মেয়র কর্তৃক কাউন্সিলরকে হত্যার হুমকি

 কে এম শাহীন রেজা, কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি।।
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১২ মে, ২০২২
  • ৩৮ বার পঠিত

 

কুষ্টিয়ার পৌরসভার ১৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মীর রেজাউল ইসলাম বাবুকে পৌরসভার মধ্যে হত্যার হুমকি দিলেন ১৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র শাহিন উদ্দিন। ঘটনাটি ঘটেছে গত ১১ তারিখ দুপুর ২ ঘটিকার সময়। এ বিষয়ে ওয়ার্ড কাউন্সিলর রেজাউল ইসলাম বাবু রাত ১১ ঘটিকার সময় কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন যাহার নং ৬৩৬ তারিখ ১১/০৫/২০২২।
এ বিষয়ে কাউন্সিলর মীর রেজাউল ইসলাম বাবুর সঙ্গে সরাসরি কথা হলে তিনি বলেন, চৌড়হাঁসের ডিস ব্যবসায়ী কনিকা ক্যাবল টিভি নেটওয়ার্ক এর প্রোপাইটার মোঃ আতিয়ার রহমান ও ভাড়াটিয়া ব্যবসায়ী ডটকম কেবল টিভির নেটওয়ার্কের মকবুল হোসেনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব মীমাংসা করার লক্ষ্যে গতকাল পৌর মেয়র কার্যালয়ে বসে একটি সমাধান করার কথা ছিল। তার দেওয়া তথ্য ও দলিলপত্র দেখে জানা যায়, গত ৬/৮/২০১৯ তারিখের ডিস ব্যবসায়ের চুক্তি পত্রে স্পষ্ট উল্লেখ আছে যে, ভাড়াটিয়া ব্যবসায়ী মকবুল হোসেন তিনি শুধু কবুরহাট, দোস্তপাড়া, খাজানগর ও শান্তির মোড় এলাকায় ডিস লাইনের সিগন্যাল সাপ্লাই দিতে পারবেন। কিন্তু এই মকবুল হোসেন চুক্তি আইন অমান্য করে চৌড়হাস এর মধ্যে লাইন সংযুক্ত করতে গেলে মূল ব্যবসায়ী কণিকা ক্যাবল নেটওয়ার্কের সঙ্গে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়।

তিনি আরো বলেন, দুই পক্ষের সমাধানের লক্ষ্যে কনিকা ক্যাবল নেটওয়ার্কের সকল ডিলাররা আমাকে সঙ্গে নিয়ে কুষ্টিয়া পৌর কার্যালয়ে উপস্থিত হয় বিষয়টি মীমাংসা করার লক্ষ্যে। কিন্তু বর্তমান প্যানেল মেয়র উক্ত সাব ডিলার মকবুলের সাথে যোগসাজশে গোপনে দেন-দরবার আর্থিক দেনদরবার করে চলে যান। কিন্তু আমরা উপস্থিত হলে মকবুলকে তখন পাই নাই।
অবশেষে পৌর মেয়র আনোয়ার আলী সঙ্গে কথা বলে বেরিয়ে আসার সময় প্যানেল মেয়র পৌরসভা এলাকায় আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ সহ হুমকি প্রদান করে। তিনি বলেন যে তার আদেশ নির্দেশ মোতাবেক কাজ না করলে আমাকে মারপিট করিয়া চিরতরে পঙ্গু সহ আমার অঙ্গহানি করবে। জিডিতে এটাও উল্লেখ আছে যে শাহীন সহ তাহার সশস্ত্র গুন্ডা বাহিনী দিয়া পৌরসভার মধ্যে আমাকে প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে। যাহার প্রত্যক্ষ সাক্ষী ১৯ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি, সেক্রেটারি সহ সকল সাব ডিলার উপস্থিত ছিলেন। তিনি এটাও বলেন অবশেষে আমি নিরুপায় হয়ে রাত ১১ ঘটিকার সময় কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করি।
অপরদিকে প্যানেল মেয়র শাহিন উদ্দিন বিকেলে কাউন্সিলর মীর রেজাউল ইসলাম বাবুর নামে কুষ্টিয়া মডেল থানায় ১১/০৫/২০২২ তারিখে একই দিনে একই সময়ে পরপর দুইটা সাধারণ ডায়েরি করেন যার নং ৬১২ ও ৬২৪। একই ঘটনার জন্য দুইটা ডায়েরি হাওয়াই বিষয়টি জনমনে হাস্যকরে পরিণত হয়েছে।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি সাব্বিরুল ইসলাম বলেন, হুমকির ঘটনায় উভয় পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

 

 

 

বগুড়ায় ট্রেন চালকের দক্ষতায় বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে দোলন চাঁপা আন্তঃনগর ট্রেন। ওই ঘটনায় দু’জন আহত হলেও কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছেন। রেল লাইনের উপর অবৈধ দোকানগুলো ওই দুর্ঘটনার কারণ বলে জানিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় লোকজন।

বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে মাত্র ত্রিশ গজ দূরেই এক যুগেরও বেশি সময় ধরে (বগুড়া রেলস্টেশন থেকে একনম্বর ঘুমটি পর্যন্ত ) প্রায় তিন শতাধিক অবৈধ কাপড়ের দোকান রেল লাইনের উপর রয়েছে। বগুড়ার পুরাতন কাপড়ের বড় মার্কেট এটি। পরিচিত ‘হঠাৎ মার্কেট’ হিসেবে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েক হাজার ক্রেতার সমাগম ঘটে। বছরে একবার করে রেল থেকে ওইসব দোকান উচ্ছেদ করলেও দুই তিনদিন পরে আবারও দোকান আগের মতো বসে। মূল রেল লাইনের উপর তাঁবু টানিয়ে এসব দোকান বসানো হয়েছে। ট্রেন চলে আসলেই দ্রুত তাবুগুলো সরে ফেলা হয়। কয়েক বছরে প্রায় ৭-৮ জন ক্রেতা এবং বিক্রেতার প্রাণহানি ঘটেছে এই হঠাৎ মার্কেটে।

বগুড়ার রেলস্টেশনের স্টেশন মাষ্টার আবুল কাশেম জানান, দুপুর ১১টায় দোলন চাঁটা আন্তঃনগর ট্রেন বোনারপাড়া থেকে বগুড়ায় আসছিল। অপরদিকে আরেকটি আন্তঃনগর ট্রেন লালমনি এক্সপ্রেক্স ঢাকা থেকে বগুড়া স্টেশনে আসতে থাকে। সিগন্যাল এবং পয়েন্ট ঠিক করে দোলনচাঁপা ট্রেনটির জন্য দুইনম্বর লুপ লাইনে এবং লালমনি এক্সপ্রেক্সকে একনম্বর লাইনে আসার নির্দেশনা ঠিক করা হয়। দোলনচাঁপা ট্রেনটি হুইসেল দিতে দিতে দুই নম্বর লুপ লাইন দিয়ে স্টেশনে আসতে থাকে।

‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদারদের জানা ছিল ওই ট্রেনটি একনম্বর লাইন দিয়ে আসবে। তাই তারা দোকানের তাবু সরাইনি। কিন্তু যখন ট্রেনটি দুইনম্বর লুপ লাইন দিয়ে হুইসেল দিতে দিতে আসতে থাকে তখন দোকানদার এবং ক্রেতারা চিৎকার করে এদিক ওদিক দৌড়ে পালাতে থাকে। ট্রেন চালক দ্রুততার সাথে ট্রেনটি ব্রেক করায় দোকানের মালামাল নষ্ট হলেও কোন প্রাণ হানি ঘটেনি। নইলে অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারতো।

তিনি আরও জানান, গত ১৯ নভেম্বর লালমনিহাট থেকে বিভাগীয় ভূ-সম্পদ কর্মকর্তাসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা স্টেশনের পাশের একটি মার্কেটের প্রায় দুইশতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়ার সময় ‘হঠাৎ মার্কেট’দুইদিন বন্ধ ছিল। পরে ২২ নভেম্বর আবারও ‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদাররা তাদের দোকান বসায়। এ বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে রেল স্টেশন সীমানার মধ্যে এবং লাইনের উপর অবৈধ দোকান উচ্ছেদের জন্য ২৩ নভেম্বর চিঠি দেয়া হয়।

স্টেশন মাষ্টার আরও জানান, রেল লাইন থেকে দুই পাশের ১০ ফুট করে জায়গা ১৪৪ ধারা সবসময়ের জন্য জারী থাকরেও এসব কেউ মানছেনা। স্টেশন মাষ্টার অভিযোগ করে বলেন, সিগন্যাল এবং পয়েন্টের তারের উপর অবৈধ দোকান বসার কারনে অনেক সময় সঠিকভাবে সিগন্যাল ও পয়েন্ট করা সম্ভব হয়না। অথচ, ট্রেনের আসা যাওয়ার মূল বিষয়টি হলো সিগন্যাল এবং পয়েন্ট।

বগুড়া রেল স্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারী শাহীন আলম জানান, রেল লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী ইন্সপেক্টর রায়হান কবীরের কারণেই রেল লাইনের উপর অবৈধ হঠাৎ মার্কেট গড়ে উঠেছে। লাইনের উপর নিরাপত্তার দায়িত্ব তার থাকলেও প্রতিদিন লাইনের উপর মার্কেট দেখার পরেও উনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে দোকানদারদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন।

তবে রায়হান কবীর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়, লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্ব আপনার থাকলেও কেন ওইসব দোকান দেখেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। তিনি জানান, বিষয়গুলো উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ জানেন।

বগুড়া জিআরপি ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর কায়কোবাদ জানান, ঘটনাটি জানার পরে সেখানে আমরা দ্রুত যাই। কিন্তু কোনো আহত কিংবা নিহত ব্যক্তির খোঁজ পাইনি। তবে আশেপাশের লোকজন জানিয়েছেন, চার-পাঁচজন ক্রেতা আহত হয়েছেন।
বগুড়া ফায়ার স্টেশনের সিনিয়ন স্টেশন মাষ্টার বজলুর রশিদ জানান, দুইজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন, গাবতলী উপজেলার রুমি খাতুন (৩০) এবং দুপচাঁচিয়া উপজেলার মানিক (৫৫)। তাদের শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে আরও কয়েকজনের কথা শুনলেও তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।

রেল লাইনের পাশের স্থানীয় ব্যবসায়ী নাম না প্রকাশে ইচ্ছুক কয়েকজন জানান, গত ৫/৬ বছরে প্রায় ৭-৮জন ট্রেনে কেটে হঠাৎ মার্কেটে মারা গেছে। এদের মধ্যে ক্রেতা এবং দোকানদারও ছিল। বুধবার যদি ট্রেনের চালক দ্রুত ব্রেক না করতো তাহলে কয়েক’শ লোকের প্রাণহানি ঘটতো।

কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছে ট্রেন চালকের দক্ষতায়