কুষ্টিয়া জিলা সমিতি ইউএসএ ইনক’র ফ্রী অক্সিজেন সিলিন্ডার বিতরণ

কে এম শাহীন রেজা কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি।।
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৫ জুলাই, ২০২১
  • ৪১ বার পঠিত





‘করোনাকালীন সময়ে কুষ্টিয়াবাসীর পাশে প্রবাস থেকে জনস্বার্থে, আমরা আছি সবসময়’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে কুষ্টিয়া জেলা সমিতি ইউএসএ ইনক কর্তৃক কুষ্টিয়া জেলার ৬ টি উপজেলায় বিনামূল্যে অক্সিজেন সিলিন্ডার বিতরণ করা হয়। গত বুধবার দুপুরে কুষ্টিয়া শহরের লালনশাহ ক্লিনিকের পক্ষে মমিন উপস্থিত থেকে বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিদের হাতে অক্সিজেন সিলিন্ডার তুলে দেওয়া হয়।

এবার কুষ্টিয়ায় করোনা রোগীদের বিনামূল্যে অক্সিজেন সিলিন্ডার বিতরণের মহতি উদ্যোগ নিয়ে দৈনিক ‘প্রতিবাদী কন্ঠের’ মিডিয়া পার্টনারের মাধ্যমে এগিয়ে এলেন আমেরিকা প্রবাসী মানবতার ফেরিওয়ালার এক ঝাঁক তরুণ। এরা সকলেই কুষ্টিয়া জেলার সন্তান, তাদের সংগঠনের নাম কুষ্টিয়া জেলা সমিতি ইউএসএ ইনক। তাদের এই মহতী উদ্যোগকে আরো বেগবান করতে দায়িত্ব নিয়ে অক্সিজেন সিলিন্ডার ও অন্যান্য সামগ্রী গ্রহণ করেন বন্ধু সংগঠনের কুষ্টিয়া সদর উপজেলার মামুনুর রহমান ও শাহীন রেজা, কুমারখালির মো: আসাদ, মিরপুরের বাদশা, ভেড়ামারা ও দৌলতপুরের রাসেল, গাংনী ও আমলার সুজাত আলী।

উল্লেখ্য, প্রবাসীরা কুষ্টিয়ার এই করোনাকালীন মুহূর্তে তারা আজ বসে নেই। তাদের ঘাম ঝরানো অর্থ দিয়ে তাদের তৈরিকৃত ‘কুষ্টিয়া জেলা সমিতি ইউএসএ ইনক’র মাধ্যমে করোনার এই দুর্লভ মুহূর্তে ৩০ টি অক্সিজেন সিলিন্ডার প্রদান করেন।

উক্ত সংগঠনের সভাপতি আবু মুসা ও সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ এক বার্তায় বলেন, আমরা আমেরিকাতেও শান্তিতে নেই এখানে করোনার আক্রান্ত পূর্বে বেশি ছিল বর্তমানে একটু কম। আমাদের ঘাম ঝরানো অর্থ দিয়ে নিজ জন্মভূমির মানুষের জন্য নিরন্তর সেবা দেয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি। আশা করি আগামীতে আরো বেশি কিছু দিব আপনাদের মাঝি। আমাদের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে নিয়ম মোতাবেক অক্সিজেন সিলিন্ডার সংগ্রহ করবেন। করোনাকালীন সময়ে আপনারা নিয়মিত মাস্ক ব্যবহার করবেন সেই সাথে দূরত্ব বজায় রাখবেন এবং আমাদের জন্য দোয়া করবেন, আমরা যেন সুস্থ থেকে আপনাদের সেবা দিয়ে যেতে পারি।

করোনায় আক্রান্ত রোগীর স্বজনরা ৬টি উপজেলার প্রতিনিধিদের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে অক্সিজেন সিলিন্ডার সংগ্রহ করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে। কুষ্টিয়া সদর উপজেলার মামুনুর রহমান: ০১৭১২-০৪৫২৭০ ও শাহীন রেজা: ০১৭১১-৯৬৬২৫৩, কুমারখালির মো: আসাদ: ০১৭১১-৫৭৯৪৭০, মিরপুরের বাদশা: ০১৭১৭-৮০৭৩৪১, ভেড়ামারা ও দৌলতপুরের রাসেল: ০১৭৮৪-০২০৪৩৪ এবং গাংনী ও আমলার সুজাত আলী: ০১৭৩৭-০৭৯৫৬০।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

 

 

 

বগুড়ায় ট্রেন চালকের দক্ষতায় বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে দোলন চাঁপা আন্তঃনগর ট্রেন। ওই ঘটনায় দু’জন আহত হলেও কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছেন। রেল লাইনের উপর অবৈধ দোকানগুলো ওই দুর্ঘটনার কারণ বলে জানিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় লোকজন।

বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে মাত্র ত্রিশ গজ দূরেই এক যুগেরও বেশি সময় ধরে (বগুড়া রেলস্টেশন থেকে একনম্বর ঘুমটি পর্যন্ত ) প্রায় তিন শতাধিক অবৈধ কাপড়ের দোকান রেল লাইনের উপর রয়েছে। বগুড়ার পুরাতন কাপড়ের বড় মার্কেট এটি। পরিচিত ‘হঠাৎ মার্কেট’ হিসেবে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েক হাজার ক্রেতার সমাগম ঘটে। বছরে একবার করে রেল থেকে ওইসব দোকান উচ্ছেদ করলেও দুই তিনদিন পরে আবারও দোকান আগের মতো বসে। মূল রেল লাইনের উপর তাঁবু টানিয়ে এসব দোকান বসানো হয়েছে। ট্রেন চলে আসলেই দ্রুত তাবুগুলো সরে ফেলা হয়। কয়েক বছরে প্রায় ৭-৮ জন ক্রেতা এবং বিক্রেতার প্রাণহানি ঘটেছে এই হঠাৎ মার্কেটে।

