কুষ্টিয়ায় সাংবাদিক ফারুক আহমেদ পিনু’র ৪র্থ মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

কে এম শাহীন রেজা, কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৯ আগস্ট, ২০২১
  • ১১৯ বার পঠিত

 

বে-সরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন এনটিভির স্টাফ করেসপনডেন্ট প্রয়াত সাংবাদিক ফারুক আহমেদ পিনুর চতুর্থ মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে মরহুমের আত্বার মাগফেরাত কামনায় দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার বাদ জোহর সর্বস্তরের সাংবাদিকদের আয়োজনে শহরের হাসপাতাল মোড়স্থ দৈনিক সময়ের দিগন্ত পত্রিকা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উক্ত দোয়া অনুষ্ঠানে কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সদ্য বিদায়ী সাধারন সম্পাদক, দৈনিক আন্দোলনের বাজার পত্রিকার সম্পাদক ও চ্যানেল আই এর কুষ্টিয়া প্রতিনিধি আনিসুজ্জামান ডাবলু, দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি আল-মামুন সাগর, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা(বাসস), এসএ টিভির কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ও দৈনিক কুষ্টিয়ার কাগজের সম্পাদক নুর-আলম দুলাল, দৈনিক কুষ্টিয়ার দর্পন পত্রিকার সম্পাদক মজিবুল শেখ।
নিউজ টোয়েন্টি ফোর টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার জাহিদুজ্জামান, মাইটিভির কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ও দৈনিক হাওয়া পত্রিকার সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক বাচ্চু, একুশে টেলিভিশনের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি জহুরুল ইসলাম, বিটিভির কুষ্টিয়া প্রতিনিধি মোঃ তরিকুল ইসলাম, বৈশাখী টেলিভিশনের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি রবিউল ইসলাম দোলন, ডিবিসি টেলিভিশন ও দৈনিক সমকালের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি সাজ্জাদ রানা, আরটিভির স্টাফ রিপোর্টার শেখ হাসান বেলাল, এনটিভির কুষ্টিয়া প্রতিনিধি সাবিনা ইয়াসমিন শ্যামলী, দৈনিক সময়ের দিগন্ত পত্রিকার সম্পাদক নাহিদ হাসান তিতাস, দৈনিক প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক তৌহিদ হাসান, দৈনিক যুগান্তরের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ও দৈনিক কুষ্টিয়ার খবর পত্রিকার সম্পাদক এম জুবায়ের রিপন, যমুনা টিভির কুষ্টিয়া প্রতিনিধি মাহাতাব উদ্দিন লালন, বাংলা টিভির কুষ্টিয়া প্রতিনিধি এম. লিটন-উজ-জামান, দীপ্ত টিভির কুষ্টিয়া প্রতিনিধি দেবেশ চন্দ্র সরকার, দৈনিক গণকন্ঠের কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি কে এম শাহীন রেজা, দৈনিক দিনের খবর পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, সাংবাদিক মেজবা উদ্দিন পলাশ, আলেক চাঁদ, দৈনিক ভোরের দর্পনের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি আরিফুজ্জামান আরিফ, দৈনিক দেশকালের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি নিয়ামুল হক, সাংবাদিক রেজা আহমেদ জয়, আরেফিন সাগর, খাইরুল ইসলাম সম্রাট, শেখ মিলন, স্বাধীন, টেলিভিশন ক্যামেরা পার্সন এ্যাসোসিয়েশন (টিসিএ) কুষ্টিয়ার সভাপতি মোঃ আশিফুজ্জামান সারফু, সাধারন সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব সহ জেলায় কর্মরত গনমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। দোয়া পরিচালনা করেন দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকার কুষ্টিয়া প্রতিনিধি নুরুল কাদের।

বিকেলে ভেড়ামারা উপজেলার গোলাপনগর মহারাজপুর গোরস্থানে প্রয়াত সাংবাদিক ফারুক আহমেদ পিনুর কবর জিয়ারত ও পুস্পস্তবক অর্পণ করেন সাংবাদিক বৃন্দ।
এছাড়াও মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পরিবারের পক্ষ থেকে ৬ আগষ্ট বাড়াদী উত্তরপাড়ায় দোয়া মাহফিল ও অসহায়দের মাঝে খাদ্য বিতরণ ও ৭ আগষ্ট কুষ্টিয়ার ঈদগাহপাড়ায় আল-আমিন এতিমখানায় দোয়া ও এতিমদের মাঝে খাদ্য বিতরণ করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ৮ই আগষ্ট কলকাতার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফারুক আহমেদ পিনু মৃত্যুবরণ করেন। দিবসটি উপলক্ষে পরিবারের পক্ষ থেকে ৬,৭ ও ৮ই আগষ্ট ৩দিন ব্যপী দোয়া ও এতিম এবং অসহায়দের মাঝে খাদ্য বিতরনের আয়োজন করা হয়।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

 

 

 

বগুড়ায় ট্রেন চালকের দক্ষতায় বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে দোলন চাঁপা আন্তঃনগর ট্রেন। ওই ঘটনায় দু’জন আহত হলেও কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছেন। রেল লাইনের উপর অবৈধ দোকানগুলো ওই দুর্ঘটনার কারণ বলে জানিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় লোকজন।

বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে মাত্র ত্রিশ গজ দূরেই এক যুগেরও বেশি সময় ধরে (বগুড়া রেলস্টেশন থেকে একনম্বর ঘুমটি পর্যন্ত ) প্রায় তিন শতাধিক অবৈধ কাপড়ের দোকান রেল লাইনের উপর রয়েছে। বগুড়ার পুরাতন কাপড়ের বড় মার্কেট এটি। পরিচিত ‘হঠাৎ মার্কেট’ হিসেবে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েক হাজার ক্রেতার সমাগম ঘটে। বছরে একবার করে রেল থেকে ওইসব দোকান উচ্ছেদ করলেও দুই তিনদিন পরে আবারও দোকান আগের মতো বসে। মূল রেল লাইনের উপর তাঁবু টানিয়ে এসব দোকান বসানো হয়েছে। ট্রেন চলে আসলেই দ্রুত তাবুগুলো সরে ফেলা হয়। কয়েক বছরে প্রায় ৭-৮ জন ক্রেতা এবং বিক্রেতার প্রাণহানি ঘটেছে এই হঠাৎ মার্কেটে।

বগুড়ার রেলস্টেশনের স্টেশন মাষ্টার আবুল কাশেম জানান, দুপুর ১১টায় দোলন চাঁটা আন্তঃনগর ট্রেন বোনারপাড়া থেকে বগুড়ায় আসছিল। অপরদিকে আরেকটি আন্তঃনগর ট্রেন লালমনি এক্সপ্রেক্স ঢাকা থেকে বগুড়া স্টেশনে আসতে থাকে। সিগন্যাল এবং পয়েন্ট ঠিক করে দোলনচাঁপা ট্রেনটির জন্য দুইনম্বর লুপ লাইনে এবং লালমনি এক্সপ্রেক্সকে একনম্বর লাইনে আসার নির্দেশনা ঠিক করা হয়। দোলনচাঁপা ট্রেনটি হুইসেল দিতে দিতে দুই নম্বর লুপ লাইন দিয়ে স্টেশনে আসতে থাকে।

‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদারদের জানা ছিল ওই ট্রেনটি একনম্বর লাইন দিয়ে আসবে। তাই তারা দোকানের তাবু সরাইনি। কিন্তু যখন ট্রেনটি দুইনম্বর লুপ লাইন দিয়ে হুইসেল দিতে দিতে আসতে থাকে তখন দোকানদার এবং ক্রেতারা চিৎকার করে এদিক ওদিক দৌড়ে পালাতে থাকে। ট্রেন চালক দ্রুততার সাথে ট্রেনটি ব্রেক করায় দোকানের মালামাল নষ্ট হলেও কোন প্রাণ হানি ঘটেনি। নইলে অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারতো।

তিনি আরও জানান, গত ১৯ নভেম্বর লালমনিহাট থেকে বিভাগীয় ভূ-সম্পদ কর্মকর্তাসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা স্টেশনের পাশের একটি মার্কেটের প্রায় দুইশতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়ার সময় ‘হঠাৎ মার্কেট’দুইদিন বন্ধ ছিল। পরে ২২ নভেম্বর আবারও ‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদাররা তাদের দোকান বসায়। এ বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে রেল স্টেশন সীমানার মধ্যে এবং লাইনের উপর অবৈধ দোকান উচ্ছেদের জন্য ২৩ নভেম্বর চিঠি দেয়া হয়।

স্টেশন মাষ্টার আরও জানান, রেল লাইন থেকে দুই পাশের ১০ ফুট করে জায়গা ১৪৪ ধারা সবসময়ের জন্য জারী থাকরেও এসব কেউ মানছেনা। স্টেশন মাষ্টার অভিযোগ করে বলেন, সিগন্যাল এবং পয়েন্টের তারের উপর অবৈধ দোকান বসার কারনে অনেক সময় সঠিকভাবে সিগন্যাল ও পয়েন্ট করা সম্ভব হয়না। অথচ, ট্রেনের আসা যাওয়ার মূল বিষয়টি হলো সিগন্যাল এবং পয়েন্ট।

বগুড়া রেল স্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারী শাহীন আলম জানান, রেল লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী ইন্সপেক্টর রায়হান কবীরের কারণেই রেল লাইনের উপর অবৈধ হঠাৎ মার্কেট গড়ে উঠেছে। লাইনের উপর নিরাপত্তার দায়িত্ব তার থাকলেও প্রতিদিন লাইনের উপর মার্কেট দেখার পরেও উনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে দোকানদারদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন।

তবে রায়হান কবীর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়, লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্ব আপনার থাকলেও কেন ওইসব দোকান দেখেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। তিনি জানান, বিষয়গুলো উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ জানেন।

বগুড়া জিআরপি ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর কায়কোবাদ জানান, ঘটনাটি জানার পরে সেখানে আমরা দ্রুত যাই। কিন্তু কোনো আহত কিংবা নিহত ব্যক্তির খোঁজ পাইনি। তবে আশেপাশের লোকজন জানিয়েছেন, চার-পাঁচজন ক্রেতা আহত হয়েছেন।
বগুড়া ফায়ার স্টেশনের সিনিয়ন স্টেশন মাষ্টার বজলুর রশিদ জানান, দুইজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন, গাবতলী উপজেলার রুমি খাতুন (৩০) এবং দুপচাঁচিয়া উপজেলার মানিক (৫৫)। তাদের শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে আরও কয়েকজনের কথা শুনলেও তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।

রেল লাইনের পাশের স্থানীয় ব্যবসায়ী নাম না প্রকাশে ইচ্ছুক কয়েকজন জানান, গত ৫/৬ বছরে প্রায় ৭-৮জন ট্রেনে কেটে হঠাৎ মার্কেটে মারা গেছে। এদের মধ্যে ক্রেতা এবং দোকানদারও ছিল। বুধবার যদি ট্রেনের চালক দ্রুত ব্রেক না করতো তাহলে কয়েক’শ লোকের প্রাণহানি ঘটতো।

কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছে ট্রেন চালকের দক্ষতায়