কুষ্টিয়ায় ৪৪ কোটি টাকায় নির্মিত হচ্ছে আধুনিক স্টেডিয়াম

কে এম শাহীন রেজা, কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি।।
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২১
  • ১৫৫ বার পঠিত

 

৪৪ কটি টাকা ব্যয়ে কুষ্টিয়ায় নির্মিত হচ্ছে খুলনা বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বড় ও আধুনিক ও আন্তর্জাতিকমানের শেখ কামাল স্টেডিয়াম। ১৩ একর জায়গা নিয়ে প্রায় ৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে এই স্টেডিয়ামটি। এরই মধ্যে স্টেডিয়ামটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। ২০২৩ সালে স্টেডিয়ামটি উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত এই স্টেডিয়ামটি নির্মাণ শেষ হলে দীর্ঘদিনের ঝিমিয়ে পড়া কুষ্টিয়া জেলার ক্রীড়াঙ্গণ আবারও প্রাণ ফিরে পাবে।

দেশের ক্রীড়াঙ্গণে কুষ্টিয়া জেলার অসামান্য অবদান রয়েছে। এই মাঠ থেকেই উঠে এসেছেন জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমন, মোহাম্মদ মিথুন, এনামুল হক, বিজয়দের মত তারকা সব খেলোয়াড়। ক্রিকেটের পাশাপাশি ফুটবলেও আকরাম, আশরাফুলের মত তারকা খেলোয়াড়দের জন্ম এই কুষ্টিয়া জেলায়।

কিন্তু ভালো মানের স্টেডিয়ামসহ নানা সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে জেলার ক্রীড়াঙ্গণ যেন অনেকটায় ঝিমিয়ে পড়েছে। তবে দেরিতে হলেও কুষ্টিয়ায় নির্মিত হচ্ছে শেখ কামাল স্টেডিয়াম। পুরনো স্টেডিয়াম ভেঙে প্রায় ৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে সেখানে নির্মিত হচ্ছে আধুনিক মানের আন্তর্জাতিক এই স্টেডিয়ামটি। আন্তর্জাতিক মানের এই স্টেডিয়ামের নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ায় খুশি জেলার ক্রীড়াঙ্গনের সাবেক ও বর্তমান খেলোয়াড়রাও। তাঁরা দ্রুত এই স্টেডিয়ামটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার দাবি জানান।

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের নির্বাচক কুষ্টিয়ার কৃতি সন্তান হাবিবুল বাশার বলেন, শেখ কামাল স্টেডিয়ামটি হবে আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম। আমরা এখানে বসেই আন্তর্জাতিকমানের খেলা দেখার সুযোগ পাবো। এটি কুষ্টিয়াবাসীর জন্য একটি বড় অর্জন বলে তিনি মনে করেন।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফ এমপি জানিয়েছেন, বিভিন্ন গুণে গুণান্বিত শেখ কামাল। তার নামেই নামকরণ করা হয়েছে এই স্টেডিয়ামটি। এটি নির্মাণ সম্পন্ন হলে কুষ্টিয়ার ক্রীড়াঙ্গণে এক নবদিগন্তের সূচনা হবে বলে তিনি মনে করেন।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

 

 

 

বগুড়ায় ট্রেন চালকের দক্ষতায় বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে দোলন চাঁপা আন্তঃনগর ট্রেন। ওই ঘটনায় দু’জন আহত হলেও কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছেন। রেল লাইনের উপর অবৈধ দোকানগুলো ওই দুর্ঘটনার কারণ বলে জানিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় লোকজন।

বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে মাত্র ত্রিশ গজ দূরেই এক যুগেরও বেশি সময় ধরে (বগুড়া রেলস্টেশন থেকে একনম্বর ঘুমটি পর্যন্ত ) প্রায় তিন শতাধিক অবৈধ কাপড়ের দোকান রেল লাইনের উপর রয়েছে। বগুড়ার পুরাতন কাপড়ের বড় মার্কেট এটি। পরিচিত ‘হঠাৎ মার্কেট’ হিসেবে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েক হাজার ক্রেতার সমাগম ঘটে। বছরে একবার করে রেল থেকে ওইসব দোকান উচ্ছেদ করলেও দুই তিনদিন পরে আবারও দোকান আগের মতো বসে। মূল রেল লাইনের উপর তাঁবু টানিয়ে এসব দোকান বসানো হয়েছে। ট্রেন চলে আসলেই দ্রুত তাবুগুলো সরে ফেলা হয়। কয়েক বছরে প্রায় ৭-৮ জন ক্রেতা এবং বিক্রেতার প্রাণহানি ঘটেছে এই হঠাৎ মার্কেটে।

