কুষ্টিয়ায় বিদ্রোহীদের চাপে নৌকার ভরাডুবি

কে এম শাহীন রেজা, কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি।।
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২১
  • ৫০ বার পঠিত

 

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে চারজন ও বিদ্রোহী প্রার্থীর ১০ জন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়। ২৮ তারিখ রবিবার সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়। প্রতিটি ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ মনোনিত প্রার্থীর (নৌকা প্রতিক) পাশাপাশি আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী ও বিএনপি নেতারা স্বতন্ত্র এবং জাসদ মনোনিত প্রার্থীরা মশাল প্রতিক নিয়ে মোট ৮৯জন চেয়ারম্যান প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন।

উল্লেখ্য উক্ত ইউনিয়নে মোট ৩ লাখ ৫২ হাজার ৮৮৪জন ভোটার। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭৮ হাজার ৪৭জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৭৪ হাজার ৮৩৭জন। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছিলো তিনস্তর বিশিষ্ট কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। র‌্যাব পুলিশের পাশাপাশি মোতায়েন ছিলো বিজিবিও। দৌলতপুর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে সর্বমোট ১৫১টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনিত নৌকা প্রতীকের ৪ জন, ৯ স্বতন্ত্র ৯ জন ও বিএনপি সমর্থিত ১ জন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

নির্বাচিত চেয়ারম্যানরা হলেন, প্রাগপুর ইউনিয়নে
মোঃ আশরাফুজ্জামান মুকুল সরকার (নৌকা), খাস- মথুরাপুর ইউনিয়নে মোঃ মনোয়ার কবির মিন্টু ( আনারস), ফিলিপনগর ইউনিয়নে মোঃ নঈম উদ্দিন ছেন্টু (চশমা), মরিচা ইউনিয়নে মোঃ জাহিদুল ইসলাম জাহিদ (আনারস), রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নে মোঃ সিরাজ মন্ডল (নৌকা), চিলমারী ইউনিয়নে মোঃ ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল মান্নান (মোটরসাইকেল), হোগলবাড়ীয়া ইউনিয়নে মোঃ সেলিম চৌধুরী (নৌকা), পিয়ারপুর ইউনিয়নে মোঃ সোহেল রানা বুলবুল (চশমা), রিফায়েতপুর ইউনিয়নে মোঃ আব্দুর রশিদ বাবলু (মোটরসাইকেল), দৌলতপুর ইউনিয়নে মোঃ মহিউল ইসলাম মহি (নৌকা), আদাবাড়ীয়া ইউনিয়নে মোঃ আব্দুল বাকী (আনারস), বোয়ালিয়া ইউনিয়নে মোঃ খোয়াজ হোসেন মাষ্টার (অটো রিক্সা), খলিসাকুন্ডি ইউনিয়নে মোঃ জুলমত হোসেন (ঘোড়া), আড়িয়া ইউনিয়নে মোঃ হেলাল উদ্দিন (মোটরসাইকেল)।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

 

 

 

বগুড়ায় ট্রেন চালকের দক্ষতায় বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে দোলন চাঁপা আন্তঃনগর ট্রেন। ওই ঘটনায় দু’জন আহত হলেও কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছেন। রেল লাইনের উপর অবৈধ দোকানগুলো ওই দুর্ঘটনার কারণ বলে জানিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় লোকজন।

বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে মাত্র ত্রিশ গজ দূরেই এক যুগেরও বেশি সময় ধরে (বগুড়া রেলস্টেশন থেকে একনম্বর ঘুমটি পর্যন্ত ) প্রায় তিন শতাধিক অবৈধ কাপড়ের দোকান রেল লাইনের উপর রয়েছে। বগুড়ার পুরাতন কাপড়ের বড় মার্কেট এটি। পরিচিত ‘হঠাৎ মার্কেট’ হিসেবে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েক হাজার ক্রেতার সমাগম ঘটে। বছরে একবার করে রেল থেকে ওইসব দোকান উচ্ছেদ করলেও দুই তিনদিন পরে আবারও দোকান আগের মতো বসে। মূল রেল লাইনের উপর তাঁবু টানিয়ে এসব দোকান বসানো হয়েছে। ট্রেন চলে আসলেই দ্রুত তাবুগুলো সরে ফেলা হয়। কয়েক বছরে প্রায় ৭-৮ জন ক্রেতা এবং বিক্রেতার প্রাণহানি ঘটেছে এই হঠাৎ মার্কেটে।

