কুষ্টিয়া পাটিকাবাড়ি ইউপি’র বিতর্কিত চেয়ারম্যানের মাদক সেবনের ভিডিও ভাইরাল

কে এম শাহীন রেজা, কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি।।
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২১
  • ৬৭ বার পঠিত

 

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার পাটিকাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সফর আলীর বিরুদ্ধে কার্যালয়ে বসে মাদকসেবন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মাদকসেবনের একাধিক ভিডিও এলাকার মানুষজনের মোবাইলে ছড়িয়ে পড়েছে।

ভিডিও দেখার পর দলসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। দলীয় নেতারা বলছেন, এমন ঘটনা দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সামিল। তাই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সফর আলী চেয়ারম্যানের পাশাপাশি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকও। তিনি পরপর দুইবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

স্থানীয় কয়েকটি সূত্র জানায়, ২০১১ সাল থেকে টানা দুইবার আওয়ামী লীগ নেতা সফর আলী চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন। এবারও দলীয় মনোনয়ন পেতে স্থানীয় ইউনিয়ন কমিটি থেকে তার নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। চতুর্থ ধাপের ইউপি নির্বাচনে আগামী ৫ জানুয়ারি এই ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

এক মিনিট চার সেকেন্ড ও এক মিনিট ৩৫ সেকেন্ডের দুটি ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, চেয়ারম্যান পরিষদে তার কক্ষে বসে ফেনসিডিল সেবন করছেন। আবার কখনও টয়লেটের ভেতরে তিনি মাদক সেবন করছেন। তবে ভিডিওগুলো কবে কখন তোলা, সেটা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাটিকাবাড়ী গ্রামের এক তরুণ বলেন, চেয়ারম্যান বিভিন্ন সভা-সমাবেশে মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলেন। কিন্তু তিনি নিজেই নিয়মিত মাদক সেবন করছেন। এটা যুবসমাজকে দিন দিন ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, দ্রুত তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

পাটিকাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ইব্রাহীম খান বলেন, ভিডিওতে যেটা দেখলাম, এটা যদি সত্যি হয়, তবে খুবই খারাপ কাজ করেছেন। এটা লজ্জাজনক। প্রধানমন্ত্রী যেখানে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন, সেখানে ইউনিয়ন অফিসে বসে মাদকসেবন লজ্জাজনক।

সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম বলেন, এমন ঘটনা অবশ্যই দলের জন্য দুঃখজনক। দলীয় সভায় বিষয়টি তুলে ধরা হবে। সর্বসম্মতিক্রমে যে সিদ্ধান্ত হবে, সে মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসগর আলী বলেন, যদি এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে, অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। কারণ হচ্ছে, মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের সরকার জিরো টলারেন্স। সমাজটাকে এই মাদক নষ্ট করছে। অফিসে বসে মাদকসেবন করা- এটা কাম্য না। আওয়ামী লীগের বদনাম হবে, এটা সহ্য করা হবে না। দলীয়ভাবে অবশ্যই এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান সফর আলী বলেন, ভিডিও কীভাবে কারা বানিয়েছে, তা আমার জানা নেই। আমি দেখিনি এখনও, শুনেছি। আমাকে কয়েকজন ফোন করে জানিয়েছে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

 

 

 

বগুড়ায় ট্রেন চালকের দক্ষতায় বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে দোলন চাঁপা আন্তঃনগর ট্রেন। ওই ঘটনায় দু’জন আহত হলেও কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছেন। রেল লাইনের উপর অবৈধ দোকানগুলো ওই দুর্ঘটনার কারণ বলে জানিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় লোকজন।

বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে মাত্র ত্রিশ গজ দূরেই এক যুগেরও বেশি সময় ধরে (বগুড়া রেলস্টেশন থেকে একনম্বর ঘুমটি পর্যন্ত ) প্রায় তিন শতাধিক অবৈধ কাপড়ের দোকান রেল লাইনের উপর রয়েছে। বগুড়ার পুরাতন কাপড়ের বড় মার্কেট এটি। পরিচিত ‘হঠাৎ মার্কেট’ হিসেবে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েক হাজার ক্রেতার সমাগম ঘটে। বছরে একবার করে রেল থেকে ওইসব দোকান উচ্ছেদ করলেও দুই তিনদিন পরে আবারও দোকান আগের মতো বসে। মূল রেল লাইনের উপর তাঁবু টানিয়ে এসব দোকান বসানো হয়েছে। ট্রেন চলে আসলেই দ্রুত তাবুগুলো সরে ফেলা হয়। কয়েক বছরে প্রায় ৭-৮ জন ক্রেতা এবং বিক্রেতার প্রাণহানি ঘটেছে এই হঠাৎ মার্কেটে।

