কুষ্টিয়ায় ম্যানেজিং কমিটিকে ঘিরে হত্যার উদ্দেশ্যে রাজাকারপুত্র বক্কর বাহিনীর হামলায় আহত- ৪

কে এম শাহীন রেজা, কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি।
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৯ জানুয়ারী, ২০২২
  • ১০৫ বার পঠিত

কুষ্টিয়া সদর উপজেলা ১০ নং উজানগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দৌড়ঝাঁপ করা সেই ৭১’র মুজাহিদ ক্যাম্পের নজরুল রাজাকারের ছেলে আবু বক্কর সিদ্দিকী এবার মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন উজানগ্রাম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি পদ ছিনিয়ে নিতে। অবশেষে সভাপতি পদ না পেয়ে এলাকায় সহিংসতা সৃষ্টি শুরু করছেন। গত ১৮ তারিখ মঙ্গলবার বিকেলে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা অফিসে উক্ত স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি ভোটের মাধ্যমে সভাপতি পদে বদরুল আলম আন্টু নির্বাচিত হলে বক্করের সশস্ত্র বাহিনী সঙ্গে নিয়ে উপজেলা অফিসেই প্রধান শিক্ষককে মারধর করেন এবং দুই জন শিক্ষককে কিডন্যাপ করে নিয়ে চলে যান। পরে তাদেরকে বিত্তিপাড়া বাজারে ছেড়ে দেয়া হয় বলে বর্তমান সভাপতি জানান।

 

ঠিক ওই সময়ে কুষ্টিয়া মডেল ফোর্স হাজির হলে দ্রুত গতিতে তারা ওখান থেকে পালিয়ে যায়। উপজেলা অফিস থেকে এসে সন্ধ্যা ৬টার সময় বিত্তিপাড়া বাজারে তার সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী নিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে প্রথমে হামলা করেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আক্কাসের ছোট ভাই সার ব্যবসায়ী ইকলাসের উপর। ওই সময় ইকলাসের দোকান ভাঙচুর সহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাথারি কুপিয়ে জখম করেন ইকলাস ও খয়ের পুর গ্রামের খালেককে। খালেকের মাথায় সজোরে বাকি দিয়ে আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরবর্তীতে এলাকাবাসী তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।

 

 

বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত। ওই সময় দোকানের ক্যাশ ড্রয়ারে থাকা নগদ তিন লক্ষ টাকা ছিনিয়ে নেয় তারা। ইকলাস প্রতিবেদককে জানান, রাজাকারপুত্র বক্করের তিন ছেলে সোহাগ, সৌরভ, সোহান, গাজনবীপুরের জুয়েল, শাজাহান মেম্বার, শাহীন সহ ১৫/১৫ জনের বাহিনী আমার উপর হামলা করে। স্কুলের সভাপতি বদরুল আলম আন্টু বলেন, তারা ইকলাসের দোকান ভাঙচুর ও অর্থ লুটপাট মারধর করে ক্ষান্ত না হয়ে রাতের আধারে চলে যান গজনবীপুর গ্রামে।

 

সেখানে গিয়ে হাসমতের এক ছেলেকে মেরে পা ভেঙে দিয়েছে আরেকজনকে মেরে কালশিরা জখম করেছে। ওই গ্রামের আতিয়ারের ৮টি গরু ও ৭টি ছাগল লুট করে নিয়ে যায় এবং একাধিক ঘরবাড়ি ভাঙচুর করেন। কুষ্টিয়া মডেল থানা সূত্রে জানা গেছে, ইতিমধ্যে আবু বক্কর সিদ্দিকী কে প্রধান আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে যার নং ২২/২০২২। উল্লেখ্য যে রাজাকারপুত্র আবুবকর সিদ্দিকের নামে ইতিপূর্বে কুষ্টিয়া বিশেষ ট্রাইবুনাল আদালতে নাশকতার মামলা রয়েছে যার নং ১৩/২০২১, আরেকটি রয়েছে মার্ডার মামলা যার নং ১৫৩/২০২০।

