কুষ্টিয়া কয়া ইউপির চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আরজুর জনপ্রিয়তা শীর্ষে

কে এম শাহীন রেজা কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি।।
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৩১ মে, ২০২১
  • ৪৩ বার পঠিত




আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নির্বাচনীয় প্রচারণায় শীর্ষস্থানে রয়েছে বিশিষ্ট সমাজসেবক, তরুণ সমাজের অহংকার ও গরিবের বন্ধু রাসেল হোসেন আরজু। আর এই জনপ্রিয়তার দেখে একটি কুচক্রী মহল তার বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত হতে দেখা গেছে এটা নিয়ে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনলাইন, প্রিন্ট মিডিয়াতে লেখালেখি করতেও দেখা গেছে।

দিগন্তে উদ্ভাসিত হয়েছে জাতির জনকের প্রতিশ্রুত সােনার বাংলা প্রতিষ্ঠা করার স্বপ্নে রঙিন তবে কণ্টকাকীর্ণ মহাপথ। মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের একটি মূলমন্ত্র এবারে সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম” আর সেই সংগ্রাম কে রক্ষ করতে কয়া ইউনিয়ন বাসীর আশার প্রদীপ হয়ে প্রতিটা ঘরে ঘরে জ্বলছে আরজু। দারিদ্র্যতা নির্মূল করা এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও গৃহহীনতার সমস্যা সমাধান করে একটি গণতান্ত্রিক, সুশীল ও সমৃদ্ধশালী ইউনিয়ন গড়ার লক্ষে কয়া ইউনিয়ন বাসী রাসেল হোসেন আরজুকে এবারের নির্বাচনে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।

রাসেল হোসেন আরজু কুমারখালী উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসাবে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। রাজনৈতিক দিক দিয়ে তার পরিবার আওয়ামী লীগের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত থেকে রাজনীতি করে যাচ্ছেন দীর্ঘদিন ধরে। এই পরিবারটি কখনও আওয়ামী লীগের বিপক্ষে যেতে দেখেনি ইউনিয়ন বাসী সেই সাথে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবেও প্রার্থিতা করেননি। আওয়ামীলীগ করার ক্ষেত্রে তার পরিবার অনেক বার হামলা-মামলার শিকারও হয়েছে তবুও দমে যাননি আওয়ামী লীগের রাজনীতি থেকে শক্ত মনোবল আর বুকভরা সাহস নিয়ে লড়ে গেছেন রাসেল হোসেন আরজু ।

এদিকে ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী রাসেল হোসেন আরজু প্রতিবেদককে বলেন, আমার পাহাড় সমান জনপ্রিয়তায় দেখে মনগড়া ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রচার করে সুনাম ক্ষুন্ন করার অপপ্রচারে লিপ্ত হয়ে উঠেছেন কয়া ইউনিয়নের কতিপয় কুচক্রী মহল। তিনি আরও বলেন বর্তমান সময়ে কুমারখালী তথা কয়া ইউনিয়নের একজন সহজ সরল পরিচ্ছন্ন কর্মী ও রাজনৈতিক ব্যক্তি হিসাবে হিসেবে ইউনিয়ন বাসীর সুখ-দুঃখের কান্ডারী হয়ে কাজ করে যাচ্ছি।

ইউপি বাসির মুখ থেকে জানা যায়,রাসেল হোসেন আরজু একজন সাদা মনের মানুষ হিসেবে এলাকায় তার জনপ্রিয়তা এখন তুঙ্গে। তার মধ্যে রাজনীতির সঠিক শিষ্টাচার ও ভদ্রতা সবসময় দেখতে আমরা দেখতে পাই। সাংগাঠনিক দক্ষতায় তিনি যেমন সংগঠনের কাছে প্রিয়, ঠিক তেমনি কর্মীদের বিপদে
আপদে সবসময় পাশে দাড়িয়ে কর্মীদের কাছে প্রিয় পাত্র ও আশা ভরসার শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে ইতিমধ্যে।

