কুষ্টিয়ায় শেখ কামাল স্টেডিয়ামের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

 কে এম শাহীন রেজা কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি।।
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৩ জানুয়ারী, ২০২২
  • ১৩৪ বার পঠিত

 

কুষ্টিয়া শহরের পুরানো ষ্টেডিয়াম ভেঙে নতুন করে ৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক স্টেডিয়াম নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় জাহিদ আহসান রাসেল এমপি। ১৩ তারিখ বৃহস্পতিবার বিকালে এ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ এমপি।

প্রধান অতিথি হিসেবে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান বলেন কুষ্টিয়াতে প্রায় অর্ধশতক কোটি টাকায় নির্মাণ করা হবে শেখ কামাল ষ্টেডিয়াম। এর সাথে সুইমিংপুলের আধুনিক করা হবে বলে তিনি জানান। তিনি আরও বলেন জাতীয় মানের এই ষ্টেডিয়াম হলে দেশের অনেক বড় বড় খেলা জাতীয় বা আন্তজার্তিক টুনার্মেন্ট অনুষ্ঠিত হবে। বিভিন্ন জেলায় ফুটবল বা ক্রিকেট খেলতে পারে সেজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি করে ষ্টেডিয়াম তৈরি করে দিচ্ছেন। ক্রিকেট বোর্ড বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকে অনুরোধ করে বলেন ষ্টেডিয়ামটি তৈরী হলে এ মাঠে খেলার জন্য আহবান জানান না হলে সবকিছুই বৃথা যাবে বলে মনে করেন।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার সন্তান জাতীয় সংসদ সদস্য মাহাবুব উল আলম হানিফ এমপিকে ষ্টেডিয়ামকে অধিক মনোযোগ সহকারে এগিয়ে নিয়ে আসার জন্য ধন্যবাদ জানান। ইন্টারন্যাশনাল ভেনু উন্নতি করণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন ইন্টারন্যাশনাল খেলোয়ারদের জন্য যা যা কিছু প্রয়োজন এখানে দেওয়া হবে। তবে এ বিষয়ে ফেডারেশনের সহযোগিতা চেয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, কুষ্টিয়া জেলাতে অনেক খ্যাতিম্যান খেলোয়ার তৈরী হয়েছে এবং তারা আজ জাতীয় দলে খেলাধুলা করছে। সেই প্রত্যশা আজ পুরন করতে চলেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিনি একজন ক্রীড়াবান্ধব একজন প্রধানমন্ত্রী। আজ যুবকরা মাদকের সাথে ঝুঁকে পড়েছে। মাদক থেকে বেড়িয়ে আসতে পারে সেজন্য এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ হাসান রাসেল একজন ক্রীড়া প্রেমিক। তাই তার উপর দায়িত্ব দিয়েছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর পদ। যাতে করে সারা মানুষের সাথে নতুন করে সাজানো যায় ক্রীড়া বিষয়ে নিয়ে। আমাদের সবার ইচ্ছা আছে কুষ্টিয়াতে আন্তজার্তিক মানের ষ্টেডিয়াম হোক। তবে দেশের বাহিরের আগত অতিথিদের থাকার জন্য সুন্দর পরিবেশে হোটেল থাকলে হতে পারে মানসম্মত ষ্টেডিয়াম।

জেলা প্রশাসক ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি মোহাম্মদ সাইদুল ইসলামের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কুষ্টিয়া-১ আসনের (দৌলতপুর) সংসদ সদস্য আ ক ম সরওয়ার জাহান বাদশাহ, কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জ, পুলিশ সুপার মো. খাইরুল আলম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী, মিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামারুল আরেফিনসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ কুষ্টিয়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

 

 

 

বগুড়ায় ট্রেন চালকের দক্ষতায় বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে দোলন চাঁপা আন্তঃনগর ট্রেন। ওই ঘটনায় দু’জন আহত হলেও কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছেন। রেল লাইনের উপর অবৈধ দোকানগুলো ওই দুর্ঘটনার কারণ বলে জানিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় লোকজন।

বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে মাত্র ত্রিশ গজ দূরেই এক যুগেরও বেশি সময় ধরে (বগুড়া রেলস্টেশন থেকে একনম্বর ঘুমটি পর্যন্ত ) প্রায় তিন শতাধিক অবৈধ কাপড়ের দোকান রেল লাইনের উপর রয়েছে। বগুড়ার পুরাতন কাপড়ের বড় মার্কেট এটি। পরিচিত ‘হঠাৎ মার্কেট’ হিসেবে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েক হাজার ক্রেতার সমাগম ঘটে। বছরে একবার করে রেল থেকে ওইসব দোকান উচ্ছেদ করলেও দুই তিনদিন পরে আবারও দোকান আগের মতো বসে। মূল রেল লাইনের উপর তাঁবু টানিয়ে এসব দোকান বসানো হয়েছে। ট্রেন চলে আসলেই দ্রুত তাবুগুলো সরে ফেলা হয়। কয়েক বছরে প্রায় ৭-৮ জন ক্রেতা এবং বিক্রেতার প্রাণহানি ঘটেছে এই হঠাৎ মার্কেটে।