 

 

এছাড়াও এলাকা সূত্রে জানা যায়, বক্করের পিতার ৩/৪টি বউ ছিল তারও রয়েছে ২/৩ বউ। গাভী সহ বিয়ে করেছেন তিনি। তার তিন সন্তানকে দিয়ে বিত্তিপাড়া বাজারে রাত-দিন ২৪ ঘন্টা ইয়াবার ব্যবসা করে এলাকা নষ্ট করে ফেলেছে। ইতিপূর্বে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার বক্তব্য নেয়া হলে তিনি বলেছিলেন, নির্বাচনের পর বিত্তিপাড়া, উজানগ্রাম, গজনবীপুর এলাকায় রক্তের বন্যায় ভাসবে । নতুন করে তার পিতার মত আরেকটি বধ্যভূমি রচিত করতে যাচ্ছে হাইব্রিড নেতা আবু বক্কর সিদ্দিকী। এলাকাবাসী বলেন, আবু বক্কর সিদ্দিকীর এসকল সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড থেকে রুখতে তাকে জরুরী ভিত্তিতে আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানান প্রশাসনের কাছে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

 

 

 

বগুড়ায় ট্রেন চালকের দক্ষতায় বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে দোলন চাঁপা আন্তঃনগর ট্রেন। ওই ঘটনায় দু’জন আহত হলেও কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছেন। রেল লাইনের উপর অবৈধ দোকানগুলো ওই দুর্ঘটনার কারণ বলে জানিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় লোকজন।

বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে মাত্র ত্রিশ গজ দূরেই এক যুগেরও বেশি সময় ধরে (বগুড়া রেলস্টেশন থেকে একনম্বর ঘুমটি পর্যন্ত ) প্রায় তিন শতাধিক অবৈধ কাপড়ের দোকান রেল লাইনের উপর রয়েছে। বগুড়ার পুরাতন কাপড়ের বড় মার্কেট এটি। পরিচিত ‘হঠাৎ মার্কেট’ হিসেবে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েক হাজার ক্রেতার সমাগম ঘটে। বছরে একবার করে রেল থেকে ওইসব দোকান উচ্ছেদ করলেও দুই তিনদিন পরে আবারও দোকান আগের মতো বসে। মূল রেল লাইনের উপর তাঁবু টানিয়ে এসব দোকান বসানো হয়েছে। ট্রেন চলে আসলেই দ্রুত তাবুগুলো সরে ফেলা হয়। কয়েক বছরে প্রায় ৭-৮ জন ক্রেতা এবং বিক্রেতার প্রাণহানি ঘটেছে এই হঠাৎ মার্কেটে।

বগুড়ার রেলস্টেশনের স্টেশন মাষ্টার আবুল কাশেম জানান, দুপুর ১১টায় দোলন চাঁটা আন্তঃনগর ট্রেন বোনারপাড়া থেকে বগুড়ায় আসছিল। অপরদিকে আরেকটি আন্তঃনগর ট্রেন লালমনি এক্সপ্রেক্স ঢাকা থেকে বগুড়া স্টেশনে আসতে থাকে। সিগন্যাল এবং পয়েন্ট ঠিক করে দোলনচাঁপা ট্রেনটির জন্য দুইনম্বর লুপ লাইনে এবং লালমনি এক্সপ্রেক্সকে একনম্বর লাইনে আসার নির্দেশনা ঠিক করা হয়। দোলনচাঁপা ট্রেনটি হুইসেল দিতে দিতে দুই নম্বর লুপ লাইন দিয়ে স্টেশনে আসতে থাকে।

‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদারদের জানা ছিল ওই ট্রেনটি একনম্বর লাইন দিয়ে আসবে। তাই তারা দোকানের তাবু সরাইনি। কিন্তু যখন ট্রেনটি দুইনম্বর লুপ লাইন দিয়ে হুইসেল দিতে দিতে আসতে থাকে তখন দোকানদার এবং ক্রেতারা চিৎকার করে এদিক ওদিক দৌড়ে পালাতে থাকে। ট্রেন চালক দ্রুততার সাথে ট্রেনটি ব্রেক করায় দোকানের মালামাল নষ্ট হলেও কোন প্রাণ হানি ঘটেনি। নইলে অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারতো।

তিনি আরও জানান, গত ১৯ নভেম্বর লালমনিহাট থেকে বিভাগীয় ভূ-সম্পদ কর্মকর্তাসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা স্টেশনের পাশের একটি মার্কেটের প্রায় দুইশতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়ার সময় ‘হঠাৎ মার্কেট’দুইদিন বন্ধ ছিল। পরে ২২ নভেম্বর আবারও ‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদাররা তাদের দোকান বসায়। এ বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে রেল স্টেশন সীমানার মধ্যে এবং লাইনের উপর অবৈধ দোকান উচ্ছেদের জন্য ২৩ নভেম্বর চিঠি দেয়া হয়।

স্টেশন মাষ্টার আরও জানান, রেল লাইন থেকে দুই পাশের ১০ ফুট করে জায়গা ১৪৪ ধারা সবসময়ের জন্য জারী থাকরেও এসব কেউ মানছেনা। স্টেশন মাষ্টার অভিযোগ করে বলেন, সিগন্যাল এবং পয়েন্টের তারের উপর অবৈধ দোকান বসার কারনে অনেক সময় সঠিকভাবে সিগন্যাল ও পয়েন্ট করা সম্ভব হয়না। অথচ, ট্রেনের আসা যাওয়ার মূল বিষয়টি হলো সিগন্যাল এবং পয়েন্ট।

বগুড়া রেল স্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারী শাহীন আলম জানান, রেল লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী ইন্সপেক্টর রায়হান কবীরের কারণেই রেল লাইনের উপর অবৈধ হঠাৎ মার্কেট গড়ে উঠেছে। লাইনের উপর নিরাপত্তার দায়িত্ব তার থাকলেও প্রতিদিন লাইনের উপর মার্কেট দেখার পরেও উনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে দোকানদারদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন।

তবে রায়হান কবীর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়, লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্ব আপনার থাকলেও কেন ওইসব দোকান দেখেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। তিনি জানান, বিষয়গুলো উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ জানেন।

বগুড়া জিআরপি ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর কায়কোবাদ জানান, ঘটনাটি জানার পরে সেখানে আমরা দ্রুত যাই। কিন্তু কোনো আহত কিংবা নিহত ব্যক্তির খোঁজ পাইনি। তবে আশেপাশের লোকজন জানিয়েছেন, চার-পাঁচজন ক্রেতা আহত হয়েছেন।
বগুড়া ফায়ার স্টেশনের সিনিয়ন স্টেশন মাষ্টার বজলুর রশিদ জানান, দুইজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন, গাবতলী উপজেলার রুমি খাতুন (৩০) এবং দুপচাঁচিয়া উপজেলার মানিক (৫৫)। তাদের শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে আরও কয়েকজনের কথা শুনলেও তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।

রেল লাইনের পাশের স্থানীয় ব্যবসায়ী নাম না প্রকাশে ইচ্ছুক কয়েকজন জানান, গত ৫/৬ বছরে প্রায় ৭-৮জন ট্রেনে কেটে হঠাৎ মার্কেটে মারা গেছে। এদের মধ্যে ক্রেতা এবং দোকানদারও ছিল। বুধবার যদি ট্রেনের চালক দ্রুত ব্রেক না করতো তাহলে কয়েক’শ লোকের প্রাণহানি ঘটতো।

কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছে ট্রেন চালকের দক্ষতায়