বগুড়ার রেলস্টেশনের স্টেশন মাষ্টার আবুল কাশেম জানান, দুপুর ১১টায় দোলন চাঁটা আন্তঃনগর ট্রেন বোনারপাড়া থেকে বগুড়ায় আসছিল। অপরদিকে আরেকটি আন্তঃনগর ট্রেন লালমনি এক্সপ্রেক্স ঢাকা থেকে বগুড়া স্টেশনে আসতে থাকে। সিগন্যাল এবং পয়েন্ট ঠিক করে দোলনচাঁপা ট্রেনটির জন্য দুইনম্বর লুপ লাইনে এবং লালমনি এক্সপ্রেক্সকে একনম্বর লাইনে আসার নির্দেশনা ঠিক করা হয়। দোলনচাঁপা ট্রেনটি হুইসেল দিতে দিতে দুই নম্বর লুপ লাইন দিয়ে স্টেশনে আসতে থাকে।

‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদারদের জানা ছিল ওই ট্রেনটি একনম্বর লাইন দিয়ে আসবে। তাই তারা দোকানের তাবু সরাইনি। কিন্তু যখন ট্রেনটি দুইনম্বর লুপ লাইন দিয়ে হুইসেল দিতে দিতে আসতে থাকে তখন দোকানদার এবং ক্রেতারা চিৎকার করে এদিক ওদিক দৌড়ে পালাতে থাকে। ট্রেন চালক দ্রুততার সাথে ট্রেনটি ব্রেক করায় দোকানের মালামাল নষ্ট হলেও কোন প্রাণ হানি ঘটেনি। নইলে অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারতো।

তিনি আরও জানান, গত ১৯ নভেম্বর লালমনিহাট থেকে বিভাগীয় ভূ-সম্পদ কর্মকর্তাসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা স্টেশনের পাশের একটি মার্কেটের প্রায় দুইশতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়ার সময় ‘হঠাৎ মার্কেট’দুইদিন বন্ধ ছিল। পরে ২২ নভেম্বর আবারও ‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদাররা তাদের দোকান বসায়। এ বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে রেল স্টেশন সীমানার মধ্যে এবং লাইনের উপর অবৈধ দোকান উচ্ছেদের জন্য ২৩ নভেম্বর চিঠি দেয়া হয়।

স্টেশন মাষ্টার আরও জানান, রেল লাইন থেকে দুই পাশের ১০ ফুট করে জায়গা ১৪৪ ধারা সবসময়ের জন্য জারী থাকরেও এসব কেউ মানছেনা। স্টেশন মাষ্টার অভিযোগ করে বলেন, সিগন্যাল এবং পয়েন্টের তারের উপর অবৈধ দোকান বসার কারনে অনেক সময় সঠিকভাবে সিগন্যাল ও পয়েন্ট করা সম্ভব হয়না। অথচ, ট্রেনের আসা যাওয়ার মূল বিষয়টি হলো সিগন্যাল এবং পয়েন্ট।

বগুড়া রেল স্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারী শাহীন আলম জানান, রেল লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী ইন্সপেক্টর রায়হান কবীরের কারণেই রেল লাইনের উপর অবৈধ হঠাৎ মার্কেট গড়ে উঠেছে। লাইনের উপর নিরাপত্তার দায়িত্ব তার থাকলেও প্রতিদিন লাইনের উপর মার্কেট দেখার পরেও উনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে দোকানদারদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন।

তবে রায়হান কবীর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়, লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্ব আপনার থাকলেও কেন ওইসব দোকান দেখেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। তিনি জানান, বিষয়গুলো উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ জানেন।

বগুড়া জিআরপি ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর কায়কোবাদ জানান, ঘটনাটি জানার পরে সেখানে আমরা দ্রুত যাই। কিন্তু কোনো আহত কিংবা নিহত ব্যক্তির খোঁজ পাইনি। তবে আশেপাশের লোকজন জানিয়েছেন, চার-পাঁচজন ক্রেতা আহত হয়েছেন।
বগুড়া ফায়ার স্টেশনের সিনিয়ন স্টেশন মাষ্টার বজলুর রশিদ জানান, দুইজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন, গাবতলী উপজেলার রুমি খাতুন (৩০) এবং দুপচাঁচিয়া উপজেলার মানিক (৫৫)। তাদের শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে আরও কয়েকজনের কথা শুনলেও তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।

রেল লাইনের পাশের স্থানীয় ব্যবসায়ী নাম না প্রকাশে ইচ্ছুক কয়েকজন জানান, গত ৫/৬ বছরে প্রায় ৭-৮জন ট্রেনে কেটে হঠাৎ মার্কেটে মারা গেছে। এদের মধ্যে ক্রেতা এবং দোকানদারও ছিল। বুধবার যদি ট্রেনের চালক দ্রুত ব্রেক না করতো তাহলে কয়েক’শ লোকের প্রাণহানি ঘটতো।

কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছে ট্রেন চালকের দক্ষতায়