রাসেল হোসেন আরজুর বাবা ইব্রাহিম আলী ছিলেন কুমারখালী উপজেলা কৃষক লীগের পর পর তিনবার নির্বাচিত সফল সাধারণ সম্পাদক। চারদলীয় বিএনপি
জামায়াতের ভয়াবহ দিনে, আওয়ামীলীগের দুঃসময়ে অত্যাচার ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে তাকে চারদলীয় জোট সরকারের আমলে আওয়ামীলীগের
অসংখ্য নেতাকর্মীদের আটক করা হয় তার মধ্যে ইব্রাহিম আলী ও ছিলেন। চারদলীয় জোট সরকারের ভয়াবহ অপারেশন ক্লিন হার্টের সময়ও তিনি আটক হন। সেদিন একই স্থানে আটকিয়ে রাখা হয় বর্তমান আওয়ামীলীগে প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক বানিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদকেও। আজও রাসেল হোসেন আরজুর বাবা রাজনীতির প্রতিহিংসায় মিথ্যা মামলায় সাজা প্রাপ্তের শিকার হয়ে কারাবন্দি রয়েছেন।

এছাড়া পৌরসভা নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের যারা দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন তাদের তালিকা তৈরি করার নির্দেশ দিয়েছেন দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি এটাও বলেন কোন কোন পৌরসভায় কারা কারা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন, এদের কারা মদদ দিচ্ছেন। দলীয় প্রার্থীর বাইরে গিয়ে কারা বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন বা কাদের প্ররোচণায় দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করছেন তাদের ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এরমধ্যে দলের কেন্দ্রীয় কোনো নেতা বা সংসদ সদস্য আছেন কিনা সে তথ্য তিনি নিতে বলেছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের। শুধু বিদ্রোহী প্রার্থীই নয়, যারা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বিদ্রোহীদের মদদ দিচ্ছেন বা তাদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন তারাও আগামীতেও দলের কোনো মনোনয়ন পাবেন না। এদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

 

 

 

বগুড়ায় ট্রেন চালকের দক্ষতায় বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে দোলন চাঁপা আন্তঃনগর ট্রেন। ওই ঘটনায় দু’জন আহত হলেও কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছেন। রেল লাইনের উপর অবৈধ দোকানগুলো ওই দুর্ঘটনার কারণ বলে জানিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় লোকজন।

বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে মাত্র ত্রিশ গজ দূরেই এক যুগেরও বেশি সময় ধরে (বগুড়া রেলস্টেশন থেকে একনম্বর ঘুমটি পর্যন্ত ) প্রায় তিন শতাধিক অবৈধ কাপড়ের দোকান রেল লাইনের উপর রয়েছে। বগুড়ার পুরাতন কাপড়ের বড় মার্কেট এটি। পরিচিত ‘হঠাৎ মার্কেট’ হিসেবে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েক হাজার ক্রেতার সমাগম ঘটে। বছরে একবার করে রেল থেকে ওইসব দোকান উচ্ছেদ করলেও দুই তিনদিন পরে আবারও দোকান আগের মতো বসে। মূল রেল লাইনের উপর তাঁবু টানিয়ে এসব দোকান বসানো হয়েছে। ট্রেন চলে আসলেই দ্রুত তাবুগুলো সরে ফেলা হয়। কয়েক বছরে প্রায় ৭-৮ জন ক্রেতা এবং বিক্রেতার প্রাণহানি ঘটেছে এই হঠাৎ মার্কেটে।

বগুড়ার রেলস্টেশনের স্টেশন মাষ্টার আবুল কাশেম জানান, দুপুর ১১টায় দোলন চাঁটা আন্তঃনগর ট্রেন বোনারপাড়া থেকে বগুড়ায় আসছিল। অপরদিকে আরেকটি আন্তঃনগর ট্রেন লালমনি এক্সপ্রেক্স ঢাকা থেকে বগুড়া স্টেশনে আসতে থাকে। সিগন্যাল এবং পয়েন্ট ঠিক করে দোলনচাঁপা ট্রেনটির জন্য দুইনম্বর লুপ লাইনে এবং লালমনি এক্সপ্রেক্সকে একনম্বর লাইনে আসার নির্দেশনা ঠিক করা হয়। দোলনচাঁপা ট্রেনটি হুইসেল দিতে দিতে দুই নম্বর লুপ লাইন দিয়ে স্টেশনে আসতে থাকে।

‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদারদের জানা ছিল ওই ট্রেনটি একনম্বর লাইন দিয়ে আসবে। তাই তারা দোকানের তাবু সরাইনি। কিন্তু যখন ট্রেনটি দুইনম্বর লুপ লাইন দিয়ে হুইসেল দিতে দিতে আসতে থাকে তখন দোকানদার এবং ক্রেতারা চিৎকার করে এদিক ওদিক দৌড়ে পালাতে থাকে। ট্রেন চালক দ্রুততার সাথে ট্রেনটি ব্রেক করায় দোকানের মালামাল নষ্ট হলেও কোন প্রাণ হানি ঘটেনি। নইলে অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারতো।

তিনি আরও জানান, গত ১৯ নভেম্বর লালমনিহাট থেকে বিভাগীয় ভূ-সম্পদ কর্মকর্তাসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা স্টেশনের পাশের একটি মার্কেটের প্রায় দুইশতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়ার সময় ‘হঠাৎ মার্কেট’দুইদিন বন্ধ ছিল। পরে ২২ নভেম্বর আবারও ‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদাররা তাদের দোকান বসায়। এ বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে রেল স্টেশন সীমানার মধ্যে এবং লাইনের উপর অবৈধ দোকান উচ্ছেদের জন্য ২৩ নভেম্বর চিঠি দেয়া হয়।

স্টেশন মাষ্টার আরও জানান, রেল লাইন থেকে দুই পাশের ১০ ফুট করে জায়গা ১৪৪ ধারা সবসময়ের জন্য জারী থাকরেও এসব কেউ মানছেনা। স্টেশন মাষ্টার অভিযোগ করে বলেন, সিগন্যাল এবং পয়েন্টের তারের উপর অবৈধ দোকান বসার কারনে অনেক সময় সঠিকভাবে সিগন্যাল ও পয়েন্ট করা সম্ভব হয়না। অথচ, ট্রেনের আসা যাওয়ার মূল বিষয়টি হলো সিগন্যাল এবং পয়েন্ট।

বগুড়া রেল স্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারী শাহীন আলম জানান, রেল লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী ইন্সপেক্টর রায়হান কবীরের কারণেই রেল লাইনের উপর অবৈধ হঠাৎ মার্কেট গড়ে উঠেছে। লাইনের উপর নিরাপত্তার দায়িত্ব তার থাকলেও প্রতিদিন লাইনের উপর মার্কেট দেখার পরেও উনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে দোকানদারদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন।

তবে রায়হান কবীর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়, লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্ব আপনার থাকলেও কেন ওইসব দোকান দেখেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। তিনি জানান, বিষয়গুলো উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ জানেন।

বগুড়া জিআরপি ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর কায়কোবাদ জানান, ঘটনাটি জানার পরে সেখানে আমরা দ্রুত যাই। কিন্তু কোনো আহত কিংবা নিহত ব্যক্তির খোঁজ পাইনি। তবে আশেপাশের লোকজন জানিয়েছেন, চার-পাঁচজন ক্রেতা আহত হয়েছেন।
বগুড়া ফায়ার স্টেশনের সিনিয়ন স্টেশন মাষ্টার বজলুর রশিদ জানান, দুইজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন, গাবতলী উপজেলার রুমি খাতুন (৩০) এবং দুপচাঁচিয়া উপজেলার মানিক (৫৫)। তাদের শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে আরও কয়েকজনের কথা শুনলেও তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।

রেল লাইনের পাশের স্থানীয় ব্যবসায়ী নাম না প্রকাশে ইচ্ছুক কয়েকজন জানান, গত ৫/৬ বছরে প্রায় ৭-৮জন ট্রেনে কেটে হঠাৎ মার্কেটে মারা গেছে। এদের মধ্যে ক্রেতা এবং দোকানদারও ছিল। বুধবার যদি ট্রেনের চালক দ্রুত ব্রেক না করতো তাহলে কয়েক’শ লোকের প্রাণহানি ঘটতো।

কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছে ট্রেন চালকের দক্ষতায়