বগুড়ার রেলস্টেশনের স্টেশন মাষ্টার আবুল কাশেম জানান, দুপুর ১১টায় দোলন চাঁটা আন্তঃনগর ট্রেন বোনারপাড়া থেকে বগুড়ায় আসছিল। অপরদিকে আরেকটি আন্তঃনগর ট্রেন লালমনি এক্সপ্রেক্স ঢাকা থেকে বগুড়া স্টেশনে আসতে থাকে। সিগন্যাল এবং পয়েন্ট ঠিক করে দোলনচাঁপা ট্রেনটির জন্য দুইনম্বর লুপ লাইনে এবং লালমনি এক্সপ্রেক্সকে একনম্বর লাইনে আসার নির্দেশনা ঠিক করা হয়। দোলনচাঁপা ট্রেনটি হুইসেল দিতে দিতে দুই নম্বর লুপ লাইন দিয়ে স্টেশনে আসতে থাকে।

‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদারদের জানা ছিল ওই ট্রেনটি একনম্বর লাইন দিয়ে আসবে। তাই তারা দোকানের তাবু সরাইনি। কিন্তু যখন ট্রেনটি দুইনম্বর লুপ লাইন দিয়ে হুইসেল দিতে দিতে আসতে থাকে তখন দোকানদার এবং ক্রেতারা চিৎকার করে এদিক ওদিক দৌড়ে পালাতে থাকে। ট্রেন চালক দ্রুততার সাথে ট্রেনটি ব্রেক করায় দোকানের মালামাল নষ্ট হলেও কোন প্রাণ হানি ঘটেনি। নইলে অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারতো।

তিনি আরও জানান, গত ১৯ নভেম্বর লালমনিহাট থেকে বিভাগীয় ভূ-সম্পদ কর্মকর্তাসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা স্টেশনের পাশের একটি মার্কেটের প্রায় দুইশতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়ার সময় ‘হঠাৎ মার্কেট’দুইদিন বন্ধ ছিল। পরে ২২ নভেম্বর আবারও ‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদাররা তাদের দোকান বসায়। এ বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে রেল স্টেশন সীমানার মধ্যে এবং লাইনের উপর অবৈধ দোকান উচ্ছেদের জন্য ২৩ নভেম্বর চিঠি দেয়া হয়।

স্টেশন মাষ্টার আরও জানান, রেল লাইন থেকে দুই পাশের ১০ ফুট করে জায়গা ১৪৪ ধারা সবসময়ের জন্য জারী থাকরেও এসব কেউ মানছেনা। স্টেশন মাষ্টার অভিযোগ করে বলেন, সিগন্যাল এবং পয়েন্টের তারের উপর অবৈধ দোকান বসার কারনে অনেক সময় সঠিকভাবে সিগন্যাল ও পয়েন্ট করা সম্ভব হয়না। অথচ, ট্রেনের আসা যাওয়ার মূল বিষয়টি হলো সিগন্যাল এবং পয়েন্ট।

বগুড়া রেল স্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারী শাহীন আলম জানান, রেল লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী ইন্সপেক্টর রায়হান কবীরের কারণেই রেল লাইনের উপর অবৈধ হঠাৎ মার্কেট গড়ে উঠেছে। লাইনের উপর নিরাপত্তার দায়িত্ব তার থাকলেও প্রতিদিন লাইনের উপর মার্কেট দেখার পরেও উনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে দোকানদারদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন।

তবে রায়হান কবীর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়, লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্ব আপনার থাকলেও কেন ওইসব দোকান দেখেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। তিনি জানান, বিষয়গুলো উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ জানেন।

বগুড়া জিআরপি ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর কায়কোবাদ জানান, ঘটনাটি জানার পরে সেখানে আমরা দ্রুত যাই। কিন্তু কোনো আহত কিংবা নিহত ব্যক্তির খোঁজ পাইনি। তবে আশেপাশের লোকজন জানিয়েছেন, চার-পাঁচজন ক্রেতা আহত হয়েছেন।
বগুড়া ফায়ার স্টেশনের সিনিয়ন স্টেশন মাষ্টার বজলুর রশিদ জানান, দুইজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন, গাবতলী উপজেলার রুমি খাতুন (৩০) এবং দুপচাঁচিয়া উপজেলার মানিক (৫৫)। তাদের শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে আরও কয়েকজনের কথা শুনলেও তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।

রেল লাইনের পাশের স্থানীয় ব্যবসায়ী নাম না প্রকাশে ইচ্ছুক কয়েকজন জানান, গত ৫/৬ বছরে প্রায় ৭-৮জন ট্রেনে কেটে হঠাৎ মার্কেটে মারা গেছে। এদের মধ্যে ক্রেতা এবং দোকানদারও ছিল। বুধবার যদি ট্রেনের চালক দ্রুত ব্রেক না করতো তাহলে কয়েক’শ লোকের প্রাণহানি ঘটতো।

কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছে ট্রেন চালকের দক্ষতায়