বগুড়ার রেলস্টেশনের স্টেশন মাষ্টার আবুল কাশেম জানান, দুপুর ১১টায় দোলন চাঁটা আন্তঃনগর ট্রেন বোনারপাড়া থেকে বগুড়ায় আসছিল। অপরদিকে আরেকটি আন্তঃনগর ট্রেন লালমনি এক্সপ্রেক্স ঢাকা থেকে বগুড়া স্টেশনে আসতে থাকে। সিগন্যাল এবং পয়েন্ট ঠিক করে দোলনচাঁপা ট্রেনটির জন্য দুইনম্বর লুপ লাইনে এবং লালমনি এক্সপ্রেক্সকে একনম্বর লাইনে আসার নির্দেশনা ঠিক করা হয়। দোলনচাঁপা ট্রেনটি হুইসেল দিতে দিতে দুই নম্বর লুপ লাইন দিয়ে স্টেশনে আসতে থাকে।

‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদারদের জানা ছিল ওই ট্রেনটি একনম্বর লাইন দিয়ে আসবে। তাই তারা দোকানের তাবু সরাইনি। কিন্তু যখন ট্রেনটি দুইনম্বর লুপ লাইন দিয়ে হুইসেল দিতে দিতে আসতে থাকে তখন দোকানদার এবং ক্রেতারা চিৎকার করে এদিক ওদিক দৌড়ে পালাতে থাকে। ট্রেন চালক দ্রুততার সাথে ট্রেনটি ব্রেক করায় দোকানের মালামাল নষ্ট হলেও কোন প্রাণ হানি ঘটেনি। নইলে অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারতো।

তিনি আরও জানান, গত ১৯ নভেম্বর লালমনিহাট থেকে বিভাগীয় ভূ-সম্পদ কর্মকর্তাসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা স্টেশনের পাশের একটি মার্কেটের প্রায় দুইশতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়ার সময় ‘হঠাৎ মার্কেট’দুইদিন বন্ধ ছিল। পরে ২২ নভেম্বর আবারও ‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদাররা তাদের দোকান বসায়। এ বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে রেল স্টেশন সীমানার মধ্যে এবং লাইনের উপর অবৈধ দোকান উচ্ছেদের জন্য ২৩ নভেম্বর চিঠি দেয়া হয়।

স্টেশন মাষ্টার আরও জানান, রেল লাইন থেকে দুই পাশের ১০ ফুট করে জায়গা ১৪৪ ধারা সবসময়ের জন্য জারী থাকরেও এসব কেউ মানছেনা। স্টেশন মাষ্টার অভিযোগ করে বলেন, সিগন্যাল এবং পয়েন্টের তারের উপর অবৈধ দোকান বসার কারনে অনেক সময় সঠিকভাবে সিগন্যাল ও পয়েন্ট করা সম্ভব হয়না। অথচ, ট্রেনের আসা যাওয়ার মূল বিষয়টি হলো সিগন্যাল এবং পয়েন্ট।

বগুড়া রেল স্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারী শাহীন আলম জানান, রেল লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী ইন্সপেক্টর রায়হান কবীরের কারণেই রেল লাইনের উপর অবৈধ হঠাৎ মার্কেট গড়ে উঠেছে। লাইনের উপর নিরাপত্তার দায়িত্ব তার থাকলেও প্রতিদিন লাইনের উপর মার্কেট দেখার পরেও উনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে দোকানদারদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন।

তবে রায়হান কবীর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়, লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্ব আপনার থাকলেও কেন ওইসব দোকান দেখেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। তিনি জানান, বিষয়গুলো উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ জানেন।

বগুড়া জিআরপি ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর কায়কোবাদ জানান, ঘটনাটি জানার পরে সেখানে আমরা দ্রুত যাই। কিন্তু কোনো আহত কিংবা নিহত ব্যক্তির খোঁজ পাইনি। তবে আশেপাশের লোকজন জানিয়েছেন, চার-পাঁচজন ক্রেতা আহত হয়েছেন।
বগুড়া ফায়ার স্টেশনের সিনিয়ন স্টেশন মাষ্টার বজলুর রশিদ জানান, দুইজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন, গাবতলী উপজেলার রুমি খাতুন (৩০) এবং দুপচাঁচিয়া উপজেলার মানিক (৫৫)। তাদের শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে আরও কয়েকজনের কথা শুনলেও তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।

রেল লাইনের পাশের স্থানীয় ব্যবসায়ী নাম না প্রকাশে ইচ্ছুক কয়েকজন জানান, গত ৫/৬ বছরে প্রায় ৭-৮জন ট্রেনে কেটে হঠাৎ মার্কেটে মারা গেছে। এদের মধ্যে ক্রেতা এবং দোকানদারও ছিল। বুধবার যদি ট্রেনের চালক দ্রুত ব্রেক না করতো তাহলে কয়েক’শ লোকের প্রাণহানি ঘটতো।

কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছে ট্রেন চালকের দক্ষতায়