বগুড়ার রেলস্টেশনের স্টেশন মাষ্টার আবুল কাশেম জানান, দুপুর ১১টায় দোলন চাঁটা আন্তঃনগর ট্রেন বোনারপাড়া থেকে বগুড়ায় আসছিল। অপরদিকে আরেকটি আন্তঃনগর ট্রেন লালমনি এক্সপ্রেক্স ঢাকা থেকে বগুড়া স্টেশনে আসতে থাকে। সিগন্যাল এবং পয়েন্ট ঠিক করে দোলনচাঁপা ট্রেনটির জন্য দুইনম্বর লুপ লাইনে এবং লালমনি এক্সপ্রেক্সকে একনম্বর লাইনে আসার নির্দেশনা ঠিক করা হয়। দোলনচাঁপা ট্রেনটি হুইসেল দিতে দিতে দুই নম্বর লুপ লাইন দিয়ে স্টেশনে আসতে থাকে।

‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদারদের জানা ছিল ওই ট্রেনটি একনম্বর লাইন দিয়ে আসবে। তাই তারা দোকানের তাবু সরাইনি। কিন্তু যখন ট্রেনটি দুইনম্বর লুপ লাইন দিয়ে হুইসেল দিতে দিতে আসতে থাকে তখন দোকানদার এবং ক্রেতারা চিৎকার করে এদিক ওদিক দৌড়ে পালাতে থাকে। ট্রেন চালক দ্রুততার সাথে ট্রেনটি ব্রেক করায় দোকানের মালামাল নষ্ট হলেও কোন প্রাণ হানি ঘটেনি। নইলে অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারতো।

তিনি আরও জানান, গত ১৯ নভেম্বর লালমনিহাট থেকে বিভাগীয় ভূ-সম্পদ কর্মকর্তাসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা স্টেশনের পাশের একটি মার্কেটের প্রায় দুইশতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়ার সময় ‘হঠাৎ মার্কেট’দুইদিন বন্ধ ছিল। পরে ২২ নভেম্বর আবারও ‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদাররা তাদের দোকান বসায়। এ বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে রেল স্টেশন সীমানার মধ্যে এবং লাইনের উপর অবৈধ দোকান উচ্ছেদের জন্য ২৩ নভেম্বর চিঠি দেয়া হয়।

স্টেশন মাষ্টার আরও জানান, রেল লাইন থেকে দুই পাশের ১০ ফুট করে জায়গা ১৪৪ ধারা সবসময়ের জন্য জারী থাকরেও এসব কেউ মানছেনা। স্টেশন মাষ্টার অভিযোগ করে বলেন, সিগন্যাল এবং পয়েন্টের তারের উপর অবৈধ দোকান বসার কারনে অনেক সময় সঠিকভাবে সিগন্যাল ও পয়েন্ট করা সম্ভব হয়না। অথচ, ট্রেনের আসা যাওয়ার মূল বিষয়টি হলো সিগন্যাল এবং পয়েন্ট।

বগুড়া রেল স্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারী শাহীন আলম জানান, রেল লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী ইন্সপেক্টর রায়হান কবীরের কারণেই রেল লাইনের উপর অবৈধ হঠাৎ মার্কেট গড়ে উঠেছে। লাইনের উপর নিরাপত্তার দায়িত্ব তার থাকলেও প্রতিদিন লাইনের উপর মার্কেট দেখার পরেও উনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে দোকানদারদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন।

তবে রায়হান কবীর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়, লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্ব আপনার থাকলেও কেন ওইসব দোকান দেখেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। তিনি জানান, বিষয়গুলো উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ জানেন।

বগুড়া জিআরপি ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর কায়কোবাদ জানান, ঘটনাটি জানার পরে সেখানে আমরা দ্রুত যাই। কিন্তু কোনো আহত কিংবা নিহত ব্যক্তির খোঁজ পাইনি। তবে আশেপাশের লোকজন জানিয়েছেন, চার-পাঁচজন ক্রেতা আহত হয়েছেন।
বগুড়া ফায়ার স্টেশনের সিনিয়ন স্টেশন মাষ্টার বজলুর রশিদ জানান, দুইজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন, গাবতলী উপজেলার রুমি খাতুন (৩০) এবং দুপচাঁচিয়া উপজেলার মানিক (৫৫)। তাদের শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে আরও কয়েকজনের কথা শুনলেও তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।

রেল লাইনের পাশের স্থানীয় ব্যবসায়ী নাম না প্রকাশে ইচ্ছুক কয়েকজন জানান, গত ৫/৬ বছরে প্রায় ৭-৮জন ট্রেনে কেটে হঠাৎ মার্কেটে মারা গেছে। এদের মধ্যে ক্রেতা এবং দোকানদারও ছিল। বুধবার যদি ট্রেনের চালক দ্রুত ব্রেক না করতো তাহলে কয়েক’শ লোকের প্রাণহানি ঘটতো।

কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছে ট্রেন চালকের দক্ষতায়