বগুড়ার রেলস্টেশনের স্টেশন মাষ্টার আবুল কাশেম জানান, দুপুর ১১টায় দোলন চাঁটা আন্তঃনগর ট্রেন বোনারপাড়া থেকে বগুড়ায় আসছিল। অপরদিকে আরেকটি আন্তঃনগর ট্রেন লালমনি এক্সপ্রেক্স ঢাকা থেকে বগুড়া স্টেশনে আসতে থাকে। সিগন্যাল এবং পয়েন্ট ঠিক করে দোলনচাঁপা ট্রেনটির জন্য দুইনম্বর লুপ লাইনে এবং লালমনি এক্সপ্রেক্সকে একনম্বর লাইনে আসার নির্দেশনা ঠিক করা হয়। দোলনচাঁপা ট্রেনটি হুইসেল দিতে দিতে দুই নম্বর লুপ লাইন দিয়ে স্টেশনে আসতে থাকে।

‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদারদের জানা ছিল ওই ট্রেনটি একনম্বর লাইন দিয়ে আসবে। তাই তারা দোকানের তাবু সরাইনি। কিন্তু যখন ট্রেনটি দুইনম্বর লুপ লাইন দিয়ে হুইসেল দিতে দিতে আসতে থাকে তখন দোকানদার এবং ক্রেতারা চিৎকার করে এদিক ওদিক দৌড়ে পালাতে থাকে। ট্রেন চালক দ্রুততার সাথে ট্রেনটি ব্রেক করায় দোকানের মালামাল নষ্ট হলেও কোন প্রাণ হানি ঘটেনি। নইলে অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারতো।

তিনি আরও জানান, গত ১৯ নভেম্বর লালমনিহাট থেকে বিভাগীয় ভূ-সম্পদ কর্মকর্তাসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা স্টেশনের পাশের একটি মার্কেটের প্রায় দুইশতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়ার সময় ‘হঠাৎ মার্কেট’দুইদিন বন্ধ ছিল। পরে ২২ নভেম্বর আবারও ‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদাররা তাদের দোকান বসায়। এ বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে রেল স্টেশন সীমানার মধ্যে এবং লাইনের উপর অবৈধ দোকান উচ্ছেদের জন্য ২৩ নভেম্বর চিঠি দেয়া হয়।

স্টেশন মাষ্টার আরও জানান, রেল লাইন থেকে দুই পাশের ১০ ফুট করে জায়গা ১৪৪ ধারা সবসময়ের জন্য জারী থাকরেও এসব কেউ মানছেনা। স্টেশন মাষ্টার অভিযোগ করে বলেন, সিগন্যাল এবং পয়েন্টের তারের উপর অবৈধ দোকান বসার কারনে অনেক সময় সঠিকভাবে সিগন্যাল ও পয়েন্ট করা সম্ভব হয়না। অথচ, ট্রেনের আসা যাওয়ার মূল বিষয়টি হলো সিগন্যাল এবং পয়েন্ট।

বগুড়া রেল স্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারী শাহীন আলম জানান, রেল লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী ইন্সপেক্টর রায়হান কবীরের কারণেই রেল লাইনের উপর অবৈধ হঠাৎ মার্কেট গড়ে উঠেছে। লাইনের উপর নিরাপত্তার দায়িত্ব তার থাকলেও প্রতিদিন লাইনের উপর মার্কেট দেখার পরেও উনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে দোকানদারদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন।

তবে রায়হান কবীর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়, লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্ব আপনার থাকলেও কেন ওইসব দোকান দেখেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। তিনি জানান, বিষয়গুলো উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ জানেন।

বগুড়া জিআরপি ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর কায়কোবাদ জানান, ঘটনাটি জানার পরে সেখানে আমরা দ্রুত যাই। কিন্তু কোনো আহত কিংবা নিহত ব্যক্তির খোঁজ পাইনি। তবে আশেপাশের লোকজন জানিয়েছেন, চার-পাঁচজন ক্রেতা আহত হয়েছেন।
বগুড়া ফায়ার স্টেশনের সিনিয়ন স্টেশন মাষ্টার বজলুর রশিদ জানান, দুইজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন, গাবতলী উপজেলার রুমি খাতুন (৩০) এবং দুপচাঁচিয়া উপজেলার মানিক (৫৫)। তাদের শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে আরও কয়েকজনের কথা শুনলেও তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।

রেল লাইনের পাশের স্থানীয় ব্যবসায়ী নাম না প্রকাশে ইচ্ছুক কয়েকজন জানান, গত ৫/৬ বছরে প্রায় ৭-৮জন ট্রেনে কেটে হঠাৎ মার্কেটে মারা গেছে। এদের মধ্যে ক্রেতা এবং দোকানদারও ছিল। বুধবার যদি ট্রেনের চালক দ্রুত ব্রেক না করতো তাহলে কয়েক’শ লোকের প্রাণহানি ঘটতো।

কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছে ট্রেন চালকের দক্ষতায়